প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেটে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ টোকেন নিয়ে চরম ভোগান্তি অতিবাহিত করতে হচ্ছে। রিচার্জের পর গ্রাহকদের অস্বাভাবিক পরিমাণ ডিজিট প্রদান করা হচ্ছে। ৮০ থেকে ২৪০ সংখ্যার টোকেন নাম্বার আসছে। এত বিপুল সংখ্যক নাম্বার তুলতে ভুল হচ্ছে বেশিরভাগ গ্রাহকদেরও।
নাম্বার তুলতে ভুল হওয়ায় অনেকের মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। মিটার সচল করতেও তাদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তরফে বলা হচ্ছে, ইউনিট মূল্য নতুনভাবে নির্ধারিত হওয়ার কারণে এই ভোগান্তি দেখা দিচ্ছে। তারা গ্রাহকদের সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করার আশ্বাস দিয়েছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, দীর্ঘ এই টোকেন নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে বারবার ভুল ঘটছে। ফলে রিচার্জ সম্পন্ন হচ্ছে না, আবার অনেকের মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। এতে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে তাদের।
এদিকে, কর্তৃপক্ষের এমন দরিদ্র সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রাহক জানান, রিচার্জের পর মোবাইলে প্রায় ২০০ ডিজিটের টোকেন পাঠানো হচ্ছে। দীর্ঘ নম্বর মিটারে প্রবেশ করাতে গিয়ে অনেকেই একাধিকবার ভুল করছেন এবং এতে নতুন করে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
গ্রাহকরা জানান, প্রিপেইড মিটার রিচার্জের পর উচ্চারিত লম্বা ডিজিটের টোকেন আসে মেসেজে। সংখ্যাটা ষাট থেকে দুশো চব্বিশ পর্যন্ত হয়ে থাকে। যা ইনস্টলেশনে সহপাঠ্য গ্রাহকদেরও সমস্যায় ফেলছে। আর, যারা বয়স্ক বা অনভিজ্ঞ, তাদের কথা বলারও দরকার নেই। কখনো কখনো মিটার লক হয়ে যাচ্ছে। যার জন্য, তীব্র গরমে বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
হবিনন্দী এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম আহমদ বলছেন, মিটারে টাকা রিচার্জের পর প্রায় ২৪০ ডিজিটের একটি টোকেন দেয়। এই নম্বরটি কয়েকবার চেষ্টা করেও তিনি মিটারে ইনস্টল করতে পারেননি। সমস্যা এত গভীর হয়ে উঠলে, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বিদ্যুতের মূল্যহার পরিবর্তন হওয়ায় আবাসিক প্রিপেইড মিটারগুলোতে ৬টি ধাপে বিল হিসাব হচ্ছে এবং প্রতিটি ধাপের ইউনিট মূল্য নতুনভাবে নির্ধারিত হয়েছে। মিটারে এই আপডেট কার্যকর করতে সাধারণ রিচার্জ টোকেনের সঙ্গে অতিরিক্ত একটি টোকেন পাঠানো হচ্ছে। তারা গ্রাহকদের সাধ্য অনুযায়ী সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ -২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বৈদ্যুতিক মিটারের ট্যারিফ পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকদের একবার দীর্ঘ টোকেন ব্যবহার করতে হচ্ছে। একবার সতর্কতার সঙ্গে টোকনটি সঠিকভাবে রিচার্জ করার পর মিটার নতুন ট্যারিফ বুঝে যাবে। এবং পরবর্তী রিচার্জের জন্য নতুনভাবে স্বাভাবিক টোকেন পাওয়া যাবে।
তিনি বলেন, এই সমস্যা নিয়ে যারা আমাদের কাছে সাহায্যের জন্য আসছেন তাদের সাধ্যমত সহায়তা করছি। বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো ত্রুটি বা অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর করার জন্যই দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত এই টোকেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, আবাসিক প্রিপেইড মিটারগুলোতে ৬ ধাপে বিদ্যুৎ বিল হিসাব করা হচ্ছে। সরকারের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রায় প্রতিটি ধাপের ইউনিট মূল্য পরিবর্তিত হয়েছে। মিটারে নতুন মূল্যহার কার্যকর করতে গ্রাহকদের রিচার্জ টোকেনের সঙ্গে অতিরিক্ত টোকেন পাঠানো হচ্ছে।
নেসকো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, এই টোকেন পাওয়া মানেই মিটারে কোনো সমস্যা হয়েছে এমন সংবেদন নয়। বরং এটি নতুন ট্যারিফ হালনাগাদের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। টোকেন প্রবেশ করানোর ক্ষেত্রেও বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।
কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, এসএমএস বা সংশ্লিষ্ট পোর্টালে দেওয়া ২২০ ডিজিটের টোকেন প্রতি ২০ ডিজিট পরপর কমা (,) দিয়ে ভাগ করা থাকে। গ্রাহকদের প্রথম ২০ ডিজিট মিটারে প্রবেশ করিয়ে সবুজ বাটন বা ‘এন্টার’ চাপতে হবে। এরপর পরবর্তী ২০ ডিজিট একইভাবে প্রবেশ করাতে হবে। সবগুলো অংশ সফলভাবে প্রবেশ করানোর পর মিটারে ব্যালান্স যোগ হবে এবং নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন