ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ০৩ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৮ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণের পাঁয়তারা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী


ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমিতে মার্কেট নির্মাণের পাঁয়তারা, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

জেলা পরিষদের প্রশাসক ও সিইওর বিরুদ্ধে জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ, আধুনিক হাসপাতাল করার দাবি সচেতন মহলের

কিশোরগঞ্জের ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের শতকোটি টাকার জমি জোরপূর্বক দখল করে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মোছা. মোস্তারি কাদেরীর বিরুদ্ধে। হাসপাতালের জমিতে মার্কেট নির্মাণের এমন উদ্যোগের খবরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জায়গা রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক হাসপাতালে রূপান্তরের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরব হয়েছেন ভৈরবের সচেতন নাগরিক ও নেটিজেনরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাকিস্তান আমলে ভৈরব বাজার এলাকায় সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে এখানে চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে হাসপাতালের জায়গা নিয়ে বিভিন্ন মহলের তৎপরতা শুরু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিএনপি নেতাকর্মীদের পরিদর্শন এবং হাসপাতালের পেছনের পুরোনো ভবন ভাঙার চেষ্টা করলে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সচল থাকা ভৈরব উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রেটিকে জেলা পরিষদ থেকে পরিত্যক্ত দেখিয়ে তা দখলে নেয়ার জন্য উর্ধতন কর্মকর্তাদের ভুল বুঝনো হয়েছে।

আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় প্রাণ গেল IIUC শিক্ষার্থী মাইশার, মহাসড়ক ও রেললাইন অবরোধ

জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও একটি দল উপজেলা ভূমি অফিসে গিয়ে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জমির বিষয়ে খোঁজখবর নেয়। প্রায় এক সপ্তাহ আগে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ভৈরবে এসে জায়গাটি পরিদর্শনও করেন। সর্বশেষ আজ ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার সকালে তাঁরা স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল এলাকায় যান। এ সময় হাসপাতালের পেছনে থাকা একটি পুরোনো ভবন ভাঙার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাংবাদিকেরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সেখান থেকে চলে যান। পরে সাংবাদিকেরা গিয়ে হাসপাতালের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে দুই ভাগে রাখা বিপুল পরিমাণ নতুন ইট দেখতে পান। ইটের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া পেছনের পুরোনো ভবনটির কিছু অংশ ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বাসিন্দা জানান, মার্কেট নির্মাণের জন্য ইট এনে রাখা হয়েছে। তাছাড়া মার্কেট নির্মাণের আগেই প্রতি দোকান (১সাটার) ৩৫ লাখ টাকায় বিক্রি করা হবে বলে বিভিন্ন মানুষের কাছে শুনেছেন তিনি।

ভৈরব উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা জারকা বেগম বলেন, সকালে এসে তিনি হাসপাতালের ভেতরে শ্রমিকদের ইট আনতে দেখেন। পরে জেলা পরিষদের প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও কয়েকজন নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় পেছনের পুরোনো ভবনটি ভাঙার চেষ্টা করা হয়। তিনি বলেন, প্রতিদিন গড়ে শতাধিক সাধারণ রোগী ও গর্ভবতী নারী এ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাসেবা নেন। হাসপাতালটি আরও উন্নত করে আধুনিক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

আরও পড়ুন: শিবগঞ্জে বালুর ভেতর লুঙ্গিতে মোড়ানো নবজাতক উদ্ধার, আশ্রয়ে রেখেছেন গোলাপ হোসেন

জমির মালিকানা নিয়ে উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভৈরব উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে থাকা বিএস খতিয়ান নম্বর-৪, দাগ নম্বর-৯০১৭ প্রায় ৪৬ শতাংশ জায়গা স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ড রয়েছে এবং স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করছে। তবে সিএস খতিয়ানে জমিটি জেলা পরিষদের নামে রেকর্ড রয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম আজিমুল হক বলেন, প্রায় তিন মাস আগে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (উপসচিব) জমিটির বিষয়ে জানতে এসেছিলেন। তখন দেখা যায়, বিএস খতিয়ানে জমিটি স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রয়েছে এবং তারা নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করছে। তবে সিএস খতিয়ানে জমিটি জেলা পরিষদের নামে রেকর্ড রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকে যতটুকু জেনেছেন, ২০১৯ সালে আন্তমন্ত্রণালয়ের এক সভার কার্যবিবরণীতে পরিত্যক্ত উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সে অনুযায়ী সচল হাসপাতালটি রেখে বাকি জায়গা জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় ছিল। তবে সেখানে মার্কেট নির্মাণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি।

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, এ বিষয়ে তিনি কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি স্বাধীনতার পূর্ব থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রতিদিন শতাধিক রোগী এখান থেকে বহির্বিভাগের চিকিৎসাসেবা পান।

আরও পড়ুন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ককটেল ও রামদাসহ গ্রেপ্তার ২

তিনি জানান, বর্তমানে এখানে একজন মেডিকেল অফিসার, একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার, একজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক কর্মরত রয়েছেন। ভৈরবের প্রাণকেন্দ্র বাজার এলাকায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র এটি। এ ছাড়া ভৈরব পৌরসভা এখানে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, হাসপাতালের অব্যবহৃত পুরোনো ভবন ভেঙে নতুন স্থাপনা নির্মাণের উদ্দেশ্যে কিছু ইট রাখা হয়েছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসুরক্ষার কথা বিবেচনা করে উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে আধুনিক চিকিৎসাসেবার উপযোগী করে গড়ে তোলা জরুরি। তিনি আরও জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এখানে ২০ শয্যার একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল স্থাপনের জন্য চেষ্টা করছেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে.এম. মামুনুর রশীদ বলেন, জেলা পরিষদের কর্মকর্তারা সেখানে এসেছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। ২০১৯ সালের আন্তমন্ত্রণালয়ের সভায় পরিত্যক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো জেলা পরিষদের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল। তবে ভৈরব বাজার উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সচল রয়েছে। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তাঁকে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখানো হয়নি।

কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বিষয়টি তাঁকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় যুবক নিহত

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. মোস্তারি কাদেরী জানান, এই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি সচল আছে। কিন্তু বাকী জায়গাটি আমরা নিজেরা মার্কেট করবো। এখনো কাউকে লিজ দেয়া হয়নি। কাজের জন্য ইট আনা হয়েছে। জায়গাটি স্বাস্থ্য বিভাগের নামে রেকর্ড আছে। তবে জায়গাটি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগটি সত্য না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক ভিপি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেলকেও একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জমির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসা একটি সচল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম ব্যাহত করা যাবে না। বরং হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিক চিকিৎসাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হোক। তাছাড়া এই উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিকে পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি ডায়াবেটিস হাসপাতাল করার জন্য চেষ্টা করছেন, যদি এখানে মার্কেট করা হয় তাহলে প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলমসহ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হবে।

আরও পড়ুন: কলারোয়ায় গুদামে আগুনে ১৩০০ মণ পাট পুড়ে, ক্ষতি ৬৫ লাখ টাকা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহী নগরীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী সহ গ্রেপ্তার ১৮

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৩ পি.এম


রাজশাহী নগরীতে পুলিশের অভিযানে মাদক কারবারী সহ গ্রেপ্তার ১৮
রাজশাহী নগরীতে মাদকবিরোধী পৃথক অভিযানে হেরোইন, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও গাঁজাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক বিক্রির নগদ টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং রাজপাড়া ও কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ এসব অভিযান চালায়।
মঙ্গলবার বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিম কমিশনার (সদর), মোঃ গাজিউর রহমান।
তিনি জানান, সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে ডিবি পুলিশ রাজপাড়া থানার কোর্ট বুলনপুর এলাকায় থেকে ৯০টি ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির ৪ হাজার ২৪০ টাকা সহ জাকির হোসেন (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। জাকিরের বিরুদ্ধে আগেও একটি মাদক মামলা রয়েছে।
একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজপাড়া থানা পুলিশ দাশপুকুর বাইপাস এলাকা থেকে  ১৯৫ গ্রাম গাঁজা সহ রুম্মান আলী (৩৬) ও খন্দকার শাকিল হোসেন পলাশকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে। রুম্মানের বিরুদ্ধে একটি এবং পলাশের বিরুদ্ধে সাতটি মাদক মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা মোড় এলাকা থেকে ৩০০ গ্রাম হেরোইন ও তিনটি মোবাইল ফোন সহ রবিউল ইসলাম মিনালকে (৩২) গ্রেপ্তার করে কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ।
এদিকে, একই দিনে মহানগর পুলিশের পৃথক অভিযানে ওয়ারেন্টভুক্ত সাতজন, মাদক মামলায় চারজন এবং অন্যান্য মামলায় ১৪ জনসহ মোট ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।#

--

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

'নেশা নয়, পান খেয়েছি’, গভীর রাতে বাকৃবিতে যুবক-তরুণী আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রদায়ক

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৪ পি.এম


 
গভীর রাতে বাকৃবিতে যুবক-তরুণী আটক, মুচলেকায় মুক্তি /
 
‘পান খেয়ে মাথা ঘুরছে’, গভীর রাতে বাকৃবিতে যুবক-তরুণী আটক
 
 
পান খাওয়ার কারণে মাথা ঘুরছিল বলে দাবি করলেও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ক্যাম্পাসে গভীর রাতে একটি অটোরিকশায় অবস্থানরত এক যুবকের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখে তাকে নেশাগ্রস্ত বলে সন্দেহ করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী। এ সময় ওই যুবক ও তার সঙ্গে থাকা তরুণীর পরিচয় নিয়েও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরে তাদের আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় হস্তান্তর করা হয়। সেখানে পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের পর লিখিত মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
 
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমবাগানসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য আতিকুল ইসলাম জানান, ‘গভীর রাতে আমবাগান এলাকায় একটি অটোরিকশায় এক যুবক ও তরুণীকে অবস্থান করতে দেখি আমরা। তাদের পরিচয় ও সেখানে অবস্থানের কারণ জানতে চাইলে যুবকের কথাবার্তায় অসংলগ্নতা এবং আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা যায়। এতে তিনি নেশাগ্রস্ত কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। তবে ওই যুবক জানান, পান খাওয়ার কারণে তার মাথা ঘুরছিল।’
 
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সদস্য মেহেদী বলেন, ‘যুবকের সঙ্গে থাকা তরুণীর পরিচয় ও তাদের দেওয়া কিছু তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। একপর্যায়ে তরুণীকে একজনের মেয়ে হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট আরেক ব্যক্তি তাকে অটোরিকশায় দেখেননি বলে দাবি করেন। এতে তাদের প্রকৃত পরিচয় ও গভীর রাতে ক্যাম্পাসে অবস্থানের কারণ নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়ে।’
 
ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আরো বলেন, গভীর রাতে ক্যাম্পাসের নির্জন এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তিদের অবস্থান এবং তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখাকে জানানো হয়। পরে ওই যুবক ও তরুণীকে নিরাপত্তা শাখায় নেওয়া হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা তাদের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করেন।
 
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বদিউজ্জামান খান বলেন, ‘গভীর রাতে এক যুবক ও এক নারী অটোরিকশায় করে ক্যাম্পাসে এসেছিলেন। তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। পরে তাদের পরিচয়পত্র যাচাই ও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়। প্রাথমিকভাবে তারা বিবাহিত বলে ধারণা পাওয়া গেলেও বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘তাদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্য ও মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিনষ্ট করার জন্য আওয়ামী লীগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ নাজির খান নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি,

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


দেশের স্থিতিশীল পরিস্থিতি বিনষ্ট করার জন্য আওয়ামী লীগ

তিন নভেম্বর ২০২৬,

আওয়ামী লীগের
অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নিষিদ্ধকর্মীরা অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পুরনো অপশক্তির নৈরাজ্য ঠেকাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান,
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব, আবু আল ইউসুফ খান টিপু,নারায়ণগঞ্জ মহানগর সেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শাখাওয়াত রানা রাজপথে তৎপর রয়েছে। দেশের সম্পদ ও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নৈতিক ও পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করছেন মাঠে সরব নেতাকর্মীরা। এছাড়াও, বিভিন্ন মহলের বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগের অপকর্ম ঠেকাও কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে মেঘনা নদীতে ডাকাতের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে নৌযাত্রী ও ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ৩ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


ভৈরবে মেঘনা নদীতে ডাকাতের দৌরাত্ম্য, আতঙ্কে নৌযাত্রী ও ব্যবসায়ীরা

কিশোরগঞ্জের ভৈরব ও নরসিংদীর রায়পুরা মেঘনা নদীর নৌপথে বেড়েছে ডাকাতের দৌরাত্ম্য। ১৫ দিনের ৩-৪ বার মেঘনার এই নদী পথে হয়েছে ডাকাতি আতঙ্কে চলাচল করতে হচ্ছে কয়েকটি অঞ্চলের মানুষের। তবে ডাকাতির বিষয়ে কিছুই জানেন না নৌপুলিশ। 


কিশোরগঞ্জ জেলার অন্যতম ভৈরব বাজার একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র। নদীপথে মালামাল বহনে খরচ কম এবং চরাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধা থাকায় নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কয়েকটি অঞ্চলের প্রতিদিনই কয়েক হাজার মানুষ নদীপথে কেনাকাটা ও ব্যবসায়িক কাজে ভৈরব বাজারে যাতায়াত করেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে গৌরীপুর গ্রামের মাঝি মনা মিয়া নৌকায় ৭-৮ জনের এক দল ডাকাত দল অস্ত্রসহ নৌকা আটকিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ টাকা, নারী যাত্রীদের স্বর্ণাংলকার ও মূল্যবান জিনিসপত্রসহ ১৮টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় যাত্রীদের মারধোর করে আহত করে পালিয়ে যায় ডাকাতদল। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে ভৈরব শহরের পঞ্চবটি এলাকার একটি পরিবারের সদস্যরা মিলে নদীপথে নৌকাযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার লালপুর এলাকার একটি মাজার জিয়ারত শেষে ভৈরবে ফেরার পথে ডাকাতের কবলে পড়েন। এসময় তাদের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১২টি মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। 

কিছুদিন যাবত মেঘনা নদীতে ডাকাতের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পাওয়ায় যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সেই সাথে বিকাল বা সন্ধ্যার পর নদীতে নৌকার পরিমাণও কমে যাচ্ছে। এতে যাত্রীদের পারাপারেও দেখা দিয়েছে চরম দূর্ভোগ।


ঘাটের ভুক্তভোগী মাঝি মনা মিয়া বলেন, আমি ভৈরব বাজার ঘাটে ৫০ বছর যাবত নদীপথে নৌকায় যাত্রী পারাপার করছি। ইদানিং সন্ধ্যা হলেই মেঘনা নদীর বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। কিন্তু গত কয়েকদিনে ব্যবধানে ৩/ ৪ বার আমরা ভৈরব বাজারের কাছাকাছি স্থানে ডাকাতির কবলে পড়তে হয়েছে । ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে আমাদের জিম্মি করে যাত্রী এবং আমাদের কাছ থেকে সব কিছু নিয়ে যাচ্ছে প্রায়ই ছেলে মেয়ে নিয়ে বিপদে পরতে হচ্ছে। কেউ পানিতে লাফিয়ে জীবন বাচানোর চেষ্টা করছে আবার কেও অনেক মারধরের ও শিকার হচ্ছেন।


ভৈরব বাজার ঘাটের মাঝি কাসেম মিয়া বলেন,  ভৈরব বাজারে কেনাকাটার পাশাপাশি আশেপাশের অঞ্চলের অনেক মানুষ ব্যবসার কাজেও এসে থাকেন। যার ফলে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর সন্ধ্যার পর বাজার থেকে বাড়ি ফিরতে হয়। নদীতে দিনে মাঝে মধ্যে পুলিশের দেখা পেলেও সন্ধ্যার পর পুলিশের সহযোগিতা পাওয়া যায় না। যার ফলে নদীতে ডাকাতের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ইদানীং মেঘনায় ডাকাতের দৌরাত্ম্য অনেক বেড়েছে আমরা প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হচ্ছি। ১৫ দিনের মধ্যে ৩-৪বার এই পথে ডাকাতের আক্রমণ হয়েছে এতে অনেকে অনেক কিছু হাড়িয়েছে। আবার মহিলাদেরকেও অনেক বিপাকে পরতে হয়। ডাকাত আতঙ্কে নৌ পথে চলাচল অনেকটাই কঠিন হয়ে পরেছে। 


রায়পুরা উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের বাসিন্দা রাহিম মিয়া বলেন, আমি ভৈরব বাজারে ব্যবসা করি। সারাদিন ব্যবসার কাজ শেষে নৌকা দিয়ে নিজের বাড়িতে যেতে হয়। কাজ শেষে বাজার থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বাড়ি ফেরার পথে বার বার ডাকাতের আক্রমণের শিকার হচ্ছি। 

কিন্তু ইদানিং নৌপথে ডাকাতির ঘটনা বাড়ছে এতে আমরা খুবই আতংকিত থাকি। কখন ডাকাতের দল আমাদের উপর হামলা চালাই। গত ১৫ দিনে ৩টির বেশি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। আমাদের দাবি দিনে এবং রাতে নির্দিষ্ট সময় অবধি পুলিশ নদীতে টহলে থাকলে হয়তোবা আমরা নদীপথে ডাকাতের আক্রমণ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা পাবো।


বিষয়ে ভৈরব নৌ পুলিশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম মনিরুজ্জামান বলছে ভিন্ন কথা। তিনি বলেন, আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম নদীতে ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।এর আগে নদীতে ডাকাতির বিষয়ে উনি জানেন না। ডাকাতির ঘটনা কোথায় কবে ঘটেছে এই বিষয়ে উনি কিছুই জানেন না উনাকে কেও অবগত করেননি। তিনি আরো বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে নদীতে চলাচল নিষেধ। তাই কেউ যদি জরুরি কাজে রাতে নদীপথে চলাচল করতে চাই তাহলে তারা যদি আমাদের অবগত করে তাহলে তাদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২২শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৮
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩১
সূর্যোদয় : ০৬:০৫ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%