১০:৩১ পি.এম
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ একটি নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়, এই তথ্যটি জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। তার মতে, অন্যান্য বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোও ভবিষ্যতে এই চুক্তিতে যোগদান করতে পারবে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) তুরস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর একটি পোস্টে, এরদোয়ান এ তথ্য তুলে ধরেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত আত্মরক্ষার অধিকারের ভিত্তিতে গঠিত এই চুক্তিটি সম্মিলিত প্রতিরোধ নীতি শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। একই সাথে, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, প্রতিরক্ষা শিল্পে যৌথ প্রকল্প এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেবে।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ায় প্রথম ইবোলা আক্রান্তের ভাইরাসের কেনিয়ার ভাইরাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মিল
এরদোয়ান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই চুক্তি কোনো দেশকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। এটি আমাদের অঞ্চলে শান্তি, সমৃদ্ধি এবং স্থিতিশীলতা কামনা করে এমন সব ভ্রাতৃপ্রতিম এবং বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের অংশগ্রহণের জন্য উন্মুক্ত।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আঞ্চলিক মালিকানার নীতির ভিত্তিতে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান দিয়ে, তুরস্ক সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে আঞ্চলিক সংঘাত ও সংকটের সমাধানের জন্য তার অবস্থান রক্ষা করবে।
এরদোয়ান জানান, শনিবার সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে তিনটি দেশের মধ্যে সাক্ষরিত চুক্তির কারণে তিনি মক্কায় সফর করেছেন। সফরের দিন সৌদি যুবরাজ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকের পর চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়।
এ সফর, ত্রিপক্ষীয় আলোচনা এবং নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি পুরো অঞ্চলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে, এই প্রত্যাশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ভেনেজুয়েলার তেল পরিশোধনে রিলায়েন্সের সঙ্গে কাজ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
শুক্রবার সৌদি আরবের মক্কার আল-সাফা প্রাসাদে অনুষ্ঠিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা শীর্ষ সম্মেলনে’ সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ একত্রে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
সম্মেলনের পর এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, এই চুক্তিটি তিন দেশের সম্মিলিত নিরাপত্তার উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতার গভীরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অঞ্চল এবং এর বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠা করার একটি সাধারণ অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই চুক্তির আওতায় বাহ্যিক হুমকির বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়াও, প্রতিরক্ষার সব দিকগুলোতে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একটি কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
সবচেয়ে গুরুতর বিষয় হলো, চুক্তির একটি ধারায় বলা হয়েছে, সৌদি আরব, তুরস্ক বা পাকিস্তানের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের শীর্ষে গণ্য করা হবে এবং সে অনুযায়ী সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।
আরও পড়ুন: সংবিধান সংশোধন বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শুরু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন