০৮:৪৮ এম
সুইজারল্যান্ডে চলমান বৈঠকের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির প্রতি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি উল্লেখ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি যদি সত্যিই কার্যকর হতো, তাহলে আজকের এই পরিস্থিতিতে তারা আসতো না। গালিবাফের কথায়, 'আমরা আমেরিকার দেওয়া হুমকিকে গুরুত্ব দিই না।'
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার আরও বলেন, ওয়াশিংটনের উচিত তাদের বক্তব্যের বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা। কারণ, প্রয়োজন হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ভিন্ন ধরনের জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, 'আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাদের অন্যভাবে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। তারা যতই কথা বলুক না কেন, আমরা কাজ করে দেখাবো।'
আটকে থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা, তেল নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ইস্যু নিয়ে সুইজারল্যান্ডে চলছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দরকষাকষি। প্রথম ৮০ মিনিটের উদ্বোধনী সেশনের পরই ট্রাম্পের হুমকির কারণে ইরানি প্রতিনিধিদল আলোচনা টেবিল ছাড়ে। এর কারণে অনেকটাই থমকে গেছে আলোচনার গতি। হরমুজ প্রণালি ও লেবানন সংকটসহ ইসরাইল ইস্যু এই শান্তি প্রক্রিয়াকে ক্রমাগত জটিল করে তুলেছে।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে রোববার (২১ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
অন্যদিকে, তেহরানের পক্ষে নেতৃত্বদান করেন ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সহ বেশ কয়েকজন। বৈঠকের শুরুতেই দু'পক্ষের মধ্যে তীব্র মনস্তাত্ত্বিক লড়াই দেখা যায়। এমনকি ইরানি প্রতিনিধিদল মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথ ফটোসেশন এবং হাত মেলাতেও অস্বীকৃতি জানায়।
শান্তি আলোচনার উদ্বোধনী সেশনে ঠিক ৮০ মিনিটের মাথায় পুরো প্রক্রিয়ার দৃশ্যপট বদলে যায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক পোস্টের কারণে। ট্রুথ সোশ্যালের এক পোস্টে ট্রাম্প হুমকি দেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর মতো ইরানের প্রক্সিদের বিশৃঙ্খলা অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে, ওয়াশিংটন ইরানে গত সপ্তাহের চেয়েও বিধ্বংসী সামরিক হামলা চালাবে।
এই হুমকির খবর আলোচনা গবেশনায় পৌঁছানোর পরপরই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে, আলোচনার টেবিল থেকে সাময়িক ওয়াকআউট করে ইরানি প্রতিনিধিদল। ওয়াকআউটের পর ইরানি স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন দাদাগিরি এবং ফাঁকা হুমকিকে তেহরান বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেয় না।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে আনা হলো আনিসুল, পলক ও মামুন
হুমকির মুখে কোনো আলোচনা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মার্কিন আগ্রাসনের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পূর্ণ প্রস্তুত। অন্যদিকে, এই আলোচনার মাঝেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, সুইজারল্যান্ডে যাই হোক না কেন, দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা সরাবে না তেল আবিব।
আলোচনার প্রথম দিনে চরম অচলাবস্থার পরও হাল ছাড়েনি মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আলোচনা একেবারে ভেঙে যায়নি, বরং এটি ‘সাময়িক বিরতি’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পর্দার আড়ালের তীব্র কূটনীতির মাধ্যমে দুই পক্ষকে আবার এক টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
৬০ দিনের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা, লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা এবং ইরানের অবরুদ্ধ বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক সম্পদ মুক্ত করার মতো জটিল শর্তগুলোর বাস্তবায়ন, এখন মধ্যস্থতার সফলতার ওপরই নির্ভর করছে বলছেন বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন: বটিয়াঘাটায় তিন গুলির ঘটনায় গ্রেফতার নেই, ওসি প্রত্যাহার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন