১০:৫৮ এম
শেষ মুহূর্তে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর শনিবার (২২ আগস্ট) মধ্যরাত থেকে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে মার্কিন শুল্ক কার্যকর হয়েছে। এর জবাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে সমপরিমাণ হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে শেষ মুহূর্তে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলো ‘অন্যায্য, অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক এবং যেকোনো চুক্তির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে’।
গত জুলাই থেকে দুই দেশের কর্মকর্তারা একটি চুক্তি করার জন্য নিবিড়ভাবে আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ১৯ আগস্টের মধ্যে কানাডা থেকে আমদানি করা প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার) মূল্যের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : এরশাদ উল্লাহ
তবে সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প সাময়িকভাবে ওই শুল্ক স্থগিত করে বলেছিলেন, দুই দেশ এমন একটি বাণিজ্য চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা উভয় দেশের জন্যই ‘খুব ভালো’ হবে।
কিন্তু চুক্তির সময়সীমা শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে কার্নি বলেন, আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হলেও তা ‘কানাডীয়দের স্বার্থ পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়’।
তিনি বলেন, ‘ফলে আজ সন্ধ্যায় আমি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং আলোচকদের অটোয়ায় ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছি।’
আলোচনা চলার সময় দুই দেশের কর্মকর্তারাই লাভজনক একটি বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং কানাডার গাড়ির ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছিল।
আরও পড়ুন: ৪২০০ টাকার সারের কাজ হবে ২৩০ টাকায়: ন্যানো ইউরিয়া উদ্ভাবন
এর বিনিময়ে কানাডার প্রদেশগুলোকে দোকানের তাক থেকে সরিয়ে নেয়া মার্কিন মদ পুনরায় বিক্রির জন্য রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন কার্নি।
গত বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা চলছে। ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের কর্মসূচি শুরু করলে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক দশকের মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।
এখন আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় ১৯৩০ সালের ‘ট্যারিফ অ্যাক্ট’ নামের মহামন্দার সময়কার একটি আইনের আওতায় ট্রাম্পের আরোপ করা নতুন ৫০ শতাংশ মার্কিন শুল্কের মুখে পড়বে কানাডা। নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, পোশাক ও হকি সরঞ্জামসহ বিভিন্ন পণ্য।
পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, গাড়ি ও কাঠের ওপর আগে থেকেই আরোপিত মার্কিন শুল্কও বহাল থাকবে। এসব গুরুত্বপূর্ণ খাতে শুল্ক প্রত্যাহার বা কমানোর লক্ষ্যে গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দফায় দফায় বাণিজ্য আলোচনা চালিয়ে আসছে কানাডা।
আরও পড়ুন: ঢাকায় আসছেন বিলাল আব্বাস, দেখা করবেন যেভাবে
তথ্যসূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন