ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

আইনি জটিলতায় বিপাকে ২১৭ সাবেক জলদস্যু, ফেরার চেষ্টা আলোর পথে


আইনি জটিলতায় বিপাকে ২১৭ সাবেক জলদস্যু, ফেরার চেষ্টা আলোর পথে

একসময় বঙ্গোপসাগরে যাদের নাম শুনলে আতঙ্কিত হতেন জেলেরা, সেই জলদস্যুদের অনেকেই এখন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। যে হাতে একসময় ছিল অস্ত্র, সেই হাতে এখন কেউ ধরছেন দিনমজুরের কোদাল, কেউ চালাচ্ছেন গাড়ি। অন্ধকার জগৎ ছেড়ে আলোর পথে ফেরার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেও আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি মিলছে না তাদের। অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণের কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার বোঝা ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ২১৭ সাবেক জলদস্যুর জীবন।

জানা যায়, আত্মসমর্পণের পর তাদের অনেকেই সমাজের মূলধারায় ফিরেছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজন জনগণের ভোটে জনপ্রতিনিধিও নির্বাচিত হয়েছেন। কেউ ব্যবসা করছেন, কেউ দিনমজুরি করে পরিবারের ভরণপোষণ করছেন। তবে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে একের পর এক মামলা। একেকজনের বিরুদ্ধে ১০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। জীবিকার তাগিদে কাজ করবেন, নাকি মামলার হাজিরা দিতে আদালতে যাবেন—এমন সংকটে পড়েছেন তারা। মাসের ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত আদালতে যাতায়াত করতে হচ্ছে অনেককে। এতে কাজ হারানোর পাশাপাশি আর্থিক সংকটে পড়ছে তাদের পরিবার। অর্থাভাবে নিয়মিত হাজিরা দিতে না পারায় অনেকের পলাতক আসামি হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

আত্মসমর্পণের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হত্যা ও ধর্ষণ মামলা ছাড়া অন্যান্য সাধারণ মামলা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে সাবেক জলদস্যুদের অভিযোগ, বাস্তবে সেই আশ্বাসের প্রতিফলন ঘটেনি।

আরও পড়ুন: ১১ জেলায় ৮৭৯ জন গ্রেপ্তার, ৩০৩ কিশোর অভিভাবকের জিম্মায় মুক্ত

এই আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন সাংবাদিক মীর মো. আকরাম হোছাইন। ২০১৪ সাল থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগরের গভীরে জলদস্যুদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মধ্যস্থতা করেন তিনি। তার দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ২০১৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত চার ধাপে ৪৬টি দস্যু বাহিনীর ২১৭ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা জমা দেন দেশি-বিদেশি ৪২৯টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ হাজার ২৫১ রাউন্ড গুলি এবং অস্ত্র তৈরির একটি লেদ মেশিন।

সাংবাদিক আকরাম হোছাইনের মতে, ‘শুধু আইন প্রয়োগ করে অপরাধের মূলোৎপাটন সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন মানবিক পুনর্বাসন।’ তিনি জলদস্যুদের পেছনে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার বিষয়টিও তুলে ধরেছেন। তার অভিযোগ, যুগের পর যুগ ক্ষমতার পালাবদলে অসাধু রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের স্বার্থে এসব মানুষকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করেছেন। জলদস্যুরা আত্মসমর্পণ করলেও তাদের পেছনের মূল হোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আত্মসমর্পণের পর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি হলেও মামলার চাপ ও জীবিকার অনিশ্চয়তা সেই পথ কঠিন করে তুলছে। দিনমজুরি করে সংসার চালানো একজন মানুষকে মাসের অর্ধেক সময় আদালতে কাটাতে হলে তার পরিবারের ওপরও চাপ তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আইনি জটিলতা নিরসন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না হলে তাদের কেউ কেউ আবার পুরোনো অপরাধজগতে ফিরে যেতে পারেন। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে উপকূলের জেলে ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আবারও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: বেনাপোলে পাসপোর্ট যাত্রীর ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই, দুই ব্যক্তি আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারাগার: গ্যাংস্টারদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও অপরাধের কেন্দ্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


কারাগার: গ্যাংস্টারদের জন্য নিরাপদ আশ্রয় ও অপরাধের কেন্দ্র

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, কারাগারের মূল উদ্দেশ্য হলো অপরাধীদের আটকানো, তাদের সংশোধন করা এবং শাস্তি প্রদান করা। কিন্তু আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিছু গ্যাংয়ের জন্য কারাবাসের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক সময় কারাগার তাদের জন্য শত্রুদের হাত থেকে বাঁচার নিরাপদ আশ্রয়, নতুন সদস্য নিয়োগের উপযুক্ত স্থান এবং কিছু ক্ষেত্রে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি কমান্ড সেন্টার হয়ে ওঠে।

বলিউডের কাল্ট গ্যাংস্টার সিনেমা 'সত্যা'-তে পুলিশ কমিশনার এবং মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কথোপকথন রয়েছে। হতাশ পুলিশ কমিশনার মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, “আসলে যা হয়, আমরা তাদের গ্রেপ্তার করি, কিন্তু তারা খালাস পেয়ে যায়। ধরা পড়লেও তারা জেলের ভেতরে বসে গ্যাং চালায়, আর পালিয়ে গেলে দেশের বাইরে বসে চালায় এবং আমরা কিছুই করতে পারি না।” এই সংলাপটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর চরম হতাশা ও অসহায়ত্বকে ফুটিয়ে তোলে, যা তারা জেলের আড়ালে বসে অপরাধের নেটওয়ার্ক সচল রাখা গ্যাংস্টারদের মোকাবেলা করতে গিয়ে অনুভব করে।

সম্প্রতি অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় বিষ্ণোই গ্যাংয়ের কথিত ভূমিকা একটি বড় উদাহরণ যে—কোনো গ্যাংস্টারকে কারাগারের পেছনে বন্দি করলেই বাইরের দুনিয়ায় তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা আটকানো যায় না। এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, লরেন্স বিষ্ণোই এবং তার ভাই আনমোল দুজনেই ভিন্ন ভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা সত্ত্বেও, গত তিন বছরে মুম্বাইয়ের বড় বড় শুটআউটের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

লরেন্স বিষ্ণোই বর্তমানে গুজরাটের সবরমতী সেন্ট্রাল জেলে বন্দি এবং তার ভাই আনমোল বন্দি রয়েছেন দিল্লির তিহার জেলে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে এই দুই ভাইকে হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থা বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

তবে কারাগারের দেয়ালের পেছন থেকে হামলার ছক কষার এই অভিযোগে বিষ্ণোই ভাইয়েরাই প্রথম গ্যাংস্টার নন। মুম্বাই আন্ডারওয়ার্ল্ডের গ্যাং লিডারদের জেল থেকে নিজেদের সাম্রাজ্য পরিচালনার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।

নব্বইয়ের দশক এবং একবিংশ শতাব্দীর শুরুর বছরগুলোতে, দাউদ ইব্রাহিম, ছোট রাজন এবং আবু সালেম যখন বিদেশ থেকে মুম্বাইতে হামলার নির্দেশ দিতেন; তখন অরুণ গাউলি এবং অশ্বিন নায়েকের মতো গ্যাংস্টাররা ভারতীয় কারাগারগুলোতে বসেই নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতেন।

মুম্বাই, পুনে, থানে এবং নাসিকের মতো জেলগুলো থেকে তারা শুটার নিয়োগ করতেন, চাঁদাবাজির নির্দেশ দিতেন এবং খুনের হুকুম দিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নায়েকের বিরুদ্ধে জেলের ভেতরে বসেই তার স্ত্রী নীতা নায়েককে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। কারণ তিনি সন্দেহ করেছিলেন যে তার স্ত্রীর সাথে এক পুলিশ কর্মকর্তার সম্পর্ক রয়েছে। তবে পুলিশ আদালতে এই অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারায় নায়েক সেই মামলা থেকে খালাস পেয়ে যান।

একইভাবে অরুণ গাউলির বিরুদ্ধেও শিবসেনা প্রধান বাল ঠাকরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ জয়ন্ত যাদবকে জেলের ভেতরে বসেই হত্যার পরিকল্পনা করার অভিযোগ উঠেছিল। যাদব নাকি গাউলিকে এক জেল থেকে অন্য জেলে স্থানান্তরের পেছনে ভূমিকা পালন করেছিলেন। এই স্থানান্তরে ক্ষুব্ধ হয়ে গাউলি তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কারাগারের ভেতর থেকে গ্যাং পরিচালনার এই সুযোগ পাওয়ার পেছনে ঐতিহ্যগতভাবে দুর্নীতি একটি বড় ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রায় প্রতিটি বড় গ্যাংয়েরই কারাগার ব্যবস্থার ভেতরে একটি নেটওয়ার্ক থাকে, যার সদস্যরা দুর্নীতিবাজ জেল কর্মকর্তা ও রক্ষীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। কথিত আছে যে, কারাবন্দি গ্যাং সদস্যদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে এবং গ্যাং লিডারদের সাথে বাইরের সহযোগীদের যোগাযোগ সহজ করতে ঘুস এবং উপহার দেওয়া হতো।

গ্যাং লিডাররা তাদের আইনজীবী এবং আইনগতভাবে দেখা করার অনুমতি পাওয়া অন্যান্য ব্যক্তিদের সাথে বৈঠকের মাধ্যমে বাইরের সদস্যদের কাছে বার্তা পাঠাতেন। এ ছাড়া যেসব কয়েদি জামিন পেতেন, খালাস পেতেন, সাজা শেষ করতেন কিংবা যাদের আদালতের শুনানির জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া হতো, তারাও অন্য গ্যাং সদস্যদের কাছে বার্তা পৌঁছানোর বাহক হিসেবে কাজ করতেন।

চোরাচালানের মাধ্যমে ভেতরে নেওয়া মোবাইল ফোন এই যোগাযোগকে আরও সহজ করে তুলেছে, যা মাফিয়া ডনদের সাথে গ্যাং সদস্য, চাঁদাবাজির টার্গেট এবং এমনকি গণমাধ্যমের সরাসরি সংযোগ ঘটিয়ে দেয়।

২০২৩ সালের মার্চ মাসে, কড়া হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও লরেন্স বিষ্ণোই একটি হিন্দি নিউজ চ্যানেলকে দুটি সাক্ষাৎকার দেন। তিনি প্রথম সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন পাঞ্জাব পুলিশের হেফাজতে থাকার সময় এবং দ্বিতীয়টি দিয়েছিলেন জয়পুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি থাকাকালীন। ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও সামনে আসে, যেখানে তাকে সবরমতী জেল থেকে একটি ভিডিও কলের মাধ্যমে পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায়।

একই বছর, হাশিম বাবা নামের এক কয়েদি পুলিশকে জানান যে বিষ্ণোইয়ের কাছে মোবাইল ফোনের সুবিধা রয়েছে এবং তিনি বাইরের দুনিয়ার সাথে সহজেই যোগাযোগ করতে পারেন। মহারাষ্ট্রে সততার জন্য পরিচিত জেল কর্মকর্তা স্বাতী সাথে বেশ কয়েকটি কারাগারে অভিযান চালিয়ে কয়েদিদের কাছ থেকে অসংখ্য মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছিলেন।

দুর্নীতির বাইরেও, নির্দিষ্ট কিছু কয়েদি কীভাবে মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য বিশেষ সুবিধা পান, তার পেছনে আরেকটি বিতর্কিত দিক রয়েছে—তা হলো রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাথে তাদের কথিত যোগসূত্র। এমন কিছু অভিযোগ রয়েছে যে, কিছু গ্যাংস্টারকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে। কারণ তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী বা শত্রু এজেন্টদের লক্ষ্যবস্তু করা যায়। এর বিনিময়ে তারা জেলের ভেতরে সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ধরনের সমঝোতা যদি সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং ফৌজদারি আইনের প্রয়োগের মধ্যকার পার্থক্যকে বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

টাইগার শ্রফ শ্যুটিং মামলার ক্ষেত্রে মুম্বাই পুলিশ তিহার জেল থেকে আনমোল বিষ্ণোইয়ের হেফাজত নেওয়ার চেষ্টা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে সবরমতী জেল থেকে তাঁর ভাই লরেন্সের হেফাজত নেওয়ার পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাগুলো ব্যর্থ হয়েছে। মুম্বাই পুলিশ অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখলেও সেই প্রচেষ্টা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল এনে দেয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ, তালেবানের চৌকি ধ্বংসের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষ, তালেবানের চৌকি ধ্বংসের দাবি

পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে যে, আফগান তালেবানের একাধিক নিরাপত্তা চৌকি ও সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। এই অভিযানগুলি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তান ও পারাচিনার সংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত হয়।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর আঙ্গুর আড্ডা এলাকায় আফগান বাহিনীর উসকানিমূলক ও বিনা প্ররোচনায় গুলিবর্ষণের জবাবে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পাল্টা অভিযান শুরু করে। সূত্রগুলো দাবি করেছে যে, পাকিস্তানি বাহিনীর আক্রমণের ফলে আফগান তালেবান সদস্যরা তাদের অবস্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এ সময় তালেবান বাহিনীর বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

এর আগে, গত বুধবার দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের আঙ্গুর আড্ডা এলাকায় বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে আফগান বাহিনীর হামলা ঘটে। এই হামলায় একই পরিবারের একজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হন। ঘটনার পর পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা অভিযান চালিয়ে তালেবানের একাধিক চেকপোস্ট ধ্বংস করে।

নিম্ন দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের ডেপুটি কমিশনার জানিয়েছেন, আফগান তালেবান বাহিনী বিনা উসকানিতে আঙ্গুর আড্ডা বাজার ও এর আশপাশের আবাসিক এলাকায় গুলি চালায়। এ সময় একটি মর্টার শেল ওই এলাকায় আঘাত হানলে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন এবং পাঁচজন আহত হন। হামলায় বেশ কয়েকটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ডেপুটি কমিশনার আরও বলেন, সীমান্তে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনারা হামলার কঠোর জবাব দিচ্ছে। নিরাপত্তা সূত্রের মতে, তাৎক্ষণিক পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে সীমান্তের ওপারে আফগান তালেবানের একাধিক চেকপোস্ট ধ্বংস করা হয়েছে।

আঙ্গুর আড্ডা সীমান্ত এলাকায় প্রায়ই এ ধরনের আন্তঃসীমান্ত সহিংসতার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিলের শেষের দিকে সীমান্তের ওপার থেকে ছোড়া মর্টার শেলের আঘাতে দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানে কয়েকজন বেসামরিক নাগরিক আহত হন। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকটি বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পাকিস্তানি বাহিনী আফগান তালেবানের অবস্থান লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পাকিস্তান ‘অপারেশন গাজাব লিল-হক’ পরিচালনা করে। ইসলামাবাদ বারবার কাবুলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে যে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে যেন কোনো জঙ্গি গোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালাতে না পারে।

সূত্র : জিও নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবশেষে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে জয়ের দেখা পেল ব্র্যাক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


অবশেষে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপে জয়ের দেখা পেল ব্র্যাক

অবশেষে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি জয়ের স্বাদ পেল। এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের ‘বি’ গ্রুপে টানা দুই হারের পর আজ তারা ইউল্যাবের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছে। হতাশা ভুলে আজকের ম্যাচে তারা সফল হয়েছে।

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ১-০ গোলের ব্যবধানে ইউল্যাবকে পরাজিত করেছে। জয়সূচক গোলটি করেছেন ইমতিয়াজ মারুফ।

এবিজি স্পোর্টস সিটির বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটে ইউল্যাবের একটি সুযোগ এসেছিল। কিন্তু তাদের এক খেলোয়াড়ের নেওয়া ভলি বারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বিপরীতে, ১০ মিনিটে ব্র্যাকের একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তবে মারুফ বক্সের মধ্যে থেকে শটটি সঠিকভাবে নিতে পারেননি।

প্রথমার্ধের ৫০ মিনিটে দুই দলই আরো কিছু সুযোগ সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু খেলোয়াড়রা সেগুলো কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। ফলে প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্রতে শেষ হয়।

বিরতির পর আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের মধ্যে খেলাটি চলতে থাকে, তবে কোন দলই গোলের দেখা পাচ্ছিল না। অবশেষে ৪০ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ইউল্যাবের রক্ষণভাগ বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে মারুফ বক্সের মধ্যে বল পান সতীর্থের আলতো টোকায়। চলতি বলেই ডান পায়ের জোরালো বাঁকানো শটে তিনি গোল করেন। তার সেই গোলের মাধ্যমে ব্র্যাক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাবনায় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যুতে জামায়াতের গভীর শোক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২৭ পি.এম


পাবনায় বজ্রপাতে ছয়জনের মৃত্যুতে জামায়াতের গভীর শোক

পাবনার সদর উপজেলায় বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং তিনজনের আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছে।

শুক্রবার, গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই শোক প্রকাশ করেন।

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ৩০ অক্টোবর বিকেলে পাবনা সদর উপজেলার গোবিন্দপুরের সোনাপাতি বিলে বৃষ্টির সময় আশ্রয় নিতে গিয়ে বজ্রপাতে ছয়জন কিশোর ও তরুণের মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বেদনাদায়ক। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহর কাছে নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি। আল্লাহ তাআলা তাদের শহীদ হিসেবে কবুল করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এই অপূরণীয় ক্ষতি ও শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করুন। একই সঙ্গে বজ্রপাতে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%