ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইসির বার্তায় সাড়া না দিলে বাতিল হবে প্রবাসীদের এনআইডি আবেদন


ইসির বার্তায় সাড়া না দিলে বাতিল হবে প্রবাসীদের এনআইডি আবেদন

বিদেশে বসবাসরত কোনো প্রবাসী জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করার পর নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছ থেকে প্রাপ্ত যোগাযোগের জবাব না দিলে সাত দিনের মধ্যে তার আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের উপ-পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ আল-মামুন এই তথ্য প্রদান করেছেন।

এ বিষয়ে কর্মকর্তাদের পাঠানো নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রবাসীদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর প্রয়োজনের তাগিদে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা আবেদনকারীর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করবেন। যদি ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব না হয়, তবে এসএমএস পাঠানো হবে।

আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসএমএস পাঠানোর পরেও আবেদনকারী যদি সাত দিনের মধ্যে কোনো সাড়া না দেন, তবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা তার নিজ সিএমএস অ্যাকাউন্ট থেকে আবেদন বাতিল করার বার্তা পাঠিয়ে আবেদনটি বাতিল করবেন।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, ইতালি, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, মালদ্বীপ, ওমান এবং দক্ষিণ আফ্রিকাসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি বাংলাদেশ মিশনে প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধন ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া সুইডেন, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডে শিগগিরই এই কার্যক্রম শুরু করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৃত ভেবে মিলাদ, ১৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন আলমগীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৫ পি.এম


মৃত ভেবে মিলাদ, ১৮ বছর পর বাড়ি ফিরলেন আলমগীর

দীর্ঘ ১৮ বছর নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে নিজের বাড়িতে ফিরেছেন বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের বাসিন্দা আলমগীর হাওলাদার। তবে যে পরিবারে ফেরার স্বপ্ন তিনি এতদিন ধরে লালন করে আসছিলেন, সেখানে তার বাবা-মা আর নেই। তার স্ত্রী অন্যত্র সংসার পেতেছেন এবং একমাত্র মেয়েরও বিয়ে হয়ে গেছে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে জীবিকার সন্ধানে স্ত্রী আমেনা বেগম ও ছোট মেয়ে খাদিজাকে নিয়ে আলমগীর ঢাকায় যান। সেখানে তিনি দৈনিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং তার স্ত্রী একটি গার্মেন্টসে কাজ করতেন। ওই বছরের নভেম্বর মাসে পোস্তগোলা এলাকায় কাজের খোঁজে বের হলে আলমগীর নিখোঁজ হন। আলমগীরের দাবি, সেদিন একটি অপহরণকারী চক্র তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এরপর হাত-পা ও চোখ বেঁধে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে রাখা হয়। সেখানে তার মতো আরও প্রায় ৩০ জনকে আটকে রেখে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করানো হতো। তবে তাদের কোনো বেতন দেওয়া হতো না এবং অপ্রতুল খাবারের মধ্যেই বছরের পর বছর কাটাতে হয়েছে। এদিকে দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পরে আলমগীরের কোনো সন্ধান না পেয়ে তার স্ত্রী অন্যত্র বিয়ে করেন। বাবার অনুপস্থিতিতে নানা মানুষের বাড়িতে কাজ করে বড় হন তার মেয়ে খাদিজা। পরে তারও বিয়ে হয়ে যায়। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে আলমগীরের বাবা-মা প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যান। আলমগীর জানান, গত ২৮ জুলাই গভীর রাতে ঢাকার পোস্তগোলা ব্রিজের পাশে তাকে ও আরও প্রায় ৩০ জনকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে সকালে স্থানীয় একজন ব্যক্তি তাকে এক দিনের কাজের জন্য একটি বালুবাহী জাহাজে নিযুক্ত করেন। সেই কাজ শেষে ৫০০ টাকা মজুরি দিয়ে তিনি কোনো রকমে নিজ বাড়ি পাথরঘাটায় ফিরে আসেন। গত ২৯ জুলাই বাড়িতে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ দিন পর হারিয়ে যাওয়া মানুষকে ফিরে পেয়ে অনেকেই অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। আলমগীরের মুক্তির সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি দাবি করেন, সরকার পরিবর্তনের পর অপহরণকারীরা নিজেদের নিরাপত্তার কথা ভেবে তাদের ছেড়ে দিয়েছে। অন্যদিকে, আলমগীরকে মৃত ভেবে তার পরিবার ও এলাকাবাসী একাধিকবার মিলাদ, দোয়া মাহফিল এবং মসজিদে বিশেষ দোয়ার আয়োজন করেছিলেন। এমনকি তার স্মরণে কাঙালি ভোজও অনুষ্ঠিত হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। আলমগীরের অপহরণ, দীর্ঘদিন আটকে রাখা এবং জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিনিয়োগের বাধা দূর হয়েছে, এবার উত্তরাঞ্চলে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার পালা: ড. তিতুমীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৬ পি.এম


বিনিয়োগের বাধা দূর হয়েছে, এবার উত্তরাঞ্চলে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার পালা: ড. তিতুমীর

রাজশাহী, ৪ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সরকার রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলকে দেশের নতুন বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে একের পর এক নীতিগত সংস্কার, অর্থায়ন, কর-সুবিধা, নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে।

বিনিয়োগের পথে থাকা বড় বাধাগুলো ইতোমধ্যে দূর করা হয়েছে। এখন প্রয়োজন স্থানীয় উদ্যোক্তাদের সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে এগিয়ে আসা। আজ রাজশাহী প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ে আয়োজিত আঞ্চলিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও সুইসকন্ট্যাক্ট যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ড. তিতুমীর বলেন, অন্তর্বর্তী সংকট কাটিয়ে দেশের অর্থনীতিকে শুধু পুনরুদ্ধার নয়, পুনর্গঠন করে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়াই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’-এই দর্শনের ভিত্তিতে কাজ করছেন। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে সমতাভিত্তিক আঞ্চলিক উন্নয়নকে অন্যতম অঙ্গীকার করা হয়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলিত অঞ্চলগুলোকে মূলধারার উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করতেই সরকার অঞ্চলভিত্তিক বিনিয়োগ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা পিছিয়ে আছে, তাদের সামনের সারিতে নিয়ে আসাই আমাদের লক্ষ্য। তাই অঞ্চলভিত্তিক উন্নয়ন এখন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’

অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার বিনিয়োগের জন্য একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সরকার পাঁচটি মৌলিক বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রথমত নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা যাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে পারেন, সে জন্য এবারের বাজেটে পাঁচ বছরের কর কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রপ্তানিমুখী সব পণ্যের জন্য সমতাভিত্তিক কর-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি জানান, ‘একজন বিনিয়োগকারীকে অন্তত পাঁচ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হয়। রাষ্ট্রের নীতি কী হবে, সেই নিশ্চয়তা আমরা দিচ্ছি।’

দ্বিতীয়ত, ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া সহজ করতে ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ শিথিল (ডিরেগুলেশন) করা হচ্ছে। লাইসেন্স গ্রহণ থেকে কারখানা চালু হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে ট্র্যাক করা যাবে।

ড. তিতুমীর বলেন, ‘সরকার ব্যবসা করতে চায় না। সরকারের কাজ পথ তৈরি করে দেওয়া, পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো নয়।’

তার ভাষ্য, অতীতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্যক্তিখাতের বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছিল। বর্তমানে সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা হচ্ছে।

অর্থায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়মে ব্যাংক খাত ও পুঁজিবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দুটি খাতেই এখন বড় ধরনের সংস্কার চলছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনর্গঠন করা হচ্ছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের অর্থায়নের জন্য একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে ওঠে।

তিনি জানান, বর্তমানে ৪৯ হাজার কোটি টাকার পুনর্থায়ন কর্মসূচি চালু রয়েছে। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৯ হাজার কোটি টাকার পৃথক তহবিল এবং ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুনর্থায়ন সুবিধা রয়েছে।

উত্তরাঞ্চলের জন্য বিশেষ উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে তিন হাজার কোটি টাকা বিশেষভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তিনি জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে উত্তরাঞ্চলে কৃষি হাব তৈরির জন্য তিন হাজার কোটি টাকা আলাদা করে রাখা হয়নি। এবার সেটি করা হয়েছে।’

তবে এ ধরনের সুযোগ-সুবিধার তথ্য অনেক উদ্যোক্তার কাছে পৌঁছায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি। এজন্য চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।

ড. তিতুমীর বলেন, ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমাতে কর, ভ্যাট ও কাস্টমস ব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল করা হচ্ছে। এতে এনবিআরের কর্মকর্তাদের কাছে বারবার যেতে হবে না; পুরো প্রক্রিয়াই ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আসবে।

তিনি বলেন, আমরা হয়রানি বন্ধ করতে চাই। ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে কর আদায় হবে, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমবে।

বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, যুদ্ধ এবং সরবরাহব্যবস্থার বিঘ্নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ ছাড়া বিকল্প নেই। উৎপাদন বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, রাজস্ব আয় বাড়বে এবং দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতার অন্যতম ভিত্তি ছিল স্বল্পমূল্যের জ্বালানি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সরকার এখন জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে সৌর বিদ্যুতের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজশাহীতে জায়গার কোনো সংকট নেই। সরকারি-বেসরকারি ভবন ও শিল্পকারখানার ছাদে ব্যাপকভাবে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা সম্ভব। দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যেই বিনিয়োগ উঠে আসে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সরকারি অফিস থেকেই সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার শুরু করার নির্দেশনা দিয়েছেন।

যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। বলেন, উত্তরাঞ্চলের পণ্য দ্রুত চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরে পৌঁছাতে রেলপথ আধুনিকায়নের কাজ চলছে। ব্রডগেজ ও মিটারগেজের সীমাবদ্ধতা দূর করে ডুয়াল গেজ রেললাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ড. তিতুমীর বলেন, পঞ্চগড় থেকে বন্দর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না।

উত্তরাঞ্চলের সম্ভাবনা তুলে ধরে তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চল শুধু কৃষিপণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে থাকলে চলবে না; কৃষিভিত্তিক শিল্পও গড়ে তুলতে হবে। আলু, ভুট্টা, আম ও লিচুসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত করে উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। আলু থেকে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই), দুগ্ধভিত্তিক শিল্প, মোজারেলা চিজ, ফুলভিত্তিক শিল্প এবং নুড়ি-পাথরভিত্তিক নতুন শিল্প গড়ে তোলারও সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার নীতিগত ভিত্তি তৈরি করেছে, বিনিয়োগের পথের বাধা দূর করেছে। এখন উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।

ড. তিতুমীর বলেন, সরকার এখন অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড়- সব ধরনের উদ্যোক্তার জন্য আলাদা সহায়তা দিচ্ছে। কৃষিপণ্য উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ না থেকে প্রাথমিক উৎপাদকদের উদ্যোক্তায় রূপান্তর করতে হবে। বড় শিল্পের পাশাপাশি সাব-কন্ট্রাক্টিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পেরও বিকাশ ঘটাতে হবে।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন। তার ভাষায়, “এর চেয়ে বড় নীতির ধারাবাহিকতা আর হতে পারে না।”

উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করতেও উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতা চান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, কারিগরি বাণিজ্য বাধা (টিবিটি), স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি (এসপিএস) ব্যবস্থার মতো অশুল্ক বাধা কমানো, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার পথ তৈরি করেছে, নীতিগত বাধাগুলো সরিয়েছে। এখন উত্তরাঞ্চলের উদ্যোক্তাদের সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নতুন শিল্প, নতুন কর্মসংস্থান ও নতুন অর্থনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে।’

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং স্থানীয় উদ্যোক্তারা বক্তব্য দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পৌর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল না হলেও গৌরীপুরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া, মাঠে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৭ পি.এম


পৌর নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল না হলেও গৌরীপুরে বইছে নির্বাচনী হাওয়া, মাঠে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা

গৌরীপুর উপজেলার অন্তর্গত গৌরীপুর পৌরসভার প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ১৯২৭ সালে। বর্তমানে এটি 'ক' শ্রেণির একটি পৌরসভা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে সরকারে পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১০ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও পৌরসভা নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সূচি নির্বাচন কমিশন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি, তবুও ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌরসভায় নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে হালকা নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময়, সালাম আদান-প্রদান এবং বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জনসংযোগ জোরদার করছেন। চায়ের দোকান, বাজার, অলিগলি থেকে শুরু করে সর্বত্রই পৌর নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলছে। কে পাচ্ছেন দলীয় মনোনয়ন, কার জনপ্রিয়তা কতটা—এসব নিয়েই রাজনৈতিক অঙ্গন সরগরম। স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছে, এবারের গৌরীপুর পৌরসভা নির্বাচনে প্রায় এক ডজন ব্যক্তি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামসহ একটি ইসলামী রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা নিজেদের দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকজন পরিচিত মুখও স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্যে ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দলীয় মনোনয়ন চূড়ান্ত হওয়ার পর প্রকৃত নির্বাচনের চিত্র পরিষ্কার হবে। তবে তফসিল ঘোষণার আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাঠে সক্রিয় হয়ে ওঠা প্রমাণ করছে যে, গৌরীপুর পৌরসভার নির্বাচন এবারে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে পারে। এদিকে সাধারণ ভোটাররা বলছেন, তারা একজন সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব জনপ্রতিনিধিকে বেছে নিতে চান, যিনি পৌরসভার উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন নিশ্চিত করতে সক্ষম হবেন। সব মিলিয়ে, আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণার আগেই গৌরীপুর পৌরসভাজুড়ে নির্বাচনী আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, দলীয় মনোনয়ন ঘোষণা ও নির্বাচন কমিশনের তফসিল প্রকাশের পর এই আমেজ আরও তীব্র হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিরোজপুরে নৌযান শুমারি উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পিরোজপুর প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


পিরোজপুরে নৌযান শুমারি উপলক্ষে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের সঠিক সংখ্যা, ধরন এবং কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নৌযান শুমারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এই বিশেষ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে জেলা পর্যায়ের একটি অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলাউদ্দিন ভূঞা জনী। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন পিরোজপুর সদর পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নাঈম মাহমুদ। এরপর, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নৌযান শুমারি ২০২৬ এর সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরে জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদ।

সভায় জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নৌযান শুমারি পরিচালিত হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি একত্রিত ডাটাবেইজ তৈরি হবে। এই তথ্যভান্ডার অনুষ্ঠানিকভাবে নৌযানের নিবন্ধন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা, নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

শুমারির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৪ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত লিস্টিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যে সময় পিরোজপুর জেলাকে ১৮টি জোনে বিভক্ত করা হয়। এখানে ১৩০ জন গণনাকারীর মাধ্যমে ৪২২টি ঘাট এবং ১৫৭টি গণনা এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তালিকায় ঘাটভিত্তিক ৮ হাজার ৪৫৭টি এবং খানাভিত্তিক ১ হাজার ৬৩টি, মোট ৯ হাজার ৫২০টি নৌযানের প্রাথমিক তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।

সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌযানের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রণয়ন করতে, নৌ-দুর্ঘটনার পর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের তথ্যভান্ডার তৈরি, নাবিকদের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে কার্যকর নীতি নির্ধারণ করা যাবে।

অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), মৎস্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে শুমারি কার্যক্রম নির্ভুল, সুষ্ঠু ও সময়মতো সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং নৌযান মালিক, মাঝি-মাল্লাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%