১১:১৬ এম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন সেনার নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সম্পর্কিত দীর্ঘদিনের গোপনীয়তার প্রাচীর ভেঙে গেল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক অসতর্ক মন্তব্যের মাধ্যমে। ওয়াশিংটন এতদিন ধরে নিহতদের প্রকৃত তথ্য গোপন রাখলেও, ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের একটি সংবাদ সম্মেলনে ক্ষিপ্ত হয়ে ট্রাম্প সরাসরি স্বীকার করে নেন যে, ইরানের হামলায় ‘হাজার হাজার’ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। এ সময় ট্রাম্প একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন হামলার দায় এড়াতে গিয়ে মুখ ফসকে মার্কিন প্রশাসনের এই গোপন তথ্য ফাঁস করে দেন।
বুধবার ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বাইন্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের সমাপনী সংবাদ সম্মেলনে নিউ ইয়র্ক টাইমসের হোয়াইট হাউস প্রতিনিধি জোলান কান্নো-ইয়ং ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেছিলেন, যুদ্ধের প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের মিনাবের একটি বালিকা বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শতাধিক শিশু নিহতের ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের কাউকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কিনা।
ট্রাম্প এই স্পর্শকাতর প্রশ্নে রাগান্বিত হয়ে ইরানের ওপর দায় চাপাতে গিয়ে বলেন, "কেউ ওই কাজ ইচ্ছাকৃতভাবে করেনি। কিন্তু আপনারা তাদের (ইরান) ব্যাপারে কী বলবেন? তারা যে গাড়ি বোমা মেরে আমাদের হাজার হাজার সেনাকে উড়িয়ে দিল, সেটার কী হবে? ইরান যে হাজার হাজার মানুষকে মারল, তা নিয়ে তো কথা বলছেন না!"
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বার্থে জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে জোর দিচ্ছেন : হুমায়ুন কবীর
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই আকস্মিক ও বিস্ফোরক মন্তব্যে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক এবং সামরিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সাথে চলমান সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর কতজন সদস্য নিহত হয়েছেন, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য সবসময়ই পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস ধামাচাপা দিয়ে আসছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বিভিন্ন সময়ে নামমাত্র ও সীমিত হতাহতের দাবি করলেও, প্রেসিডেন্টের মুখে ‘হাজার হাজার সেনা উধাও’ হওয়ার এই স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এখন প্রধান শিরোনাম.
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প মিনাবের স্কুলে হামলার ঘটনাকে 'যুদ্ধকালীন অনিচ্ছাকৃত ভুল' হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, "যুদ্ধে ভুলত্রুটি হতেই পারে। যুদ্ধ মানেই নির্মমতা। তবে বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।" এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দিকে আঙুল তোলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের মিনাবের ‘শাজারেহ তাইয়্যেবাহ এলিমেন্টারি স্কুল’ মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এতে ১২০ জন শিশু ও ২৬ জন শিক্ষকসহ ১৭৫ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন। রয়টার্স ও স্কাই নিউজের ফলাফলে জানা গেছে, মার্কিন গোয়েন্দারা পুরোনো তথ্য ব্যবহার করে হামলা চালানোর ফলে এ ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। প্রথমে এই হামলার দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হলেও, মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক অভ্যন্তরীণ তদন্তে উঠে আসে যে এই বর্বর হামলার জন্য দায়ী মার্কিন বাহিনীই।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ঐতিহাসিক রেকর্ড স্পর্শ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন