০৫:১৯ পি.এম
ঈদুল আজহার আগে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শতাধিক রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে চরম উদ্বেগ।
অন্য হাসপাতালে সংকটাপন্ন শিশুদের স্থানান্তর করতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ থাকলেও, সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আপিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিল হওয়ার পর আদ-দ্বীন হাসপাতালে এখন সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। নতুন কোনো রোগী ভর্তি নেয়া হচ্ছে না। হাসপাতালের চিকিৎসাধীন শত শত রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য এটি চরম বিপদের বিষয় হয়ে উঠেছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় জুতা ব্যবসায়ী আরিয়ান নিহত
শনিবার (১৩ জুন) পর্যন্ত হাসপাতালটিতে ২৩৪ জন রোগী ভর্তি ছিল, কিন্তু রোববার সকাল থেকেই রোগী সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন এনআইসিইউ ও আইসিইউতে থাকা সংকটাপন্ন শিশুরা, এবং তাদের পরিবারগুলো বর্তমানে দিশেহারা অবস্থায় রয়েছে। কারণ বিভিন্ন হাসপাতালের বাইরে তারা সিট না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
এক সদ্যজাত শিশুর বাবা বলেন, "এই হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে আমার সন্তানের জন্ম হয়েছে। মা ও শিশু এখানেই আছে। আমরা এই মুহূর্তে কোথায় যাব? আমরা তো মধ্যবিত্ত পরিবার। অনেক অর্থ দিয়ে স্কয়ার, ইউনাইটেড বা এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারি না।"
আরেক শিশুর বাবা বলেন, "সরকারের প্রতি আবেদন, এদের কোনো গাফিলতি থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে। পাশাপাশি হাসপাতালটাও চালু থাকলো।"
আদ-দ্বীন থেকে রোগীদের স্থানান্তরের সবধরনের সহায়তার আশ্বাস দিলেও ভুক্তভোগীরা জটিলতা তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান খাগড়াছড়ির বাঘাইহাট সেনা ক্যাম্প পরিদর্শন
এক রোগীর অভিভাবক জানান, "অন্য হাসপাতালে গেছিলাম, সেখানে বললো, আগে ফ্লোরে থাকতে হবে। বেডের রোগীর ছুটি হওয়ার পর সিট পাওয়া যাবে।"
অন্য আরেক রোগীর অভিভাবক শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, "ছয়জনের জন্য ছয় হাজার রোগী মারা যেতে পারে না। এই হাসপাতালের শুধু দোষ দেখবেন কেনো? গুণও দেখেন। হাসপাতাল বন্ধ করা তো কোনো সমাধান না।"
গত ৪ জুন তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, আদ দ্বীন হাসপাতালের চরম অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই কারণে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে হাসপাতালের এমন পরিণতিতে সাধারণ রোগীদের কেনো ভোগান্তি ভোগ করতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগীরা। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নির্দেশিত সময়ের মধ্যেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানানোর কথা জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে যুবলীগের মিছিলে পুলিশের ৪ সদস্যকে শাস্তি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন