ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের ওপর নতুন চার্জ আরোপ করতে যাচ্ছে ভারত


বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের ওপর নতুন চার্জ আরোপ করতে যাচ্ছে ভারত

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আধিকারিক পদক্ষেপ হিসেবে ''সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি (এসএনএ) চার্জ'' নামে নতুন একটি চার্জ আরোপ হতে যাচ্ছে। এই নতুন চার্জ আরোপ হলে, আমদানি করা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি হারে অতিরিক্ত ব্যয় হবে বাংলাদেশের।

এসএনএ চার্জ বিদ্যুতের মূল দামের (ট্যারিফ) থেকে পৃথকভাবে যুক্ত হবে। এই চার্জ গ্রিড পরিচালনা, শিডিউলিং, মিটারিং, বিদ্যুতের হিসাব-নিকাশ এবং আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেনের ব্যয় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয়। ইতিমধ্যে ভারতের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন) ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে এসএনএ চুক্তি সয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ১৮ আগস্ট বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে এই চুক্তি করার বিষয়ে মতামত চেয়ে অর্থ বিভাগে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ভারতInitially প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ১ ভারতীয় পয়সা হারে এই চার্জ দাবি করেছিলো। তবে পরে বিপিডিবি দরকষাকষির মাধ্যমে চার্জের হার প্রতি ইউনিটে ০.০০৫ রুপি বা আধা পয়সায় নির্ধারণ করেছে। ওই কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের বিদ্যুৎ বিষয়ক আইন অনুযায়ী এই চুক্তি স্বাক্ষর করা জরুরি। চুক্তি স্বাক্ষরে কোনো ধরনের বিলম্ব হলে ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি ব্যহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে

বিদ্যুৎ কর্মকর্তাদের মতে, এসএনএ চুক্তির আওতায় প্রতিটি ইউনিটের জন্য ০.০০৫ ভারতীয় রুপি এসএনএ চার্জ প্রস্তাব করা হয়েছে। বিপিডিবির লিখিত অনুরোধের ভিত্তিতে ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের (সিইআরসি) কাছে এই চার্জ নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত চার্জ আপনাদের কাছে ভুটান ও নেপালের সঙ্গে ভারতের বিদ্যুৎ বাণিজ্যে বর্তমানে প্রযোজ্য চার্জের হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির আওতায় ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পুরো সক্ষমতায় নিরবচ্ছিন্নভাবে আমদানি করা হলে, এক ঘণ্টায় আমদানি হবে ১১ লাখ ৬০ হাজার ইউনিট বিদ্যুৎ। আর প্রতি ইউনিটের ০.০০৫ রুপি হিসাবে, প্রতি ঘণ্টায় ভারতকে এসএনএ চার্জ দিতে হবে ৫ হাজার ৮০০ রুপি। এসএনএ চার্জ মূলত বিদ্যুতের দাম নয়; এটি আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যের গ্রিড-অপারেশন ও আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ। বিদ্যুৎ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জের নিষ্পত্তি সহজ করতে এই এসএনএ ব্যবস্থা চালু করেছেবি ভারতের সিইআরসি।

সিইআরসি’এর বিধিমালা অনুযায়ী, এসএনএ প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ লেনদেনের সময়সূচি সমন্বয়, গ্রিড-সংক্রান্ত চার্জ, নির্ধারিত সরবরাহের তুলনায় কম বেড়েশ্বাস বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ডেভিয়েশন চার্জ, রিঅ্যাক্টিভ এনার্জি চার্জ এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক নিষ্পত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভারতের আঞ্চলিক গ্রিডে বাংলাদেশকে একটি আলাদা কন্ট্রোল এরিয়া হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ আমদানির জন্য মিটারিং, এনার্জি অ্যাকাউন্টিং ও সেটেলমেন্টের নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ক্রয়ের মূল মূল্য বা ট্যারিফের বাইরে গ্রিড ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এ ধরনের চার্জকে এসএনএ চার্জ হিসেবে গণ্য করা হয়।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে। বর্তমানে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে মোট ২ হাজার ৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে এনটিপিসির কেন্দ্র থেকে ২৫০ মেগাওয়াট, দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন থেকে ৩০০ মেগাওয়াট, ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন থেকে ১৬০ মেগাওয়াট, পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়ার কেন্দ্র থেকে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প এনার্জি ইন্ডিয়া থেকে আরও ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসে। এই পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য এই এসএনএ চার্জ বিষয়ক চুক্তি হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রূপপুরের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ সেন্ট হতে পারে

এর বাইরে আদানি পাওয়ারের ঝাড়খণ্ডের গড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তি রয়েছে বিপিডিবির। বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে এই চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে আলাদা করে চুক্তি করার প্রয়োজন নেই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আগামীকাল (২৪ আগস্ট) রাজধানী ঢাকা শহরের বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ দিন ব্যাপী আয়োজিত উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগীতা বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬।

এই আসরের মধ্যে স্বাগতিক বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ১১টি দেশের ২৪ জন পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করতে চলেছেন।

অংশগ্রহণকারী দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, হংকং, সিঙ্গাপুর, ইরান, কুয়েত, বাহরাইন, মিসর, জাপান ও জার্মানি।

আন্তর্জাতিক র‌্যাংকিংধারী এবং পেশাদার খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে এবারের টুর্নামেন্টটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড, মালয়েশিয়া সহ মোট ১৬-১৭টি দেশের ৮৪ জন স্কোয়াশ খেলোয়াড় রেজিস্ট্রেশন করলেও পেশাদার স্কোয়াশ অ্যাসোসিয়েশনের বাধ্য-বাধকতা এবং প্রতিযোগিতার ড্র সাইজের কারণে প্রথম সারির ২১ জন বিদেশি খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক স্কোয়াশে প্রবেশ এবং যাত্রা শুরু করা শুধুমাত্র একটি অর্জনই নয়, বরং দেশের খেলাধুলার ইতিহাসের জন্য গর্ব করার নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বর্তমানে দেশে বিশ্ব র‌্যাংকিংধারী ১১ জন পেশাদার স্কোয়াশ খেলোয়াড় বিদ্যমান।

এই প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের তরুণ প্রতিভারা, যেমন আমিনুল (৬৯৬তম), সাইমন (৭৭৫তম) ও পারভেজ (৮৭৫তম), খেলবেন মিসরের মোহাম্মদ গহর (৯১তম), জাপানের নওকি হারিস (১১৭তম), রবীন্দ্র লক্ষীশ্র (১৪৮তম), আয়ন ভিজালি (১৭৩তম), সিঙ্গাপুরের জেরোম আও (১৮৫তম), বাহরাইনের ইউসুফ থানি (২২৪তম), হংকংয়ের ইউলসন চেন (৩৩৭তম), জার্মানির ইউহোকম বিলিকভ (৩৪১তম), কুয়েতের বদর আলমঘারাবি (৩৫৬তম) ও ইরানের সিপার এতিমাডপোরের মতো খেলোয়াড়দের সঙ্গে।

শেষ ছয় বছরে নানা প্রতিকূলতা, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে ধারাবাহিক এবং পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্কোয়াশ খেলায় একটি নতুন জাগরণ তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি সম্ভাবনাময় এবং আদর্শ ‘স্কোয়াশ ডেস্টিনেশন’ হিসেবে গড়ে তুলতে এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, স্কোয়াশকে নির্দিষ্ট গণ্ডি থেকে বের করে তৃণমূল এবং সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে ‘ক্লাসরুম স্কোয়াশ’ এবং ‘স্কোয়াশ ও শিক্ষা বৃত্তি’-এর মতো বৈপ্লবিক ও জনবান্ধব প্রকল্প চালু করা হয়েছে।

ফলে একসময় কেবল অভিজাতদের খেলা হিসাবে গণ্য স্কোয়াশ বর্তমানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠে জায়গা করে নিয়েছে। সীমিত সম্পদের দেশগুলোর জন্য বাংলাদেশের এই সাফল্য ও তৃণমূল উন্নয়ন কার্যক্রম একটি অনুসরণযোগ্য বৈশ্বিক মডেল হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নির্ধারিত দিনেই হচ্ছে বিয়ানীবাজারের সেই নৌকাবাইচ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৮ পি.এম


নির্ধারিত দিনেই হচ্ছে বিয়ানীবাজারের সেই নৌকাবাইচ

সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে আগামী ২৮ আগস্ট পূর্বনির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।

শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে স্থানীয় বারইগ্রাম বাজারে পূবালী ব্যাংক পিএলসির নিচতলায় দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হওয়ার পর সকলেই নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে একমত হতে সক্ষম হন।

বৈঠকে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার যুবক, প্রবীণ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভায় নদীভাঙনপ্রবণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিবাদকারীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত স্থান কিছুটা সরিয়ে নেওয়া যায় কি না, তা সরেজমিনে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ উদ্দেশ্যে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে কমিটির সদস্যরা নৌকাবাইচের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেন।

লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নৌকা বাইচের সঙ্গে তৌহিদী জনতার বিষয়টি কেউ জড়িয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সুন্দর পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে নৌকা বাইচ আয়োজনে একমত হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনকবলিত এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর রয়েছে এমন স্থান থেকে নৌকাবাইচ কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ এসেছে। নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনের পর সুযোগ থাকলে নৌকাবাইচের জায়গা কিছুটা সরিয়ে নেওয়া হবে।

চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি ছাড়াও লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান, বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিনসহ ১২ সদস্যের কমিটি স্থানটি পরিদর্শন করবে।

বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দুই পক্ষকে নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উভয় পক্ষ নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছেন।

একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী বসতি, জমিজমা এবং ভাঙনকবলিত এলাকার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ইউএনও আরো জানান, বিষয়টি দেখভালের জন্য ১২ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নৌকাবাইচের আয়োজকদের সতর্কতার সঙ্গে অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এরপর এ নিয়ে আর কোনও জটিলতা হবে না।

এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’ নামে ফেসবুকে প্রচারণা চালায় একটি পক্ষ। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে শনিবার দিবাগত রাতে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময় ও স্থানে নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ পরিস্থিতিতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে অগ্রাহ্য করে বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য, এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনের সময় তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বক্তৃতা শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ, ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানের সকল শহীদ এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যাঁরা নিহত হয়েছেন, প্রত্যেকের অবদানের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও স্মরণ করেন। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদ এবং সকল বীর সেনাদের প্রতি তাঁর এই স্মৃতিচারণ।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসস্থ আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় তিনি নব উন্মোচিত এডিএসআই-এর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।

এছাড়া, তিনি বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি এসিওসি’র ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান কর্তৃক শত্রুবিমানসমূহকে বাধা প্রদান এবং চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন)-এর লাইফ ফিড দিয়ে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণ দেখেন।

এরপর, প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং এর বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন।

এসময়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ভিটোল) প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও দেখেন।

নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা প্রস্তুতকরণ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে, সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হয়ে কাজের অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হয়ে কাজের অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : ইরানে জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ রোববার এই তথ্য ঘোষণা করেছে।

বিচার বিভাগ জানায়, মাজিদ আদিনেহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে ‘শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠীর পক্ষে কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। গত বছরের শেষের দিকে শুরু হওয়া এসব বিক্ষোভের পেছনে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট ছিল।

তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানায়।

বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট রোববার এক প্রতিবেদনে জানায়, আদিনেহর বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগ, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমাবেশ ও ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

এতে জানানো হয়েছে, ‘মামলার অসংখ্য নথি ও প্রমাণ এবং আসামির বক্তব্যের ভিত্তিতে কারাজ বিপ্লবী আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন।’

মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট জানায় আদিনেহর করা আপিল খারিজ হয়ে গেছে। পরে সুপ্রিম কোর্টও নিম্ন আদালতের রায়কে বহাল রাখে। রোববার সকালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানানো হয়।

এটি আরও জানায়, ৯ জানুয়ারি তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশে আদিনেহ ও আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের কাছে ‘একটি রিভলভার, গুলি, দুটি বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র, দুটি কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার, একটি রিচার্জেবল করাত এবং এক বোতল পেট্রল’ ছিল বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে ডিসেম্বরের শেষের দিকে এই বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়। পরে এটি দ্রুত ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই অস্থিরতায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তারা এ সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এসব মৃত্যুদণ্ডের একটি বড় অংশের সঙ্গে বিক্ষোভের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কিছু মামলা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

নরওয়েভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস এবং প্যারিসভিত্তিক টুগেদার এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি (ইসিপিএম) জানিয়েছে, গত বছর ইরানে অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, চীনের পর ইরানেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%