০৯:১২ পি.এম
মানুষের জীবনকাল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য। কিন্তু তার কর্মাবলির মাধ্যমে তিনি সারা জীবন বেঁচে থাকেন। কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক তার কর্মের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে চিরকালীন এক স্থান অলঙ্কৃত করবেন। আব্দুস সাদেক ছিলেন একটি নির্লোভ, নিরঅহংকারী গুণী মানুষ। তিনি ছিলেন একজন আদর্শ মানুষ এবং তার ব্যক্তিত্ব এবং আদর্শ অতুলনীয়।
শুক্রবার বিকালে, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কিংবদন্তি হকি খেলোয়ার আব্দুস সাদেক স্মরণে আয়োজিত স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন বক্তারা। রাজধানীর সরকারি আরমানিটোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে ‘দ্যা আরমানিটোলিয়ান ক্লাব’ এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে।
আব্দুস সাদেকের স্মরণ সভায় তার জীবন ও কর্ম সম্পর্কে আলোচনা করেন দেশের কৃতি খেলোয়াড় ও আরমানিটোলা স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী বৃন্দ।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত হকি খেলোয়ার প্রতাপ শঙ্কর হাজরা বলেন, "চতুর্থ শ্রেণি থেকে আমি তাকে স্কুলে পেয়েছিলাম। আমার ছোট ভাইয়ের সহপাঠি ছিল সাদেক। সাদেকের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল হৃদ্যতার। ১৯৬৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান হকি দলের অধিনায়ক ছিলেন। তার মতো একজন ভাল হকি খেলোয়ারের নাম ক্রীড়াজগতে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।"
সাবেক জাতীয় হকি দলের অধিনায়ক মামুনুর রশীদ বলেন, "বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সাদা মনের মানুষ ছিলেন সাদেক ভাই। তার সঙ্গে দুবার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তার ভিশন হকিতে লালন করা হলে আমরা নিঃসন্দেহে লাভবান হবো।"
জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত হকি খেলোয়ার নুরুল ইসলাম বলেন, "আব্দুস সাদেকের জীবনে ইতিবাচক কিছু ছাড়া নেতিবাচক কিছু ছিল না। তার সঙ্গে আমাকে খেলাধুলা করার সুযোগ হয়েছিল। পূর্ব-পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ পর্যন্ত সাদেক ভাইয়ের মতো ভালো খেলোয়ার কাউকে দেখিনি। তিনি ছিলেন অতুলনীয়।"
স্কুলের ১৯৭৩ ব্যাচের ইউসুফ আলী বলেন, "আব্দুস সাদেক ছিলেন অনুসরণ করার মতো একজন আদর্শ ব্যক্তি। তিনি আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য অনেক কিছু করেছেন, কিন্তু আমরা তার জন্য কিছুই করতে পারিনি। তিনি সব ভালো জিনিসের সঙ্গী ছিলেন।"
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
১৯৬৩ ব্যাচের আব্দুস সালাম বলেন, "আমরা সবাই একই ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলাম। সাদেক আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তার কীর্তি ভোলার নয়। সবসময় তার মুখে হাসি লেগে থাকত। মহান আল্লাহ তাকে বেহেশত নসীব করুন।"
পরিবারের পক্ষ থেকে আব্দুস সাদেকের পুত্র, টি-স্পোর্টসের সিইও ইশতিয়াক সাদেক ও জিসান সাদেক স্মরণ সভায় অংশ নেন।
ইশতিয়াক সাদেক বক্তব্যে জানান, "আমি দেখেছি বাবার কাছে যদি কখনো হকি খেলা সংক্রান্ত কোনো ফোন আসতো, তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে যেত। বাবা হয়েছিলেন বড় খেলোয়াড়, বড় মানুষ এই আরমানিটোলা সরকারি স্কুলের জন্য। আমরা ভবিষ্যতে এই স্কুলের পাশে থাকার চেষ্টা করব। আমরা বাবার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।"
জিসান সাদেক বলেন, "আমার বাবা যখনই আরমানিটোলা স্কুল বা হকি নিয়ে কথা বলতেন তিনি নস্টালজিক হয়ে যেতেন। এমন একটি স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানাই।"
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ স্থলভাগে প্রবেশ, উপকূলে তাণ্ডবের আশঙ্কা
স্মরণ সভা থেকে ইশতিয়াক সাদেক ও জিসান সাদেকের হাতে একটি সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন হকি দলের সাবেক গোলরক্ষক মাজিদ হোসেন, আরমানিটোলা স্কুলের ১৯৭২ ব্যাচের সিদ্দিকুর রহমান, ১৯৮৮ ব্যাচের আতিকুল ইসলাম প্রমুখ।
১৯৮৮ ব্যাচের আরিফ বিল্লাহ অনুষ্ঠানের দোয়া মোনাজাত করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রফিকুল ইসলাম কামাল এবং মানিক হোসেন।
উল্লেখ্য, আব্দুস সাদেক ছিলেন বাংলাদেশ হকি দলের প্রথম অধিনায়ক। তিনি শুধু হকিতেই নয়, ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় সমানভাবে পারদর্শী ও দক্ষ ছিলেন। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ক্রীড়াচক্রের (ঢাকা আবাহনী লিমিটেড) প্রথম ফুটবল অধিনায়কও ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে তার অসামান্য অবদানের কারণে ১৯৯৬ সালে তিনি জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত হন।
আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ১৫০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হেনেছে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলে
১৯৪৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন আব্দুস সাদেক। গত ২০ জুন কিংবদন্তি এই ক্রীড়াবিদ রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। আব্দুস সাদেক ছিলেন আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৬২ ব্যাচের ছাত্র। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন