প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশের সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের সঠিক সংখ্যা, ধরন এবং কাঠামোগত বৈশিষ্ট্যের সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সহযোগিতায় নৌযান শুমারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এই বিশেষ অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে পিরোজপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে জেলা পর্যায়ের একটি অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আলাউদ্দিন ভূঞা জনী। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন পিরোজপুর সদর পরিসংখ্যান কর্মকর্তা নাঈম মাহমুদ। এরপর, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে নৌযান শুমারি ২০২৬ এর সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরে জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়ের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদ।
সভায় জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানে আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট পর্যন্ত নৌযান শুমারি পরিচালিত হবে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সমুদ্রগামী, উপকূলীয় ও অভ্যন্তরীণ জলসীমায় চলাচলকারী ইঞ্জিনচালিত নৌযানের একটি একত্রিত ডাটাবেইজ তৈরি হবে। এই তথ্যভান্ডার অনুষ্ঠানিকভাবে নৌযানের নিবন্ধন, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা, নৌপরিবহন খাতের পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শুমারির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত ৪ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত লিস্টিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়, যে সময় পিরোজপুর জেলাকে ১৮টি জোনে বিভক্ত করা হয়। এখানে ১৩০ জন গণনাকারীর মাধ্যমে ৪২২টি ঘাট এবং ১৫৭টি গণনা এলাকায় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এই তালিকায় ঘাটভিত্তিক ৮ হাজার ৪৫৭টি এবং খানাভিত্তিক ১ হাজার ৬৩টি, মোট ৯ হাজার ৫২০টি নৌযানের প্রাথমিক তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।
সভায় আরও উল্লেখ করা হয়, নৌযান শুমারির মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ নৌযানের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান প্রণয়ন করতে, নৌ-দুর্ঘটনার পর প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা করবে। নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের তথ্যভান্ডার তৈরি, নাবিকদের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা এবং নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নে কার্যকর নীতি নির্ধারণ করা যাবে।
অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশ, নৌপুলিশ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), মৎস্য অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাঠপর্যায়ে শুমারি কার্যক্রম নির্ভুল, সুষ্ঠু ও সময়মতো সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং নৌযান মালিক, মাঝি-মাল্লাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন