১১:২০ এম
মুসলিমদের গোপনে এবং প্রকাশ্যে আল্লাহকে ভয় করার আহ্বান জানিয়েছেন পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাকওয়াই মানুষের জন্য সর্বোত্তম পাথেয়। দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হচ্ছে তাকওয়া।
শুক্রবার, মসজিদুল হারামে প্রদত্ত জুমার খুতবায় শায়খ সুদাইস মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ এবং সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁর বর্ণনায়, প্রায় চৌদ্দ শতাব্দী ধরে নবীদের নেতা মহানবী (সা.)-এর মহান মিশন পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তকে আলোকিত করে আসছে। তাঁর জীবন ছিল সৌন্দর্য, মর্যাদা, প্রজ্ঞা এবং বিস্ময়কর শিক্ষায় পরিপূর্ণ।
এছাড়া, তিনি বলেন, সিরাতে নববী যে শুধুমাত্র ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়, এটি হল সভ্যতার উৎস, একটি জ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি এবং বাস্তব জীবনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পথনির্দেশনা। জাতি ও সমাজকে নেতৃত্ব, মর্যাদা, সফলতা ও ন্যায়পরায়ণতার পথে এগিয়ে নিতে নবুয়তি জীবনীর শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন: মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে মসজিদুল হারামে নামাজ ও কাবা শরিফের তাওয়াফ অব্যাহত
শায়খ সুদাইস আরো বলেন, নবুয়তি জীবন এবং সুন্নাহ মুসলিম উম্মাহর গৌরব, বিজয়, উন্নতি ও ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এজন্য, শুধু বিশেষ কোনো সময় বা উপলক্ষে নয় বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মহানবী (সা.)-এর আদর্শকে ধারণ করতে হবে। তাঁর জীবনীর শিক্ষা ও উদ্দেশ্যগুলো নতুন প্রজন্মের মধ্যে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি সময়ের পরিবর্তনের মধ্যেও সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে হবে।
এছাড়া, তিনি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নবুয়তি চরিত্রের গুণাবলির ধারণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাঁর মতে, এসব গুণ মানুষের জন্য আলোর দিশা এবং সঠিক পথে চলার নির্ভরযোগ্য নির্দেশনা।
তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান যে, সন্তানদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাদের হৃদয়ে মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা, তাঁর আদর্শ অনুসরণের আগ্রহ এবং হেদায়েতের প্রতি গভীর অনুরাগ সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিমসহ নির্ভরযোগ্য হাদিসগ্রন্থের মর্যাদা বোঝাতে হবে। ইসলামের বিশিষ্ট ইমাম, আহলে বাইত এবং সাহাবায়ে কেরামদেরও সম্মান করতে হবে।
খুতবায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রভাবের কথাও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। শায়খ সুদাইস বলেন, কনটেন্ট নির্মাতা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালীদের দায়িত্ব হলো সহিহ সুন্নাহ, এর বিধান, উদ্দেশ্য, শিক্ষামূলক মূল্যবোধ ও সঠিক আকিদা মানুষের সামনে তুলে ধরা। এজন্য মহানবী (সা.)-এর জীবনীর ঘটনাবলিকে কাজে লাগিয়ে মানুষের মধ্যে তাওহিদ ও ঈমানের চেতনা জাগিয়ে তুলতে হবে।
আরও পড়ুন: আমিরাতে শুরু হলো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব
কেননা মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে মুসলিম উম্মাহর সম্পর্ক ও ভালোবাসা কোন নির্দিষ্ট দিন, সময়, অনুষ্ঠান অথবা বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং এটি হচ্ছে মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অনুসরণীয় এক গভীর সম্পর্ক।
শায়খ সুদাইস বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার প্রমাণ হলো তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা, সুন্নাহকে জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং তাঁর নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবন পরিচালনা করা। একই সঙ্গে দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত প্রথা ও অনুশীলন থেকে দূরে থাকার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। শায়খ সুদাইসের খুতবার মূল বার্তা ছিল—মহানবী (সা.)-এর জীবনকে শুধু পড়া বা স্মরণ করা নয়, বরং তা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে বাস্তবায়ন করাই প্রকৃত ভালোবাসার পরিচয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন