ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাজ্যে গ্রুমিং কেলেঙ্কারি: পাকিস্তানি নাগরিকের অপরাধে অস্বস্তিতে দক্ষিণ এশীয়রা


যুক্তরাজ্যে গ্রুমিং কেলেঙ্কারি: পাকিস্তানি নাগরিকের অপরাধে অস্বস্তিতে দক্ষিণ এশীয়রা

 

কথায় বলা হয়, দশের লাঠি একের বোঝা। আবার একের অপরাধে দশের সাজা পাওয়ার ঘটনা হয়তো কম নয়।

যুক্তরাজ্যে পাকিস্তানীদের মধ্যে কারো কারো ঘৃণ্য অপরাধ গোটা দক্ষিণ এশিয়ার প্রবাসীদের অস্বস্তিতে ফেলেছে।

আরও পড়ুন: মেঘনায় নৌ পুলিশের অভিযানে ৩৩ জেলে আটক, ২২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাজ্যে শিশু নিপীড়ন চক্রের (গ্রুমিং গ্যাং) অপরাধ এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক অবহেলার শিকার হয়ে আসছে। তবে গতবছর ব্যারনেস লুইস কেসির নেতৃত্বে পরিচালিত এক উচ্চপর্যায়ের তদন্তে গ্রুমিং গ্যাংয়ের অন্ধকারে কিছুটা আলো ফেলা হয়েছে।

গতবছর জুনে প্রকাশিত কেসি রিভিউ রিপোর্টে বলা হয়, প্রশাসনের তীব্র অন্ধত্ব, অজ্ঞতা, কুসংস্কার এবং অস্বীকৃতির কারণে দশকের পর দশক ধরে অপরাধীরা পার পেয়ে গেছে।

ব্যারনেস কেসি তার রিপোর্টে যথাযথভাবে উল্লেখ করেছেন, এই অপরাধী চক্রগুলোর মূল হোতারা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত হওয়ায় ব্রিটিশ পুলিশ এবং স্থানীয় কাউন্সিলগুলো কোনো ব্যবস্থা নিতে ভয় পেয়েছিল। তারা মনে করেছিল কঠোর পদক্ষেপ নিলে তাদের ওপর ‘বর্ণবাদী’ তকমা দেওয়া হতে পারে।

কেসি তার রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলেন, 'অপরাধীদের জাতিগত বা ভৌগোলিক পরিচয় নিয়ে তদন্ত করা কোনো বর্ণবাদ নয়।'

আরও পড়ুন: সংসদের নিম্নকক্ষের মেয়াদ ৪ ও উচ্চকক্ষের ৬ বছর করার প্রস্তাব

কেসি রিভিউ এবং সাথে সাস্প্রতিক দুটি ঘটনা পুরো বিষয়টিকে আবার আলোচনায় এনেছে।

এবার অস্তস্তি বেড়েছে প্রবাসী দক্ষিণ এশীয়দের মধ্যে।

রচডেলের গ্রুমিং চক্রের সাজাপ্রাপ্ত মূল হোতা শাবির আহমেদকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক টানাপড়েন চলমান রয়েছে। পাকিস্তান কিছুতেই শাবির আহমেদকে ফিরিয়ে নিতে চায় না।

এর মধ্যে গত সপ্তাহে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মিরের বিধানসভায় নির্বাচিত হন রুখসার আহমেদ নামে একজন ব্যক্তি, যার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে শিশু যৌন নির্যাতন ও পাচারের অভিযোগের তদন্ত চলছে। সাবেক মন্ত্রী রুখসার আহমেদ ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের মনোনয়নে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ৮ হাজার প্রবাসী ফেরত, গ্রেপ্তার ১৩ হাজারের বেশি

শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্তদের ব্যাপারে পাকিস্তানের পৃষ্ঠপোষকতামূলক মনোভাব সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

সমস্যা হলো, এই ঘটনাগুলো কেবল যুক্তরাজ্য এবং পাকিস্তানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; এগুলো সামগ্রিকভাবে যুক্তরাজ্যে দক্ষিণ এশীয় প্রবাসীদের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এ ধরনের প্রতিটি কেলেঙ্কারি সেই সব সম্প্রদায়ের প্রতি জনমনে সন্দেহ গভীর করে, যারা এই অপরাধগুলোর সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত ছিল না এবং এগুলোকে কখনো সমর্থনও করেনি।

