০৮:১৮ পি.এম
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সোনাই নদীতে আগামী ২৮ আগস্ট পূর্বনির্ধারিত সময়েই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে দুই পক্ষের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাতে স্থানীয় বারইগ্রাম বাজারে পূবালী ব্যাংক পিএলসির নিচতলায় দুই পক্ষকে নিয়ে বৈঠক হওয়ার পর সকলেই নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে একমত হতে সক্ষম হন।
বৈঠকে লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার যুবক, প্রবীণ, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সভায় নদীভাঙনপ্রবণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নৌকাবাইচ আয়োজন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেন প্রতিবাদকারীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত স্থান কিছুটা সরিয়ে নেওয়া যায় কি না, তা সরেজমিনে পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আরও পড়ুন: কেরানীগঞ্জে প্লাস্টিক দূষণ রোধে আলোচনা ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
এ উদ্দেশ্যে ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে কমিটির সদস্যরা নৌকাবাইচের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করার পরিকল্পনা করেন।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘নৌকা বাইচের সঙ্গে তৌহিদী জনতার বিষয়টি কেউ জড়িয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছে। আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে সুন্দর পরিবেশে আলোচনার মাধ্যমে নৌকা বাইচ আয়োজনে একমত হয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনকবলিত এলাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাড়িঘর রয়েছে এমন স্থান থেকে নৌকাবাইচ কিছুটা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ এসেছে। নির্ধারিত স্থান পরিদর্শনের পর সুযোগ থাকলে নৌকাবাইচের জায়গা কিছুটা সরিয়ে নেওয়া হবে।
চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি ছাড়াও লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিন, মোল্লাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান, বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য জালাল উদ্দিনসহ ১২ সদস্যের কমিটি স্থানটি পরিদর্শন করবে।
আরও পড়ুন: কাউখালীতে নানা আয়োজনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে দুই পক্ষকে নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উভয় পক্ষ নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছেন।
একই সঙ্গে নদীর তীরবর্তী বসতি, জমিজমা এবং ভাঙনকবলিত এলাকার যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
ইউএনও আরো জানান, বিষয়টি দেখভালের জন্য ১২ জনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নৌকাবাইচের আয়োজকদের সতর্কতার সঙ্গে অনুষ্ঠান আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, এরপর এ নিয়ে আর কোনও জটিলতা হবে না।
এর আগে গত ১৮ আগস্ট বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবিতে ‘তৌহিদী জনতা’ নামে ফেসবুকে প্রচারণা চালায় একটি পক্ষ। বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নেয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে শনিবার দিবাগত রাতে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করার পাশাপাশি নির্ধারিত সময় ও স্থানে নৌকাবাইচ আয়োজনের বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হন।
আরও পড়ুন: জাতীয় নিরাপত্তা সড়ক দিবস ২০২৬ পালিত হল জেলা প্রশাসন কার্যালয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন