ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়নে দ্রুত জাতীয় কৌশল প্রণয়ন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্র


বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়নে দ্রুত জাতীয় কৌশল প্রণয়ন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্র

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : দেশের ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পকে পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে দ্রুত একটি ‘জাতীয় কৌশল’ প্রণয়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি জানান, সরকার জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং এই খাতের উন্নয়ন ও উচ্চমানের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে।

আজ রোববার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘জেনেরিক থেকে বায়োসিমিলার ও ভ্যাকসিন : বায়ো-ইকোনমির পথে বাংলাদেশের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিল বায়োটিইডি সোমরু বায়োসায়েন্স এবং সহযোগী হিসেবে ছিল জেনএক্স।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে আগুনে পুড়ল মসজিদ, গুদাম ও দোকান

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, আমাদের ফার্মাসিউটিক্যাল খাত একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় গড়ে উঠেছে এবং এখন সময় এসেছে এটিকে বায়োসিমিলার, ভ্যাকসিন ও বায়োটেকনোলজির মতো উচ্চপর্যায়ের ধাপে রূপান্তরিত করার। এটিকে কেবল স্বাস্থ্য সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যাবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি বা বায়ো-ইকোনমির লেন্স দিয়েও দেখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামী ৩-৫ বছরের মধ্যে সঠিক মান ও আন্তর্জাতিক স্কেল বজায় রেখে বায়োফার্মাসিউটিক্যাল ও ভ্যাকসিন গবেষণার জন্য প্রাথমিক অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। নতুন এই রূপান্তরে প্রায় ১০ হাজার প্রশিক্ষিত দক্ষ মানবসম্পদ প্রয়োজন হবে। সরকার সাধারণ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিজ্ঞান ও গবেষণাকেন্দ্রিক উচ্চপর্যায়ের (হাই-এন্ড) কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, কনট্র্যাক্ট রিসার্চ অর্গানাইজেশন (সিআরও) প্রতিষ্ঠা ও বায়োসিমিলার নিয়ে নিজস্ব গবেষণার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী শিল্পোদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য সরকারি উদ্যোগে ‘শেয়ার্ড ফ্যাসিলিটিজ’ বা কেন্দ্রীয় ল্যাব সুবিধা তৈরির আশ্বাস দেন।

আরও পড়ুন: হাসনাত আব্দুল্লাহ: সংখ্যালঘু নির্যাতন ও ধর্মীয় উগ্রবাদ আ.লীগের রাষ্ট্রীয় মদদে সাজানো

তরুণ গবেষকদের সুযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতের বাজেট থেকে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মলিকুলার বায়োলজি ল্যাব স্থাপন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তরুণ গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা তহবিল (রিসার্চ ফান্ডিং) বাড়ানোর বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে আইসিডিডিআরবি প্রধান নির্বাহী ডা. তাহমিদ আহমেদ, বায়োটিইডির প্রধান নির্বাহী সওগাতুল ইসলাম, বিএমআরসির পরিচালক ডা. কাজী সাইফুদ্দিন বেননূর, জেনেক্স হেলথের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ডা. মুনিয়া আমিন, ইউনিমেড ইউনি হেলথের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোসাদ্দেক হোসাইন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সোহেল রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বেগম জিয়াকে স্লো-পয়জনিং করা হয়েছে, তদন্ত প্রয়োজন: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১২ পি.এম


বেগম জিয়াকে স্লো-পয়জনিং করা হয়েছে, তদন্ত প্রয়োজন: রিজভী

প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্লো-পয়জনিং করার দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

রোববার (১৬ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি অডিটোরিয়ামে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, বেহেশতের সমস্ত কিছু যেন বেগম খালেদা জিয়ার কাছে পৌঁছায়। প্রতিটি মুহূর্ত তিনি মানুষের স্বপক্ষে কথা বলতেন। ১/১১ এর সময়ে চিকিৎসার জন্য বাইরে গিয়েছিলেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা। কিন্তু খালেদা জিয়াকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি। তাকে স্লো পয়জন করা হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। রোগে-শোকে ভুগতে ভুগতে তার সময় পূর্ণ হলো।

তিনি উল্লেখ করেন, বেগম জিয়া ছিলেন একজন আপসহীন নেত্রী। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনে কথা ও কাজের মধ্যে অভূতপূর্ব মিল তৈরি করেছেন। ফারাক্কার পানির জন্য জাতিসংঘে গিয়েছিলেন তিনি। কণ্ঠকে কখনো দুর্বল হতে দেননি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফরের সময় প্রথম তিনি রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ফোরাম গঠনের অনুরোধ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দুই সরকারের সময়ে নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে, তা ছিল দুর্দান্ত। কিন্তু পরবর্তীতে যা হয়েছে, সব ছিল চক্রান্ত। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে বেগম জিয়া কখনো আপস করেননি। যখন তার বিরুদ্ধে লাগাতার ষড়যন্ত্র হয়েছে, তখন আমরা আন্দোলনে নামতে চাইলাম, কিন্তু তিনি বলেছেন, প্রস্তুতি নাও, কিন্তু আমরা আইনি লড়াই করবো। আইনের প্রক্রিয়া থেকে তিনি কখনো বিচ্যুত হননি। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল।

রিজভী আরও বলেন, লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে, এটি প্রমাণ করছে তিনি হচ্ছেন বেগম খালেদা জিয়া। যাকে নিয়ে ছোট পরিসরে আলোচনা সম্ভব নয়। গোটা পৃথিবীকে তিনি ছায়া দিয়ে রাখতে চেয়েছেন। জাতি কখনো তার অবদান ভুলবে না। রাষ্ট্রে এবং সমাজে গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত রাখতে পারলেই বেগম জিয়াকে যথাযথ সম্মান জানানো হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হবিগঞ্জে এসএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হার অর্জনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দায়ী ঃ জেলা শিক্ষা অফিসার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ রহমত আলী হবিগঞ্জ

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:১৩ পি.এম


হবিগঞ্জে এসএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হার অর্জনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দায়ী ঃ জেলা শিক্ষা অফিসার

শিক্ষার্থী অনুপস্থিতি, অভিভাবকদের অসচেতনতা, প্রধান শিক্ষকগণের উদাসীনতা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের নেতিবাচক মনিটরিং এর প্রভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা দিন দিন পিছিয়ে পরার ফলে এসএসসি ২০২৬ পরিক্ষায় হবিগঞ্জ জেলা অনাকাঙ্ক্ষিত সর্বনিম্ন পাসের হার অর্জন করেছে। এমন মন্তব্য প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফরিদা নাজমীন।

তিনি বলেন জেলার ৯টি উপজেলায় এবার এসএসসিতে ১৫ হাজার ৬৯৪ জন
শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ নেয়।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হবিগঞ্জ জেলায় পাসের হার ৫৫.৪০% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৫ জন শিক্ষার্থী।
যা সিলেট বিভাগের মধ্যেে সর্বনিম্ন।

ফরিদা নাজমীন বলেন হবিগঞ্জ জেলায় এবার এসএসসিতে পাসের হার নিম্নমুখী হয়ার প্রাথমিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের চরম উদাসিনতা, শিক্ষার্থী অনুপস্থিতি, অভিভাবক অসচেতনতা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের নেতিবাচক মনিটরিংয়ের প্রভাবে এমন অবস্থা দাবিয়েছ ।

তিনি বলেন একজন পিয়ন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ার আগে যদি প্রধান শিক্ষক উপস্থিত থাকেন তাহলে ওই বিদ্যালয়ের অন্য কোন শিক্ষক বিলম্বে উপস্থিত হয়ার কোন সুযোগ থাকে না।
প্রধান শিক্ষকদের অব্যবস্থাপনার ফলে দিন দিন হবিগঞ্জে শিক্ষার মান নিম্নমুখী হচ্ছে।
তাই প্রধান শিক্ষকগণ যেমন সেই বিদ্যালয়ের পড়ালেখা মানও তেমন।

তিনি বলেন অভিভাবকগণের অসচেতনতার প্রভাবের ফলে তাদের সন্তানরা ক্রমশই পিছিয়ে পড়েছে।

নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত, যথাযথ জ্ঞন অর্জন হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তেমন কোনো খুঁজ খবরও রাখছেন না তারা।

কিন্তু আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ পাসের হার জেলার মধ্যে সর্ব নিম্ন রয়েছে।
তবে প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারনে হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিখন কাজে অংশ নিতে পারে না। কিন্তু অনুকুল পরিবেশে পাঠদান কার্যক্রম দ্রুতশীল করা হলে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

জেলা শিক্ষা অফিসার জানান বিদ্যালয় মনিটরিং নিয়মিত হচ্ছে না কারন সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার পদ ১ টি,
সহকারী পরিদর্শক ৩ টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ৪ টি একাডেমিক সুপারভাইজার ৩ টি শূন্য পদে জনবল না থাকায় বিদ্যালয় মনিটরিং কাযক্রম অনেকটা মন্থর গতিতে চলছে। ফলে যে যেভাবে পারছেন সেই ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্টান পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন আমাদে স্বল্প জনবল নিয়েই ২০২৭ সালের এস এস সি পরিক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকে কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি। এবং নিজেই জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান পরিদর্শন করার পত্যয় ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবসরের পর ক্রিকেট উপভোগ করছেন ক্লাসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৫ পি.এম


