প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি মন্তব্য করেছে, দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি বর্তমানে এক ‘নতুন তলানিতে’ পৌঁছেছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কার্যালয়ের ওই প্রতিবেদনে মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির জন্য অনবরত বিমান হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং বেসামরিক নাগরিকদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত সময়কালের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এতে সংঘাত-সহিংসতা ও অর্থনৈতিক পতনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় মানবিক বিপর্যয়ের গভীর সম্পর্ক তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্যমতে, সামরিক জান্তা তাদের নিপীড়নমূলক কৌশল বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে, যাতে সাধারণ নাগরিকদের মনে ভীতি সৃষ্টি ও একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়। নাগরিকদের ওপর কঠোর নজরদারি চালাতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা হয়েছে। বেসামরিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে নিয়মিত প্রাণঘাতী বিমান হামলা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং সাধারণ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা এখন দেশটির নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
জান্তা সরকারের আগ্রাসী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মিয়ানমারে অবৈধ খনিজ আহরণ, মাদক উৎপাদন, মানবপাচার এবং অনলাইনে পরিচালিত আর্থিক প্রতারণাকেন্দ্রগুলোর বিস্তার বর্তমান মানবিক সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মিয়ানমারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, "এই প্রতিবেদন পুরো দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ, চরম দুর্দশা ও নির্মম নিষ্ঠুরতার এমন এক চিত্র তুলে ধরেছে, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।"
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, "আমি বিশ্বের সব রাষ্ট্র, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রতি নিজেদের ভূমিকা নিয়ে আত্মসমালোচনার আহ্বান জানাই। তাদের ভাবা উচিত—মিয়ানমারের সাধারণ মানুষের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এমন অবস্থান কতটা সুবিচারপূর্ণ।"
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল জান্তা বাহিনী। এরপর থেকেই দেশটিতে তীব্র রাজনৈতিক অচলাবস্থা ও গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। অভ্যুত্থানের মূল হোতা সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইং চলতি বছরের এপ্রিল মাসে নিজেকে দেশটির বেসামরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজ সরকারের কূটনৈতিক বৈধতা আদায়ের লক্ষ্যে তিনি বর্তমানে নানা তৎপরতা চালাচ্ছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন