ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আবহাওয়া যেভাবে ফুটবল কৌশলে প্রভাব ফেলে


আবহাওয়া যেভাবে ফুটবল কৌশলে প্রভাব ফেলে

আসন্ন বিশ্বকাপে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অনেক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, এ নিয়ে ইদানীং বেশ আলোচনা চলছে। স্বাভাবিকভাবেই মাঠের তাপমাত্রা কৌশলগত পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে বড় প্রভাব ফেলবে। তবে আবহাওয়ার প্রভাব কেবল ম্যাচের দিনের পরিস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আর্সেন ভেঙ্গার কিংবা ফাবিও কাপেলোর মতো ফুটবলের শীর্ষস্থানীয় বোদ্ধারা মনে করেন, একটি দেশের জলবায়ু সরাসরি তাদের খেলার ধরনকে প্রভাবিত করে এবং সেই অনুযায়ী খেলোয়াড়দের তৈরি করে। ফলে আবহাওয়া দুই স্তরে ফুটবলকে রূপ দেয়; প্রথমত তাৎক্ষণিকভাবে, ম্যাচের সময় দলগুলোর কৌশল বদলে দিয়ে; দ্বিতীয়ত দীর্ঘমেয়াদে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ও বেড়ে ওঠাকে প্রভাবিত করে।

চ্যাম্পিয়ন্স লীগের পাঁচ মৌসুমের তথ্য বিশ্লেষণ করে ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ তাপমাত্রা এবং বাতাসের আর্দ্রতা খেলোয়াড়দের টেকনিক্যাল পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। তাপমাত্রা বেশি থাকলে কাউন্টার-অ্যাটাক থেকে শট নেওয়ার প্রবণতা কমে যায়, ড্রিবলিং সফল হয় কম এবং দূরপাল্লার শটের সংখ্যা বাড়ে। চলতি মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগে রক্ষণভাগ ভাঙার জন্য গতিময় ও ওয়ান-টু-ওয়ান ড্রিবলিংয়ে দক্ষ উইঙ্গারদের ব্যবহার বেড়েছে।

টমাস টুখেলের ইংল্যান্ড দলেও মার্কাস র‍্যাশফোর্ড, অ্যান্থনি গর্ডন বা বুকায়ো সাকার মতো খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি এই কৌশলেরই অংশ। কিন্তু তীব্র গরমে এই গতি ধরে রাখা এবং আক্রমণাত্মক প্রেসিং বজায় রাখা বেশ কঠিন। একই কথা খাটে ডিফেন্সের গভীর থেকে আক্রমণে উঠে আসা ফুল-ব্যাকদের ক্ষেত্রেও। অতিরিক্ত গরমে খেলোয়াড়রা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ায় আক্রমণভাগের ধার কমে যেতে পারে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে দলগুলোকে হয়তো বল পজেশন ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

আরও পড়ুন: রিজভী: বিদ্যুৎখাতে লুটপাটের জন্য ইনডেমনিটি দিয়েছিল আওয়ামী সরকার

গত বছরের ক্লাব বিশ্বকাপে প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে পিএসজিকে হারিয়ে চেলসি যখন চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তখন তাদের কোচ এনজো মারেস্কা ম্যাচের শুরুতে চরম আক্রমণাত্মক ‘ম্যান-টু-ম্যান’ প্রেসিং কৌশল বেছে নিয়েছিলেন। ম্যাচের শুরুতে সেই তীব্রতা কাজে লাগিয়ে বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও আবহাওয়ার কারণে পরে খেলোয়াড়দের ধরে ধরে পরিবর্তন করতে হয়েছিল। ইংল্যান্ড দলের জন্যও এই গরমের মধ্যে র‍্যাশফোর্ড বা গর্ডনের মতো একই ধরনের বিকল্প খেলোয়াড় থাকাটা বড় সুবিধা দেবে, যা দলের ভারসাম্য না হারিয়েই মূল খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ করে দেবে।

ম্যাচের তাৎক্ষণিক প্রভাবের বাইরে জলবায়ু কীভাবে একটি দেশের ফুটবল দর্শন গড়ে তোলে, তা নিয়ে ইতালির সাবেক কোচ ফাবিও কাপেলো একবার বলেছিলেন যে, যুক্তরাজ্যে বাতাস, বৃষ্টি আর ঠান্ডার মধ্যে খেলোয়াড়দের শান্তভাবে টেকনিক শেখানো অসম্ভব। আর এ কারণেই ব্রাজিল বা দক্ষিণ ইতালির মতো উষ্ণ অঞ্চলের খেলোয়াড়রা বেশি টেকনিক্যাল হয়ে থাকেন। প্রায় দুই দশক আগে ইতালির চেয়ে ইংল্যান্ডে বাতাসের গতি গড়ে ৫০ শতাংশ বেশি ছিল, যা অজান্তেই সেখানকার ফুটবলারদের শিক্ষার ধরন বদলে দিয়েছে। লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপও ইংল্যান্ডের ফুটবলকে জার্মানির চেয়ে আলাদা এবং তীব্র বাতাস ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক বেশি ‘ডুয়াল’ (শারীরিক শক্তির) লড়াইনির্ভর বলে উল্লেখ করেছিলেন।

আর্সেনালের কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ভেঙ্গারও মনে করতেন, তীব্র বাতাস আর ঠান্ডার কারণে ইংল্যান্ডে অনুশীলনের সময় খেলোয়াড়দের শান্ত রেখে টেকনিক বা ট্যাকটিকস শেখানো যায় না। খেলোয়াড়দের শরীর গরম রাখতে অনবরত দৌড়ের ওপর রাখতে হয়, যা শৈশব থেকেই তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। অবশ্য পেপ গার্দিওলা, ইয়ুর্গেন ক্লপ বা আন্তোনিও কন্তের মতো আধুনিক কোচদের হাত ধরে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইংল্যান্ডের ফুটবল কৌশলে বিশাল পরিবর্তন এসেছে। বর্তমান কোচ টমাস টুখেল আশা করবেন যে, প্রিমিয়ার লীগের এই আধুনিক শিক্ষা ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে যেকোনো ঘাটতি পুষিয়ে নিতে সাহায্য করবে। তবে শৈশব থেকে ঠান্ডা, বাতাস আর বৃষ্টিতে অভ্যস্ত ইংলিশ ফুটবলারদের যদি এবার বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হয়, তবে তা করতে হবে সম্পূর্ণ এক অপরিচিত ও প্রতিকূল উষ্ণ জলবায়ুর মুখোমুখি হয়েই।

আরও পড়ুন: সাদমানের ফিফটির পর এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরলেন শান্ত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চতুর্থ বিশ্বকাপে ‘ছোট্ট ছেলের মতো’ অনুভূতি সনের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


চতুর্থ বিশ্বকাপে ‘ছোট্ট ছেলের মতো’ অনুভূতি সনের

দক্ষিণ কোরিয়ার অধিনায়ক সন হিউং-মিন জানিয়েছে, চারবারের বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা থাকার পরেও আবেগের জায়গায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রবেশ করার অনুভূতি তার জন্য প্রতিটি বারই নতুন এবং এখনো তিনি নিজেকে ছোট্ট ছেলের মতোই অনুভব করেন।

উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দক্ষিণ কোরিয়া প্রস্তুতি নিচ্ছে। এশিয়ার অন্যতম অভিজ্ঞ দলে ৩৩ বছর বয়সী সন নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি জাতীয় দলের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৪৪ ম্যাচে ৫৬ গোল করেছেন, যা দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সন এখন তার চতুর্থ আসরের অপেক্ষায় আছেন। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তার খেলা ১১ ম্যাচে গোল ৩টি এবং অ্যাসিস্ট ১টি।

যৌক্তিকতার কারণে দীর্ঘদিন ইউরোপের ফুটবলে খেলার পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব লস অ্যাঞ্জেলেস এফসিতে খেলেন তিনি। তার অভিজ্ঞতা ও ফর্মকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কোরিয়া দল ভালো কোনো কিছুর স্বপ্ন দেখছে।

