প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজধানী বেলফাস্টে এক ছুরিকাঘাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা ও অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শহরে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি ঘরবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এর মধ্যে একটি বাংলাদেশি পরিবারের বাড়ি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়েছে। পুলিশ এসে তাদের এক মিনিটের মধ্যে বের হওয়ার নির্দেশ দেয়।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৮ জুন সোমবার, যখন বেলফাস্টের শেতাঙ্গ বাসিন্দা স্টিফেন ওগিলভিকে ছুরি দিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে সুদান থেকে আসা একজন অভিবাসী। এই ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত জাতিগত বিদ্বেষের রূপ ধারণ করে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বেলফাস্টজুড়ে দাঙ্গা শুরু হয়। শুরুতে রাস্তাঘাট, দোকান, গাড়ি, বাসে অগ্নিসংযোগ করা হলেও রাতের দিকে সহিংসতা অভিবাসীদের বাড়িঘরকে টার্গেট করে। প্রথম রাতে ১৩টি বাড়ির বাসিন্দাদের বের করে দিয়ে তাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় বাংলাদেশি এক পরিবারের বাসায় হামলা চালায় ২৫-৩০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি।
এই পরিবারের মালিক আব্দুল আলিম জানান, রাত ৯টার দিকে প্রথমে তাদের বাসায় আক্রমণ করে ব্যাপক ভাঙচুর করা হয়। পুলিশকে কল করা হলে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পর এসে তাদেরকে এক মিনিটের মধ্যে বাসা থেকে বের করে অন্য এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে রাখে। সেখানে দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটে তিন পরিবারের আটজন সদস্য রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, "ভয়াবহ অবস্থা চারদিকে। আমরা প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। মনে হচ্ছে আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে।"
পুলিশ জানিয়েছে, এক সুদানী নাগরিকের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা স্টিফেন ওগিলভিকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। হামলায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তি একটি চোখ হারিয়েছেন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসে। পরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি, বাস ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং অভিবাসী পরিবারগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাঙ্গা পুলিশ ও জলকামান মোতায়েন করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সহিংসতার মূল কারণ শুধুমাত্র ছুরিকাঘাতের ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক বছরে অভিবাসন বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক অসন্তোষ এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া উসকানিমূলক তথ্য পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, "একটি অপরাধের দায় কোনও নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী বা অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর চাপানো উচিত নয়।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন