ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভূরুঙ্গামারীতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও মেম্বারের মেয়ের সম্পর্কের পর বিয়ে


ভূরুঙ্গামারীতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও মেম্বারের মেয়ের সম্পর্কের পর বিয়ে

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএও) মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং তিলাই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ मকবুল হোসেনের মেয়ে মোছাঃ স্বপ্না বেগমের বিয়ে নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। এ সময় সাত লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে, যা একাধিক সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের রাধাবল্লভ গ্রামের বাসিন্দা নজরুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে তিনি ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি অফিসে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএও) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে, মোছাঃ স্বপ্না বেগম ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আঙ্গারিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং তিলাই ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ মকবুল হোসেনের কন্যা।

আরও পড়ুন: পীরগাছায় ‘আলোকিত নাপাইচন্ডি পাঠাগার’ উদ্বোধন, কুইজ বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কর্মসূত্রে ভূরুঙ্গামারীতে অবস্থানকালে দুজনের মধ্যে পরিচয় হয়। তাঁদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে ৬ আগস্ট রাতে মোস্তাফিজুর রহমান স্বপ্না বেগমের বাসায় গেলে স্থানীয়রা তাঁদের আটক করে। অবশেষে উভয় পক্ষের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়েতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মোস্তাফিজুর রহমান বিবাহিত এবং তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। জানা গেছে, তাঁর স্ত্রী একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, “স্থানীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি, ওই নারী ও পুরুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক ছিল। পরে লোকজন তাদের নিয়ে এলে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়।”

তবে মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন: শেরপুরে শহীদ দারোগালী পৌর পার্কে বেলা ২টা বাজলেই খাবারের অপেক্ষায় অসহায় মানুষ

ঘটনাটি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে একজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২১ পি.এম


মিরপুরে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে একজন আটক

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে মিজান (৩০) নামের একজন ব্যক্তিকে আটক করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় মিরপুর-১ এলাকার সনি সিনেমা হলের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়।

ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী এ তথ্য জানান।

মিরপুর মডেল থানার সূত্রে জানা গেছে, সন্ধায় পুলিশের একটি টহল দল সনি সিনেমা হলের সামনে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে মিজানকে হাতেনাতে আটক করে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিজান একজন পেশাদার ছিনতাইকারী হিসাবে পরিচিত এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার মিজানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব পুরো জনগণের, কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়: তথ্যমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:২২ পি.এম


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব পুরো জনগণের, কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয়: তথ্যমন্ত্রী

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব যে কোনো একক ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়, বরং দেশের জনগণের এটি, এমন মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে একটি গোষ্ঠী এই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের জন্য দাবি করার চেষ্টা করছে, যা থেকে তাদের বেরিয়ে আসা উচিত।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেছেন।

তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনগণের আত্মত্যাগ, অবাধ নির্বাচন, নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ, সংসদের কার্যকর ভূমিকা এবং সরকারপ্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বের সমন্বয়ে দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে, এ সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে অর্জিত সাফল্য হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিরও এতে ইতিবাচকভাবে অংশগ্রহণের আশা প্রকাশ করেন তথ্যমন্ত্রী।

জহির উদ্দিন স্বপন আরো বলেন, বর্তমানে একটি গোষ্ঠী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব নিয়েই বেশি ব্যস্ত রয়েছে। কে অধিক কৃতিত্ব পাবে, কে বড় তারকায় পরিণত হবে বা ডিজিটাল মাধ্যমে নিজের জনপ্রিয়তা কিভাবে বাড়াবে- এসব নিয়ে অপ্রয়োজনীয় প্রতিযোগিতা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারপ্রধান ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুরু থেকেই এ গণঅভ্যুত্থানের সমস্ত কৃতিত্ব জনগণের বলে উল্লেখ করেছেন। তার কথায়, জনগণই সকল বিজয়ের প্রকৃত মালিক।

তথ্যমন্ত্রী অবশেষে বলেন, যারা এখনো এই আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের পকেটে নেওয়ার বিভ্রান্তিতে রয়েছেন, তাদের সেই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাজ্যে গ্রুমিং কেলেঙ্কারি: পাকিস্তানি নাগরিকের অপরাধে অস্বস্তিতে দক্ষিণ এশীয়রা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩০ পি.এম


যুক্তরাজ্যে গ্রুমিং কেলেঙ্কারি: পাকিস্তানি নাগরিকের অপরাধে অস্বস্তিতে দক্ষিণ এশীয়রা

 

কথায় বলা হয়, দশের লাঠি একের বোঝা। আবার একের অপরাধে দশের সাজা পাওয়ার ঘটনা হয়তো কম নয়।

যুক্তরাজ্যে পাকিস্তানীদের মধ্যে কারো কারো ঘৃণ্য অপরাধ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসীদের অস্বস্তিতে ফেলেছে।

দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাজ্যে শিশু নিপীড়ন চক্রের (গ্রুমিং গ্যাং) অপরাধ এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার শিকার হয়ে আসছে। তবে গতবছর ব্যারনেস লুইস কেসির নেতৃত্বে পরিচালিত এক উচ্চপর্যায়ের তদন্তে গ্রুমিং গ্যাংয়ের অন্ধকারে কিছুটা আলো ফেলা হয়েছে।

গতবছর জুনে প্রকাশিত কেসি রিভিউ রিপোর্টে বলা হয়, প্রশাসনের তীব্র অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার এবং অস্বীকৃতির কারণে দশকের পর দশক ধরে অপরাধীরা পার পেয়ে গেছে।

ব্যারনেস কেসি তার রিপোর্টে যথাযথভাবে উল্লেখ করেছেন, এই অপরাধী চক্রগুলোর মূল হোতারা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হওয়ায় ব্রিটিশ পুলিশ এবং স্থানীয় কাউন্সিলগুলো কোনো ব্যবস্থা নিতে ভয় পেয়েছিল। তারা মনে করেছিল কঠোর পদক্ষেপ নিলে তাদের ওপর ‘বর্ণবাদী’ তকমা দেওয়া হতে পারে।

কেসি তার রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলেন, 'অপরাধীদের জাতিগত বা ভৌগোলিক পরিচয় নিয়ে তদন্ত করা কোনো বর্ণবাদ নয়।'

কেসি রিভিউ এবং সাথে সাস্প্রতিক দুটি ঘটনা পুরো বিষয়টিকে আবার আলোচনায় এনেছে।

এবার অস্তস্তি বেড়েছে প্রবাসী দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে।

রচডেলের গ্রুমিং চক্রের সাজাপ্রাপ্ত মূল হোতা শাবির আহমেদকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক টানাপড়েন চলমান রয়েছে। পাকিস্তান কিছুতেই শাবির আহমেদকে ফিরিয়ে নিতে চায় না।

এর মধ্যে গত সপ্তাহে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের বিধানসভায় নির্বাচিত হন রুখসার আহমেদ নামে একজন ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে শিশু যৌন নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগের তদন্ত চলছে। সাবেক মন্ত্রী রুখসার আহমেদ ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের মনোনয়নে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তদের ব্যাপারে পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সমস্যা হলো, এই ঘটনাগুলো কেবল যুক্তরাজ্য এবং পাকিস্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এগুলো সামগ্রিকভাবে যুক্তরাজ্যে দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এ ধরনের প্রতিটি কেলেঙ্কারি সেই সব সম্প্রদায়ের প্রতি জনমনে সন্দেহ গভীর করে, যারা এই অপরাধগুলোর সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিল না এবং এগুলোকে কখনো সমর্থনও করেনি।

ব্রিটিশ বাংলাদেশি, ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান এবং অন্যান্য দক্ষিণ এশীয়রা প্রায়শই এই পরিস্থিতির শিকার হন। যখন ভিন্ন ভিন্ন স্বতন্ত্র সম্প্রদায়গুলোকে সহজ এবং বিভ্রান্তিকর ‘দক্ষিণ এশীয়’ লেবেলের অধীনে এক করে ফেলা হয়। এমনকি যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমও পাকিস্তানীদের অপরাধকে ‘দক্ষিণ এশীয়’ বা ’এশীয়’ বলে শিরোনাম করে, যা সমাজে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং নিরপরাধীদেরও অস্বস্তিতে ফেলে।

সমস্যাটি মোটেই জাতিগত বা ধর্মীয় নয়। পাকিস্তানী সমাজে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক অস্বীকৃতির কারণেই নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা জেঁকে বসার সুযোগ পায়।

পাকিস্তানে এখনও উচ্চ হারে ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, অনার কিলিং এবং পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। সামাজিকভাবে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা থাকায় এসব অপরাধে সাজা হয় খুবই কম। উল্টো ভুক্তভোগীদের তীব্র সামাজিক কলঙ্ক এবং হুমকির মুখে পড়তে হয়। ফলে এসব অপরাধ না কমে বরং বেড়ে যায়।

জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যেসব বক্তব্য যৌন সহিংসতার জন্য নারীর পোশাক, আচরণ বা স্বাধীন চলাচলকে দায়ী করে; তা সমাজে বিপজ্জনক বার্তা দেয়। এই ধরনের বক্তব্য অপরাধীদের দায়মুক্ত করে এবং ভুক্তভোগীদের ওপর অন্যায় বোঝা চাপিয়ে দেয়।

'পারিবারিক সম্মান’এর বিষয়ে পাকিস্তানের সামাজিক ভাবনাটাই পুরুষতান্ত্রিক এবং বৈপরীত্যে ঠাসা। পুরুষতান্ত্রিক ধারণাগুলো নির্ধারণ করে দেয় যে, নারীরা শালীনতা ও আনুগত্যের মাধ্যমে পরিবারের সুনাম রক্ষা করবে। নইলে অনার কিলিংএর নামে তাদের হত্যা করা হবে। অন্যদিকে পুরুষদের অপকর্মকে প্রায়শই যৌক্তিক বলে মেনে নেওয়া হয় বা এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে সমাজের নীরবতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তা অনেক সময় অপরাধীদের সুরক্ষা দেয়। আর পাকিস্তানীরা এই মানসিকতা সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্য পর্যন্ত আসে।

এই সমস্যা থেকে পাকিস্তানকে রক্ষায় কাঠামোগত সংস্কার যেমন দরকার, তেমনি দরকার অপরাধীর কঠোর সাজা নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে ঢাল হয়ে নয়।

দুঃখজনক হলো, কাঠামোগত এই সমস্যাগুলোর যৌক্তিক সমালোচনাকে প্রায়শই পাকিস্তান-বিরোধী অপপ্রচার বা ইসলামোফোবিয়া হিসেবে খারিজ করে দেওয়া হয়। এই তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষামূলক মনোভাব সংস্কারের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটেনের নিজস্ব ইতিহাস এই ধরনের মানসিকতার মারাত্মক বিপদ প্রমাণ করে। সেখানে গ্রুমিং গ্যাং কেলেঙ্কারি দশকের পর দশক ধরে টিকে ছিল প্রমাণের অভাবে নয়; বরং বর্ণবাদের অভিযোগ বা রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার ভয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। যখন শিশুদের সুরক্ষার চেয়ে জাতীয় গৌরব বা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি বেশি অগ্রাধিকার পায়, তখন অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বা দায়মুক্তি পেয়ে জেঁকে বসে।

অপরাধের দায় সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত। ব্রিটিশ পাকিস্তানিদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশও এই সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখে। তবে, এই সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে সততার সঙ্গে আলোচনা করতে ব্যর্থ হওয়া সামগ্রিকভাবে প্রবাসীদের ওপর একটি ভারী বোঝা চাপিয়ে দেয়।

ব্রিটিশ বাংলাদেশি এবং ভারতীয়রা; যাদের এই গ্রুমিং চক্রের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই; তারা প্রায়শই নেতিবাচক জনধারণার শিকার হন। এর ফলে সাধারণ বর্ণবাদী আচরণ বা বিদ্বেষ বেড়ে যায়। তরুণ পেশাজীবী বা শিক্ষার্থীরা কেবল একই রকম দক্ষিণ এশীয় চেহারার কারণে সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তিদের করা অপরাধের দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে বাধ্য হন, যা অত্যন্ত অন্যায়।

এই ধরনের ঢালাও মন্তব্য কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে সমানভাবে অসমর্থনযোগ্য হলো সেই সামাজিক পরিস্থিতিগুলোকে মোকাবিলা করতে অস্বীকৃতি জানানো, যা নারীবিদ্বেষকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। পাকিস্তান শিশু সুরক্ষা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা এবং নারীর ওপর পদ্ধতিগত সহিংসতার মতো অভ্যন্তরীণ কঠিন আলচনার বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে প্রতিটি বহিরাগত সমালোচনাকে পক্ষপাতিত্ব বা বৈষম্য হিসেবে আখ্যায়িত করা চালিয়ে যেতে পারে না।

কোনো সমাজ রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধা অর্জন করে না। বরং নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা উন্মোচন করে এবং সেই অনুযায়ী সংস্কার করার সাহসের মাধ্যমে তা অর্জন করে। যতক্ষণ না পাকিস্তানের ভেতর থেকে সেই আত্মোপলব্ধি বা জবাবদিহিতা শুরু হচ্ছে, ততক্ষণ প্রতিটি নতুন কেলেঙ্কারি কেবল পাকিস্তানের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করবে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের এই সঙ্কট, যুক্তরাজ্যে থাকা লক্ষ লক্ষ নিরীহ দক্ষিণ এশীয়কেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকবে; যারা অল্প কিছু অপরাধীর কর্মের কারণে অন্যায়ভাবে বিচার বা সন্দেহের মুখোমুখি হচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি: এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩১ পি.এম


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি: এরদোয়ান

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ একটি নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, এই তথ্যটি জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তার মতে, অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোও ভবিষ্যতে এই চুক্তিতে যোগদান করতে পারবে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর একটি পোস্টে, এরদোয়ান এ তথ্য তুলে ধরেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকারের ভিত্তিতে গঠিত এই চুক্তিটি সম্মিলিত প্রতিরোধ নীতি শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। একই সাথে, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে।

এরদোয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই চুক্তি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। এটি আমাদের অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা কামনা করে এমন সব ভ্রাতৃপ্রতিম এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক মালিকানার নীতির ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান দিয়ে, তুরস্ক সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাত ও সংকটের সমাধানের জন্য তার অবস্থান রক্ষা করবে।

এরদোয়ান জানান, শনিবার সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে তিনটি দেশের মধ্যে সাক্ষরিত চুক্তির কারণে তিনি মক্কায় সফর করেছেন। সফরের দিন সৌদি যুবরাজ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

এ সফর, ত্রিপক্ষীয় আলোচনা এবং নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি পুরো অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে, এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে অনুষ্ঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা শীর্ষ সম্মেলনে’ সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ একত্রে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সম্মেলনের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তিটি তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তার উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গভীরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অঞ্চল এবং এর বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করার একটি সাধারণ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই চুক্তির আওতায় বাহ্যিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়াও, প্রতিরক্ষার সব দিকগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, চুক্তির একটি ধারায় বলা হয়েছে, সৌদি আরব, তুরস্ক বা পাকিস্তানের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের শীর্ষে গণ্য করা হবে এবং সে অনুযায়ী সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%