আগামী শুক্রবার চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে। এ ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে সন বলেন, "বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা যতবারই হোক, অনুভূতি সব সময় একই থাকে।"

তিনি আরও বলেন, "বিশ্বকাপে ফিরতে পেরে আমি খুব খুশি। এটা আমার প্রথম হোক বা চতুর্থ, আমি এখনও সেই ছোট্ট ছেলেটির মতোই অনুভব করি। বিশ্বকাপ আমার কাছে স্বপ্নের মঞ্চ।"

অতীতে পাওয়া অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তিনি বলেন, "আমরা অতীত থেকে শিখেছি। কাতার বিশ্বকাপে আমাদের ভালো ও খারাপ দুই অভিজ্ঞতাই ছিল। এখন আমরা আরও পরিণত ও অভিজ্ঞ দল।”

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে আগের ব্যর্থতা নিয়ে বেশি চিন্তিত না হয়ে সন বলেন, "প্রতিটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এক ম্যাচ করে সামনে এগোব।"

দক্ষিণ কোরিয়ার ‘এ’ গ্রুপের অন্যান্য দুই প্রতিপক্ষ হলো মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উত্তর আয়ারল্যান্ডে জাতিগত দাঙ্গা, পাঁচ হাজার বাংলাদেশি অবরুদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


উত্তর আয়ারল্যান্ডে জাতিগত দাঙ্গা, পাঁচ হাজার বাংলাদেশি অবরুদ্ধ

উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ও অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে শহরে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ এসে তাদের এক মিনিটের মধ্যে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৮ জুন সোমবার, যখন বেলফাস্টের শেতাঙ্গ বাসিন্দা স্টিফেন ওগিলভিকে ছুরি দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে সুদান থেকে আসা একজন অভিবাসী। এই ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত জাতিগত বিদ্বেষের রূপ ধারণ করে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বেলফাস্টজুড়ে দাঙ্গা শুরু হয়। শুরুতে রাস্তাঘাট, দোকান, গাড়ি, বাসে অগ্নিসংযোগ করা হলেও রাতের দিকে সহিংসতা অভিবাসীদের বাড়িঘরকে টার্গেট করে। প্রথম রাতে ১৩টি বাড়ির বাসিন্দাদের বের করে দিয়ে তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশি এক পরিবারের বাসায় হামলা চালায় ২৫-৩০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি।

এই পরিবারের মালিক আব্দুল আলিম জানান, রাত ৯টার দিকে প্রথমে তাদের বাসায় আক্রমণ করে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। পুলিশকে কল করা হলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর এসে তাদেরকে এক মিনিটের মধ্যে বাসা থেকে বের করে অন্য এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে রাখে। সেখানে দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটে তিন পরিবারের আটজন সদস্য রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, "ভয়াবহ অবস্থা চারদিকে। আমরা প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। মনে হচ্ছে আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে।"

পুলিশ জানিয়েছে, এক সুদানী নাগরিকের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা স্টিফেন ওগিলভিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তি একটি চোখ হারিয়েছেন।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসে। পরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি, বাস ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং অভিবাসী পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ ও জলকামান মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সহিংসতার মূল কারণ শুধুমাত্র ছুরিকাঘাতের ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক বছরে অভিবাসন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অসন্তোষ এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানিমূলক তথ্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "একটি অপরাধের দায় কোনও নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী বা অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো উচিত নয়।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘পিদ্দী’ ছবিতে শরীর প্রদর্শন বিতর্কের মাঝে ফাঁস জাহ্নবীর অঙ্কের পারিশ্রমিক পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে আলোচনা!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৪৩ পি.এম


‘পিদ্দী’ ছবিতে শরীর প্রদর্শন বিতর্কের মাঝে ফাঁস জাহ্নবীর অঙ্কের পারিশ্রমিক পাওয়া নিয়ে দেখা দিয়েছে আলোচনা!

‘পিদ্দী’র জন্য জনপ্রিয় অভিনেত্রী জাহ্নবী কপূর নাকি আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক পেয়েছেন। তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক নাকি ‘পিদ্দী’ ছবিটিই দিয়েছে।

এই ছবি নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে রয়েছে। ছবিতে রাম চরণের বিপরীতে জাহ্নবী অভিনয় করেছেন। কিন্তু তাঁর শরীরকেই নাকি চরিত্রের থেকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও উঠেছে। শ্রীদেবী-কন্যা নিজের অজান্তেও সেই অভিযোগে সম্মতি জানিয়েছেন। উল্লেখযোগ্য, ‘পিদ্দী’ ছবির জন্য তিনি নাকি আকাশছোঁয়া পারিশ্রমিক পেয়েছেন। এই পারিশ্রমিক তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় অঙ্কের।

‘পিদ্দী’ বিতর্ক নিয়ে অনেক তারকা মুখ খুলেছেন। অনেকে জাহ্নবীর সমর্থন জানিয়েছে। এর পরেই ছবির পরিচালক বুচি বাবু সানা ক্ষমা জানিয়েছেন। এমনকি, বিতর্কিত কিছু অংশ ছবির থেকে বাদও দেওয়া হয়েছে। নির্মাতাদের এক ঘনিষ্ঠ সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, এই ছবির জন্য জাহ্নবীকে ৮ কোটি টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। ওই সূত্রের কথায়, “জাহ্নবীর কেরিয়ারের সবচেয়ে বড় অঙ্কের পারিশ্রমিক এটাই।” জাহ্নবী ছবির সেটে খুব পেশাদার ছিলেন। ‘দেবারা’ ছবির জন্য তিনি ৫ কোটি টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন যা থেকে প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি তিনি ‘পিদ্দী’তে পেয়েছেন।

প্রথমে ‘দেবারা’, এরপর ‘পিদ্দী’। দুটি ছবিই তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে সফল। সূত্র জানায়, জাহ্নবীকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এই ইন্ডাস্ট্রিতে। তাঁদের মন্তব্য, “জাহ্নবী ছবিতে থাকলে সেটি সফল। তাই তেলুগু চলচ্চিত্রজগতে ওঁকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।” এই কারণে জাহ্নবীর কাছে পরপর বেশ কিছু তেলুগু ছবির প্রস্তাব যাচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, অল্লু অর্জুনের ছবি ‘রাকা’তেও জাহ্নবীকে দেখা যাবে। এছাড়াও, অন্যান্য তেলুগু ছবিতেও তিনি অভিনয় করবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

সেই ছবিগুলিতে কি শুধুই ‘স্বল্পবসনা সুন্দরী’র চরিত্রে জাহ্নবী? সূত্র জানিয়েছে, আসন্ন ছবিগুলিতে জাহ্নবী গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে। শুধুমাত্র সৌন্দর্য যোগ করার জন্য অভিনেত্রীকে নায়কের পাশে রাখা হবে, এমন নয়।

‘পিদ্দী’ নিয়ে চলা বিতর্কে সরাসরি এখন পর্যন্ত জাহ্নবী কোনও মন্তব্য করেননি। তবে এক অনুরাগীর সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের স্ক্রিনশট সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। আনন্দবাজার ডট কম সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি। স্ক্রিনশটে দেখা গিয়েছিল, জাহ্নবী ছবিতে যে ভাবে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন তা নিয়ে মোটেই সন্তুষ্ট নন তিনি। এক জায়গায় জাহ্নবী আক্ষেপ করে জানান, বক্ষবিভাজিকার শট নেওয়া হয়েছে তাঁর অজান্তেই। তিনি মন্তব্য করেন, “ওরা বলবে, মুখের ‘ক্লোজ়আপ’ শট নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ওরা নেবে বক্ষবিভাজিকার শট। কিছু বিশ্বাস করা যায় না।” এই বিতর্কের মাঝে এমন খবরও সশ্রুত হয়েছিল, যে জাহ্নবী ভবিষ্যতে দক্ষিণের ছবি নিয়ে আগ্রহী নন। তবে বিষয়টি নিয়ে অভিনেত্রী বা তাঁর সহযোগী দল আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু বলেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদে ফেরার অভিযানের প্রস্তুতি, পৃথিবীর কক্ষপথেই হবে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৪৫ পি.এম


