ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


সততা ও মেধার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ পরিস্থিতিতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজনৈতিক মতাদর্শ ও ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে অগ্রাহ্য করে বাহিনীর কর্মকর্তাদের পদোন্নতির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি অফিসারদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের গুণাবলি, শৃঙ্খলার মান, সততা, বিশ্বস্ততা ও আনুগত্য, এবং সর্বোপরি নিযুক্তিগত উপযুক্ততার প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচনী পর্ষদের সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

রবিবার ঢাকা সেনানিবাসে বিমান বাহিনীর সদর দপ্তরে নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী নির্বাচনী পর্ষদ-২০২৬ এর উদ্বোধনের সময় তিনি এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়ে দেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা প্রদান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।

আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

দেশের প্রয়োজনে বাংলাদেশ নৌ ও বিমান বাহিনীর ত্যাগের জন্য তিনি নৌ ও বিমান বাহিনী প্রধান থেকে শুরু করে বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। বক্তৃতা শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ, ২০২৪ সালে দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় বীর ছাত্র-জনতার গণঅভুত্থানের সকল শহীদ এবং ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যাঁরা নিহত হয়েছেন, প্রত্যেকের অবদানের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞচিত্তে শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদেরও স্মরণ করেন। বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনী তথা নৌ ও বিমান বাহিনীর শহীদ এবং সকল বীর সেনাদের প্রতি তাঁর এই স্মৃতিচারণ।

পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তিনি প্রথমে ঢাকা সেনানিবাসস্থ আকাশ প্রতিরক্ষা পরিচালন কেন্দ্রে স্থাপিত এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন (এডিএসআই)-এর উদ্বোধনী স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। এ সময় তিনি নব উন্মোচিত এডিএসআই-এর বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম সরেজমিনে ঘুরে দেখেন।

আরও পড়ুন: ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে প্রধানমন্ত্রীর আশা

এছাড়া, তিনি বিমান বাহিনীর এয়ার কমান্ড অপারেশন সেন্টার (এসিওসি) পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় তিনি এসিওসি’র ডিজিটাল লার্জ ডিসপ্লের মাধ্যমে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান কর্তৃক শত্রুবিমানসমূহকে বাধা প্রদান এবং চট্টগ্রাম থেকে আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন)-এর লাইফ ফিড দিয়ে হেলিকপ্টার থেকে সেনা অবতরণ দেখেন।

এরপর, প্রধানমন্ত্রী বিমান বাহিনীর এ্যারোস্পেস রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট কমপ্লেক্স এবং এর বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রম সরেজমিনে প্রত্যক্ষ করেন।

এসময়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় প্রস্তুতকৃত বিভিন্ন ধরনের আনম্যান্ড এরিয়েল ভেহিকেল (ড্রোন, কামিকাজি ড্রোন, ইন্টারসেপ্টর ড্রোন এবং ভিটোল) প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী কোয়াডকপ্টারের উড্ডয়নও দেখেন।

নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় এ ধরনের আধুনিক উড্ডয়ন ব্যবস্থা প্রস্তুতকরণ বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত আত্মনির্ভরতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

আরও পড়ুন: এস এম জিলানী: গুপ্ত ও ফ্যাসিস্টরা নতুন চক্রান্ত শুরু করেছে

এর আগে, সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনুষ্ঠানস্থলে এসে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান তাঁর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান।

গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল স্থাপনা পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনী প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, প্রতিরক্ষা সচিবসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হয়ে কাজের অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হয়ে কাজের অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : ইরানে জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে কাজ করার অভিযোগে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ রোববার এই তথ্য ঘোষণা করেছে।

বিচার বিভাগ জানায়, মাজিদ আদিনেহ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে ‘শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠীর পক্ষে কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হন। গত বছরের শেষের দিকে শুরু হওয়া এসব বিক্ষোভের পেছনে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট ছিল।

তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানায়।

বিচার বিভাগের মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট রোববার এক প্রতিবেদনে জানায়, আদিনেহর বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে অগ্নিসংযোগ, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের উদ্দেশ্যে সমাবেশ ও ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ আনা হয়েছে।

এতে জানানো হয়েছে, ‘মামলার অসংখ্য নথি ও প্রমাণ এবং আসামির বক্তব্যের ভিত্তিতে কারাজ বিপ্লবী আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেন।’

মিজান অনলাইন ওয়েবসাইট জানায় আদিনেহর করা আপিল খারিজ হয়ে গেছে। পরে সুপ্রিম কোর্টও নিম্ন আদালতের রায়কে বহাল রাখে। রোববার সকালে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় বলে জানানো হয়।

এটি আরও জানায়, ৯ জানুয়ারি তেহরানের পশ্চিমে আলবোর্জ প্রদেশে আদিনেহ ও আরেক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের কাছে ‘একটি রিভলভার, গুলি, দুটি বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র, দুটি কাঁদানে গ্যাসের ক্যানিস্টার, একটি রিচার্জেবল করাত এবং এক বোতল পেট্রল’ ছিল বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ থেকে ডিসেম্বরের শেষের দিকে এই বিক্ষোভ আন্দোলন শুরু হয়। পরে এটি দ্রুত ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি বিক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

ইরানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই অস্থিরতায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। তারা এ সহিংসতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে’ দায়ী করেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা বেড়ে গেছে। এসব মৃত্যুদণ্ডের একটি বড় অংশের সঙ্গে বিক্ষোভের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কিছু মামলা যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত।

নরওয়েভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস এবং প্যারিসভিত্তিক টুগেদার এগেইনস্ট দ্য ডেথ পেনাল্টি (ইসিপিএম) জানিয়েছে, গত বছর ইরানে অন্তত ১ হাজার ৬৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৮৯ সালের পর এটি সর্বোচ্চ সংখ্যা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, চীনের পর ইরানেই সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন বিভক্ত হবে: জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৪ পি.এম


যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন হলে ইউক্রেন বিভক্ত হবে: জেলেনস্কি

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের সময় ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্বাচন আয়োজনের জন্য আহ্বান জানানোর পর রোববার প্রকাশিত বক্তব্যে তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরেন। কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবরটি দিয়েছে।

ইউক্রেন সামরিক আইন অনুযায়ী নির্বাচন স্থগিত রেখেছে। রাশিয়ার ২০২২ সালে শুরু করা আগ্রাসন প্রতিহত করার জন্য দেশটির মানুষ মনোযোগ দিয়েছে, এবং বেশিরভাগ জনগণ এখনো এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করছে।

শনিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে একটি ব্রিফিংয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমি মনে করি, এই ধরনের যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচন একটি বড় ঝুঁকি। এবার নির্বাচনের আয়োজন করা দেশের জন্য সুনামির মতো হবে। এটি ইউক্রেনকে বিভক্ত করে ফেলবে।’

২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ৪৮ বছর বয়সী জেলেনস্কি আরও সতর্ক করে বলেন, ‘যদি আমাদের দেশ ধ্বংস করতে ইচ্ছে করে, তাহলে এই যুদ্ধের মধ্যে নির্বাচনের দিকে এগোতে পারি।’

এএফপিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা এই ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন। এটি কয়েক মাসের মধ্যে তার প্রথম ব্রিফিং ছিল। দেশে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সর্বশেষ রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় জেলেনস্কি জনপ্রিয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিখাইলো ফেদোরভকে বরখাস্ত করার পর হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। বরখাস্ত হওয়া ফেদোরভ গত সপ্তাহে আকস্মিকভাবে নির্বাচনের আয়োজনের পথে বের হওয়ার আহ্বান করেন। তবে তিনি কীভাবে তা করা হবে, সে সম্পর্কে কোনো রূপরেখা প্রদান করেননি। তার কিছু সমর্থকও তার অবস্থানে দূরত্ব তৈরি করেন।

বিশেষজ্ঞরা নির্বাচন আয়োজনের পথে কিছু বাধার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে সেনাসদস্য, লাখ লাখ ইউক্রেনীয় শরণার্থী এবং দখলকৃত এলাকার বাসিন্দারা কীভাবে ভোট দেবেন, এ প্রশ্ন। এছাড়া রাশিয়ার দ্বারা অপতথ্য ছড়ানোর আশঙ্কাও রয়েছে।

কিয়েভ ও ইউক্রেনের অন্যান্য শহরে রাশিয়ার প্রতিদিনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধের চেষ্টা চলছে, তখনই নির্বাচনের আয়োজনের আহ্বান উঠেছে।

কিয়েভ ইনস্টিটিউট অব সোসিওলজির করা একটি জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৫ শতাংশ ইউক্রেনীয় মনে করেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন আয়োজন হওয়া উচিত।

সোমবার ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আগে জেলেনস্কি ওই ব্রিফিংয়ে ফেদোরভের সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে কয়েকজন আন্তর্জাতিক নেতা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া তীব্র রুশ হামলার মধ্যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, সেই নিয়ে মিত্ররা আলোচনা করবে।

ফেদোরভ সম্পর্কে জেলেনস্কি মন্তব্য করেন, ‘আমি মনে করি, তিনি নিজে বা কেউ তাকে ভুল পথে ঠেলে দিচ্ছে।’ সাবেক মন্ত্রী ড্রোন যুদ্ধের কৌশলের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে এই কৌশল এখন গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি সেনাবাহিনীতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে ছিলেন। কিন্তু সামরিক বাহিনীর কমান্ড এবং প্রচলিত কঠোর পদ্ধতের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়।

শুরুতে ইউক্রেনের বিশাল জনগণের একটি অংশ ফেদোরভের পক্ষে অবস্থান নেয়। তারা সেনাবাহিনীর প্রধান কমান্ডার ওলেক্সান্দর সিরস্কিকে বরখাস্তের দাবি জানায়।

জেলেনস্কি বলেন, জনগণকে বিক্ষোভ করার অধিকার রয়েছে। তবে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি ‘অসম্মানজনক’ আচরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে জানান। তিনি বলেন, ‘কবে থেকে যারা নিজেদের জীবন দিচ্ছেন, তাদের চেয়ে প্রচার বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেল?’ জেলেনস্কি নিজেকে বিভাজন ঠেকানোর শক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, সমাজ ও সেনাসদস্যদের বিভক্ত করা উচিত নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই ঝুঁকিটি স্বীকার করতে হবে—আমরা হয়তো সেই দিকেই এগোচ্ছি, যা একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হরমুজেই শেষ মার্কিন আধিপত্য! ২০৩০ সালের মধ্যেই হারাবে বিশ্ব নেতৃত্ব?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


হরমুজেই শেষ মার্কিন আধিপত্য! ২০৩০ সালের মধ্যেই হারাবে বিশ্ব নেতৃত্ব?



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। দিনটি হয়তো একদিন ইতিহাসের পাতায় শুধু একটি যুদ্ধের সূচনাদিবস হিসেবে নয়, বরং বিশ্বব্যবস্থার এক দীর্ঘ অধ্যায়ের বাঁকবদলের দিন হিসেবেও লেখা হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত সামরিক আগ্রাসন যে লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল, যুদ্ধের বাস্তবতা এখন সেই হিসাবের সঙ্গে ক্রমেই বেমানান হয়ে উঠছে। ওয়াশিংটন ভেবেছিল তার বিপুল সামরিক শক্তি, আকাশ আধিপত্য, গোয়েন্দা সক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার চাপ ইরানকে দ্রুত নতজানু করবে। কিন্তু ছয় মাসেরও বেশি সময় পর প্রশ্নটি এখন উল্টো দিকে ঘুরেছে—ইরানকে কতটা দুর্বল করা গেল, সেটি নয়; বরং এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিজের বিশ্ব নেতৃত্বের কতটা ক্ষয় ঘটাল?
এটাই আজকের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

কারণ যুদ্ধ শুধু ক্ষেপণাস্ত্র, বোমা কিংবা সামরিক ঘাঁটি দখলের হিসাব নয়। যুদ্ধ আসলে ক্ষমতার বিশ্বাসযোগ্যতার পরীক্ষা। আর একটি পরাশক্তির সবচেয়ে বড় অস্ত্র তার পারমাণবিক বোমা নয়—বিশ্বকে এই বিশ্বাস করিয়ে রাখা যে সে যা বলে, শেষ পর্যন্ত তা করাতে পারে। ইরান সেই বিশ্বাসের জায়গাতেই আঘাত করেছে।

ইরান কি আমেরিকার ‘অপরাজেয়তার’ মিথ ভেঙে দিল? ইরান সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করেছে—এমন সরল দাবি করার সময় এখনো আসেনি। কিন্তু ইরান যে আমেরিকাকে একটি দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং অনিশ্চিত সংঘাতে আটকে দিয়েছে, সেটি অস্বীকার করার উপায় নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত যুদ্ধলক্ষ্যের সবগুলোও এখনো অর্জিত হয়নি। বিপরীতে, তেহরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গায় চাপ সৃষ্টি করতে পেরেছে। হরমুজ তাই নিছক একটি জলপথ নয়। এটি বৈশ্বিক শক্তির শিরা।

বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি এই সরু জলপথ দিয়ে চলাচল করে। সেখানে ইরানের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ বা বাধা সৃষ্টি মানে শুধু আমেরিকার নৌবাহিনীকে চ্যালেঞ্জ নয়—বিশ্ববাজার, জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করা। যুদ্ধের পর হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে; বিশ্ব অর্থনীতিও তার অভিঘাত অনুভব করছে।
এখানেই ইরানের কৌশলগত সাফল্য।

আমেরিকার হাতে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী থাকতে পারে। কিন্তু পৃথিবীর প্রতিটি সংকটকে সামরিক শক্তি দিয়ে নিজের অনুকূলে পরিণত করা যায় না। পরাশক্তির আসল পরাজয় কোথায়? আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নয়। বিপদটি আরও গভীরে—মিত্রদের আস্থার সংকটে।

যে দেশগুলো কয়েক দশক ধরে আমেরিকার নিরাপত্তা ছাতার নিচে ছিল, তারাই এখন নতুন করে হিসাব করতে শুরু করেছে—সংকটের মুহূর্তে Washington-এর ওপর কতটা নির্ভর করা যায়?
মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা-সমীকরণ ইতোমধ্যেই নড়বড়ে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন নিরাপত্তা সহযোগিতার উদ্যোগ এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আমেরিকান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় সেই পরিবর্তনের লক্ষণ। এটাই আমেরিকার জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক সংকেত।

কারণ সাম্রাজ্য শুধু অস্ত্র দিয়ে টিকে থাকে না; টিকে থাকে অন্যদের সম্মতিতে। অন্য রাষ্ট্র যখন মনে করতে শুরু করে—‘আমেরিকা শক্তিশালী, কিন্তু আমেরিকার ওপর নির্ভর করা নিরাপদ নয়’—তখন আধিপত্যের ভিতরে প্রথম ফাটল দেখা দেয়।
ইরান সেই ফাটলটি আরও প্রশস্ত করেছে।

২০২৯-৩০: আমেরিকাকে কি আর কেউ নেতা মানবে? আজই ঘোষণা করে দেওয়া যায় না যে ২০২৯ বা ২০৩০ সালে পৃথিবীর কোনো রাষ্ট্র আর আমেরিকার কথা শুনবে না। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এত সরল নয়। আমেরিকার অর্থনীতি, ডলার, প্রযুক্তি, সামরিক শক্তি, বৈশ্বিক জোট এবং সাংস্কৃতিক প্রভাব—সব মিলিয়ে তার ক্ষমতা এখনো বিপুল। কিন্তু প্রশ্নটি অন্য জায়গায়।

২০২৯-৩০ সালের পৃথিবীতে আমেরিকা কি আজকের মতো নিরঙ্কুশভাবে ‘নেতা’ হিসেবে বিবেচিত হবে? সন্দেহ করার যথেষ্ট কারণ ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে।ইরান যুদ্ধ সেই সন্দেহকে ত্বরান্বিত করছে। একসময় ওয়াশিংটনের একটি নিষেধাজ্ঞা ছিল অর্থনৈতিক ভূমিকম্প। একটি সামরিক হুমকি ছিল যুদ্ধের পূর্বাভাস। একটি কূটনৈতিক নির্দেশ ছিল বহু দেশের নীতিনির্ধারণের ভিত্তি।

কিন্তু এখন পৃথিবী ক্রমেই বহুকেন্দ্রিক হচ্ছে। চীন নিজের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পরিসর বাড়াচ্ছে। রাশিয়া পশ্চিমা চাপকে মোকাবিলা করার নিজস্ব পথ তৈরি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রগুলো বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো খুঁজছে। আর ইরান দেখিয়ে দিচ্ছে—একটি রাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক চাপের মুখেও প্রতিরোধ চালিয়ে যেতে পারে এবং যুদ্ধের খরচ উল্টো প্রতিপক্ষের ঘাড়েও চাপিয়ে দিতে পারে।এটাই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় লক্ষণ।

হরমুজের যুদ্ধ আসলে কার বিরুদ্ধে? হরমুজে সংঘাত তাই কেবল ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ নয়। এটি একটি পুরোনো বিশ্বব্যবস্থা বনাম একটি নতুন বিশ্বব্যবস্থার সংঘর্ষের প্রতীক। পুরোনো ব্যবস্থার যুক্তি—যার হাতে সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরী, সবচেয়ে আধুনিক যুদ্ধবিমান এবং সবচেয়ে শক্তিশালী আর্থিক নিষেধাজ্ঞা, শেষ কথা তার।

নতুন বাস্তবতার যুক্তি—যুদ্ধক্ষেত্রকে যদি এমনভাবে বদলে দেওয়া যায় যেখানে পরাশক্তির প্রতিটি আঘাতের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কৌশলগত মূল্য তাকে নিজেকেও দিতে হয়, তাহলে সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব আর রাজনৈতিক বিজয়ের নিশ্চয়তা নয়।
ইরান সেই দ্বিতীয় যুক্তিটিই সামনে এনেছে।

হরমুজকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া মানে আমেরিকার জন্য শুধু সামরিক ব্যয় নয়; মিত্রদের ওপর চাপ, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং ক্রমবর্ধমান যুদ্ধক্লান্তি। সাম্প্রতিক বিশ্লেষণগুলোতেও দেখা যাচ্ছে, সংঘাতটি এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যেখানে ওয়াশিংটনের জন্য বেরিয়ে আসার পথও সহজ নয়, আবার অনির্দিষ্টকাল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়াও সহজ নয়।তাহলে প্রশ্ন উঠবেই—এ কেমন পরাশক্তি, যে যুদ্ধ শুরু করতে পারে, কিন্তু নিজের শর্তে যুদ্ধ শেষ করাতে পারে না?

প্রশ্ন হলো, আমেরিকা কি হেরে গেছে?
না—এখনই তা চূড়ান্তভাবে বলা না গেলেও অনুমান করা যাচ্ছে। কিন্তু আমেরিকার ‘অপরাজেয়’ ভাবমূর্তিতে যে গভীর আঘাত লেগেছে, সেটি অস্বীকার করারও সুযোগ নেই।ইরান হয়তো ওয়াশিংটনের পতন ঘটায়নি। কিন্তু ওয়াশিংটনের ভয়কে ছোট করেছে। আর বিশ্ব রাজনীতিতে ভয় কমে যাওয়া মানেই আধিপত্যের ক্ষয় শুরু হওয়া।

একটি রাষ্ট্র যখন বুঝে যায় যে আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ করলে শুধু ধ্বংসই অনিবার্য নয়, তখন সেই রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কল্পনাশক্তি বদলে যায়। অন্য রাষ্ট্রগুলোও তখন একই প্রশ্ন করতে শুরু করে—‘আমরা কেন পারব না?’এই প্রশ্নটিই মার্কিন আধিপত্যের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ।

হরমুজ সেই প্রশ্নটি বিশ্ববাসীর সামনে প্রকাশ্য করে দিয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারির আগ্রাসন যদি আমেরিকার শক্তির প্রদর্শন হয়ে থাকে, তাহলে তার পরবর্তী মাসগুলো হয়ে উঠেছে সেই শক্তির সীমাবদ্ধতার প্রদর্শনী।
ইরান হয়তো আমেরিকাকে পরাজিত করেনি।
কিন্তু আমেরিকাকে থামিয়ে দিয়েছে—এমন একটি জায়গায়, যেখানে একসময় কেউ তাকে থামানোর সাহস কল্পনাও করত না।

আর ইতিহাসে আধিপত্যের পতন সাধারণত একদিনে ঘটে না। প্রথমে ভাঙে ভয়। তারপর ভাঙে বিশ্বাস।তারপর ভাঙে আনুগত্য। আর শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ে আধিপত্য।

হরমুজের উত্তাল জলরাশিতে আজ তাই শুধু তেলের ট্যাংকার ভাসছে না—ভাসছে মার্কিন বিশ্ব আধিপত্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও এক কঠিন প্রশ্ন:
আমেরিকা কি এখনো বিশ্বের নেতা, নাকি বিশ্ব ইতিমধ্যেই তার পরবর্তী নেতার সন্ধান শুরু করে দিয়েছে?
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানে ‘অনেক সমস্যা’ চলছে, স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৩শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:২৬ পি.এম


ইরানে ‘অনেক সমস্যা’ চলছে, স্বীকার করলেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

ঢাকা, ২৩ আগস্ট, ২০২৬ : ইরানের নাগরিকেরা ‘অনেক সমস্যার’ মুখোমুখি হচ্ছেন বলে স্বীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে ইরানের অর্থনীতিকে আরও বিচ্ছিন্ন করার উদ্দেশ্যে রোববার তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পেজেশকিয়ান জানান, ‘আমি বুঝতে পারছি, এই মুহূর্তে আমাদের সমাজে অনেক সমস্যা রয়েছে। আমরা যতটা সম্ভব এসব সমস্যা সামলানোর চেষ্টা করছি।’

বার্তা সংস্থা এএফপি তেহরান থেকে জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার পর পেজেশকিয়ান এ মন্তব্য করেন। গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন বলেছিল, নতুন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচির মাধ্যমে ইরানি সরকারের ‘পতন’ ঘটানো হবে। এটি যুদ্ধ শুরুর প্রায় ছয় মাস পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ বিপরীতে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কারণে ইরান ‘পূর্ণমাত্রার অর্থনৈতিক, সামরিক ও নিরাপত্তা যুদ্ধে’ রয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, ‘তিনি বলছেন, ইরানের ওপর সবচেয়ে কঠোর ও ভয়াবহ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছেন।’

ইরান সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কয়েক দফা বড় ধরনের গণবিক্ষোভের মুখোমুখি হয়েছে। এসব বিক্ষোভের পেছনে প্রায়ই অর্থনৈতিক সংকট কাজ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি এবং বিনিময় হারের ওঠানামা, ফলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রতিবাদে একটি আন্দোলন শুরু হয়। পরে সেই আন্দোলন ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভে রূপ নেয়।

অথরিটির অবদানে ওই অস্থিরতায় ৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। সহিংসতা উসকে দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে দায়ী করেছে।

তবে বিদেশভিত্তিক বেসরকারি সংস্থাগুলো বলছে, কর্তৃপক্ষ নির্বিচারে দমন অভিযান চালিয়েছে। এতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছে।

রোববার পেজেশকিয়ান বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি, জীবিকার সমস্যা ও বেকারত্ব কাটিয়ে উঠতে এবং মানুষের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি, যাতে তারা মর্যাদা ও গর্বের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%