শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৪২ পি.এম
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় পুলিশ দেখে দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে মো. সোহাগ চৌধুরী (৩৫) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী ঈদ্রিস মিয়া বাজার ওরফে নবীর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. সোহাগ চৌধুরী একই ইউনিয়নের ৭নম্বর ওয়ার্ডের চর উরিয়া গ্রামের নুর নবী চৌধুরীর ছেলে। তিনি একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চরজব্বর থানা পুলিশের একটি দল ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগকে গ্রেপ্তারের জন্য ঈদ্রিস মিয়া বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, নিহত সোহাগ চৌধুরীর বিরুদ্ধে চরজব্বর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩২৩ ও ৫০৬(২) ধারায় অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে দায়ের করা চরজব্বর থানার আরও একটি মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩২৩, ৩০৭, ৩২৬, ৩৭৯, ৪২৭ ও ৩২৫ ধারাসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সোহাগ চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। পুলিশকে মামলার বাদীর সাথে কথা বলতে দেখে তিনি দৌড়ে পালানোর সময় পড়ে গিয়ে আহত হন। পরে তার মৃত্যু হয় বলে শুনেছি। মরদেহ নিহতের স্বজনেরা নিয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বিভিন্ন অপরাধ দমন ও জনস্বার্থে আইন বাস্তবায়নে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করছে উপজেলা প্রশাসন। এর ধারাবাহিকতায় গত আগস্ট মাসে ২৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৭৩টি মামলায় ১২ লাখ ৯ হাজার ৪৫০ টাকা অর্থদণ্ড এবং ৪৯ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, আগস্টের প্রথমার্ধে ১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৩২টি মামলায় ৭ লাখ ১৭ হাজার ১০০ টাকা জরিমানা এবং ২২ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দ্বিতীয়ার্ধে ১২টি ভ্রাম্যমাণ আদালতে ৪১টি মামলায় ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৫০ টাকা জরিমানা এবং ২৭ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযানগুলোতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, বাল্যবিবাহ নিরোধ, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ, জুয়া প্রতিরোধ, দণ্ডবিধি এবং ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপনসহ বিভিন্ন আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এর মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৮টি মামলায় ৪৮ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া আগস্ট মাসে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পৃথকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুটি মামলায় ৮০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন।
কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জনস্বার্থে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চলমান থাকবে।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তরুণ ইউসুফ বলেন, কালিহাতী উপজেলা প্রশাসনের এসব উদ্যোগ অত্যন্ত ইতিবাচক।
মাদক সমাজে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে গেছে। অপরাধ ও মাদক দমনে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লন্ডনে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, এতে দল-মত, ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে চট্টগ্রামবাসীর ঐক্যের আহ্বান করেন নেত্রবৃন্দরা যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বৃহত্তর চট্টগ্রামবাসীর ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয়ে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শুক্রবার লন্ডনের আইঅন টেলিভিশন কার্যালয়ে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে কেক কাটার মধ্য দিয়ে এই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হয়।
একটাই পরিচয়-আমরা চট্টগ্রামবাসী; দল-মতের ঊর্ধ্বে ঐক্যবদ্ধ ঘোষণা দিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত চট্টগ্রাম কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন চট্টগ্রামভিত্তিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব, গণমাধ্যমকর্মী এবং আয়োজকদের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চট্টগ্রাম শুধু একটি ভৌগোলিক পরিচয় নয়; এটি একটি সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বতন্ত্র গৌরবের নাম। তাই দল-মত, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশার বিভাজন ভুলে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষকে একত্রিত করে একটি সর্বজনীন ও ব্যতিক্রমধর্মী উৎসব আয়োজন করতে হবে।
সভায় ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’-এর পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, কর্মসূচি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উৎসবকে সফল করতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা তাঁদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি শক্তিশালী টিম হিসেবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী দু-একদিনের মধ্যে উৎসবের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ ও প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে উৎসবের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনায় চট্টগ্রামের সংস্কৃতি, সংগীত, কৃষ্টি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় উত্তরাধিকার বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের স্বকীয় পরিচয় ও বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য নতুন প্রজন্মসহ বৃহত্তর ব্রিটিশ সমাজের সামনে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আয়োজকরা মনে করছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সর্বস্তরের চট্টগ্রামবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ যুক্তরাজ্যে চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় মিলনমেলায় পরিণত হতে পারে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব জাগির আলম, কাউন্সিলর সাইয়েদ ফিরোজ গানি, শওকত মাহমুদ দিপু, আখতারুল আলম, সুজন বড়ুয়া, মো. মাসুদুর রহমান, সারোয়ার চৌধুরী, মনির মাহমুদ, মোহাম্মদ আলী রেজা, ডা. বিশ্বজিৎ রায়, মীরা বড়ুয়া, তানভীর খান, আসমা আলম, জাগলুল চৌধুরী, শওকত ওসমান, রায়হান চৌধুরী টিটু, আলীম উল্লাহ রাহাত, নুরুন্নবী আলী, গিয়াশ বড়ুয়া, নুরুল আলম, সাদিয়া আফরিন, নাবিল রহমান, সৈয়দ সাইফুল ইসলাম ও শামসুল রাসেলসহ আরও অনেকে।
এছাড়া ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠান আম্রসিয়ানের পক্ষে জুনায়েদ রিয়াজ ও ইমরান চৌধুরী এবং আইঅন টিভির কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে উপস্থিত হতে না পারায় ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন, অনুপম সাহা ও চট্টগ্রাম সমিতির আঞ্জুমান আরা নিজামসহ আরও কয়েকজন দুঃখ প্রকাশ করে উৎসবের সফলতা কামনা করেছেন।
চট্টগ্রামের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির জয় হোক-ঐক্যবদ্ধ চট্টগ্রামবাসীর হাত ধরে এগিয়ে যাক ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মন্তব্য করেছেন যে, মানুষের মন জয় করতে হলে শুধু বক্তৃতার মাধ্যমে নয়, বরং দায়িত্বশীলতা, আন্তরিকতা এবং ভালো কাজের মাধ্যমে তা অর্জন করতে হবে। তিনি হাজীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করার জন্য হজ ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের আরো আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আশকোনায় হজ অফিসে আয়োজিত সরকারি মাধ্যমের হজ গাইড পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী বলেন, হজ ব্যবস্থাপনার সাফল্য শুধুমাত্র নিবন্ধন বা সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হাজীদের নিরাপদে সৌদি আরবে পৌঁছানো, মিনা, আরাফাহ ও মুজদালিফার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা এবং নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার মধ্যে হজ ব্যবস্থাপনার মূল সাফল্য নিহিত রয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিগত হজের ব্যবস্থাপনার বড় অংশ আগের সরকারের সময় সম্পন্ন হয়েছে—এমন দাবি সঠিক নয়।
মন্ত্রী বলেন, নিবন্ধন এবং সৌদি সরকারের সঙ্গে চুক্তি রুটিন কাজ। হাজীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করাই ছিল মূল চ্যালেঞ্জ।
ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হজ ব্যবস্থাপনার মূল কার্যক্রমগুলো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছিলেন। রিয়াদে সৌদির হজমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, সৌদি হজমন্ত্রী বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন।
ধর্মমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে হাজীদের জন্য এক লাখ বোতল পানি বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া বিনামূল্যে লাগেজ র্যাপিং এবং নারী হাজীদের জন্য পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পবিত্র হজ পালনে বাংলাদেশি হাজীদের সার্বিক সহযোগিতায় পুলিশ, ইমিগ্রেশন, বিমান, আনজুমানে মফিদুল ইসলাম ও স্কাউটসহ সংশ্লিষ্টরা ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের আন্তরিকতা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হাজীদের সেবা করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তিনি নিজেকে জনগণের ‘খাদেম’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ধর্মমন্ত্রী হজ গাইডদের দায়িত্বশীলতা ও সেবার মান আরো বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভালো কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গাইডদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো ভালো কাজের জন্য তাদের পুরস্কৃত করার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