মোঃ মাহবুব আলম শাওন নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি
০৯:০৭ পি.এম
নওগাঁর সাপাহার সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইন চেষ্টার পর শূন্যরেখায় আটকা পড়েছে শিশুসহ ৯ জন। বুধবার (২৪ জুন) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার আদাতলা সীমান্তের উত্তর পাতাড়ী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের বাধা মুখে ১২ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে অবস্থান করছে তারা। তাদের মধ্যে ৩ শিশু, ৩ নারী ও ৩জন পুরুষ রয়েছেন।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার ভোরের দিকে ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ জনকে বাংলাদেশের ভেতর ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে। বিষয়টি জানতে পেরে বিজিবির আদাতলা বিওপির একটি টহল দল তাদের বাধা দেয়। বর্তমানে তারা ভারতীয় সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছে।
এদিকে পুশইন চেষ্টার পর ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শূন্যরেখায় আটকা ৯ জনের ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। বর্তমানে তারা প্রখর রোদে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় রয়েছেন।
দুপুর আড়াইটার দিকে বিএসএফের একটি দল বিজিবি সদস্যদের জানিয়ে গেছে, শূন্যরেখায় থাকা ব্যক্তিরা বাংলাদেশি, তাদের বাংলাদেশের ভেতর নিয়ে যেতে বলেছেন তাদের কোম্পানি কমান্ডার (সিও)। তবে এই দাবিতে সাড়া না দিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বিজিবি।
পাতাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, ভোর থেকে শিশুসহ ৯ জন খোলা আকাশের নিচে রয়েছেন। তাদের সঙ্গে তিনটি শিশুও আছে। খাবার ও পানি কিছুই নেই তাদের সঙ্গে। এই কড়া রোদে থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা দুই দেশের সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, দ্রুতই যেন এই সীমান্ত সমস্যার সমাধান করা হয়।
নওগাঁ ব্যাটালিয়ন ১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, পুশইন চেষ্টার পর সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। বিজেপির পক্ষ থেকে পতাকা বৈঠকের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। পতাকা বৈঠকের পর শূন্যরেখায় থাকা লোকদের ব্যাপার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়ার (ফারহান ফাইয়াজ) বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া। ২৪ জুন, ২০২৬ তে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৯ জনকে হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য গ্রহণকালে তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।
গত ১০ মে ট্রাইব্যুনাল এই মামলার 'আনুষ্ঠানিক অভিযোগ' গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল। বিচারকাজ ১৫ জুন প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। বিগতকাল থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।
ফারহান ফাইয়াজ ছিল ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। সাক্ষ্যে শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকালে ফারহান বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যায়। সেখানে সে বন্ধুদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয় এবং ধানমণ্ডি-২৭ (পুরাতন) নম্বরে মিছিল নিয়ে অবস্থান নেয়। ফারহান ও তার বন্ধুরা নিরস্ত্র ছিল। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপরে চড়াও হয়।
পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। দুপুর আড়াইটার দিকে ফারহান গুলিবিদ্ধ হয়। সাক্ষী বলেন, 'তখন ঘটনাস্থল থেকে এক অভিভাবক আমাকে ফোন করে জানান যে ফারহান গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমি তখন মালিবাগে আমার অফিসে ছিলাম।' তাঁর ছেলের গুলির খবর শুনে তিনি সেই মুহূর্তে প্রায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
সাক্ষী জানান, লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি ফারহানের ভয়াবহ অবস্থা দেখেন। হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে তিনি দেখতে পান ফারহানের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো ছিল। এক পর্যায়ে ডাক্তার অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফারহানের মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন।
সাক্ষী আরো বলেন, 'তাতে আমি বুঝলাম আমার ছেলে আর নেই।' হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া মৃত্যুর সনদে লেখা ছিল তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। হাসপাতালের পিছনের গেট দিয়ে ফারহানের লাশ নিয়ে আল মারকাজুল লাশ দাফন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফারহানের লাশের গোসল দেওয়ার পর ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিকেল সাড়ে ৫ টায় প্রথম নামাজে জানাজা হয়। জানাজার পর লাশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা বের হন।
তবে পথে প্রথমে রাজধানীর কাকরাইল মোড় ও যাত্রাবাড়ী মোড়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর বাধার মুখে পড়েন। শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া বলেন, 'তারা সম্ভবত লাশটা নিয়ে যেতে চেয়েছিল।' গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাদের স্থানীয় আওয়ামী বাহিনী লাশ দাফনের জন্য মাত্র ৪০ মিনিট সময় দিয়েছিল। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জানাজা সম্পন্ন করে বরপা সামাজিক কবরস্থানে কবরস্থ করা হয়। শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া জানান, 'আমার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি।'
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা হলেন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। গতকাল কারাগার থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। নানক-তাপস ছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।
২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এর ফলে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজায় 'ইসরাইলের গণহত্যার অর্থায়ন বন্ধ' এবং গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রের পক্ষে প্রচারণা চালানো ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত প্রার্থী অ্যাবার কাওয়াস মঙ্গলবার নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট নির্বাচনের কুইন্স এলাকার ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে জয়ী হয়েছেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সমর্থন পাওয়ার পর কাওয়াস নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তিনি ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত বাবা-মায়ের ঘরে নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন।
প্রাইমারিতে বিজয়ী কাওয়াস তার প্রচারণায় অভিবাসনব্যবস্থার সংস্কার এবং নিউইয়ার্কের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তার এই জয় আসে জোহরান মামদানির ধারাবাহিক তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাইমারি জয়ের পর। ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকে একটি গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মামদানি এসব নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন।
কাওয়াসের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি মামদানির সঙ্গে মিলে "Not On Our Dime!" নামে একটি প্রচারণা গড়ে তোলা ও চালু করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিউইয়র্কে নিবন্ধিত বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে ইসরাইলকে অর্থ প্রদান বন্ধ করা।
প্রচারণাটির ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য 'ইসরাইলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় সহিংসতায়' ভর্তুকি দিচ্ছে। তাদের স্লোগান হলো— "ইসরাইলি যুদ্ধাপরাধে নিউইয়র্কের অর্থায়ন বন্ধ করো।"
ওয়েবসাইটটিতে পশ্চিম তীর ও গাজায় 'গণহত্যার কৌশল' প্রয়োগের অভিযোগ তুলে ইসরাইলের বিরুদ্ধে 'জঘন্য নৃশংসতার' কথা বলা হয়েছে। তবে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে নিহত ফিলিস্তিনিদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হলেও ৭ অক্টোবরের হামলার বিষয়টি সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।
এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বিল নিউইয়র্কের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেয়। এতে বলা হয়, অলাভজনক সংস্থাগুলোকে 'ইসরাইলি বসতি কার্যক্রমে অননুমোদিত সহায়তা প্রদান' থেকে বিরত রাখতে হবে।
মামদানি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নিউইয়র্কভিত্তিক বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা থেকে প্রতি বছর ইসরাইলি বসতিগুলোতে যাওয়া প্রায় ৬ কোটি ডলারের অর্থপ্রবাহ বন্ধ হবে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এসব বসতিকে অবৈধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, নিউইয়র্কের কোনো সিনাগগ বা ইহুদি প্রতিষ্ঠান যদি ZAKA, United Hatzalah বা One Israel Fund-কে অর্থ সহায়তা দেয়, তাহলে তাদের কমপক্ষে ১০ লাখ ডলার জরিমানা গুনতে হতে পারে অথবা আইনি মামলার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হাসান আলী খাঁ অফিস সহায়কের চেয়ারে বসে কম্পিউটারের কাজ করছেন। তিনি সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে নিচ্ছেন অনৈতিক সুবিধা। মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকায় ঝাড়ুদারের চাকরি করে তিনি গ্রামে বিলাসবহুল একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
হাসানের গ্রামের বাড়ি আতাইকুলা বাজার এলাকার রঘুনাথপুর গ্রামে গেলে তার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একতলা বিলাসবহুল বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়।
গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এক অভিযোগের ভিত্তিতে গেলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে হাসান আলী খাঁ অফিসে কাজ করছেন। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়নের মাধপুর আমেনা খাতুন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২১ সালে এইচ.এস.সি পাস করেছেন এবং চাকরি করছেন ঝাড়ুদার পদে।
আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে তিনি ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু জনবল সংকট থাকার কারণে তার চাকরির প্রথম থেকেই তিনি ঝাড়ুদারের পাশাপাশি অফিস সহায়কের কাজও করছেন। কাজের সুবাধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নানা অযুহাত দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. নবী অভিযোগ করেন, 'প্রায় ৯ বছর আগে অস্থায়ী ঝাড়ুদার হিসেবে যোগদানের পর হাসান অফিস সহায়কের কম্পিউটারে বসে বিভিন্ন অনলাইন আবেদনের কাজ করছেন। ওই অঞ্চলের সেবা গ্রহণকারী বেশিরভাগ কৃষক সহজ-সরল। সাধারণ কৃষকের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি জমির কাগজপত্রে বিভিন্ন ভুল দেখিয়ে তাদেরকে হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন।'
এছাড়া অন্য একটি ভুক্তভোগী আতাইকুলার শরিফুল ইসলাম জানান, 'আমার বাবা ও মায়ের নামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির খাজারা না দেওয়ার কারণে খাস খতিয়ানে চলে যায়। কিছু লোক খাস খসলিয়ান দেখে লিজ নেওয়ার জন্য আবেদন করে। আমি বাধ্য হয়ে ভূমি অফিসে গিয়ে হাসানের সঙ্গে পরিচয় করি। হাসান দাবি করেন যে আমাকে খাস আদায়কারী হিসাবে আদেশ নিয়ে দিবেন, ১ লাখ টাকা দেবেন। দেন-দরবার শেষে ৬৫ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়ে হাসানকে টাকা দিই। কিন্তু তিনি কোন রশিদ দেননি। সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে গিয়ে জানতে পারি হাসান কোন টাকা জমা দেয়নি।'
হাসান আলী খাঁ বলেন, 'স্যারদের মৌখিক নির্দেশে আমি চাকরির শুরু থেকেই কম্পিউটারে কাজ করি এবং ঝাড়ুদারের দায়িত্বও পালন করি।' তিনি আরো বলেন, '২০১৭ সালে ঝাড়ুদার পদে চাকরি করি, এখনো স্থায়ী হয়নি। ২০১৬ সাল থেকে আমার কম্পিউটার জানায়, স্যাররা আমাকে কাজ করান।'
বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'জমি বিক্রি ও পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যবসা করে বাড়ি করেছি। দুর্নীতির অভিযোগে বলি, আমি অফিসের কাজ করি। টাকা নিয়ে কাজ করি না।'
আর আতাইকুলা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. নজুরুল ইসলাম বলেন, 'হাসান ঝাড়ুদার হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগে ৩ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। জনবল সংকটের কারণে তাকে কম্পিউটারের কাজ করানো হচ্ছে।'
সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রায়হান বলেন, 'বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি এবং জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা এমন একটি প্রশ্ন তুলেছেন, যে ছেলে-মেয়ে উভয়ের অধিকার যদি সমান হয়, তাহলে ছেলেদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কেন অবৈতনিক করা হচ্ছে না।
তিনি বুধবার জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তৃতা দেওয়ার সময় এ মন্তব্য করেন।
নুরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, 'গত তিন দশক ধরে নারী শিক্ষার ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নারীরা শিক্ষায় বেশ এগিয়েছে। কেবল নারীরাই কি এদেশের নাগরিক, ছেলেরা নয়? ছেলে-মেয়ে উভয়ের অধিকার যদি সমান হয় তাহলে ছেলেদের শিক্ষার ক্ষেত্রে কেন অবৈতনিক করা হচ্ছে না।'
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শিক্ষায় অবৈতনিকের উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করা হয়েছে, যা অন্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে। সরকারি প্রাথমিক স্কুলে খাবার এবং পোশাক দেওয়া হবে। কিন্তু দেশে সরকারির তুলনায় বেসরকারি স্কুলে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। তাহলে তাদের প্রতি কেন বৈষম্য থাকবে?
এ সময় তিনি সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জীবন ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের সমাধানের জন্যও আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