ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং
ছাত্রদল নেতা হামিমের পোস্ট

পিএমও ফেসবুক পেজটি দেখলে নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গর্বিত হবে


পিএমও ফেসবুক পেজটি দেখলে নাগরিকরা প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গর্বিত হবে

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) ফেসবুক পেজের কার্যক্রম সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করেছেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে হামিম উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ধারাকে শুধু অব্যাহত রাখছেন না, বরং ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রীদের জন্য রাজনীতিকে কঠিন করে তুলছেন তারেক রহমান।

পোস্টে হামিম লেখেন, আজকে PMO

আরও পড়ুন: এখন থেকে গণতান্ত্রিক ধারায় সরকার পরিবর্তন হবে, জোর করে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারবে না: হুইপ নিজান

Bangladesh—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ফেসবুক পেজটি দেখে আসুন। হামিমের বিশ্বাস, বাংলাদেশের সকল নাগরিক এই প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে গর্ব করতে বাধ্য হবে।

জিয়াউর রহমানের একটি বহুল প্রচলিত ইংরেজি উক্তি উল্লেখ করে হামিম লেখেন, ‘I will make politics difficult for the politicians’।

এছাড়া, ছাত্রদল নেতা তারেক রহমানের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘তারেক রহমান প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম, দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করেন এবং মনে মনে মুচকি হেসে বলেন—I will make politics difficult not only for the politicians but also for the future Prime Ministers (আমি শুধু রাজনৈতিকদের জন্যই রাজনীতি কঠিন করব না, ভবিষতের প্রধানমন্ত্রীদের জন্যও কঠিন হবো)।’

হামিমের পোস্টে তারেক রহমানের কাজের প্রশংসার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য উচ্চ মানদণ্ড তৈরি করার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। ওই পোস্টে ১০ ঘণ্টায় ১৭শ’য়ের মতো রিয়্যাক্ট পড়েছে।

আরও পড়ুন: ইশরাকের পিস্তল উঁচানো দৃশ্য ত্রাসের রাজত্বের প্রতীক: জামায়াত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লায় হারিয়ে যাচ্ছে পান চাষের ঐতিহ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


কুমিল্লায় হারিয়ে যাচ্ছে পান চাষের ঐতিহ্য

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলা এক সময় পান চাষের জন্য সুপরিচিত ছিল। উপজেলার চান্দলা, উত্তর চান্দলা, মাধবপুর ও মকিমপুর এলাকায় শত শত পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করত। তবে বর্তমানে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, ন্যায্যমূল্যের অভাব এবং সরকারি সহায়তার সংকটের কারণে ঐতিহ্যটি বিলুপ্তির পথে রয়েছে। দুই দশক আগে যেখানে এসব এলাকায় প্রায় ২৫০টি পানবরজ ছিল, বর্তমানে তা মাত্র ৩০ থেকে ৩৫টিতে নেমে এসেছে।

উত্তর চান্দলা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিছু বরজে সবুজ পানের লতা এখনও দুলছে। বরজগুলো বাইরে থেকে প্রাণবন্ত মনে হলেও ভেতরে রয়েছে চাষিদের দীর্ঘদিনের লোকসান এবং টিকে থাকার সংগ্রামের কাহিনী। অনেক চাষি বরজ ভেঙে সেখানে কাঠবাগান, শাকসবজি চাষ অথবা গরুর খামার গড়ে তুলেছেন।

উত্তর চান্দলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের বাসিন্দা আরুতি রানী পাল (৭০) প্রায় ৫০ বছর ধরে পান চাষ করছেন। তিনি বলেন, "বিয়ের পর থেকেই পান চাষ করছি। স্বামী মারা যাওয়ার ২৩ বছর পরও আমি পারিবারিক এই পেশা ছাড়িনি।" তিনি জানান, তিন মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে সংসার চালাতে হচ্ছে। বর্তমানে সার ও কীটনাশকের দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো লাভ হয় না।

তিনি জানান, নতুন করে ৩০ শতক জমিতে একটি বরজ করতে প্রায় ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বিকালে পান সংগ্রহ করে রাখা হয় এবং সকালে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এসে কিনে নিয়ে যান। সাধারণ সময়ে ৮০টি পান নিয়ে এক বিড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও ফাল্গুন-চৈত্র মাসে একই বিড়ার দাম ২০০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠে।

বাপ-দাদার আমল থেকে পান চাষ করে আসা চাষি শুন পাল বলেন, লাভ কমে যাওয়ায় নতুন প্রজন্ম আর এ পেশায় থাকতে চায় না। ২০-২৫ বছর আগে এলাকায় প্রায় ২৫০টি বরজ ছিল, এখন হাতে গোনা কয়েকজন চাষি রয়েছেন। আগের মতো বাইরের ব্যবসায়ীরাও আসেন না। স্থানীয় কয়েকজন দোকানির কাছেই পান বিক্রি করতে হয়, ফলে ন্যায্য দাম পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, "আমরা ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পান চাষ ধরে রেখেছি। কিন্তু আমাদের পরের প্রজন্ম এ পেশায় থাকবে না।" রোগবালাই দেখা দিলে কৃষি বিভাগের প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও পাওয়া যায় না।

কুমিল্লা শহরের পান ব্যবসায়ী উত্তম কুমার বলেন, এক সময় চান্দলা ও মাধবপুরের পান দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হতো। বর্তমানে বরজের সংখ্যা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দূরদূরান্তের ব্যবসায়ীদের আনাগোনাও কমে গেছে। এতে বাজার সংকুচিত হয়েছে এবং চাষিরা কাঙ্ক্ষিত দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন আমার দেশকে বলেন, একই জমিতে দীর্ঘদিন পান চাষ করলে ফলন কমে যেতে পারে। জমি পরিবর্তন করে চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। উন্নত জাতের লতা বা চারা না পাওয়াও ফলন কমার অন্যতম কারণ। তিনি জানান, পান মূলত পারিবারিকভাবে চাষ করা হয়। এক সময় এই পান রপ্তানিও হতো, বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। তবে উপজেলায় বর্তমানে কত জমিতে পান চাষ হচ্ছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব কৃষি বিভাগের কাছে নেই। কোনো চাষি যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কুমিল্লার উপপরিচালক মিজানুর রহমান আমার দেশকে বলেন, কুমিল্লায় সবচেয়ে বেশি পান চাষ হয় দেবিদ্বার ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায়। ভালো দাম না পাওয়ায় চাষিরা ধীরে ধীরে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন। এছাড়া মাটির অম্লত্ব (এসিডিটি) বেড়ে যাওয়াও পান চাষ কমে যাওয়ার একটি বড় কারণ। চাষিদের দাবি, পান চাষকে টিকিয়ে রাখতে শুধু পরামর্শ নয়, প্রয়োজন উন্নত জাতের চারা, প্রশিক্ষণ, রোগবালাই দমনে কার্যকর কৃষি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ এবং ন্যায্যমূল্যের নিশ্চয়তা।

একইসঙ্গে স্থানীয় পান দেশের বিভিন্ন বাজারে পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ না নিলে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী পান চাষ এক সময় ইতিহাসে পরিণত হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নান্দনিক উপস্থাপনায় সারি সারি প্রাণীর কঙ্কাল চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৫ এম


নান্দনিক উপস্থাপনায় সারি সারি প্রাণীর কঙ্কাল চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ে

প্রবেশের পর দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে বিশাল এক জিরাফের কঙ্কাল, যা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। কিছুটা এগোলেই হাতি, উট, কুমির এবং অজগরের কঙ্কাল দেখা যায়। কোথাও অস্থির সারি, আবার কোথাও কাচের পাত্রে রাসায়নিক দ্রবণে সংরক্ষিত চোখ, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি ও জরায়ুর মতো অঙ্গপ্রত্যঙ্গ রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রাণীর মডেল, ভ্রূণ এবং মাইক্রোস্কোপের স্লাইডও প্রদর্শিত হয়েছে।

প্রথম দর্শনে স্থানটি অদ্ভুত ‘কঙ্কালপুরী’ মনে হতে পারে। তবে একটু গভীরে গেলে নীরব কঙ্কাল ও সংরক্ষিত অঙ্গগুলো যেন প্রাণীদেহের গঠন, বিবর্তন, জীবনপ্রক্রিয়া ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের নানা অজানা গল্প বলার চেষ্টা করে।

চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দেশের প্রথম কঙ্কাল জাদুঘর বা ‘অ্যানাটমি মিউজিয়াম’। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউসুফ চৌধুরী ভবনের নিচতলায় প্রায় ৩,০০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা এই জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) উচ্চশিক্ষা ও মানোন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। এর কার্যক্রম শুরু হয় ২০১১ সালে এবং প্রায় ছয় বছর পর ২০১৭ সালে তা দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।

জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠার সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রধান ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান, যিনি বর্তমানে সিভাসুর উপাচার্য।

জাদুঘরের প্রধান আকর্ষণ বিশাল আকৃতির জিরাফের কঙ্কাল। দীর্ঘ গলা ও সুউচ্চ অবয়ব নিয়ে প্রবেশমুখেই দাঁড়িয়ে থাকা কঙ্কালটি দর্শনার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানায় মারা যায় জিরাফটি। প্রায় ছয় মাস মাটিতে পুঁতে রাখার পর এর অস্থিগুলো সংগ্রহ করা হয়। পরে বিশেষ ব্যবস্থায় এসব হাড় চট্টগ্রামে এনে সিভাসুর অ্যানাটমি ও হিস্টোলজি বিভাগে বিভিন্ন রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করা হয়।

একেকটি অস্থি সতর্কতার সঙ্গে শনাক্ত করে জোড়া লাগিয়ে জিরাফের পূর্ণাঙ্গ অবয়ব তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় দেড় বছর। কঙ্কালটি সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পুনর্গঠনে ব্যয় হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ টাকা। সিভাসুর সংশ্লিষ্টরা জানান, জিরাফের কঙ্কাল অত্যন্ত দুর্লভ। অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বিশ্বের আর কোথাও এমন কঙ্কাল থাকার তথ্য খুব সীমিত। ফলে সিভাসুর জাদুঘরে জিরাফের কঙ্কাল যুক্ত হওয়া সংগ্রহশালাটিকে আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষ আকর্ষণ দিয়েছে।

জিরাফের পাশেই রয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া সাফারি পার্ক থেকে সংগ্রহ করা হাতির কঙ্কাল। ঢাকার জাতীয় চিড়িয়াখানা থেকে আনা হয়েছে উটের কঙ্কাল। সীতাকুণ্ড ইকোপার্কে মৃত অবস্থায় পাওয়া বিশাল অজগর এবং ময়মনসিংহের ভালুকা কুমির প্রজনন কেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করা বড় আকৃতির কুমিরের কঙ্কালও দর্শনার্থীদের কৌতূহল বাড়ায়।

এছাড়া জাদুঘরে রয়েছে মানুষের কঙ্কাল, যা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। চট্টগ্রামের ইউএসটিসি থেকে সংগ্রহ করা একটি মানবশিশুর দেহ ফরমালিনভর্তি বোতলে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব নমুনা শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের শরীরের গঠন, প্রাণীর বৈচিত্র্য এবং জীববিজ্ঞানের নানা বিষয় সম্পর্কে ধারণা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কঙ্কাল জাদুঘর হলেও এখানে শুধু অস্থি প্রদর্শন করা হয়নি। বরং প্রাণীদেহের ভেতরের জটিল গঠনকে শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরতে সংরক্ষণ করা হয়েছে নানা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গের পাশাপাশি মানুষের চোখ, হৃৎপিণ্ড, জরায়ু, ফুসফুস, কিডনি ও স্তনের নমুনা রয়েছে। একইভাবে কুকুর, বিড়াল, শূকর, গরু ও মুরগির বিভিন্ন অঙ্গ সংরক্ষণ করা হয়েছে কাচের পাত্রে রাসায়নিক দ্রবণে সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। রয়েছে ডিএনএ ও ক্রোমোজমের নমুনাও।

ছাগল, শূকর ও খরগোশের ভ্রূণ ফরমালিনে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে প্রদর্শনের জন্য। মাইক্রোস্কোপের স্লাইডে দেখা যায় বিভিন্ন প্রাণীর টিস্যু ও কোষের গঠন।

এসব নমুনা শিক্ষার্থীদের কাছে কেবল দেখার বিষয় নয়। শ্রেণিকক্ষে বইয়ে পড়া প্রাণীদেহের গঠন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে বাস্তবে দেখার সুযোগ করে দেয় এগুলো। কোন অঙ্গ কোথায় অবস্থান করে, তার গঠন কেমন এবং কীভাবে কাজ করে—এসব বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে এই জাদুঘরে।

জাদুঘরের আরেকটি আকর্ষণ ‘স্ট্যাফিং’ করা প্রাণী ও পাখি। মোরগ, মুরগি, রাজহাঁস, কবুতর, কাঠঠোকরা, দোয়েল, প্যাঁচা, মাছরাঙা, তিতির, কোয়েল, খরগোশ, গিনিপিগ, কচ্ছপ, অজগর, গোখরা, বাদুড় ও হাঁসসহ বিভিন্ন প্রাণীর স্ট্যাফ এখানে সংরক্ষিত আছে।

স্ট্যাফিং পদ্ধতিতে মৃত প্রাণীর চামড়া ও দেহাবশেষ বিশেষ প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করা হয়। এরপর তুলা, রড ও জিআই তার ব্যবহার করে প্রাণীটির স্বাভাবিক আকৃতি তৈরি করা হয়। সবশেষে সেই অবয়বের ওপর চামড়া পরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে দূর থেকে মনে হয় প্রাণীটি বুঝি এখনো জীবিত, শুধু স্থির হয়ে আছে।

জাদুঘরের দেয়ালজুড়ে রয়েছে প্রাণীর বিভিন্ন অঙ্গ, দেহতন্ত্র ও শারীরবৃত্তীয় গঠনের চিত্র। পাশাপাশি জীববিজ্ঞান ও প্রাণিবিদ্যায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিজ্ঞানীদের প্রতিকৃতিও স্থান পেয়েছে।

সিভাসুর অ্যানাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জাদুঘরটি তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন গৃহপালিত ও বন্য প্রাণীর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এখানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ক্লাসে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পাচ্ছে। প্রাণীদেহের অঙ্গ ও দেহতন্ত্রের অবস্থান, গঠন, বৈশিষ্ট্য এবং কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়াই জাদুঘর প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, সর্বশেষ জিরাফের কঙ্কাল যুক্ত হওয়ায় জাদুঘরটি আরো সমৃদ্ধ হয়েছে। দেশের শিক্ষার্থীদের ভেটেরিনারি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং এই পেশার সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে জাদুঘরটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, কঙ্কাল সংগ্রহ দুই ভাবে প্রসেস করা হয়। ছোট প্রাণীর ক্ষেত্রে কেমিক্যাল দিয়ে এবং বড় প্রাণীর ক্ষেত্রে প্রথমে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। দুই-তিন মাস পর মাংসগুলো পচে গেলে কেমিক্যাল দিয়ে প্রসেস করে হাড়গুলো জোড়া লাগানো হয়।

শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্কুল-কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও একাডেমিক শিক্ষার অংশ হিসেবে এই জাদুঘর পরিদর্শন করে থাকে।

জাদুঘরটি সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সাধারণ দর্শনার্থী ও শিক্ষার্থীদের জন্য খোলা থাকে। ফলে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনার পাশাপাশি এখানে এসে প্রাণীদেহের গঠন ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সরাসরি দেখার সুযোগ পাচ্ছে।

জাদুঘর ঘুরে দর্শনার্থী মো. রাশেদ বলেন, এখানে এসে এত ধরনের প্রাণীর কঙ্কাল ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গ একসঙ্গে দেখার সুযোগ পাওয়া সত্যিই অন্যরকম অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে জিরাফের কঙ্কালটি খুবই আকর্ষণীয়। বইয়ে যেসব বিষয় পড়েছি, সেগুলো এখানে বাস্তবে দেখে আরো ভালোভাবে বোঝা যায়।

এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বইয়ের ছবিতে প্রাণীর হাড় বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেখার চেয়ে জাদুঘরে সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা অনেক বেশি কার্যকর। কোন অঙ্গের গঠন কেমন এবং কোথায় থাকে, তা সহজেই বোঝা যায়। এতে পড়াশোনার বিষয়গুলোও মনে থাকে বেশি।’

সিভাসুর সূত্র জানায়, জাদুঘরে বিভিন্ন প্রাণীর প্রায় ৬০টি কঙ্কাল দক্ষতার সঙ্গে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়া এখানে রয়েছে প্রায় ৩০টি স্ট্যাফ (প্রাণীর অস্থি থেকে চামড়া আলাদা করে নতুন অবয়ব সৃষ্টির পর পুনরায় চামড়া দিয়ে মোড়ানো), রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় সংরক্ষিত বিভিন্ন প্রাণীর প্রায় ৫০০টি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ, প্রায় ২,০০০ অস্থি, বিভিন্ন প্রাণীর ৭৫টি মডেল এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য প্রায় ৩,০০০ স্লাইড।

কঙ্কাল সাধারণত মৃত্যুর প্রতীক। কিন্তু সিভাসুর এই জাদুঘরে এসে সেই ধারণাটিই যেন বদলে যায়। এখানে মৃত প্রাণীর হাড়ে উঠে আসে জীবনের বিজ্ঞান, অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ফুটে ওঠে দেহের জটিল কর্মযজ্ঞ, আর মডেল ও স্লাইডে উন্মোচিত হয় প্রাণীকুলের অদৃশ্য জগৎ।

একটি জিরাফের দীর্ঘ গলা, হাতির বিশাল অস্থি, কুমিরের চোয়াল কিংবা অজগরের দীর্ঘ মেরুদণ্ড—প্রতিটি কঙ্কালই প্রাণীর জীবনধারা ও বিবর্তনের আলাদা গল্প বলে। অন্যদিকে সংরক্ষিত হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস কিংবা কিডনি মনে করিয়ে দেয় প্রাণীর বেঁচে থাকার পেছনে থাকা জটিল শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ার কথা।

এই অ্যানাটমি মিউজিয়ামে গবেষণা ও ইন্টার্নশিপ করার জন্য দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থী ও গবেষক আসেন। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানের প্রায় ১০টি জার্নাল প্রকাশিত হয়েছে।

তাহলে সিভাসুর কঙ্কাল জাদুঘর নিছক হাড়সহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সংগ্রহশালা নয়। এটি একই সঙ্গে প্রাণিবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ভেটেরিনারি শিক্ষার এক ব্যতিক্রমী শিক্ষা ব্যবস্থা—যেখানে বইয়ের বাইরে এসে হাড়ে হাড়ে শেখা যায় প্রাণীদের জীবনচক্র।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সওজের ৪০০ স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


সওজের ৪০০ স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন হবে

সরকারি স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল বসানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যার আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) চার শতাধিক স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হবে। পাশাপাশি, অধিদপ্তরের অব্যবহৃত জায়গায়ও সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে। ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে মোট ৫ হাজার ১৪৪ কিলোওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "সরকারের নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভবনের ছাদ ও অব্যবহৃত জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।"

সওজের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে অধিদপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনায় ৪১০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৫ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

প্রধান প্রকৌশলী জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৮৪ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে দরপত্র আহ্বায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৯৬০ কিলোওয়াট সক্ষমতার ব্যবস্থা স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ২৪৪ কিলোওয়াট, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট, ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ১ হাজার ২০০ কিলোওয়াট এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে এক হাজার ৫০০ কিলোওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।

সওজের ভবনগুলোর ছাদে প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি অব্যবহৃত খালি জায়গায় মেগাওয়াট-স্কেলের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ জন্য প্রকল্প প্রণয়নের কাজ চলছে।

মো. মনিরুজ্জামান বলেন, "সরকারি ভবনের ছাদ ব্যবহার করে নতুন করে জমি অধিগ্রহণ বা জমি ব্যবহারের প্রয়োজন ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। দিনের বেলায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে ব্যবহার করা গেলে জাতীয় গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয় এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।"

টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (স্রেডা) চেয়ারম্যান মোজাফফর আহমেদ বলেন, "বাংলাদেশ জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে এসে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে রূপান্তরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো ২০৫০ সালের নেট-জিরো জলবায়ু লক্ষ্য অর্জনেও অবদান রাখবে। এ ক্ষেত্রে সওজের ভূমিকা প্রশংসনীয়।"

স্রেডার তথ্য অনুযায়ী, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা ২০২৫-এ ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে সওজের এ উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, উৎপাদিত বিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহার এবং ব্যয় সাশ্রয়ের হিসাব নিয়মিত মূল্যায়ন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আইয়ুব বাচ্চুর অপূর্ণ স্বপ্ন, ১৫ লাখ দর্শকের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কনসার্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


আইয়ুব বাচ্চুর অপূর্ণ স্বপ্ন, ১৫ লাখ দর্শকের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে কনসার্ট

