ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

মেসি-রোনালদো-নেইমারের বিদায়: শেষ গোলের অদ্ভুত মিল পেনাল্টিতে


মেসি-রোনালদো-নেইমারের বিদায়: শেষ গোলের অদ্ভুত মিল পেনাল্টিতে

ফুটবল জগতের তিনটি মহাতারকা। তিনটি ভিন্ন দেশ, তিন ধরনের ফুটবলশৈলী। তবে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোলের গল্পে লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং নেইমারের মধ্যে অদ্ভুত এক মিল দেখা যাচ্ছে। তিনজনই জাতীয় দলের হয়ে তাদের শেষ গোলটি করেছেন পেনাল্টি থেকে।

যারা একসময় ফুটবলবিশ্বকে তাদের পায়ের জাদু দিয়ে মুগ্ধ করেছিলেন, সময়ের পরিক্রমায় তাদের আন্তর্জাতিক অধ্যায়ে বিদায়ের সুরও বেজে উঠেছে। পাঁচ মাসের ব্যবধানে তাদের জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত যেন একটি স্বর্ণালি ফুটবল যুগের সমাপ্তির বার্তা দিচ্ছে।

এই তিন তারকার বিদায়ের গল্পে প্রথমেই উঠে আসে নেইমারের নাম। ব্রাজিলের জার্সিতে দীর্ঘকাল আলো ছড়ানো এই ফরোয়ার্ডের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোলটি ছিল পেনাল্টি থেকে। বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে সেই গোলটি করলেও তিনি শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেননি। এরপর ২৮ জুলাই জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার ঘোষণা দেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা।

আরও পড়ুন: এবিজি স্পোর্টস সিটিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের জন্য এশিয়া কাপ

এরপর আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি বিদায়ের ঘোষণা দেন। ৩১ আগস্ট জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত জানান আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই ফুটবলার। দেশের মাটিতে বিদায়ী ম্যাচে বেনিনের বিপক্ষে অ্যাসিস্টের পাশাপাশি পেনাল্টি থেকে গোল করেন তিনি। ফলে জাতীয় দলের হয়ে তার শেষ গোলটিও আসে স্পটকিক থেকে।

সবশেষে আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৫ নভেম্বর পর্তুগালের জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার সিদ্ধান্ত জানান এই তারকা। পর্তুগালের হয়ে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ গোলটিও এসেছে পেনাল্টি থেকে, নেশন্স লিগে।

তিনজনের ফুটবলীয় দর্শন ছিল ভিন্ন। নেইমার পরিচিত ছিলেন তার নান্দনিক ড্রিবলিং ও সৃজনশীলতার জন্য। মেসি বল পায়ে অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস ও গোল করার দক্ষতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার হিসেবে। অন্যদিকে রোনালদো তার পরিশ্রম, গোলক্ষুধা, শারীরিক সক্ষমতা ও অদম্য মানসিকতা দিয়ে গড়েছেন অনন্য এক ক্যারিয়ার।

একসময় এই তিন তারকাকে ঘিরেই ফুটবলবিশ্বের বড় বড় আলোচনা চলত। কে সেরা, কার গোল বেশি, কার শিরোপা বেশি কিংবা কার পায়ের জাদু সবচেয়ে আকর্ষণীয়—এসব বিতর্কে বিভক্ত থাকতেন সমর্থকেরা। এখন সেই বিতর্কের জায়গা নিচ্ছে তাদের রেখে যাওয়া স্মৃতি ও অর্জনের আলোচনা।

আরও পড়ুন: সিলেটে হৃদয়ের রেকর্ডময় দিন

তাদের জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর মাধ্যমে ফুটবলে একটি বিশেষ সময়ের অবসান ঘটছে। নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা হয়তো ভবিষ্যতে তাদের রেকর্ড ভাঙবেন, নতুন ইতিহাসও গড়বেন। তবে একই সময়ে মেসি, রোনালদো ও নেইমারের মতো তিন তারকার আধিপত্য, জনপ্রিয়তা ও প্রভাবের পুনরাবৃত্তি সহজ হবে না।

ফুটবল চলবে, নতুন তারকার জন্ম হবে, নতুন প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তৈরি হবে। কিন্তু মেসির বাঁ পায়ের জাদু, রোনালদোর গোল উদ্‌যাপন এবং নেইমারের নান্দনিক ড্রিবলিং এই তিন তারকার সম্মিলিত উপস্থিতির স্মৃতি ফুটবলপ্রেমীদের কাছে থেকে যাবে দীর্ঘদিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০ বছর পর পাকিস্তানের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ফিরছে তুরস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


২০ বছর পর পাকিস্তানের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ফিরছে তুরস্ক

প্রায় দুই দশক পর পাকিস্তানের সমুদ্রসীমায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে যাচ্ছে আংকারা ও ইসলামাবাদ। এই লক্ষ্যে, তুরস্কের একটি সিসমিক জরিপ জাহাজ আগামী ১৭ থেকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে করাচি বন্দরে পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

পাকিস্তানের পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক শুক্রবার জানিয়েছেন, এই উদ্যোগে সরকার তুরস্ককে সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। তিনি জাহাজটির আগমনকে দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তুরস্কের পেট্রোলিয়াম অফশোর কোম্পানির (টিপিওসি) পরিচালিত জাহাজটির আগমন এবং অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

এই উদ্যোগ পাকিস্তানের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন গতি আনবে। একই সঙ্গে, দেশটির সম্ভাবনাময় কিন্তু এখনো অনাবিষ্কৃত সামুদ্রিক জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান এবং পাকিস্তান-তুরস্ক জ্বালানি সহযোগিতা জোরদারে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: জিও নিউজ

আরএ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খাজা বল টেম্পারিংয়ে পুরো অস্ট্রেলিয়া দল জড়িত ছিল বলে দাবি করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


খাজা বল টেম্পারিংয়ে পুরো অস্ট্রেলিয়া দল জড়িত ছিল বলে দাবি করেছেন

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার উসমান খাজা বিস্ফোরক দাবি করেছেন। ২০১৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় ঘটে যাওয়া বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় পুরো অস্ট্রেলিয়া দল জড়িত ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। খাজা জানান, কেপটাউন টেস্টের আগে পোর্ট এলিজাভেত টেস্টেও তারা স্যান্ডপেপার ব্যবহার করেছিলেন।

নিজের আত্মজীবনী ‘সবর’ প্রকাশিত হওয়ার কয়েকদিন আগে খাজা নাইন পত্রিকাকে এই তথ্য প্রদান করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার তদন্তে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) কর্তৃক নিয়োগ করা তদন্তকারী তাকে কখনো জিজ্ঞাসাবাদ করেননি, যদিও তিনি ড্রেসিংরুমে ক্যামেরন ব্যানক্রফটের পাশেই বসতেন।

খাজা জানান, তার আত্মজীবনীতে এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। বইটি সম্পর্কে তিনি ইতিমধ্যে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক প্যাট কামিন্স এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গকে অবহিত করেছেন। উল্লেখ্য, কোনো প্রতিষ্ঠিত লেখক কিংবা সাংবাদিকের সহায়তা ছাড়াই খাজা নিজেই বইটি রচনা করেছেন।

নাইনকে খাজা বলেন, “আমরা সবাই এতে জড়িত ছিলাম। শুধু ব্যাটাররা নয়, শুধু বোলাররা নয়, শুধু সাপোর্ট স্টাফরাও নয়; আমরা সবাই।” এতদিন ধরে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া, সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য জনসমক্ষে দেওয়া হয়েছিল, তা হলো, এই ঘটনায় কেবল স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার ও ব্যানক্রফট দায়ী ছিলেন।

স্মিথ ও ওয়ার্নারকে আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অন্যদিকে ব্যানক্রফটকে নয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সে সময় টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক থাকা ওয়ার্নারকে আন্তর্জাতিক ও অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটে আজীবনের জন্য সব ধরনের নেতৃত্বের দায়িত্ব থেকেও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালে সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।

খাজা জানিয়েছেন, সত্য প্রকাশের দায়িত্ব নিতে তিনি চাননি। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি মনে করেছেন, বিষয়টি প্রকাশ করা তাঁর নৈতিক দায়িত্ব। তিনি বলেন, “আদর্শ পরিস্থিতিতে আমি চাই না, আমাকে এসব করতে হোক। আমিই যে সামনে এসে সত্যিটা বলব, সেটাও চাই না। সমস্যা হলো, আট বছর পরও সত্যটা প্রকাশিত হবে বলে আমি সত্যিই ভেবেছিলাম।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রবি মৌসুমে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষককে ৯৬ কোটি টাকার প্রণোদনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৫ পি.এম


রবি মৌসুমে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষককে ৯৬ কোটি টাকার প্রণোদনা

ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রবি মৌসুমে সাতটি ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষককে প্রণোদনা প্রদান করা হবে।

সরকারি এই কর্মসূচির আওতায় সরিষা, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মসুর, খেসারি ও অড়হর চাষের জন্য কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার সরবরাহ করা হবে। এ জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।

কৃষি মন্ত্রণালয় গত ২ নভেম্বর এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে।

মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ স্বাক্ষরিত আদেশে প্রণোদনা কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দ, উপকারভোগী নির্বাচন, উপকরণ বিতরণ ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সাতটি ফসলের মধ্যে সরিষা চাষে সবচেয়ে বেশি কৃষককে সহায়তা প্রদান করা হবে। এ খাতে ১২ লাখ ৯০ হাজার কৃষকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৪২ কোটি ২৪ লাখ টাকার পরিবর্তে ৬৪২ দশমিক ২৪ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৬ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকা।

চিনাবাদাম চাষের জন্য ৩৫ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সয়াবিনে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ৯৮ লাখ টাকা, মুগে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, মসুরে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, খেসারিতে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং অড়হরে পাঁচ হাজার কৃষকের জন্য ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি বরাদ্দ অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে অর্থ বণ্টন করবে।

পরে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক নির্বাচন করে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করবে।

একজন কৃষক পরিবারকে সাতটি ফসলের মধ্যে যেকোনো একটির জন্য প্রণোদনা দেওয়া যাবে। একই কৃষক পরিবারকে একাধিক ফসলের জন্য এ সহায়তা দেওয়া যাবে না।

একজন কৃষক এক বিঘা জমির জন্য সরিষার এক কেজি, চিনাবাদামের ১০ কেজি, সয়াবিনের চার কেজি, মুগের দুই কেজি, মসুরের তিন কেজি, খেসারির আট কেজি অথবা অড়হরের দুই কেজি বীজ পাবেন।

সার বিতরণের ক্ষেত্রেও ফসলভিত্তিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরিষা ও সয়াবিনের ক্ষেত্রে ১০ জন কৃষকের একটি পুলের জন্য ১০ কেজির এক বস্তা ডিএপি ও ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার দেওয়া হবে।

চিনাবাদাম, মুগ, মসুর ও খেসারি চাষের ক্ষেত্রে ১০ জনের একটি পুলে ২০ কেজির দুই বস্তা ডিএপি ও ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার বরাদ্দ থাকবে। অড়হর চাষের ক্ষেত্রেও ১০ জনের একটি পুলের জন্য একই পরিমাণ সার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় ১০ জন কৃষককে নিয়ে পুল গঠন করে পাশাপাশি ১০ বিঘা বা তার বেশি জমিতে একটি ব্লকভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক নির্বাচন ও উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রে নতুন আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন এলাকাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।

উপকরণ বিতরণের সময় কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষি কার্ডে সহায়তার বিবরণ লিখতে হবে। উপকরণ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে কৃষকের স্বাক্ষর বা টিপসই নিতে হবে।

তালিকাভুক্ত কৃষক ছাড়া অন্য কাউকে এসব উপকরণ দেওয়া যাবে না। কৃষককে নিজে উপস্থিত হয়ে উপকরণ গ্রহণ করতে হবে।

সরকারি আদেশে আরও বলা হয়েছে, উপকারভোগী কৃষকদের তালিকা জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। উপকরণ বিতরণ শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে এবং ফসল কর্তন শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।

কর্মসূচির অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬ (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫ (পিপিআর) অনুসরণসহ প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান প্রতিপালন করতে হবে। বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

প্রণোদনা কার্যক্রমের অর্থ ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব ও অব্যয়িত অর্থ ফেরতের চালানের অনুলিপি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠাতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এ কর্মসূচিতে অগ্রিম উত্তোলিত অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৭-এর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।

এ ছাড়া কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা বীজ ও সারের মান নিশ্চিত করা, উপকরণ বিতরণ ও অর্থ ব্যয়ের পুরো প্রক্রিয়া নিয়মিত পরিবীক্ষণ এবং চলমান অন্যান্য পুনর্বাসন কর্মসূচির সঙ্গে যাতে দ্বৈততা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধের আশঙ্কায় ৫০০ রোগী ঝুঁকিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৭ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:০৬ পি.এম


ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধের আশঙ্কায় ৫০০ রোগী ঝুঁকিতে

রাজধানীর জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট (নিকডু) এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় পরিচালিত ডায়ালাইসিস সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২৯ নভেম্বর এই সেবা পরিচালনার চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এর ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামের প্রায় ৫০০ দরিদ্র ও অসচ্ছল কিডনি রোগীর নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ডায়ালাইসিস সেবা সচল রাখা ও চুক্তি নবায়নের দাবিতে আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের মওলানা মোহাম্মদ আকরম খাঁ হলে সংবাদ সম্মেলন করেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। ‘ডায়ালাইসিস সেন্টার (পিপিপি) রক্ষা ও রোগী কল্যাণ কমিটি’ আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন।

তাদের দাবি, রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে, বিকল্প ব্যবস্থা না করে সেন্টার দুটি বন্ধ করে দেওয়া হলে নিয়মিত ডায়ালাইসিসের ওপর নির্ভরশীল রোগীদের জীবন চরম ঝুঁকিতে পড়বে। সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের সুযোগ সীমিত এবং সেখানে সেবার মান নিয়ে নানা সমস্যা রয়েছে। এ অবস্থায় পিপিপি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে অথবা বিকল্প কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেবাটি চালু রাখা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে কিডনি রোগীর স্বজন মো. লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ডায়ালাইসিস সেবা নেওয়ার কথা বলা হলেও বাস্তবে রোগীদের নানা ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয়। তার ভাষায়, সরকারি ব্যবস্থায় স্বল্প খরচে চিকিৎসার যে ধারণা দেওয়া হয়, বাস্তব পরিস্থিতি তার সঙ্গে মেলে না। পরোক্ষ ও আনুষঙ্গিক খরচসহ প্রতিবার ডায়ালাইসিসে কমপক্ষে ২ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারি ডায়ালাইসিস ব্যবস্থার পাঁচটি বড় সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা হয়। আয়োজকদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের জন্য শুরুতেই ২০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিতে হয়। এতে মাত্র ছয় মাস সেবা পাওয়া যায়। এর মধ্যে রোগীর মৃত্যু হলে অব্যবহৃত টাকার অংশ ফেরত পাওয়া যায় না।

এ ছাড়া সপ্তাহে দুবার ডায়ালাইসিসের সুযোগ থাকায় যেসব রোগীর সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস প্রয়োজন, তারা বিপাকে পড়েন। একজন রোগীর জন্য মাসে মাত্র দুটি ডায়ালাইজার বরাদ্দ থাকে। ফলে একই ডায়ালাইজার হাতে ধুয়ে বারবার ব্যবহার করতে হয় বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। তাদের দাবি, যথাযথভাবে জীবাণুমুক্ত না করার কারণে রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, জনবল সংকটের পাশাপাশি ডায়ালাইসিস মেশিন ও রক্তচাপ মাপার যন্ত্র প্রায়ই অকার্যকর থাকে। এ কারণে নির্ধারিত চার ঘণ্টার পরিবর্তে অনেক সময় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ডায়ালাইসিস করেই সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। হ্যান্ড স্যানিটাইজার, টেপ, গ্লাভস, স্যালাইনসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডায়ালাইসেটও রোগীদের নিজেদের টাকায় কিনতে হয়। নতুন রোগীদের ডায়ালাইসিস শুরুর আগে হেপাটাইটিস পরীক্ষা না করানোর অভিযোগও করেন স্বজনেরা।

তাদের আশঙ্কা, এতে হেপাটাইটিস নেগেটিভ রোগীরাও পরবর্তী সময়ে সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, গত আট বছর ধরে পরিবারের সদস্যের ডায়ালাইসিসের খরচ জোগাতে গিয়ে তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সপ্তাহে তিন দিন ডায়ালাইসিস করানোর ব্যয় বহন করা তাদের পক্ষে কঠিন। সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে গেলে নানা ধরনের হয়রানি ও অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়তে হয়।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন, আমাদের বাঁচা-মরার বিষয়টি বিবেচনা করে পিপিপির মাধ্যমে অথবা অন্য কোনো ভালো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সেন্টারটি সচল রাখুন।’

আরেক রোগীর স্বজন মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিস মেশিন থাকলেও সেবার মান নিয়ে রোগীদের হতাশা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী সময়সূচি পাওয়াও কঠিন। অন্যদিকে পিপিপি প্রকল্পের আওতায় তুলনামূলক কম খরচে যত্নসহকারে সেবা পাওয়া যায়।

শারমিন মির্জা নামের আরেক স্বজন বলেন, সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণের সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় পিপিপি সেন্টার বন্ধ হয়ে গেলে রোগীদের জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনের শেষাংশে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, চিকিৎসা পাওয়া নাগরিকের মৌলিক অধিকার। রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মুমূর্ষু কিডনি রোগীদের চিকিৎসা যেন বন্ধ না হয়। তাই নিকডুসহ দুই হাসপাতালের পিপিপি ডায়ালাইসিস সেন্টারের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন রোগীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%