প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন শহীদ মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়ার (ফারহান ফাইয়াজ) বাবা শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া। ২৪ জুন, ২০২৬ তে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় ৯ জনকে হত্যার ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ সাক্ষ্য প্রদান করেন। সাক্ষ্য গ্রহণকালে তিনি ট্রাইব্যুনালের কাছে একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।
গত ১০ মে ট্রাইব্যুনাল এই মামলার 'আনুষ্ঠানিক অভিযোগ' গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিল। বিচারকাজ ১৫ জুন প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। বিগতকাল থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়েছে।
ফারহান ফাইয়াজ ছিল ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। সাক্ষ্যে শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া বলেন, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকালে ফারহান বাসা থেকে বের হয়ে কলেজে যায়। সেখানে সে বন্ধুদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয় এবং ধানমণ্ডি-২৭ (পুরাতন) নম্বরে মিছিল নিয়ে অবস্থান নেয়। ফারহান ও তার বন্ধুরা নিরস্ত্র ছিল। কিন্তু তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের পেটুয়া পুলিশ বাহিনী এবং আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ওপরে চড়াও হয়।
পুলিশের সহযোগিতায় আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। দুপুর আড়াইটার দিকে ফারহান গুলিবিদ্ধ হয়। সাক্ষী বলেন, 'তখন ঘটনাস্থল থেকে এক অভিভাবক আমাকে ফোন করে জানান যে ফারহান গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আমি তখন মালিবাগে আমার অফিসে ছিলাম।' তাঁর ছেলের গুলির খবর শুনে তিনি সেই মুহূর্তে প্রায় হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
সাক্ষী জানান, লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি ফারহানের ভয়াবহ অবস্থা দেখেন। হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে তিনি দেখতে পান ফারহানের মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানো ছিল। এক পর্যায়ে ডাক্তার অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফারহানের মুখ কাপড় দিয়ে ঢেকে দেন।
সাক্ষী আরো বলেন, 'তাতে আমি বুঝলাম আমার ছেলে আর নেই।' হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া মৃত্যুর সনদে লেখা ছিল তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। হাসপাতালের পিছনের গেট দিয়ে ফারহানের লাশ নিয়ে আল মারকাজুল লাশ দাফন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ফারহানের লাশের গোসল দেওয়ার পর ঢাকার রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের মাঠে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিকেল সাড়ে ৫ টায় প্রথম নামাজে জানাজা হয়। জানাজার পর লাশ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা বের হন।
তবে পথে প্রথমে রাজধানীর কাকরাইল মোড় ও যাত্রাবাড়ী মোড়ে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনীর বাধার মুখে পড়েন। শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া বলেন, 'তারা সম্ভবত লাশটা নিয়ে যেতে চেয়েছিল।' গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাদের স্থানীয় আওয়ামী বাহিনী লাশ দাফনের জন্য মাত্র ৪০ মিনিট সময় দিয়েছিল। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জানাজা সম্পন্ন করে বরপা সামাজিক কবরস্থানে কবরস্থ করা হয়। শহিদুল ইসলাম ভূঁয়া জানান, 'আমার একমাত্র ছেলের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী আমি তাদের শাস্তি দাবি করছি।'
মামলার ২৮ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে। তারা হলেন ছাত্রলীগের মোহাম্মদপুর থানা শাখার সভাপতি নাঈমুল হাসান রাসেল, সহসভাপতি সাজ্জাদ হোসেন, ওমর ফারুক ও ফজলে রাব্বি। গতকাল কারাগার থেকে তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। নানক-তাপস ছাড়া পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার এবং ডিএমপির সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও ডিএনসিসির ৩২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নূর ইসলাম।
২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ জুলাই ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নৃশংসতা চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। আসামিদের উসকানি-প্ররোচনা ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ উপস্থিতিতে জুলাই আন্দোলনে নিরীহ ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালানো হয়। এর ফলে মাহমুদুর রহমান সৈকত, ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন