১২:৩৭ এম
হুইলচেয়ার খান পাওয়া খুব উপকার হইলো। আমার ছাওয়াটা এখন ভালো ভাবে চলাফেরা করতে পারবে, হামার দেখি কাউয়ো দেখে না। রোডেম ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে হুইলচেয়ার খেন দিলো। হামরা দোয়া করি, তারা আরো ভালো থাকুক। এ কথা গুলো বলছিলেন হুইল চেয়ার পাওয়া কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের প্রতিবন্ধী শামীম হাসানের মা শাহিদা বেগম (৬০)। তিনি আরো বলেন, আমার স্বামী অনেক আগেই মারা গেছে। প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে আমি অনেক কষ্টে দিন পার করছি। এহনা হুইল চেয়ার কিনব তার টাকা নাই। মঙ্গলবার অডিটোরিয়াম হল রুমে রোডেম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রতিবেদনে উল্লেখিত উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নে মোট ৩০জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে হুইল চেয়ারে বিতরণ করা হয়।
এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান, চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার, রোডেম ফাউন্ডেশনের ন্যাশনাল ডিরেক্টর, ডোসেয়ক হং, ফাউন্ডেশনের বিজনেস ম্যানেজার ডেভিড হালদার, প্রকল্প ম্যানেজার বাবলু রিবেরু, চিলমারী প্রতিনিধি আতাউর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
চিলমারী ইউনিয়নের বৈইলমনদিয়ার খাতা এলাকার সমশের আলী বলেন, বয়স্ক মানুষ ঠিক মতো চলাফেরা করতে পারে না। কাইয়ো এহনা হুইল চেয়ারও দেয় না। হুইল চেয়ার খেন পাওয়া খুব উপকার হইছে।
আরও পড়ুন: গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধে বিএনপি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর
রোডেম ফাউন্ডেশনের চিলমারীর দায়িত্বে থাকা আতাউর রহমান বলেন, যারা হুইল চেয়ার কিনতে পারে না, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ খবর নিয়ে তালিকা করা হয়েছে।
রমনা মডেল ইউনিয়নের বাসিন্দা আলামিন মিয়া (৫৫) বলেন, ফাউন্ডেশনটি চিলমারীতে অনেক আগে থেকেই প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তারা শুধু হুইল চেয়ার দেন না, খাদ্য সহায়তা ও করেন। আমরা আশা করি, হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে তারা কাজ করুক।
রোডেম ফাউন্ডেশনের ন্যাশনাল ডিরেক্টর ডসেয়ক হং জানান, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সমাজের বোঝা নন বরং সমান অধিকার ও সম্ভাবনাময় নাগরিক হিসেবে দেখি। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অপরিহার্য শর্ত। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সক্ষমতা বিকাশে পরিবার, সমাজ, সরকার এবং বেসরকারি সংস্থাসহ সকলের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, ফাউন্ডেশনটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। দক্ষতা উন্নয়ন, আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি এবং সমাজের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতেও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাজারের দানবাক্স ভেঙে টাকা ও মালামাল চুরি, ক্ষতি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন