প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত হাসান আলী খাঁ অফিস সহায়কের চেয়ারে বসে কম্পিউটারের কাজ করছেন। তিনি সেবা নিতে আসা মানুষের কাছ থেকে নিচ্ছেন অনৈতিক সুবিধা। মাসে মাত্র ৩ হাজার টাকায় ঝাড়ুদারের চাকরি করে তিনি গ্রামে বিলাসবহুল একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
হাসানের গ্রামের বাড়ি আতাইকুলা বাজার এলাকার রঘুনাথপুর গ্রামে গেলে তার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একতলা বিলাসবহুল বাড়ির সন্ধান পাওয়া যায়।
গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে এক অভিযোগের ভিত্তিতে গেলে দেখা যায়, আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে হাসান আলী খাঁ অফিসে কাজ করছেন। তিনি আতাইকুলা ইউনিয়নের মাধপুর আমেনা খাতুন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০২১ সালে এইচ.এস.সি পাস করেছেন এবং চাকরি করছেন ঝাড়ুদার পদে।
আর আতাইকুলা ইউনিয়ন ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে তিনি ঝাড়ুদার পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়েছেন। কিন্তু জনবল সংকট থাকার কারণে তার চাকরির প্রথম থেকেই তিনি ঝাড়ুদারের পাশাপাশি অফিস সহায়কের কাজও করছেন। কাজের সুবাধে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে নানা অযুহাত দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।
ভুক্তভোগী মো. নবী অভিযোগ করেন, 'প্রায় ৯ বছর আগে অস্থায়ী ঝাড়ুদার হিসেবে যোগদানের পর হাসান অফিস সহায়কের কম্পিউটারে বসে বিভিন্ন অনলাইন আবেদনের কাজ করছেন। ওই অঞ্চলের সেবা গ্রহণকারী বেশিরভাগ কৃষক সহজ-সরল। সাধারণ কৃষকের সরলতার সুযোগ নিয়ে তিনি জমির কাগজপত্রে বিভিন্ন ভুল দেখিয়ে তাদেরকে হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এবং বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন।'
এছাড়া অন্য একটি ভুক্তভোগী আতাইকুলার শরিফুল ইসলাম জানান, 'আমার বাবা ও মায়ের নামে ক্রয়কৃত সম্পত্তির খাজারা না দেওয়ার কারণে খাস খতিয়ানে চলে যায়। কিছু লোক খাস খসলিয়ান দেখে লিজ নেওয়ার জন্য আবেদন করে। আমি বাধ্য হয়ে ভূমি অফিসে গিয়ে হাসানের সঙ্গে পরিচয় করি। হাসান দাবি করেন যে আমাকে খাস আদায়কারী হিসাবে আদেশ নিয়ে দিবেন, ১ লাখ টাকা দেবেন। দেন-দরবার শেষে ৬৫ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়ে হাসানকে টাকা দিই। কিন্তু তিনি কোন রশিদ দেননি। সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে গিয়ে জানতে পারি হাসান কোন টাকা জমা দেয়নি।'
হাসান আলী খাঁ বলেন, 'স্যারদের মৌখিক নির্দেশে আমি চাকরির শুরু থেকেই কম্পিউটারে কাজ করি এবং ঝাড়ুদারের দায়িত্বও পালন করি।' তিনি আরো বলেন, '২০১৭ সালে ঝাড়ুদার পদে চাকরি করি, এখনো স্থায়ী হয়নি। ২০১৬ সাল থেকে আমার কম্পিউটার জানায়, স্যাররা আমাকে কাজ করান।'
বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'জমি বিক্রি ও পেঁয়াজ ও রসুনের ব্যবসা করে বাড়ি করেছি। দুর্নীতির অভিযোগে বলি, আমি অফিসের কাজ করি। টাকা নিয়ে কাজ করি না।'
আর আতাইকুলা ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. নজুরুল ইসলাম বলেন, 'হাসান ঝাড়ুদার হিসেবে অস্থায়ী নিয়োগে ৩ হাজার টাকা বেতনে কাজ করেন। জনবল সংকটের কারণে তাকে কম্পিউটারের কাজ করানো হচ্ছে।'
সাঁথিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসিফ রায়হান বলেন, 'বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন