০৭:৪২ এম
আজ বুধবার, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করা হচ্ছে। প্রসিদ্ধ মতানুসারে, এই বিশেষ দিনে মহানবী (সা.) পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন এবং একই দিনে নবুয়তের মহান দায়িত্ব শেষ করে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছিলেন।
মহানবী (সা.)-এর পৃথিবীতে আগমন ছিল মানবজাতির জন্য আল্লাহর অপার অনুগ্রহ। তিনি মানবজাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর পথে পরিচালিত করেন। তাঁর প্রচেষ্টা, সংগ্রাম ও সান্নিধ্যে ‘জাহেলি’ যুগ পরিণত হয় শ্রেষ্ঠ সময়ে।
মহানবী (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে মক্কা নগরীর অভিজাত কুরাইশ গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: চন্দ্রপাড়া দরবারে অসচ্ছলদের সহায়তা ও ওরসের তারিখ ঘোষণা
তিনি জন্মের পূর্বে পিতৃহীন হন এবং অল্প বয়সে মা ও দাদাকে হারান। প্রকৃতপক্ষে, তিনি জগত্সংসারের আশ্রয়ের পরিবর্তে মহান আল্লাহর আশ্রয়ে লালিত-পালিত হন। ৪০ বছর বয়সে ৬১০ খ্রিস্টাব্দে তিনি নবুয়ত লাভ করেন। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর তিনি আল্লাহর বাণী প্রচারে নিজের সবকিছু উৎসর্গ করেন।
মহানবী (সা.) এমন এক জীবনদর্শন রেখে যান, যা মুসলমানদের বিজয়ী জাতিতে পরিণত করে। তাঁর শিক্ষা ও অনুপ্রেরণায় মুসলিম জাতি নীতি-নৈতিকতা, জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা ও রাজনীতিতে শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করে। আবার, তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুতির কারণে মুসলিম জাতি বৈশ্বিক নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়ে।
১২ রবিউল আউয়াল বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করবেন। এই উপলক্ষে বাংলাদেশে সাধারণ সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। দেশের বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কোরআন তিলাওয়াত, আলোচনাসভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে মহানবী (সা.)-এর জীবন, আদর্শ, চরিত্র ও মানবতার জন্য তাঁর অবদান তুলে ধরা হবে।
আরও পড়ুন: মসজিদুল হারামে এক ইমামের পেছনে জামাতের ১০০ বছর পূর্ণ
ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সারা বিশ্বের মুসলমানরা মহানবী (সা.)-এর জীবন ও সুন্নাহ অনুসরণের অঙ্গীকার করবে। তাঁর শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজজীবনে বাস্তবায়নের মাধ্যমে শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় গ্রহণ করবে।
রাষ্ট্রপতির বাণী
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা ও মানবিকতার আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি হিংসা, বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহার করে সাম্য, সম্প্রীতি ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রীর বাণী
আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আজকের নামাজের সময়সূচি প্রকাশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে বলেছেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও শুভেচ্ছা জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন