০৩:৪২ পি.এম
চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত গত দু দিনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে যে, ইরানের প্রায় ১৭০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। মার্কিন বাহিনী বলছে, এসব হামলার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের বিরুদ্ধে নেওয়া ওয়াশিংটনের সবচেয়ে বড় এবং ধারাবাহিক সামরিক অভিযানগুলোর একটি।
এছাড়া সেন্টকম জানিয়েছে, সামরিক অভিযানটি আরও বৃহৎ আকারে পরিচালনা করা হতে পারে। হামলাগুলোর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়া হবে।
এদিকে, গত দুদিন রাতের সামরিক অভিযানে তেহরানে অবস্থিত আইআরজিসি-র সদর দপ্তর এবং একটি ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বড় ধরনের হামলার বিষয়ে একাধিক অনির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া গেছে। এই অভিযানে আইআরজিসি প্রধান আহমাদ ওয়াহিদি নিহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে বর্তমানে এই তথ্যটি স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার পর ৭ জুলাই চালানো প্রথম দফার অভিযানে দেশটির ৮০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
সেন্টকমের তথ্যমতে, মার্কিন বাহিনী ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা, জাহাজ বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালী ও এর আশপাশে সক্রিয় আইআরজিসির ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযানে আঘাত হেনেছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত জ্বালানি পরিবহন রুটে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। পরের রাতেই অভিযানের দ্বিতীয় ধাপটি পরিচালিত হয়; এতে মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে আরও প্রায় ৯০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।
সেন্টকম জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি ইরানের হুমকি সৃষ্টির সক্ষমতা আরও কমিয়ে আনার লক্ষ্যে এই হামলাগুলো করা হয়েছে। হামলায় মূলত ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, উপকূলীয় নজরদারি সরঞ্জাম, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুত কেন্দ্র, নৌ-সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করার উদ্দেশ্যে আঘাত হানা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত যখন বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার গণ্ডি অতিক্রম করে বৃহত্তর আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে রূপ নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই সামরিক অভিযানগুলো পরিচালিত হয়েছে। ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে কুয়েত, বাহরাইন ও অন্যান্য মিত্র দেশের ঘাঁটিও অন্তর্ভুক্ত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে আরও দুর্বল করে তুলেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আনা-নেওয়া হয়, এমন অবস্থায় সেখানে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তীব্র হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন