০১:৫১ এম
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় যোবায়ের হোসেন পারভেজ (৩২) নামের এক যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে দুজনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার (২৭ জুন) রাত ৮টার দিকে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এদিন সকালে উপজেলার নিজকুঞ্জরা গ্রামের নুর আহাম্মদ মাস্টার বাড়ির এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত একই এলাকার ছাদেক মিয়ার দুই ছেলে শাহাদাত এবং মামুনকে পুলিশ আটক করেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছে, তারা দুজনেই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী। আটক করা হয়েছে প্রধান অভিযুক্ত শাহাদাত এবং তার সহযোগী মাইকেলকে। নিহত যোবায়ের হোসেন পারভেজ ওই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে।
আরও পড়ুন: মুসলিম পরিচয়ে প্রেম-বিয়ের আসরে জানা গেল হিন্দু, অতঃপর নাজমা খাতুনের আত্মহত্যা
পুলিশের সূত্রে জানা যায়, নিহত যোবায়ের হোসেন পারভেজের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ২৫টি মামলা রয়েছে। একাধিক মামলায় তার বিরুদ্ধে পরোয়ানাও ছিল। সর্বশেষ এক মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে প্রায় দুই বছর কারাভোগ শেষে মুক্তি পান পারভেজ।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত মামুনের বিরুদ্ধেও মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগে থানায় অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। চব্বিশের অভ্যুত্থানের পরে একাধিক মামলায় গ্রেফতার হয়ে পারভেজ এবং মামুন দীর্ঘদিন ফেনী কারাগারে ছিলেন। ওই সময়ে নানা ধরনের ব্যয় পারভেজ বহন করলেও মামুনের কোনো টাকা ছিল না। দুজন কারাগার থেকে মুক্তির পর স্থানীয় একটি দোকান নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়।
নিহতের ছোট ভাই সাব্বির হাসান শীতল বলেন, শুক্রবার পারভেজ তার দোকানে কাজের জন্য শাহাদাত ও মামুনের এক ছোট ভাইকে প্রস্তাব দেন এবং তাকে একটি মোবাইল ফোন দেন। এ ঘটনার জেরে মামুন তার ছোট ভাইকে মারধর করেন। পরে রাত ১২টার দিকে মোবাইলের বিষয়টি নিয়ে পারভেজের সঙ্গে মামুনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পারভেজের হাতে থাকা চার্জলাইটের আঘাতে মামুন আহত হন।
নিহতের বাবা আবু তাহের জানান, শুক্রবার রাত ২টার পর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাড়ির পাশের পুকুর সংলগ্ন এলাকায় ওঁৎ পেতে থাকা মামুন ও শাহাদাত ধারালো অস্ত্র দিয়ে পারভেজকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম হবে সব ধর্মের মানুষের নিরাপদ ও সম্প্রীতির নগরী: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন
ছাগলনাইয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু তাহের বলেন, 'সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনকে আটক করা হয়েছে। তারা পারভেজের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, পাশাপাশি মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।'
তিনি আরও জানান, আটক মাইকেল পারভেজের মাছের খামারে কাজ করে। এ ছাড়া শাহাদাতকে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আটক করেছে। পারভেজকে কুপিয়ে হত্যার সময় সেও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাকে ছাগলনাইয়ায় নিয়ে আসার জন্য ইতোমধ্যে পুলিশের একটি দল চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন