ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কুড়িগ্রামে দুই খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান, জরিমানা ১০ হাজার টাকা


কুড়িগ্রামে দুই খাদ্য প্রতিষ্ঠানে অভিযান, জরিমানা ১০ হাজার টাকা

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় অনিবন্ধিতভাবে খাদ্যপণ্য প্রস্তুত, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে উৎপাদন এবং পোড়াতেলসহ অননুমোদিত উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগে জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ দুটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে। জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত পৃথক এই দুই অভিযানে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) জেলা প্রশাসন, কুড়িগ্রাম এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রামের যৌথ উদ্যোগে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযান-১-এ ধরলা ব্রিজ সংলগ্ন কুরিয়ার বাজার এলাকায় জনৈক মো. আনোয়ার হোসেনের পরিচালিত খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি অনিবন্ধিত অবস্থায় খাদ্যপণ্য প্রস্তুত করছিল। সার্বিক পরিবেশ খুবই নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন ছিল। তাছাড়া পোড়াতেল ও অননুমোদিত উপকরণ ব্যবহারের প্রমাণও মেলে। এ অপরাধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫২ ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়।

আরও পড়ুন: উখিয়ার অগ্নিকাণ্ডে নাহিদ ও তার পরিবারের খোঁজ নেই, হতাহতদের তালিকা নেই

অন্যদিকে, দাদা মোড় সংলগ্ন মোগলবাসা রোড এলাকার ‘রজনীগন্ধা’ বেকারির কারখানায় অভিযান চালিয়ে একই ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে কারখানার পরিবেশও অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর ছিল। সেখানে পোড়াতেল এবং অননুমোদিত রঙ ও সুগন্ধি ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২ ধারা অনুযায়ী এই প্রতিষ্ঠাকেও ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আকস্মিক এই অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মুল খায়ের সুমি। এই অভিযানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, জেলা কার্যালয়, কুড়িগ্রাম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে। অভিযানের সার্বিক নিরাপত্তায় জেলা পুলিশের একটি চৌকস দল দায়িত্ব পালন করে।

অভিযানকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক ও কর্মচারীদের নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশন নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রচলিত সব আইন ও বিধিবিধান মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এছাড়া জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনস্বার্থে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ও আইনানুগ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। খাদ্যে ভেজাল বা অনিয়মের তথ্য জানাতে, জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের টোল-ফ্রি নম্বর ১৬১৫৫-এ যোগাযোগ করার জন্য।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নিখোঁজ নাহিদুরের স্ত্রী ও দুই মেয়ের সন্ধান চায় পরিবার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেল্লা বাবার মাজারে ১২ বস্তা টাকা, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:১৬ পি.এম


কেল্লা বাবার মাজারে ১২ বস্তা টাকা, সোনা-রুপা ও বিদেশি মুদ্রা উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া বিখ্যাত খরমপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারের সাত দিনব্যাপী ওরস উপলক্ষ্যে স্থাপন করা দানবাক্স থেকে পাওয়া গেল ১২ বস্তা টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি উপহার হিসেবে কিছু সোনা-রুপা এবং বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া গেছে।

সোনালী ব্যাংকের ১৬ জন কর্মকর্তা ও মাজার শরীফ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মিলে অন্তত অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী বিকল্প নম্বরে টাকা গণনার কাজ করছেন।

এছাড়াও মাজার প্রাঙ্গণে ভক্তদের দেওয়া বিভিন্ন পশুপাখির হিসাব ও অন্যান্য সামগ্রী মাজার কর্তৃপক্ষের জিম্মায় রাখা হয়েছে।

গণনা শেষে সার্বিক হিসাব ও চূড়ান্ত অর্থ সংগ্রহের পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন মাজার পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপসী রাবেয়া।

কেল্লা বাবার মাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খাদেম মিন্টু জানালেন, গত ১০ আগস্ট সোমবার থেকে শুরু হওয়া আখাউড়া খরমপুর শাহ সৈয়দ আহাম্মদ গেছুদারাজ (রহ.) ওরফে শাহ পীর কেল্লা বাবার মাজারের সাত দিনব্যাপী ওরসটি ১৬ আগস্ট রোববার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত চলমান ছিল। এই সাত দিনের ওরসে দেশ-বিদেশ থেকে আগত মাজারের ভক্ত-আশেকানরা ৪টি দানবাক্সে ওই টাকা, সোনা-রুপা এবং বিদেশি মুদ্রা দান করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরনগরে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে কান ধরিয়ে মীমাংসার চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগর প্রতিনিধি

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:২৬ পি.এম


নাসিরনগরে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে কান ধরিয়ে মীমাংসার চেষ্টা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে একজন ১৩ বছর বয়সী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার চাচাতো ভাই জাহিদুলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর সালিশ বসিয়ে অভিযুক্তকে সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে, বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে কিশোরীর পরিবার পরবর্তীতে পুলিশের দ্বারস্থ হয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই কিশোরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

পুলিশ ও কিশোরীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে জাহিদুল ওই কিশোরীকে ডেকে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি নির্জন স্থানে যান। সেখানে একটি ভাঙা ঘরে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে কিশোরী নিজের শোবার ঘরে ফিরে ঘটনাটি বড় বোনকে জানায়। এ ঘটনায় কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সিনিয়র স্টাফ নার্স নেহেরা আক্তার জানিয়েছেন, কিশোরীকে ভর্তির পর প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিষয়টি গাইনি কনসালটেন্টকে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

পরদিন সকালে কিশোরীর বড় ভাই জাহিদুলকে বিষয়টি নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জাহিদুল তাকে আক্রমণ করেন এবং মামলা করলে পরিণতি ভালো হবে না বলে হুমকি দেন। পরে স্থানীয় গ্রামের সর্দারকে বিষয়টি জানানো হলে সোমবার সকাল ৯টার দিকে বাড়িতে সালিশ বসানো হয়। সেখানে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে অভিযুক্ত জাহিদুলকে সাতবার কান ধরে উঠবস করিয়ে বিচার শেষ করা হয়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বড় ভাই বলেছেন, জাহিদুল কসমেটিকসের ব্যবসা করেন। তার বোন শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী না হলেও তিনি অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির এবং অনেক কিছুই বুঝতে পারে না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও মহিলা ইউপি সদস্য ফাহিমা খাতুনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে。

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত

মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি, নাকি আবারও যুদ্ধের দামামা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩০ পি.এম


মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি, নাকি আবারও যুদ্ধের দামামা?

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর হামলা চালায়। সেই হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধ এখন সাড়ে ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলছে। যুদ্ধে সরাসরি তিনটি দেশ জড়িত হলেও এর প্রভাব গোটা বিশ্বে পড়েছে। বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ জ্বালানি তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণানি বন্ধ থাকায় তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে। গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতেও চাপ পড়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পক্ষ যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক চেষ্টা শুরু করে। এপ্রিল মাসে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের নেতারা সরাসরি বসেও ছিলেন। নানা মহলের চেষ্টায় গত ১৭ জুন ভার্চুয়ালি একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয় ফ্রান্সে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেকশিয়ানের মধ্যে। ১৪ দফা সেই সমঝোতা স্মারকে গোটা বিশ্বের মানুষ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছিলেন। সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কথা ছিল, ৬০ দিনের মধ্যে দুই পক্ষ বসে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ বন্ধে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছাবে। প্রয়োজনে সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আরো বাড়ানোর কথা বলা হয়েছিল। সমঝোতা স্মারকের বেঁধে দেয়া ৬০ দিনের মেয়াদ আজ শেষ হচ্ছে। কিন্তু যুদ্ধ বন্ধের কোনো লক্ষণ নেই। সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ বাড়ানো বা স্থায়ী শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর ব্যাপারে কোনো আলোচনা নেই।

বিশাল প্রত্যাশার বিপরীতে বিশ্ববাসীকে চরম হতাশায় উপহার দিয়েছে বহুল আলোচিত এই সমঝোতা স্মারক। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের দুদিনের মধ্যে এর নানান শর্ত এবং শব্দচয়ন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিমত সৃষ্টি হয়। জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিকে আবার যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ৩১ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা চলতে থাকে। তবে চলতি আগস্ট মাসে বড় ধরনের কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি। পর্দার আড়ালে সমঝোতার শর্ষের বিভিন্ন চেষ্টার কথা শোনা গেলেও কার্যকর কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান আর ওমান একটি আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সেটি সফল হলে একধরনের স্বস্তি আসতে পারে। যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু দুই পক্ষই নিজেদের বিজয়ের দাবি করছে। মুখে যতই হম্বিতম্বি করুন না কেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুদ্ধ বন্ধের মরিয়া চেষ্টা রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। বিপুল অর্থ ব্যয় তো হচ্ছেই, খবর বেরোচ্ছে টান পড়েছে আমেরিকার অস্ত্রভান্ডারেও।

ইরানের অর্থনীতি অনেক দিন ধরেই অবরুদ্ধ। তবু হরমুজ প্রণালিকে মূল অস্ত্র বানিয়ে টিকে থাকাকেই নিজেদের বিজয়ের পর্যায়ে নিয়ে গেছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনায় বসার ব্যাপারে ইরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি উল্লেখ করেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে। তবে এর মানে এই নয় যে কোনো আলোচনা চলছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে এবং এর ফলে আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সাথে আলোচনা প্রসঙ্গে আরাঘচি বলেন, আমরা বর্তমানে একটি অস্থায়ী রুট বা পথনকশা করছি, যা পরবর্তী ধাপগুলোতে স্থায়ী রুটে পরিণত হবে। আমরা হয়তো খুব শিগগিরই একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, এই প্রণালিটি পুনরায় উন্মুক্ত করা অন্যান্য শর্ত পূরণের ওপর নির্ভর করছে। যে শর্তগুলো মানতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে হবে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেছেন এবং বলেছেন, আমেরিকা শিগগিরই এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি জানাবে।

১৭ জুন স্বাক্ষরিত ১৪ দফার এই সমঝোতা স্মারকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো দুই দেশের মধ্যকার জটিল এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো পরবর্তীতে সমাধানের জন্য তুলে রাখা হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিক কূটনৈতিক সমাধানের মাধ্যমে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং লেবাননের সংঘাত অবসান করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য। সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরান চলতি যুদ্ধে তাদের মিত্ররা এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের মাধ্যমে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান সমাপ্তির ঘোষণা দিচ্ছে। এখন থেকে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধ বা সামরিক অভিযান শুরু না করার এবং একে অপরের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করছে। সেই সঙ্গে লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

সমঝোতা স্মারকে বলা হয়েছিল, চূড়ান্ত চুক্তিতে লেবাননসহ সব ক্ষেত্রে স্থায়ীভাবে যুদ্ধ অবসানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে এবং এই অনুচ্ছেদের অন্যান্য ধারাগুলি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত হবে। সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে এই চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে, যা উভয়পক্ষের সম্মতিতে বাড়ানো যেতে পারে।

চুক্তিতে আরও উল্লেখ ছিল, চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করতে হবে এবং ইরানের পুনর্গঠন ও উন্নয়ন প্যাকেজের জন্য কমপক্ষে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের কাজ শুরু করতে হবে। এই চুক্তির অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, ইরানের তেল রফতানির ওপর ছাড় দেওয়া এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের শত শত কোটি ডলারের তহবিলে তেহরানকে প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। অন্যদিকে, ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণ করার এবং ৬০ দিনের জন্য কোনো শুল্ক ছাড়াই জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। ইরান আরও পুনর্ব্যক্ত করেছিল যে, তারা কোনো পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা তৈরি করবে না এবং বর্তমান স্থিতাবস্থা বজায় রাখবে।

