০৪:০৫ পি.এম
ঢাকা, ৭ নভেম্বর, ২০২৬ : ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রবি মৌসুমে সাতটি ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ১৪ লাখ ৬০ হাজার কৃষককে প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
সরকারি এই কর্মসূচির আওতায় সরিষা, চিনাবাদাম, সয়াবিন, মুগ, মসুর, খেসারি ও অড়হর চাষের জন্য কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার সরবরাহ করা হবে। এ জন্য মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৯৮ কোটি ৮৯ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা।
কৃষি মন্ত্রণালয় গত ২ নভেম্বর এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করেছে।
আরও পড়ুন: এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়ন আবেদনের সময়সীমা বৃদ্ধি, ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন
মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ সুহেল মাহমুদ স্বাক্ষরিত আদেশে প্রণোদনা কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দ, উপকারভোগী নির্বাচন, উপকরণ বিতরণ ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, সাতটি ফসলের মধ্যে সরিষা চাষে সবচেয়ে বেশি কৃষককে সহায়তা প্রদান করা হবে। এ খাতে ১২ লাখ ৯০ হাজার কৃষকের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৪২ কোটি ২৪ লাখ টাকার পরিবর্তে ৬৪২ দশমিক ২৪ লাখ টাকা, অর্থাৎ ৬ কোটি ৪২ লাখ ২৪ হাজার টাকা।
চিনাবাদাম চাষের জন্য ৩৫ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সয়াবিনে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ৯৮ লাখ টাকা, মুগে ৩০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, মসুরে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, খেসারিতে ২০ হাজার কৃষকের জন্য ৩ কোটি ১৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং অড়হরে পাঁচ হাজার কৃষকের জন্য ৩৭ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি বরাদ্দ অনুযায়ী উপজেলা পর্যায়ে অর্থ বণ্টন করবে।
আরও পড়ুন: টেকনাফে মানবপাচারকারীদের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিল যৌথ বাহিনী
পরে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক নির্বাচন করে উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করবে।
একজন কৃষক পরিবারকে সাতটি ফসলের মধ্যে যেকোনো একটির জন্য প্রণোদনা দেওয়া যাবে। একই কৃষক পরিবারকে একাধিক ফসলের জন্য এ সহায়তা দেওয়া যাবে না।
একজন কৃষক এক বিঘা জমির জন্য সরিষার এক কেজি, চিনাবাদামের ১০ কেজি, সয়াবিনের চার কেজি, মুগের দুই কেজি, মসুরের তিন কেজি, খেসারির আট কেজি অথবা অড়হরের দুই কেজি বীজ পাবেন।
সার বিতরণের ক্ষেত্রেও ফসলভিত্তিক পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। সরিষা ও সয়াবিনের ক্ষেত্রে ১০ জন কৃষকের একটি পুলের জন্য ১০ কেজির এক বস্তা ডিএপি ও ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: ধর্মমন্ত্রীর আহ্বান: দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে ঐক্যবদ্ধ থাকুন
চিনাবাদাম, মুগ, মসুর ও খেসারি চাষের ক্ষেত্রে ১০ জনের একটি পুলে ২০ কেজির দুই বস্তা ডিএপি ও ১০ কেজির এক বস্তা এমওপি সার বরাদ্দ থাকবে। অড়হর চাষের ক্ষেত্রেও ১০ জনের একটি পুলের জন্য একই পরিমাণ সার দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় ১০ জন কৃষককে নিয়ে পুল গঠন করে পাশাপাশি ১০ বিঘা বা তার বেশি জমিতে একটি ব্লকভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। কৃষক নির্বাচন ও উপকরণ বিতরণের ক্ষেত্রে নতুন আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন এলাকাকে অগ্রাধিকার দিতে বলা হয়েছে।
উপকরণ বিতরণের সময় কৃষকের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল ফোনের নম্বর সংরক্ষণ করতে হবে। কৃষি কার্ডে সহায়তার বিবরণ লিখতে হবে। উপকরণ গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে কৃষকের স্বাক্ষর বা টিপসই নিতে হবে।
তালিকাভুক্ত কৃষক ছাড়া অন্য কাউকে এসব উপকরণ দেওয়া যাবে না। কৃষককে নিজে উপস্থিত হয়ে উপকরণ গ্রহণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: চিকিৎসার জন্য অনুদান নিলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার শঙ্কা
সরকারি আদেশে আরও বলা হয়েছে, উপকারভোগী কৃষকদের তালিকা জেলা ও উপজেলা কার্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে। উপকরণ বিতরণ শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে এবং ফসল কর্তন শেষ হওয়ার ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে পাঠাতে হবে।
কর্মসূচির অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারি ক্রয় আইন ২০০৬ (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয় বিধিমালা ২০২৫ (পিপিআর) অনুসরণসহ প্রচলিত আর্থিক বিধিবিধান প্রতিপালন করতে হবে। বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
প্রণোদনা কার্যক্রমের অর্থ ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব ও অব্যয়িত অর্থ ফেরতের চালানের অনুলিপি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠাতে হবে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এ কর্মসূচিতে অগ্রিম উত্তোলিত অর্থ আগামী ৩০ জুন ২০২৭-এর মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।
এ ছাড়া কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা বীজ ও সারের মান নিশ্চিত করা, উপকরণ বিতরণ ও অর্থ ব্যয়ের পুরো প্রক্রিয়া নিয়মিত পরিবীক্ষণ এবং চলমান অন্যান্য পুনর্বাসন কর্মসূচির সঙ্গে যাতে দ্বৈততা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাণিজ্যমন্ত্রী: পোশাকশিল্পের শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে এসেছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন