প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, সরকারের ৫ শতাংশ কর হ্রাসের সিদ্ধান্তকে উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা হাব হিসেবে গড়ে তোলার জন্য গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় গবেষণা ইকো-সিস্টেম গড়ে তোলার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গতকাল অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলি বলেছেন। আজ ইউজিসি থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ড. মামুন আহমেদ বলেছেন, ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর থেকে ৫ শতাংশ কর হ্রাস শুধুমাত্র একটি আর্থিক সুবিধা নয়, বরং এটি উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের একটি বড় আভাস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই সাশ্রয় হওয়া অর্থ শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দক্ষতা উন্নয়ন, চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা এবং মানসম্মত গবেষণার জন্য ব্যয় করবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এখনও মূলত পাঠদাননির্ভর রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উচিত পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে গবেষণায়ও নেতৃত্ব দেওয়া। মানসম্মত গবেষণা ছাড়া জাতীয় সমস্যার সমাধান এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব নয়।
অধ্যাপক মামুন আহমেদ আরও জানান, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি সহায়তা পায় না এমন ধারণা সঠিক নয়। গত অর্থবছরে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণার জন্য ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইউজিসি সেইসব গবেষণায় সহায়তা অব্যাহত রাখবে, যা দেশের সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়ন করছে, এবং তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইউজিসি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বৈষম্য করেনা। উভয় ধারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উচ্চশিক্ষা হাব হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ঘোষণা করে তিনি বলেছেন, জাতীয় গবেষণা রিপোজিটরি এবং সমন্বিত গবেষণা ইকো-সিস্টেম গড়ে তোলার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। এটি গবেষণার অগ্রাধিকার নির্ধারণ, তথ্য সংরক্ষণ এবং একই ধরনের গবেষণার পুনরাবৃত্তি এড়াতে সহায়তা করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে এবং দেশীয় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার জন্য বিদেশমুখী হওয়ার প্রবণতাও কমবে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকার উচ্চশিক্ষাকে জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে। জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তোলা, শিল্প এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি, ইন্টার্নশিপ এবং উদ্যোক্তা তৈরির মতো বিষয়গুলো এখন জাতীয় অগ্রাধিকার।
তিনি সরকারি বিনিয়োগের চিত্র তুলে ধরে জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরে দেশের ৫৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও ইউজিসির জন্য প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে গবেষণার জন্য ২৩৮ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন প্রকল্পসহ মোট ৮৫২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে গবেষণা খাতে।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
এপিইউবি’র সভাপতি মো. সবুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ইশতিয়াক আবেদিন, ভাইস চেয়ারম্যান বেনজীর আহমেদ এবং বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি, উপাচার্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন