ঢাকা সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ০২ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৭ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ আ.লীগের রাষ্ট্রীয় মদদে সাজানো: হাসনাত আব্দুল্লাহ


সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ আ.লীগের রাষ্ট্রীয় মদদে সাজানো: হাসনাত আব্দুল্লাহ

সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং ধর্মীয় উগ্রবাদ—এই দুটি বিষয় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল, এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, দলটির ক্ষমতাচ্যুতির পর গত তিন বছরে দেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপিত হওয়া প্রমাণ করে যে, পূর্ববর্তী শাসনামলে এ ধরনের নাশকতা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হতো।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি একটি দীর্ঘ পোস্টে এসব কথা উল্লেখ করেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ লিখেছেন, ‘এখন স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু নির্যাতন আর ধর্মীয় উগ্রবাদ, এই দুটি এলিমেন্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ‘স্টেট স্পন্সরড’। পূজায় আওয়ামী সুবিধাভোগী বিভিন্ন গ্রুপকে দিয়ে ম্যানুফ্যাকচারড সাবোটাজ (নাশকতা) ঘটিয়ে সেটার দায় দেওয়া হতো বিভিন্ন পক্ষকে। এতে যেমন হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে বিভেদ বাড়তো, তেমনি আওয়ামী লীগ ছাড়া সংখ্যালঘুরা অন্য কোথাও নিরাপদ নয় বলে জোরদার প্রচারণাও চলতো।’

আরও পড়ুন: ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল, সদস্যসচিব জাহাঙ্গীর মনোনীত

আওয়ামী শাসনের রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘দেশে সংখ্যালঘু বাঁচাতে আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নাই, কিংবা উগ্রবাদের কল্পিত উত্থানে বাংলাদেশ আফগানিস্তান হবে, আওয়ামী লীগ বহুভাবে এসব গল্প বিক্রি করেছে দেশে ও বিদেশে। সেজন্য তাদের সময়ে একদিকে সাজিয়েছে জঙ্গিবাদের নাটক, অন্যদিকে চলেছে পূজা মণ্ডপের প্রতিমা ভাঙচুর। অথচ আওয়ামী লীগের পলায়নের সঙ্গে সঙ্গে ৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশে এই ঘটনাগুলোও উল্লেখযোগ্যভাবে উধাও হয়ে গেছে।’

তিনি আরও লেখেন, ‘প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের সমাজ, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে যেসব অস্থিরতা আছে অথবা চাঁদাবাজি, ব্যবসা ও ভূমিদখল ইত্যাদি অপরাধ ও নিরাপত্তাহীনতা আছে, সেটা মোটা দাগে সাম্প্রদায়িক সমস্যা নয়। বেশিরভাগই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অপরাধ-সংশ্লিষ্ট।

তিনি উল্লেখ করেন, ‘সাধারণ হিন্দু এবং সাধারণ মুসলমান উভয়েই এসব অপরাধের ভুক্তভোগী। সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু, সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ক্ষমতাহীন নাগরিকই ক্ষমতাসীন দলের চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন। রাজনৈতিক, আমলাতান্ত্রিক ও বিভিন্ন বাহিনীর প্রভাবশালীদের ক্ষমতাচর্চার শিকার হচ্ছেন। ক্ষেত্রবিশেষে সম্পদ ও ভূ-সম্পত্তি জবরদখলের শিকারও হচ্ছেন।

‘এসবের বিপরীতে আওয়ামী লীগ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না করে, সিলেক্টিভলি সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের কেসইগুলোকে পিক করে কিংবা নিজেরাই সেসব স্টেজ করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার বয়ান উৎপাদন করে গেছে। আওয়ামী লীগের সংখ্যালঘু রাজনীতির মুখোশ আজকে খসে পড়েছে।

আরও পড়ুন: ঢাকাসহ ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু, ফি ৮-১০ হাজার টাকা

‘বাস্তবে অপরাধকে যত বেশি বিচার প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা যাবে এবং আইনশৃঙ্খলা প্রশ্নে নাগরিকদের যত বেশি সুরক্ষা দেওয়া হবে, সমাজ থেকে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতার বিষবাষ্পও তত দ্রুত চলে যাবে।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী আওয়ামী লীগবিহীন সময়ের মধ্যে কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পরপর তিন বছর বাংলাদেশের সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় অনুষ্ঠান, দুর্গাপূজা, প্রায় নির্বিঘ্নে উচ্ছ্বাসের সাথে কেটেছে। এটা বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতির এক অসাধারণ বহিঃপ্রকাশ।’

এ অর্জনকে ‘জুলাইয়ের অর্জন’ অভিহিত করে তিনি নতুন ও সুন্দর বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানান।

আরও পড়ুন: চলতি বছরে উচ্চশিক্ষায় ফাঁকা থাকবে সাড়ে আট লাখ আসন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কম্বোডিয়া বাংলাদেশিসহ ৭২১ বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠালো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


কম্বোডিয়া বাংলাদেশিসহ ৭২১ বিদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠালো

অবৈধ অভিবাসন ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশিসহ ২০ দেশের ৭২১ জন বিদেশি নাগরিককে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে কম্বোডিয়া। তাদের মধ্যে ৯৫ জন নারী রয়েছেন। গত ১১ অক্টোবর থেকে ১০ দিনের মধ্যে এই বহিষ্কার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

কম্বোডিয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সার সকহার নির্দেশনায় এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল সক ভিয়াসনা তদন্ত ও প্রক্রিয়াবিষয়ক বিভাগকে নির্দেশ দেন যেন বহিষ্কারের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।

ফেরত পাঠানো বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, চীন, বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ক্যামেরুন, জাপান, ঘানা, তাইওয়ান, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, উগান্ডা, ভারত, মিয়ানমার, ফ্রান্স, লাইবেরিয়া, সুইজারল্যান্ড, উজবেকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বহিষ্কৃতদের মধ্যে চীনের ৯০ জন নাগরিক ছিলেন, যার মধ্যে তিনজন নারী। তাদের বিরুদ্ধে অনলাইন প্রতারণায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, এবং বিশেষ বিমানে তাদের ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এছাড়া, অনলাইন প্রতারণার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্দোনেশিয়ার ৩৫৫ জন নাগরিককেও ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের মধ্যে ৫৪ জন নারী। তাদের টেকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে বহিষ্কার করা হয়।

অন্য বিদেশি নাগরিকদের আন্তর্জাতিক সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্টের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তদন্তে দেখা গেছে, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়া, জাল নথি তৈরি, পাসপোর্ট ছাড়া অবস্থান, চাঁদাবাজি, মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, জাল ভিসা বা কিউআর কোড ব্যবহার, মাদক পাচার ও সেবন, অবৈধভাবে কাজ করা এবং অন্যান্য অপরাধ।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেতের নির্দেশে অবৈধ অভিবাসন ও অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বারবার বলেছেন, অনলাইন প্রতারণা বা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে—এমন অপরাধের ঘাঁটি হিসেবে কম্বোডিয়ার ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

প্রধানমন্ত্রী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের কোনো ছাড় না দেওয়ার কথা বলেছেন। তার মতে, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও ভাবমূর্তি রক্ষা করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সার সকহার নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো অনলাইন প্রতারণার চক্র নির্মূল, এসব অপরাধের মূল হোতাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং প্রতারণা বা পাচারের মাধ্যমে এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে বাধ্য করা ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্ত করে নিরাপদে নিজ দেশে ফেরার ব্যবস্থা করাও এ কার্যক্রমের অংশ।

সূত্র: খেমের টাইমস

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাজীপুরে আগুনে পুড়ল মসজিদ, গুদাম ও দোকান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


গাজীপুরে আগুনে পুড়ল মসজিদ, গুদাম ও দোকান

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় অগ্নিকাণ্ডের ফলে মসজিদ, একাধিক দোকানপাট, ঝুট গুদাম, তুলা গুদাম এবং ভাঙারি দোকান পুড়ে গেছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া গ্রামের ২ নম্বর সিএন্ডবি বাজারে এই দুর্ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুরুল করিম জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাত ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে আগুন লাগার খবর আসে। এরপর শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশন থেকে আরো একটি ইউনিট এবং রাজেন্দ্রপুর মডার্ণ ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট যোগ দেয়।

করিম আরও জানান, চারটি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় ৫টা ৪৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুনের কারণে ঝুট ও তুলার গুদাম, সেনেটারি দোকান, কয়েকটি মুরগির দোকান, তুলার গুদাম, ঝুট গুদাম, ভাঙারির দোকান এবং একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা জানান, আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দু’পক্ষই আগ্রহী হলে ইরান-মার্কিন বিরোধে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


দু’পক্ষই আগ্রহী হলে ইরান-মার্কিন বিরোধে মধ্যস্থতায় প্রস্তুত রাশিয়া

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে চলমান বিরোধের সমাধানে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত রাশিয়া, যদি উভয় পক্ষ এতে আগ্রহ দেখায়।

রুশ সংবাদমাধ্যম ইজভেস্তিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেঙ্কো এই তথ্য জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, "সব পক্ষ যদি এ ধরনের আগ্রহ দেখায়, তবে আমরা (মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনে) প্রস্তুত।"

রুদেঙ্কো আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমস্যা সমাধানের জন্য তারা পূর্বে কিছু প্রস্তাব পেশ করেছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রস্তাবগুলো কোনো সমর্থন পায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীনে নদীর তলদেশে ট্রেন চলাচল, আলোর লেজারের প্রদর্শনী পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


চীনে নদীর তলদেশে ট্রেন চলাচল, আলোর লেজারের প্রদর্শনী পর্যটকদের মুগ্ধ করছে

নদীর উপরে নয়, বরং নদীর তলদেশের নিচ দিয়ে ট্রেনে চড়ে পার হওয়া সম্ভব একটি নদী। এটি শুনতে অবাক লাগলেও চীনের সাংহাইয়ে এমন একটি ব্যতিক্রমী পর্যটন আকর্ষণ বিদ্যমান। হুয়াংপু নদীর নিচ দিয়ে নির্মিত বান্ড সাইটসিয়িং টানেলে যাত্রীদের জন্য আলোর, লেজারের এবং শব্দপ্রভাবের সমন্বয়ে তৈরি বিশেষ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে। মাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিটের এই যাত্রা পর্যটকদের কাছে এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা হিসেবে পরিগণিত হয়েছে।

সম্প্রতি, একটি ভ্লগার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এই ট্রেনযাত্রার ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে নদীর তলদেশ দিয়ে যাতায়াতের পাশাপাশি টানেলের ভেতরের আলোকসজ্জা ও ব্যতিক্রমী পরিবেশের চিত্র তুলে ধরেছেন তিনি।

ভিডিওতে দেখা যায়, প্রথমে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামেন ওই ভ্লগার। এরপর ফুল দিয়ে সাজানো একটি দেয়াল পেরিয়ে আরও নিচে এগিয়ে যান। টিকিট সংগ্রহ করে টানেলের ভেতরে প্রবেশের পর শুরু হয় তার বিশেষ এই যাত্রা।

টানেলের ভেতরে ঝলমলে এলইডি আলো, লেজার প্রক্ষেপণ এবং মহাকাশের আবহ তৈরি করা বিভিন্ন শব্দপ্রভাব বিদ্যমান। সব মিলিয়ে কয়েক মিনিটের এই যাত্রায় নদী পারাপারের পাশাপাশি বিনোদনের সুযোগও পান যাত্রীরা।

নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ওই ভ্লগার মন্তব্য করেন, "এটা সত্যিই দারুণ! চীন কীভাবে প্রতিটি বিষয়কে একটি বিশেষ অভিজ্ঞতায় পরিণত করে, তা আমার ভীষণ ভালো লাগে।"

তার মতে, চীন এখানে সাধারণ একটি ভূগর্ভস্থ ট্রেনপথ নির্মাণ করেই নদী পারাপারের ব্যবস্থা করতে পারত। কিন্তু এর পরিবর্তে যাত্রাপথটিকেও পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে তোলা হয়েছে। টানেল পেরিয়ে নদীর অপর পাড়ে পৌঁছে সেখানকার দৃশ্যও ক্যামেরায় ধারণ করেন তিনি।

কোথায় অবস্থিত এই টানেল?

বান্ড সাইটসিয়িং টানেল চীনের সাংহাই শহরে অবস্থিত। প্রায় ৬৪৬ দশমিক ৭ মিটার দীর্ঘ এই টানেল হুয়াংপু নদীর নিচ দিয়ে শহরের ঐতিহাসিক বান্ড এলাকা ও পুডংয়ের লুজিয়াজুই আর্থিক জেলাকে সংযুক্ত করেছে।

এখানে প্রচলিত মেট্রোরেলের পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় যাত্রীবাহী কেবিন ব্যবহৃত হয়। টানেল পার হতে সময় লাগে আনুমানিক ৩ থেকে ৫ মিনিট। এই সময়ে যাত্রীরা আলো, লেজার এবং শব্দের সমন্বয়ে তৈরি মাল্টিমিডিয়া প্রদর্শনী উপভোগ করতে পারেন।

টিকিটের দাম কত?

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, টানেলটির একমুখী যাত্রার টিকিটের দাম ৫০ চীনা ইউয়ান। আর যাওয়া-আসার টিকিটের দাম ৭০ ইউয়ান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর আনুমানিক মূল্য যথাক্রমে ৯২৬ টাকা ও ১ হাজার ২৯৯ টাকা। তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনে টাকার অঙ্কে কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।

এক মিটারের কম উচ্চতার শিশুরা বিনামূল্যে ভ্রমণের সুযোগ পায়। আর এক মিটারের বেশি থেকে ১ দশমিক ৩ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার শিশুদের জন্য অর্ধেক দামে টিকিটের ব্যবস্থা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে ভ্রমণের আগে টিকিটের সর্বশেষ মূল্য, শিশুদের জন্য প্রযোজ্য নিয়ম এবং চলাচলের সময়সূচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

নদীর তলদেশ দিয়ে যাতায়াতের সুযোগের সঙ্গে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা ও শব্দের সমন্বয় সব মিলিয়ে সাংহাইয়ের এই টানেল পর্যটকদের জন্য সাধারণ যাত্রাপথকে বিশেষ অভিজ্ঞতায় রূপ দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২১শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৩
মাগরিব ০৫:১৯
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%