ব্রিটিশ বাংলাদেশি, ভারতীয়, শ্রীলঙ্কান এবং অন্যান্য দক্ষিণ এশীয়রা প্রায়শই এই পরিস্থিতির শিকার হন। যখন ভিন্ন ভিন্ন স্বতন্ত্র সম্প্রদায়গুলোকে সহজ এবং বিভ্রান্তিকর ‘দক্ষিণ এশীয়’ লেবেলের অধীনে এক করে ফেলা হয়। এমনকি যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যমও পাকিস্তানীদের অপরাধকে ‘দক্ষিণ এশীয়’ বা ’এশীয়’ বলে শিরোনাম করে, যা সমাজে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং নিরপরাধীদেরও অস্বস্তিতে ফেলে।

আরও পড়ুন: রাজী ফখরুলের ‘গ্রিন সিগন্যালেই’ মিলছে টেন্ডার জমার সুযোগ

সমস্যাটি মোটেই জাতিগত বা ধর্মীয় নয়। পাকিস্তানী সমাজে পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক অস্বীকৃতির কারণেই নারী ও শিশুদের ওপর সহিংসতা জেঁকে বসার সুযোগ পায়।

পাকিস্তানে এখনও উচ্চ হারে ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, অনার কিলিং এবং পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। সামাজিকভাবে এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা থাকায় এসব অপরাধে সাজা হয় খুবই কম। উল্টো ভুক্তভোগীদের তীব্র সামাজিক কলঙ্ক এবং হুমকির মুখে পড়তে হয়। ফলে এসব অপরাধ না কমে বরং বেড়ে যায়।

জনপ্রতিনিধি বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের যেসব বক্তব্য যৌন সহিংসতার জন্য নারীর পোশাক, আচরণ বা স্বাধীন চলাচলকে দায়ী করে; তা সমাজে বিপজ্জনক বার্তা দেয়। এই ধরনের বক্তব্য অপরাধীদের দায়মুক্ত করে এবং ভুক্তভোগীদের ওপর অন্যায় বোঝা চাপিয়ে দেয়।

'পারিবারিক সম্মান’এর বিষয়ে পাকিস্তানের সামাজিক ভাবনাটাই পুরুষতান্ত্রিক এবং বৈপরীত্যে ঠাসা। পুরুষতান্ত্রিক ধারণাগুলো নির্ধারণ করে দেয় যে, নারীরা শালীনতা ও আনুগত্যের মাধ্যমে পরিবারের সুনাম রক্ষা করবে। নইলে অনার কিলিংএর নামে তাদের হত্যা করা হবে। অন্যদিকে পুরুষদের অপকর্মকে প্রায়শই যৌক্তিক বলে মেনে নেওয়া হয় বা এড়িয়ে যাওয়া হয়। ফলে সমাজের নীরবতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিষ্ক্রিয়তা অনেক সময় অপরাধীদের সুরক্ষা দেয়। আর পাকিস্তানীরা এই মানসিকতা সঙ্গে নিয়ে যুক্তরাজ্য পর্যন্ত আসে।

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু দেশের পরিচালনার জন্য যোগ্য নন’ দাবি বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের

এই সমস্যা থেকে পাকিস্তানকে রক্ষায় কাঠামোগত সংস্কার যেমন দরকার, তেমনি দরকার অপরাধীর কঠোর সাজা নিশ্চিত করা এবং তাদের পাশে ঢাল হয়ে নয়।

দুঃখজনক হলো, কাঠামোগত এই সমস্যাগুলোর যৌক্তিক সমালোচনাকে প্রায়শই পাকিস্তান-বিরোধী অপপ্রচার বা ইসলামোফোবিয়া হিসেবে খারিজ করে দেওয়া হয়। এই তাৎক্ষণিক আত্মরক্ষামূলক মনোভাব সংস্কারের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ব্রিটেনের নিজস্ব ইতিহাস এই ধরনের মানসিকতার মারাত্মক বিপদ প্রমাণ করে। সেখানে গ্রুমিং গ্যাং কেলেঙ্কারি দশকের পর দশক ধরে টিকে ছিল প্রমাণের অভাবে নয়; বরং বর্ণবাদের অভিযোগ বা রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার ভয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো বারবার চোখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। যখন শিশুদের সুরক্ষার চেয়ে জাতীয় গৌরব বা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি বেশি অগ্রাধিকার পায়, তখন অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি বা দায়মুক্তি পেয়ে জেঁকে বসে।

অপরাধের দায় সম্পূর্ণরূপে ব্যক্তিগত। ব্রিটিশ পাকিস্তানিদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশও এই সহিংসতাকে প্রত্যাখ্যান করে এবং সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখে। তবে, এই সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে সততার সঙ্গে আলোচনা করতে ব্যর্থ হওয়া সামগ্রিকভাবে প্রবাসীদের ওপর একটি ভারী বোঝা চাপিয়ে দেয়।

আরও পড়ুন: ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, বিপাকে পড়তে পারে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রামের মানুষ

ব্রিটিশ বাংলাদেশি এবং ভারতীয়রা; যাদের এই গ্রুমিং চক্রের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই; তারা প্রায়শই নেতিবাচক জনধারণার শিকার হন। এর ফলে সাধারণ বর্ণবাদী আচরণ বা বিদ্বেষ বেড়ে যায়। তরুণ পেশাজীবী বা শিক্ষার্থীরা কেবল একই রকম দক্ষিণ এশীয় চেহারার কারণে সম্পূর্ণ অপরিচিত ব্যক্তিদের করা অপরাধের দায়বদ্ধতার মুখোমুখি হতে বাধ্য হন, যা অত্যন্ত অন্যায়।

এই ধরনের ঢালাও মন্তব্য কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে সমানভাবে অসমর্থনযোগ্য হলো সেই সামাজিক পরিস্থিতিগুলোকে মোকাবিলা করতে অস্বীকৃতি জানানো, যা নারীবিদ্বেষকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। পাকিস্তান শিশু সুরক্ষা, রাজনৈতিক জবাবদিহিতা এবং নারীর ওপর পদ্ধতিগত সহিংসতার মতো অভ্যন্তরীণ কঠিন আলচনার বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে প্রতিটি বহিরাগত সমালোচনাকে পক্ষপাতিত্ব বা বৈষম্য হিসেবে আখ্যায়িত করা চালিয়ে যেতে পারে না।

কোনো সমাজ রক্ষণশীল জাতীয়তাবাদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধা অর্জন করে না। বরং নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতা উন্মোচন করে এবং সেই অনুযায়ী সংস্কার করার সাহসের মাধ্যমে তা অর্জন করে। যতক্ষণ না পাকিস্তানের ভেতর থেকে সেই আত্মোপলব্ধি বা জবাবদিহিতা শুরু হচ্ছে, ততক্ষণ প্রতিটি নতুন কেলেঙ্কারি কেবল পাকিস্তানের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করবে। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের এই সঙ্কট, যুক্তরাজ্যে থাকা লক্ষ লক্ষ নিরীহ দক্ষিণ এশীয়কেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকবে; যারা অল্প কিছু অপরাধীর কর্মের কারণে অন্যায়ভাবে বিচার বা সন্দেহের মুখোমুখি হচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি: এরদোয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩১ পি.এম


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি: এরদোয়ান

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ একটি নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, এই তথ্যটি জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তার মতে, অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোও ভবিষ্যতে এই চুক্তিতে যোগদান করতে পারবে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর একটি পোস্টে, এরদোয়ান এ তথ্য তুলে ধরেছেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকারের ভিত্তিতে গঠিত এই চুক্তিটি সম্মিলিত প্রতিরোধ নীতি শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। একই সাথে, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে।

এরদোয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই চুক্তি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। এটি আমাদের অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা কামনা করে এমন সব ভ্রাতৃপ্রতিম এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক মালিকানার নীতির ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান দিয়ে, তুরস্ক সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাত ও সংকটের সমাধানের জন্য তার অবস্থান রক্ষা করবে।

এরদোয়ান জানান, শনিবার সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে তিনটি দেশের মধ্যে সাক্ষরিত চুক্তির কারণে তিনি মক্কায় সফর করেছেন। সফরের দিন সৌদি যুবরাজ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।

এ সফর, ত্রিপক্ষীয় আলোচনা এবং নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি পুরো অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে, এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে অনুষ্ঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা শীর্ষ সম্মেলনে’ সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ একত্রে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

সম্মেলনের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তিটি তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তার উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গভীরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অঞ্চল এবং এর বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করার একটি সাধারণ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই চুক্তির আওতায় বাহ্যিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়াও, প্রতিরক্ষার সব দিকগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, চুক্তির একটি ধারায় বলা হয়েছে, সৌদি আরব, তুরস্ক বা পাকিস্তানের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের শীর্ষে গণ্য করা হবে এবং সে অনুযায়ী সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপালে ভয় পেলেন অপু বিশ্বাস, ঘটনা কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩১ পি.এম


নেপালে ভয় পেলেন অপু বিশ্বাস, ঘটনা কি

নেপালে বর্তমানে ‘শিকার’ সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত রয়েছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাস।

শুটিংয়ের ফাঁকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি ভক্তদের সঙ্গে মত বিনিময় করেছেন। এ সময় নিজের ব্যক্তিজীবন, সন্তান, সিনেমা, ব্যবসা ও সমালোচনা নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি নেপালের পাহাড়ি এলাকায় ক্যাবল কারে ওঠার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন অভিনেত্রী।

লাইভে অপু বিশ্বাস জানান, নেপালের পোখারার অন্নপূর্ণা এলাকায় ক্যাবল কারে চড়ার অভিজ্ঞতা তার কাছে বেশ ভয়ের ছিল। যদিও তিনি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে ক্যাবল কারে চড়েছেন, তবে নেপালের এই ক্যাবল কার তার কাছে আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং মনে হয়েছে। লাইভের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘ভীষণ ভয় লাগছে।’ উচ্চতা নিয়ে যারা ভীতু কিংবা হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের এই ক্যাবল কারে না ওঠার পরামর্শও দেন অপু।

এদিকে লাইভে নিজের কাজের ব্যস্ততা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও খোলসা করেন এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, তার ছেলে বড় হচ্ছে। তাই ক্যারিয়ারের পাশাপাশি সন্তানের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। টানা ২০ থেকে ২৫ দিনের শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকলে সন্তানের পাশে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে বর্তমানে দীর্ঘ শুটিংয়ের পরিবর্তে স্বল্প সময়ের কাজ করছেন, যেমন ফটোশুট, ব্র্যান্ড প্রমোশন ও শোরুম উদ্বোধন।

এছাড়া, অপু নিজের বিউটি পার্লার ও অনলাইন পোশাকের ব্যবসা দেখাশোনাও করছেন।

তিনি ব্র্যান্ড প্রমোশন ও ফটোশুটে নিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনা নিয়ে কথা বলেন। অপু বিশ্বাসের ভাষ্য হল, “একজন মানুষ কোনো কাজ করলেই সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখা উচিৎ নয়।” দুই দশকের বেশি সময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি জানেন কিভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে হয়। তিনি আরও যোগ করেন, “একসময় যেসব কাজের জন্য তাকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, তার মতো এখন অনেক শিল্পী একই ধরনের কাজ করছেন।”

নতুন সিনেমা ‘শিকার’র বিষয়েও তিনি আশাবাদী। এই সিনেমার পরিচালক রোমান এবং নতুন নায়ক পলাশের সঙ্গে তিনি অভিনয় করছেন। বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের শিল্পী-কলাকুশলীদের সমন্বয়ে নেপালের বিভিন্ন লোকেশনে حاليا সিনেমাটির শুটিং চলছে।

লাইভের অংশ হিসেবে অপু নিজের সন্তানকে ভীষণ মিস করার বিষয়টিও উল্লেখ করেন। ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, তার ভক্তরাই তার মূল শক্তি। লাইভে যারা বড় মন্তব্য করবেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনকে নিজের প্রতিষ্ঠান ‘সিগনেচার বিউটি পার্লার অ্যান্ড বুটিক’ থেকে বিশেষ সেবা ও পোশাক দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

শেষে, তিনি নতুন সিনেমা ‘শিকার’ এবং তার সন্তানের জন্য সকলের কাছে দোয়া চান। পাশাপাশি শিল্পীকে নিয়ে বিভক্ত না হয়ে ভালোবাসা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার আবেদন করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বহদ্দারহাটে গাউছিয়া ট্রেডার্সের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রতিবেদন: মোঃ শরীফ উদ্দিন

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


বহদ্দারহাটে গাউছিয়া ট্রেডার্সের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল সংলগ্ন শহীদ পাড়ায় গাউছিয়া ট্রেডার্সের উদ্যোগে পবিত্র মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের আলোচিত ইসলামী বক্তা আল্লামা মাহবুবুল হক নূরে বাংলা।

মিলাদ ও কিয়াম শেষে তিনি বক্তব্যে বলেন, “তরুণ ব্যবসায়ী মো. শরীফ উদ্দিনের ডাকে সাড়া দিয়ে আজ এখানে এসেছি এবং মিলাদ-কিয়ামে শরিক হয়েছি।”

তিনি তরুণ প্রজন্মকে দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করার ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, “আমাদের ঈমান-আমল সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। প্রত্যেক পরিবার থেকে অন্তত একজন সন্তানকে সুন্নি মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর চেষ্টা করুন।”

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাতিলের দাবি প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নূরে বাংলা বলেন, কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন — পূর্ববর্তী সরকার এ ছুটি দিয়েছিল, তাই ছুটি বন্ধ করতে হবে। তিনি এ যুক্তির সমালোচনা করে বলেন, কোনো সরকার কোনো স্থাপনা বা অবকাঠামো নির্মাণ করলেই যদি তা বাতিল করতে হয়, তবে একই যুক্তিতে তাদের আমলে নির্মিত বিভিন্ন সেতু, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামোও বাতিল করতে হবে।

তিনি উদাহরণ টেনে আরও বলেন, “এক হাজার টাকার নোটে শেখ মুজিবের ছবি আছে — তাহলে সেই টাকাগুলোও ফিরিয়ে দিতে হবে।” এভাবে কোনো বিষয়ের মূল্যায়ন না করে তার যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) প্রসঙ্গে আল্লামা নূরে বাংলা বলেন, “মিলাদুন্নবী একটি ইবাদত, যা মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালন করা হয়। প্রতি বছরের মতো এ বছরও আমরা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালন করব।”

মাহফিলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, মুসল্লি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উপস্থিত ছিলেন। শেষ পর্যন্ত দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাতের মধ্য দিয়ে মিলাদ মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিস্ট পূজারী সাকিবের সকল রেকর্ড মুছে ফেলার দাবি শফিকুলের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৩৮ পি.এম


ফ্যাসিস্ট পূজারী সাকিবের সকল রেকর্ড মুছে ফেলার দাবি শফিকুলের

 

অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম (বামে), পলাতক হাসিনা সরকারের সংসদ সদস্য ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান (ডানে)।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সাকিব আল হাসানের সমস্ত রেকর্ড, পরিসংখ্যান এবং মাইলফলক মুছে ফেলা। যে ক্রিকেটার প্রকাশ্যে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে পূজা করেন, ক্রিকেটের ইতিহাসে তার নাম থাকার কোনো অধিকার নেই। ইতিহাস থেকে সাকিবের নাম এবং রেকর্ড মুছে ফেলা হলে আমাদের ক্রিকেট মোটেও নিঃস্ব হয়ে যাবে না। শুক্রবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এমনটি প্রকাশ করেছেন সাবেক অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

শফিকুল আলম তার পোস্টে লিখেছেন, ‘ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম ও পিটার পোলক, মাইক প্রোক্টর এবং এডি বার্লো সাকিবের চেয়ে অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন। তাদের হাতে রক্ত লেগে ছিল না। তারা সাকিবের মতো এত দুর্নীতিগ্রস্তও ছিলেন না। তাদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল এমন একটি বর্ণবাদী শাসনের অংশ হওয়া, যা তাদের বর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার কাজে ব্যবহার করেছিল—যার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাদের বাদ পড়তে হয়েছিল, যদিও ব্যারি রিচার্ডস সম্ভবত তার সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন।’

তিনি আরো বলেন, ‘হয়তো কোনো একদিন বিসিবি সভাপতি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সাকিব একজন হিটলারকে পূজা করেন এবং দেশে ফিরে একটি খুনি শাসনব্যবস্থাকে পুনর্বাসিত করার স্বপ্ন দেখেন। তার ‘ক্যাপ্টেন’ (শেখ হাসিনা)—যাদের সংঘটিত গণহত্যার অপরাধগুলো জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধান মিশন নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত করেছে—তার সেসব অপরাধের জন্য সাকিবের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি। আমাদের ক্রিকেটে গণহত্যাকারীর পূজারীদের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তাকারী এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের চাটুকারদের ক্রীড়া বীর হিসেবে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।

সর্বশেষে তিনি জানান, ‘২০০৯ সালে বিডিআর সদর দফতরে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনায় কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল, কুস্তি এবং অ্যাথলেটিক্সের জাতীয় চ্যাম্পিয়নসহ বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের জন্য কেউ অশ্রুপাত করেনি। কেউ তাদের ক্ষমার জন্য আবেদন জানায়নি। সাকিবের জানা উচিত যে, গণহত্যাকারীকে পূজা করে কেউ রেহাই পেতে পারে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%