সমঝোতা স্মারকে ইরান লাভবান হচ্ছে এমন আলোচনা শুরু হলেও লাভের মুখ দেখেনি ইরান। সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের একদিনও পার হয়নি, তার আগেই চুক্তির শব্দচয়ন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। বিশেষ করে, এটি একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি নাকি আরও দীর্ঘস্থায়ী শান্তিচুক্তি এবং কোন পক্ষের কী করার কথা ছিল; তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্বিমত তৈরি হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই সপ্তাহ পরেই, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। এই ঘটনার পর উভয়পক্ষই নিজেদের পদক্ষেপের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তির লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে।

গত ৭ জুলাই ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে এই চুক্তিটি ভেস্তে গেছে। জবাবে ইরান জানায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন ও স্থগিত করেছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানও একইভাবে নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি স্থগিত করেছে। তারপর থেকে, এই যুদ্ধ কোনো শেষ না থাকা এক ইচ্ছাশক্তির এবং অর্থনৈতিক সহনশীলতার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। কে কতদিন টিকতে পারবে তা নিয়েই যেন পরীক্ষা হচ্ছে।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা দিয়েছিলেন যে তিনি আমেরিকাকে কোনো ‘অনন্ত যুদ্ধে’ জড়াবেন না। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মনে হচ্ছে, তিনি সে অঙ্গীকার রাখতে পারছেন না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা ওয়াশিংটনের বর্তমান কৌশলের অংশ। এই মাসের শুরুর দিকে তিনি বলেছিলেন, আমরা কেবল ইরানের বিশাল মুদ্রাস্ফীতি এবং তাদের কাছে কোনও টাকা না থাকার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছি।

তেহরান অবশ্য নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। ইরানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী এবং দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার বাঘের গালিবাফ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর সময় নির্ধারিত লক্ষ্যগুলোর একটিও অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোন কোন লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে; তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ না করেই তিনি ঘোষণা দেন, আমি আমার সমস্ত অন্তর দিয়ে ঘোষণা করছি যে আমরা এই যুদ্ধে জিতেছি।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্যগুলো নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তার মধ্যে ছিল ইরানের সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন, তেহরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র না পায় তা নিশ্চিত করা এবং হিজবুল্লাহর মতো মধ্যপ্রাচ্যে থাকা ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা। মুখে মুখে যুদ্ধ জয়ের দাবি এবং হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা দিলেও যুক্তরাষ্ট্রের কোনো লক্ষ্যই অর্জিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র এখন কোনোভাবে হরমুজ প্রণালিকে খুলে দিতে পারাকেই নিজেদের বিজয় ভাবছে। আর ইরান অনড় অবস্থানে থাকতে পারাকেই বিজয় হিসেবে ভাবছে।

সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষের দিনে বিশ্বের সামনে একটি বিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন হব, যুদ্ধ কি থামবে? নতুন কোনো সমঝোতা হবে নাকি নতুন করে আবার যুদ্ধ শুরু হবে?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান হলেন এ কে এম আসাদুজ্জামান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৩২ পি.এম


দুদকের নতুন চেয়ারম্যান হলেন এ কে এম আসাদুজ্জামান

সরকার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়েছে। একই সময়ে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ড. জাকির হোসেন খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৮ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী তাদের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, একই আইনের ৫ ধারার উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের জন্য নির্ধারিত বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমপর্যায়ের। অন্যদিকে, কমিশনার ড. জাকির হোসেন খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়ার জন্য বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমপর্যায়ের নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে নিয়োগ প্রাপ্তদের পরিচয় উল্লেখ করা হলেও, তাদের বিস্তারিত কর্মপরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে, গত ২ জুলাই দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৭ ধারা অনুযায়ী গঠিত বাছাই কমিটি রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ পাঠানোর জন্য এসব জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান জানিয়েছিল।

আইনের অধীনে, দুদক সর্বোচ্চ পাঁচজন কমিশনারের সমন্বয়ে গঠিত হতে পারে এবং রাষ্ট্রপতি থেকে একজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কমিশনার হওয়ার জন্য আইন, বিচার, প্রশাসন, শিক্ষা, হিসাব-নিরীক্ষা, শৃঙ্খলা বাহিনী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমে কমপক্ষে ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%