আউল-বাউল ও লালনের দেশে ব্যান্ড সংগীতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম শিল্পী হলেন আইয়ুব বাচ্চু। অসাধারণ গায়কী ও গিটার বাজানোর দক্ষতা এবং নিজস্ব সংগীতভাষার মাধ্যমে তিনি শ্রোতাদের হৃদয় জয় করেছেন। তাঁর সাফল্যের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অনেক সংগীতশিল্পীর পথচলায়ও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তবে সংগীতজীবনে অসংখ্য অর্জনের পরেও কিছু স্বপ্ন তাঁর অপূর্ণ রয়ে গেছে।

আজ ১৮ অক্টোবর আইয়ুব বাচ্চুর অষ্টম প্রয়াণবার্ষিকী। ২০১৮ সালের এই দিনে বাংলা রক সংগীতের কিংবদন্তি ৫৬ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও তাঁর স্মরণে বিভিন্ন আয়োজন করা হবে। পারিবারিকভাবে তাঁকে স্মরণ করা হবে এবং আয়োজন করা হবে দোয়া মাহফিল। ব্যান্ড সংগীতের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও নানা আয়োজনে এই শিল্পীকে স্মরণ করবেন।

আইয়ুব বাচ্চু কেবল একজন গায়ক বা গিটারবাদক ছিলেন না; বরং তিনি ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা। নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পাশাপাশি নতুনদেরও স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। তাঁর অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনায় সংগীতজগতে অনেক শিল্পী জায়গা করে নিয়েছেন। তাঁদের কাছে আইয়ুব বাচ্চু কেবল একজন তারকা নন, সংগীতের পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণাও।

১৫ লাখ দর্শকের সামনে কনসার্টের স্বপ্ন ছিল আইয়ুব বাচ্চুর। মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি মানেই দর্শকের উচ্ছ্বাস। গানের পাশাপাশি গিটারের সুরে শ্রোতাদের মুগ্ধ করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। কনসার্ট নিয়ে এই শিল্পীর একটি বড় স্বপ্ন ছিল, যা বাস্তবায়িত হয়নি।

এক সাক্ষাৎকারে আইয়ুব বাচ্চু তাঁর স্বপ্নের কনসার্টের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে বিশাল এক কনসার্ট আয়োজনের ইচ্ছা ছিল তাঁর। সেখানে দেশি-বিদেশি খ্যাতিমান সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করার পরিকল্পনা ছিল।

বিদেশি শিল্পীদের মধ্যে মার্কিন গিটারবাদক স্টিভ ভাই, জো সাত্রানি ও কার্লোস সান্টানা ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ব্রিটিশ ড্রামার আয়েন পেজও থাকবেন। বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে আইয়ুব বাচ্চুর পরিকল্পনায় ছিলেন জেমস, বেজবাবা সুমন ও মানাম আহমেদ।

স্বপ্নের সেই আয়োজনের ব্যাপ্তি বোঝাতে আইয়ুব বাচ্চু বলেছিলেন, "আমরা একটা স্লট বাজাবো, ঘণ্টা তিনেক ধরে। আর দর্শক থাকবে ১৫ লাখ। তাহলে সেটা হবে স্বপ্নের কনসার্ট।"

তার কল্পনায় এটি ছিল কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের সক্ষমতা ও জনপ্রিয়তাকে বড় পরিসরে তুলে ধরার আয়োজন। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তিনি পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।

গিটার ঘিরে আরেক স্বপ্ন

গিটারের প্রতি আইয়ুব বাচ্চুর ভালোবাসা ছিল আজীবনের। তিনি বিভিন্ন ধরনের দামি ও নামী গিটার সংগ্রহ করতেন। গিটার বাজানোর নিজস্ব দক্ষতা দিয়ে বাংলা রক সংগীতে তিনি তৈরি করেছিলেন স্বতন্ত্র পরিচয়।

তবে তিনি নিজের গিটারচর্চা ও সংগ্রহের মধ্যেই এই ভালোবাসাকে সীমাবদ্ধ রাখতে চাননি। তাঁর ইচ্ছা ছিল, এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার, যেখানে ছেলেমেয়েরা গিটারসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতে পারবে। সেখান থেকে প্রশিক্ষিত শিল্পীরা এককভাবে কিংবা দল গঠন করে সংগীতজগতে নিজেদের প্রতিভার পরিচয় দেবেন।

নতুন সংগীতশিল্পী তৈরির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যান্ড সংগীতের বিকাশে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারত। কিন্তু সেই উদ্যোগও পূর্ণতা পায়নি আইয়ুব বাচ্চুর জীবদ্দশায়।

যেভাবে হয়ে উঠলেন আইয়ুব বাচ্চু

১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। পরিবারের অনিচ্ছা সত্ত্বেও সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল প্রবল। ১৯৭৩ সালে বাবার কাছ থেকে গিটার পাওয়ার পর শুরু হয় সেই বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে তাঁর নিবিড় পথচলা।

কলেজজীবনে বন্ধুদের নিয়ে ‘গোল্ডেন বয়েজ’ নামে একটি ব্যান্ড গঠন করেন তিনি। স্থানীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান করত দলটি। ১৯৭৭ সালে যোগ দেন ‘ফিলিংস’ ব্যান্ডে। সেখানে জেমসের সঙ্গে একই দলে কাজ করার অভিজ্ঞতা হয় তাঁর।

১৯৮০ সালে আইয়ুব বাচ্চু যোগ দেন ‘সোলস’ ব্যান্ডে। দীর্ঘ সময় এই দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর ১৯৯১ সালে গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ড ‘এলআরবি’। একই বছরের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্টের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে দলটি।

১৯৯২ সালে এলআরবি প্রকাশ করে ‘এলআরবি ১’ ও ‘এলআরবি ২’ নামে দুটি অ্যালবাম। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এই দ্বৈত অ্যালবাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পরে ‘সুখ’ অ্যালবামের মাধ্যমে দেশজুড়ে জনপ্রিয়তা পায় এলআরবি।

এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘তবুও’, ‘ঘুমন্ত শহরে’, ‘আমাদের বিস্ময়’, ‘মন চাইলে মন পাবে’, ‘অচেনা জীবন’, ‘মনে আছে নাকি নাই’, ‘স্পর্শ’ ও ‘যুদ্ধ’-এর মতো অ্যালবাম। এসব গানের মধ্য দিয়ে বাংলা ব্যান্ড সংগীতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে এলআরবি।

ব্যান্ডের বাইরেও ছিল জনপ্রিয়তা

এলআরবির সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি একক শিল্পী হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন আইয়ুব বাচ্চু। তাঁর একক অ্যালবামের মধ্যে রয়েছে ‘রক্ত গোলাপ’, ‘ময়না’, ‘কষ্ট’, ‘সময়’, ‘একা’, ‘প্রেম তুমি কি!’, ‘পথের গান’ ও ‘জীবন’। সব মিলিয়ে ১৬টি একক অ্যালবাম প্রকাশ করেছিলেন তিনি। চলচ্চিত্রের গানেও ছিল তাঁর উপস্থিতি; অন্তত এক ডজন সিনেমায় প্লেব্যাক করেছেন এই শিল্পী।

আইয়ুব বাচ্চুর কণ্ঠ, গিটার আর গান বাংলা সংগীতের শ্রোতাদের কাছে এখনো সমানভাবে স্মরণীয়। তাঁর প্রয়াণের পরও সেই জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। নতুন প্রজন্মের শ্রোতারাও তাঁর গান শুনছেন, গিটারের সুরে খুঁজে নিচ্ছেন নিজেদের আবেগের প্রকাশ।

সংগীতে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক দেওয়া হয়েছে। জন্মশহর চট্টগ্রামের প্রবর্তক মোড়ে তাঁর সম্মানে স্থাপন করা হয়েছে গিটার ভাস্কর্য।

জীবদ্দশায় আইয়ুব বাচ্চু নিজের স্বপ্নের কনসার্ট কিংবা সংগীতশিক্ষার প্রতিষ্ঠান- কোনোটিই বাস্তবায়ন করতে পারেননি। তবে তাঁর গান, গিটারের সুর এবং নতুন শিল্পীদের অনুপ্রাণিত করার উত্তরাধিকার রয়ে গেছে। মৃত্যুর সাত বছর পরও শ্রোতাদের ভালোবাসায় বেঁচে আছেন ‘রূপালি গিটার’-এর এই জাদুকর।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%