মো:নিয়াজ মোরশেদ জামালপুর (বকশীগঞ্জ) প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১৯ পি.এম
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন তিন সাংবাদিক। তাঁদের অভিযোগ, পরিচয় দিয়ে তথ্য জানতে চাইলে প্রয়োজনীয় তথ্য না দিয়ে উল্টো তাঁদের ভিডিও করেন মেরুরচর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে মেরুরচর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে যান দৈনিক ডেসটিনি পত্রিকার বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি তাহের শেখ, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের প্রতিনিধি মারুফ হাসান এবং দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিনের বকশীগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ আমিনুল ইসলাম।সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা ভূমি কার্যালয়ে গিয়ে কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামের পরিচয় ও দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। তাঁদের দাবি, পেশাগত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তথ্য জানতে গেলেও তাঁরা কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি। বরং কর্মকর্তা তাঁদের ভিডিও করেন।সাংবাদিকরা জানান, সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম ও সেবার পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন তাঁরা। এ সময় তাঁদের সঙ্গে এমন আচরণের কারণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরকারি কার্যালয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে গণমাধ্যমকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনে সহযোগিতা ও সৌজন্যপূর্ণ আচরণ প্রত্যাশা করেন।এদিকে, বুধবার দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শনকালে কার্যালয়ে বিদ্যুৎ ছিল না এবং আইপিএস বন্ধ দেখা যায়। এ সময় দাপ্তরিক কার্যক্রম চলতে দেখা যায়নি। তবে কার্যালয়ে জেনারেটর থাকার বিষয়টি সাংবাদিকদের নজরে আসে। পরবর্তী সময়ে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে একজন সেবাগ্রহীতাকে সেবা প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় সেবাগ্রহীতাদের সেবা পেতে কোনো ভোগান্তি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ ছাড়া কার্যালয়ের অনার বোর্ডটি সিঁড়ির নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানান সাংবাদিকরা। তাঁদের মতে, সরকারি দপ্তরের সেবার মান, দাপ্তরিক কার্যক্রম ও জনসাধারণের ভোগান্তি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের অংশ।
মেরুরচর ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী শফিকুল ইসলাম সাথে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা চেষ্টা করিলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।বকশিগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি)
আসমা উল হুসনা বলেন,তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ভিসি প্রফেসর ড. মো. নূরুল ইসলাম চীনে দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন। তাঁর অনুপস্থিতির সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর রুটিন দায়িত্ব পালন করবেন প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এ বি এম আজিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসি প্রফেসর ড. মো. নূরুল ইসলাম ১৬ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন। এই সময়কালে তিনি 'সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন মাউন্টেন সায়েন্স (আইসিএমএস ২০২৬)’ এবং ‘কাউন্সিল মিটিং অব দ্য এশিয়ান জিওগ্রাফিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-২০২৬’ এ অংশগ্রহণ করবেন। ভ্রমণের জন্য সরকারি আদেশে তাঁকে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভিসির ছুটির সময় প্রো-ভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মো. শামছুল আলম তাঁর নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর রুটিন দায়িত্বও পালন করবেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের নম্বর নাইন পজিশনে কে খেলবেন, তা নিয়ে কোচ টমাস ডুলির মধ্যে দুশ্চিন্তা ছিল। তবে সেই অনিশ্চয়তা এখন দূর হচ্ছে।
বাংলাদেশ সাফের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভানকে পাচ্ছে। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই তরুণ এবার জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার অপেক্ষায় রয়েছেন। টুর্নামেন্টে তার খেলার ব্যাপারে প্রথমে শঙ্কা থাকলেও আজ (১৫ অক্টোবর) কোচ টমাস ডুলি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে একজন স্বীকৃত স্ট্রাইকারের অভাব অনুভব করছে। রোনানের অন্তর্ভুক্তি সেই ঘাটতি কিছুটা পূরণ করবে বলে আশা করছে দল। ডুলি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘রোনানকে সাফে পাওয়া যাবে এটা নিশ্চিত। তবে ডেকলানকে (রোনানের যমজ ভাই) পাওয়া যাবে না। ওকে পরের কোনো আসরে দেখা যাবে।’
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমও রোনানের খেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আজকেই আমাকে সে (রোনান) কনফার্ম করেছে যে, ইনশাআল্লাহ আসতে পারবে। ১৮ অক্টোবর খেলোয়াড় তালিকা নিবন্ধনের শেষ দিন। আমরা তাকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করব।’
গত এপ্রিলে মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ফাইনালে ভারতকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জেতে দল।
পুরো টুর্নামেন্টে রোনান নজর কেড়েছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে ফ্রি কিক ও হেড থেকে দুটি গোল করে বাংলাদেশকে জেতান। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই ফরোয়ার্ড।
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। ফিফার নিষেধাজ্ঞার কারণে নেপাল অংশ নিতে না পারায় এবার খেলছে ৬ দল।
‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। ‘বি’ গ্রুপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারত, মালদ্বীপ ও পাকিস্তান রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্গাপূজার সময় ইসলামী ছাত্রশিবির বিজেপি-আরএসএসের এজেন্ডা মাফিক কাজ করছে, এমন মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আব্দুল কাদের।
তিনি বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই মন্তব্য করেন।
পোস্টে আব্দুল কাদের উল্লেখ করেন, শিবিরের কার্যক্রম হোক বুঝে বা না বুঝে, হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার সময়ে তারা বিজেপি-আরএসএসের এজেন্ডা অনুসরণ করছে।
তিনি আরও বলেন, গত সোমবার রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরা মন্দির প্রাঙ্গণে গরুর মাংস রান্না করে এবং রান্নার কাজে মন্দিরের পরিত্যক্ত ইট ব্যবহার করে। এই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিস্থিতি বিবেচনা করে ক্যাম্পাসে সব ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক হিসেবে তিনি মন্তব্য করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত দূরদর্শী। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের একটি হীন প্রচেষ্টা সবসময় থাকে। ভারতে চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সেই প্রচেষ্টা আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তাদের দেশীয় এজেন্ট এবং পতিত স্বৈরাচার এমন উৎসব ও সুযোগের জন্য অপেক্ষা করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বর্তমানে নড়বড়ে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে শিবির গরু খাওয়ার জন্য যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়েছে।
শেষে তিনি লেখেন, যেখানে মন্দিরের সামনে গরু রান্না এবং মন্দিরের ইট ব্যবহারের মতো জঘন্য কাজের পর অনুতপ্ত থাকার কথা, পূজার সময়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সহযোগিতা করার কথা, সেখানে শিবির উল্টো লঙ্কাকাণ্ড সৃষ্টি করেছে। শিবিরকে এমন ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে, না থাকলে বিরত রাখতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ইয়েমেনে গত কয়েক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন দুই লাখের বেশি মানুষ। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল (এনআরসি) জানিয়েছে, নতুন করে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত দেশটির খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণরূপে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
এনআরসির তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতের ফলে ইয়েমেনের তাইজসহ বিভিন্ন এলাকায় যুদ্ধাপরতীর পরিবর্তন ঘটেছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং জরুরি ত্রাণ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর প্রবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এনআরসির অ্যাডভোকেসি ম্যানেজার অ্যালিসন বটমলে জানিয়েছেন, এই নতুন সংঘাত শুরু হওয়ার আগেই ইয়েমেন বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মুখোমুখি ছিল।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরবরাহ লাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে তাইজ অঞ্চলে খাদ্যের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকে, তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির আটার মজুদ ফুরিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহও হুমকির মুখে পড়েছে।
এনআরসির সহায়তায় পরিচালিত বাস্তুচ্যুত মানুষের ক্যাম্পগুলোর পরিস্থিতি তুলে ধরে অ্যালিসন বলেন, কিছু কিছু এলাকায় এসব ক্যাম্পের আকার দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ঘরছাড়া এসব পরিবারগুলোর অধিকাংশই কোনো ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ছাড়াই আশ্রয়শিবিরে এসে পৌঁছাচ্ছেন।
বাস্তুচ্যুত মানুষের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, "যাঁরা ঘর ছেড়ে পালিয়ে আসছেন, তাঁদের সবার মুখে একই কথা—তাঁরা সবকিছু পেছনে ফেলে খালি হাতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক।" সূত্র: আল জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