মোঃ ওসমান গনি শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
১২:৫৩ এম
শেরপুরে বেলা ২টা বাজতেই শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কের ঈদগাহ মাঠে জড়ো হন একদল মানুষ। কেউ বয়স্ক, কেউ শিশু, কেউবা দিনমজুর কিংবা ভাসমান মানুষ। তাঁদের কারও হাতে নেই পর্যাপ্ত টাকা, কারও আবার দুপুরের খাবার জোগাড় করাটাই কঠিন। তাই বেলা ১টা থেকেই একবেলা খাবারের আশায় অপেক্ষা করেন তাঁরা। এরপর একটি ভ্যান এসে থামলেই শুরু হয় খাবার পরিবেশন। থালায় তুলে দেওয়া হয় গরম ভাত, ডাল, সবজি, ডিম, মাছ কিংবা মাংস। এভাবেই প্রতিদিন অন্তত একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নৃ ফাউন্ডেশন।
শেরপুর শহরের দারোগালী পার্কে প্রতিদিনের এই মানবিক উদ্যোগের নাম ‘অনাহারীর আহার’। সংগঠনটির দাবি, গত ছয় বছর ধরে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে অসহায় মানুষের জন্য খাবার বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে তারা।
খাবার খেতে আসা এসব মানুষের মধ্যে রয়েছেন ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষ, ভিক্ষুক, দরিদ্র রিকশাচালক, হকার ও দিনমজুর। তাঁদের অনেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাজ শেষে এখানে এসে দুপুরের খাবার খান। কেউ কেউ জানান, সামান্য আয়ে সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। ফলে প্রতিদিন দুপুরে পেট ভরে খাবার খাওয়ার সামর্থ্য তাঁদের থাকে না। নৃ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ তাঁদের সেই কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করছে।
খাবার খেতে আসা কয়েকজন বলেন, প্রতিদিন ভালো খাবার জোটে না। এখানে এসে নিয়মিত দুপুরের খাবার খেতে পারি। এমন উদ্যোগ যেন বন্ধ না হয়, সেটাই তাঁদের প্রত্যাশা।
২০২০ সালে করোনা মহামারির দুঃসময়ে মানুষের অসহায়ত্ব দেখে এই কার্যক্রম শুরু করে নৃ ফাউন্ডেশন।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আওরঙ্গজেব আকন্দ জানান, করোনা পরিস্থিতিতে অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো এবং অন্তত একবেলা খাবারের ব্যবস্থা করার লক্ষ্যেই ‘অনাহারীর আহার’ কর্মসূচি চালু করা হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০ থেকে ১০০ জন অসহায় মানুষের জন্য একবেলার খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। মাসের ১৫ থেকে ২০ দিন বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান জন্মদিন, মৃত্যুবার্ষিকী, বিয়ে কিংবা অন্যান্য উপলক্ষে খাবার বিতরণের দায়িত্ব নেন। বাকি দিনগুলোতে নৃ ফাউন্ডেশনের নিজস্ব অর্থায়নে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
শুধু খাবার বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয় সংগঠনটির কার্যক্রম। রমজান মাসে ইফতার বিতরণ, মৌসুমি ফল বিতরণ এবং বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করার পাশাপাশি অসহায় মানুষের কর্মসংস্থানেও কাজ করছে তারা। ‘অসহায়ের সহায়’ নামে আরেকটি কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র মানুষকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংগঠনটির ২১ সদস্যের এই তরুণ দল দেশ-বিদেশের শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও সহায়তা সংগ্রহ করা হয়।
দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা এই উদ্যোগে প্রতিদিন খাবার পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরছে অসহায় মানুষের জীবনে। তবে সমাজের দরিদ্র ও ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বিবেচনায় এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাবার তুলে দেওয়া শুধু মানবিক সহায়তা নয়, তাঁদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষারও একটি প্রয়াস। নৃ ফাউন্ডেশনের তরুণেরা সেই বিশ্বাস নিয়েই এগিয়ে চলেছেন। সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও প্রতিষ্ঠানগুলো এগিয়ে এলে আরও বেশি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব বলে মনে করছেন তাঁরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিলের দাবিতে গতকাল মধ্য দিল্লিতে একটি বিশাল বিক্ষোভ ও পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্র, কৃষক, শ্রমিক এবং নাগরিক সমাজের যৌথ মঞ্চ ‘পিপলস এগেইনস্ট এসআইআর’-এর আহ্বানে দিল্লির কনট প্লেসের ঐতিহাসিক বাংলা সাহিব গুরদুয়ারা থেকে প্যাটেল চকের কাছে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন সদর দফতর অভিমুখে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র নেতাদের বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়।
‘গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা’ করার আহ্বান জানিয়ে আয়োজিত এই বিশাল কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা ‘হর গলি যন্তর মন্তর, হার গাঁও যান্তার মান্তার, মেরা ঘার যান্তার মান্তার’ স্লোগান তোলেন। মূলত গত ১৪ অক্টোবর নতুন দিল্লির সুরজিৎ ভবনে কৃষক, দলিত, জনজাতি, মহিলা ও সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল এ ‘পিপলস এগেইনস্ট এসআইআর’ মঞ্চের। আন্দোলনকারীদের দাবি, এসআইআর সম্পূর্ণ একটি বেআইনি প্রক্রিয়া। অবিলম্বে ২০২৪-পূর্ববর্তী মূল ভোটার তালিকাকে পুনর্বহাল করতে হবে এবং সিএজি ও নির্বাচন কমিশনের নিয়মাবলি মেনে ‘সোশ্যাল অডিট’-এর মাধ্যমে নতুন করে তালিকা আপডেট করতে হবে।
অন্যদিকে, গত ১৩ অক্টোবর যন্তর মন্তরের ঘটনায় পুলিশি তলব এড়িয়ে যাওয়া সিজেপি-র দুই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গতকাল নতুন করে সমন পাঠিয়েছে দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ। বৃহস্পতিবার রাজৌরি গার্ডেনে ক্রাইম ব্রাঞ্চের কার্যালয়ে উপস্থিত না হয়ে অতিরিক্ত সময় চেয়ে আবেদন জানান সৌরভ, আশুতোষ এবং দলের অন্য সদস্য অজিঙ্ক শিন্ডে। এক প্রবীণ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, তদন্তের স্বার্থে অত্যন্ত দ্রুত তাঁদের আবার নতুন নোটিস বা সমন পাঠিয়ে তলব করা হবে।
প্রসঙ্গত, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্রে প্রকাশিত চাঞ্চল্যকর রিপোর্টের পর থেকেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমার বিরোধীদের নিশানা হয়ে উঠেছেন। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয় যে, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক জোশী এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন। যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই সমস্ত অভিযোগ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআরসহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তই কমিশনের সমস্ত আধিকারিকদের সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়েছিল। সূত্র : দ্য ওয়াল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আফগানিস্তান একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ সহজেই সম্পন্ন করেছে। দুই দিন আগে বাংলাদেশ যে ভাবে পরাজিত হয়েছিল, প্রায় একইভাবে এবার হারতে হলো জিম্বাবুয়েকে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) শারজায় অনুষ্ঠিত সিরিজের ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে ১৬৯ রানে অলআউট করে আফগানিস্তান সহজ রান তাড়ায় ৩ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছেছে।
ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বাংলাদেশকে ১৬০ রানে আটকে আফগানরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করেছিল। সেদিন তাওহিদ হৃদয়দের বিপক্ষে রান তাড়া করতে ৩৫.৩ বল লেগেছিল, আজ সিকান্দার রাজাদের বিরুদ্ধে ৩৪.৩ ওভার লাগল। এর আগে, সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে আফগানিস্তানের দেওয়া ২৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে জিম্বাবুয়ে ১৩৬ রানেই অলআউট হয়ে যায়।
১৭০ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে টুর্নামেন্টে আজ নিজের দ্বিতীয় ফিফটি হাঁকিয়েছেন ইব্রাহিম জাদরান। অধিনায়ক রহমত শাহের সঙ্গে তার ৮২ রানের জুটি দলকে জয়ের বন্দরের কাছাকাছি নিয়ে যায়। হাসমতউল্লাহ শহীদি ৩৫তম ওভারে জয়সূচক বাউন্ডারি হাঁকানোর সময় ইব্রাহিম জাদরান ৭০ রানে অপরাজিত ছিলেন।
জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং ইনিংসে বল এবং ফিল্ডিংয়ে আফগানিস্তান শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছিল। ফলে তাদের রান তাড়ার কাজটি সহজ হয়ে যায়।
৪১ রানে ৩ উইকেট শিকার করে আফগানিস্তানের সেরা বোলার ছিলেন রশিদ খান। এর মাধ্যমে তিনি ওয়ানডে ক্রিকেটে টানা ছয় ইনিংসে কমপক্ষে তিনটি করে উইকেট শিকারের বিরল রেকর্ডে দ্বিতীয় বোলার হিসেবে নাম লেখালেন। এর আগে আফগানিস্তানের পেস ত্রয়ী এবং অভিজ্ঞ অফস্পিনার মোহাম্মদ নবী জিম্বাবুয়ের প্রথম ছয় উইকেট তুলে নিয়ে তাদের জন্য জীবন দুর্বিষহ করে তোলেন।
বাঁহাতি পেসার ফজলহক ফারুকী, অফস্পিনার নবী এবং পেসার বিলাল সামি দুটি করে উইকেট নেন। আর ওয়ানডের ১ নম্বর অলরাউন্ডার আজমতউল্লাহ ওমরজাই একটি উইকেট লাভ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। একইভাবে, জ্বালানি খাতেও সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারেনি। সুতরাং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর গণবিক্ষোভ কর্মসূচির সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, জনগণ নিজেদের খুব অসহায় বোধ করছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি জনগণের সঙ্গে আছে এবং থাকবে। এই গণবিরোধী ও অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ ছাড়া জনগণের অধিকার আদায় হবে না। সরকারের এই সার্বিক ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে নিতে হবে। তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে পারেননি। তিনি সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত, সংবিধান কাটাছেঁড়া করছেন, যাতে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী কায়দায় জনগণের অধিকার স্থায়ীভাবে হরণ করা যায়। ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উদ্দিন আহমেদের এই দায়িত্বে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
জ্বালানি মন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, জ্বালানি মন্ত্রীকে কথা বলতেও দেওয়া হয় না। বর্তমানে তিনি কথাও বলেন না। জ্বালানি খাতে সাত মাস ধরে সরকার কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি। ফলে জ্বালানিমন্ত্রীরও দায়িত্বে থাকার কোনো অধিকার নেই। বলতে গেলে মন্ত্রিপরিষদের একজনের পর একজনের নাম বলতে হবে। সারা বাংলাদেশে যেসব জায়গায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও সিন্ডিকেটবাজির মাধ্যমে আধিপত্য বিস্তার করে জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। এসব সন্ত্রাসী ও দখলদার বাহিনীকে প্রতিহত করতে হবে। আগামী ৩০ অক্টোবর আমরা একটি গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করব। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি খুবই খারাপ। চারটি বিষয় আমাদের সামনে এসেছে। এগুলো হলো আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে নির্লজ্জ দলীয়করণ। এসবের প্রতিবাদেই আমাদের গণবিক্ষোভ কর্মসূচি।
দক্ষিণের মেয়রপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, জাতীয় নাগরিক পার্টি পুনর্গঠিত হয়েছে। আমরা আগামী দিনের লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়েছি। সকালে আমাদের পুনর্গঠিত প্রস্তুতি কমিটি প্রকাশ হয়েছে। বিকেলে আপনারা আমাদের রাজপথে দেখতে পেয়েছেন। গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষ যখন হাল ছেড়ে দিয়েছিল যে শেখ হাসিনাকে আর বিদায় করা যাবে না, তখন কিন্তু আমরা রাজপথে আবার নেমে এসেছিলাম। আমরা সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেছিলাম এবং বাংলাদেশের মানুষকে দেখিয়ে দিয়েছিলাম, বাংলাদেশের মানুষের সামনে যখনই কোনো অন্যায়-অবিচার নেমে আসে, সেটা বাংলাদেশের মানুষ কখনো সহ্য করে না, ভবিষ্যতেও করবে না।
কর্মসূচিতে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে এনসিপির মেয়রপ্রার্থী আসিফ মাহমুদসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য এবং অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের প্রধান দুই মিত্র শক্তি বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে প্রকাশ্য কাদা-ছোড়াছুড়ি বা আঁতাতের অভিযোগ দেশের রাজনীতিকে জটিল ও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। এর সুযোগ নিতে পারে পতিত ফ্যাসিস্ট শক্তি অর্থাৎ আওয়ামী লীগ।
সম্প্রতি রাজশাহীতে একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন, "সরকারের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছেÑ পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দল আঁতাত করেছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে।" অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরাসরি জামায়াতের নাম না নিলেও অভিযোগ করেছেন যে, আওয়ামী লীগের অপপ্রচারের সাথে একটি ‘গুপ্ত দল’ যুক্ত হয়েছে, যাদের আচরণ ওই স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সাথে মিলে যায়।
দেশের সরকার-প্রধানের এবং ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতার এমন অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি দিল্লির সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত করছে। তিনি বলেন, সরকারের ‘ভুল রাজনীতি’ এবং অদূরদর্শিতার কারণে মাঠপর্যায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে, যা প্রকারান্তরে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, "আওয়ামী আমলের গোয়েন্দা সেটআপ ব্যবহার করে এখন বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানো হচ্ছে।"
বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাথে গোপন আঁতাতের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মূলত ক্ষমতার সমীকরণ, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কৌশল হিসেবে দেখছেন। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল দেশের বিরুদ্ধে কী কী ষড়যন্ত্র করেছে, এ নিয়ে সুস্পষ্ট তথ্য দিয়েছেন সরকার-প্রধান। একই কথা বলেছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতারাও। তাই সরকার-প্রধানের এ ধরনের অভিযোগকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্য বলে উড়িয়ে দিতে চান না। প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত ও দেশের ভেতরের শক্তির আঁতাতের মাধ্যমে দেশ অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত দেন, তখন বিশ্লেষকরা একে গুরুত্বের সাথে বিবেচনার দাবি করেন। তারা বলেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে যখন এমন অভিযোগ আসে, তখন এর সত্যতা নিয়ে সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করা উচিত। আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগের সাথে জামায়াতে ইসলামী আঁতাতের বিষয়টিকে একেবারে অবাস্তব বলেও মনে করছেন না। আবার কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জ এবং শ্রমিক অসন্তোষের মতো মৌলিক সংকটগুলো থেকে জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরাতেই রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী লীগের সাথে আঁতাত বা ষড়যন্ত্র’-এর মতো সংবেদনশীল অভিযোগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।
তবে অধিকাংশ বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। কোন দল এককভাবে কতটুকু শক্তিশালী বা কার ভোট ব্যাংক কোন দিকে প্রবাহিত হতে পারে, তা নিয়ে বড় দলগুলোর মধ্যে হিসাব নিকাশ চলছে। বলা যায় যে এ নিয়ে তাদের মধ্যে এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চলছে। আওয়ামী লীগের বিশাল ভোট ব্যাংককে নিজেদের পক্ষে টানা বা প্রতিপক্ষকে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার কৌশল হিসেবেও এই আঁতাতের তত্ত্ব ছড়ানো হচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তারা মনে করেন, এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আসলে কোনো আদর্শিক সংঘাত নয়। এটি হলো ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও আসন্ন নির্বাচনের আগে প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার একটি সাধারণ স্ট্র্যাটেজি।
বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার এই পাল্টাপাল্টি আঁতাতের অভিযোগ দেশের ভঙ্গুর রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, "কোনো দল বা গোষ্ঠীর স্বার্থে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন করার চেষ্টা দেশের সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগের সাথে প্রতারণার শামিল।" ক্ষমতা ধরে রাখা বা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য দলগুলো বিভিন্ন শক্তির সাথে সমঝোতার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে এটা দেশকে আরও গভীর সঙ্কটে ফেলে দিতে পারে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী (রতন) বলেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কীসের ভিত্তিতে ইঙ্গিত করেছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে তার ধারণা একেবারেই অমূলকও বলা যাবে না। কারণ রাজনৈতিক স্বার্থে এই দুই দলের মধ্যে এক ধরনের বোঝাপড়া সব সময়ই ছিল। অতীতে তারা একসঙ্গে আন্দোলন করেছে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোট পেয়েছে জামায়াত। না হলে তো তারা দুই কোটির বেশি ভোট পাওয়ার কথা নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দলের প্রতি গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়টিও সমর্থনযোগ্য নয়। যা অতীতে আওয়ামী লীগও করেছে। এতে একটি দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হতে পারেÑযা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত।
দুই রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে খোদ সরকার-প্রধানের পক্ষ থেকে ষড়যন্ত্র ও আঁতাত করার অভিযোগকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন অনেকে। তারা বলেন, সত্যিই যদি কোনও দল বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সম্মিলিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে, তাহলে তো শুধু বক্তব্য দিয়েই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। বরং এ বিষয়ে সরকার কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা খোলাসা করা উচিত।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বলেন, পতিত স্বৈরাচার ও বিরোধী দলের আঁতাতের যে অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী করেছেন, তা খুবই উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, "আমরা মনে করি, সরকার-প্রধানের এই বক্তব্য খুবই স্পষ্ট। রাষ্ট্রের কাছে তথ্য থাকার পরও শুধু জনসভায় বক্তব্য দিলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। বরং তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হয়। কারণ জাতি আর কোনোভাবেই পতিত স্বৈরাচারের প্রত্যাবর্তন দেখতে চায়।"
প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তাদের কাছে ষড়যন্ত্রের সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে। তবে এ ধরনের বক্তব্যকে বিরোধীদলীয় নেতারা এক ধরনের রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের অভিযোগ, সরকারের কাছে যদি গোয়েন্দা তথ্য থেকেই থাকে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ফাঁকি দিয়ে আওয়ামী লীগ মিছিল করে কীভাবে? নিশ্চয়ই গোয়েন্দা ব্যর্থতা আছে। অথবা তারা সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে থেকেই ফ্যাসিবাদী শক্তির পক্ষে কাজ করছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্য হলে প্রশ্ন হলো, গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন? আর বক্তব্যের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি না থাকলে এমন স্পর্শকাতর অভিযোগ তুলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা কেন? তিনি গোয়েন্দা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহছানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর। তিনি বলেন, "মূলত বিরোধী দলের যৌক্তিক আন্দোলনকে বিতর্কিত করতেই তিনি এ ধরনের কথা বলছেন। জামায়াত নয়, বরং বিএনপিই আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।" খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি এলাকা গুলশানে বড় ধরনের শোডাউন দিয়েছে পতিত আওয়ামী লীগ। তারা কোনও ধরনের বাধার সম্মুখীন না হওয়ার কারণ হলোÑ প্রশাসনে এখনও ফ্যাসিবাদী শক্তির শক্তিশালী অবস্থান আছে। অথচ সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনও ধরনের ব্যবস্থা না নিয়ে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপাচ্ছে। এ ধরনের আচরণ অব্যাহত রাখলে সামনের দিকে সরকারকে বড় ধরনের খেসারত দিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