চাঁদে ফেরার অভিযানের প্রস্তুতি, পৃথিবীর কক্ষপথেই হবে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা

চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেল নাসা। মহাকাশ সংস্থাটি ২০২৭ সালের আর্টেমিস-৩ মিশনের জন্য চারজন নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে। তবে আগের পরিকল্পনার মতো সরাসরি চাঁদে নামার বদলে, এই মিশনটিতে পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে একটি জটিল পরীক্ষামূলক মহড়া হিসেবে পরিচালিত হবে।

এই মিশনে নভোচারীরা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেটে চড়ে ওরিয়ন মহাকাশযানে যাত্রা করবেন। মহাকাশে গিয়ে তারা স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের তৈরি পরবর্তী প্রজন্মের চাঁদে নামার যান (লুনার ল্যান্ডার)-এর পরীক্ষামূলক সংস্করণের সঙ্গে সংযুক্ত হওয়া অনুশীলন করবেন।

নাসা বলছে, এটি মূলত ২০২৮ সালের আর্টেমিস-৪ মিশনে চাঁদে অবতরণের আগে একটি বড় ধরনের প্রস্তুতি মহড়া। ঘোষিত নভোচারী দলের নেতৃত্বে থাকবেন র‌্যান্ডি ব্রেসনিক, যিনি একজন অভিজ্ঞ নভোচারী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেরিন কর্নেল। তিনি তিনবার মহাকাশে উড়েছেন, প্রায় ১৫০ দিন কক্ষপথে কাটিয়েছেন এবং ৩২ ঘণ্টা স্পেসওয়াক করেছেন।

পাইলট হিসেবে থাকবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার ইতালীয় নভোচারী লুকা পারমিতানো। তিনি এর আগে দুইবার মহাকাশে গেছেন এবং আর্টেমিস কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রথম ইউরোপীয় নভোচারী হবেন।

মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে রয়েছেন ফ্র্যাঙ্ক রুবিও, যিনি ২০২২-২৩ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে টানা ৩৭১ দিন অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘতম একক মহাকাশযাত্রার রেকর্ড গড়েছেন।

দলের চতুর্থ সদস্য আন্দ্রে ডগলাস, যিনি এই প্রথম মহাকাশে যাচ্ছেন। তিনি ২০২১ সালের নভোচারী ব্যাচে নির্বাচিত হন এবং আগে টেস্ট ইঞ্জিনিয়ার ও ইউএস কোস্টগার্ডের রিজার্ভ কমান্ডার হিসেবে কাজ করেছেন।

এই প্রায় দুই সপ্তাহের মিশনে নভোচারীরা পৃথিবীর কক্ষপথে এক বা একাধিক লুনার ল্যান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে পরীক্ষা চালাবেন। পাশাপাশি ওরিয়ন মহাকাশযানের বিভিন্ন সিস্টেম ও নতুন স্পেসস্যুটের কার্যকারিতাও যাচাই করা হবে।

নাসার প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই মিশনকে ‘অত্যন্ত রোমাঞ্চকর, জটিল ও সমন্বিত একাধিক উৎক্ষেপণভিত্তিক অভিযান’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, মানবজাতির চাঁদে ফিরে যাওয়ার পথে এটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি আরও বলেন, এই মিশনের মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি পরীক্ষা করা হবে, যা ভবিষ্যতে মানুষকে আরও গভীর মহাকাশে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।

নাসার মতে, এই মিশনে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও ইউরোপীয় সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের ভূমিকা থাকবে। হাজার হাজার বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, আর্টেমিস-৩ শুধু একটি মহাকাশ মিশন নয়—এটি ভবিষ্যৎ চন্দ্র অভিযান এবং আরও দূরে মহাকাশ অনুসন্ধানের ভিত্তি গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%