অবসরের পর ক্রিকেট উপভোগ করছেন ক্লাসেন

অবসর নেওয়ার পর, ক্লাসেন ক্রিকেটকে উপভোগ করছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার হেনরিখ ক্লাসেন সাত বছরের মাথায় আচমকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ান। অবসর ভেঙে ফেরার বিষয়ে আলোচনা হলেও, ক্লাসেন সোজাসাপটা কথা বলেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে আসার সুফলগুলোর কথা তুলে ধরেছেন।

তিনি ২০২৫ সালের ২রা জুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। ক্লাসেন ৪টি টেস্ট, ৬০টি ওয়ানডে এবং ৫৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন। তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি ছিল ওই বছরের মার্চ মাসে লাহোরে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল, যেখানে নিউজিল্যান্ডের কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা পরাজিত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার পর, ক্লাসেন পুরোপুরি ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মনোযোগ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে সরে আসার ফলে তিনি বড় টুর্নামেন্টগুলোর মাঝে নিজের সময়সূচি এবং শারীরিক পুনরুদ্ধারের (রিকভারি) বিষয়টি ভালোভাবে সামলানোর সুযোগ পেয়েছেন, যা তিনি আগে পাননি।

ক্লাসেন জানান, অবসর নেওয়ার কারণে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিজের সময়সূচি ও বিশ্রামের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় দিতে পারছেন। তিনি জিওস্টারকে জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ফলে তিনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাঝে বিরতি নেওয়ার স্বাধীনতা পেয়েছেন। অধিকাংশ প্রতিযোগিতার মধ্যে তিনি প্রায় এক মাস, দেড় মাস বা দুই মাসের মতো সময় পাচ্ছেন। ফলে নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া, সবকিছু উপলব্ধি করার পাশাপাশি নিজের উন্নতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারছেন।

আইপিএলের চলতি বছরের মৌসুমে ক্লাসেন ১৫টি ইনিংসে ৬২৪ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ছয়টি হাফ-সেঞ্চুরি ছিল। এর মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার ধারাবাহিক ফর্মের প্রমাণ পাওয়া যায়। ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টে ‘ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস’ হয়ে তিনি ৭টি ইনিংসে ২৩.৭১ গড় ও ১৮২.৪১ স্ট্রাইক রেটে মোট ১৬৬ রান করেন, যার মধ্যে দুটি হাফ-সেঞ্চুরি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই টুর্নামেন্টে তার দল ‘ট্রেন্ট রকেটস’-এর মুখোমুখি হয়েছিল।

কম ম্যাচ খেলার পাশাপাশি তার অব্যাহত পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ বিষয়ে ক্লাসেন স্বীকার করেছেন। তিনি মনে করেন, ট্রফি জয়ের বিষয়টি তার নিজের এবং দলের জন্য একটি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা খরা বা সাফল্যহীন সময় পার করার পর।

তিনি বলেন, ট্রফি জয় করাটা একটা লক্ষ্য। ইদানীং ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না, তাই ব্যক্তিগত লক্ষ্য হলো নিজেকে এবং দলকে এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যাতে ট্রফি জেতা সম্ভব হয়। এছাড়া বর্তমানে কম ক্রিকেট খেলার কারণে খেলার মান বজায় রাখাটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আইপিএলে তার সময়টা ভালো কেটেছে। আগামী রান পাওয়া এবং নিজের স্বাভাবিক মান ধরে রাখার জোর দিচ্ছেন ক্লাসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে সরকার, বিনিয়োগে আগ্রহী জেপি মরগান-গোল্ডম্যান স্যাকস: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে সরকার, বিনিয়োগে আগ্রহী জেপি মরগান-গোল্ডম্যান স্যাকস: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : সরকারের পক্ষ থেকে দেশের অর্থায়ন কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর জন্য বিকল্প অর্থায়নের উৎস খোঁজা হচ্ছে। একই সঙ্গে, দেশে বিনিয়োগের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক, জেপি মরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকসসহ একাধিক বড় বিদেশি ফান্ড ম্যানেজার বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আজ (রোববার) রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘বিল্ডিং ইনভেস্টরস কনফিডেন্স: ফ্রম পলিসি রিফর্ম টু ইফেকটিভ ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক মধ্যাহ্নভোজের সভায় দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ার সময়ে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য প্রায় পুরোপুরি প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা মোটেও সঠিক নয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানত সাধারণত স্বল্পমেয়াদী হলেও, তারা দীর্ঘমেয়াদী ঋণ বিতরণ করছে। তবে, বড় বিনিয়োগের অর্থায়ন পুঁজিবাজারের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী আর্থিক কাঠামো পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল ব্যবস্থার মধ্যেই আটকে আছে। এজন্য সরকার বিকল্প অর্থায়ন খুঁজছে এবং ভবিষ্যতের জন্য অর্থায়নের কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও নতুন অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান চলছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে বিকল্প অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপ‚র্ণ।

আমীর খসরু বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বহু আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের আর্থিক পণ্য ব্যবহার করছে, কিন্তু বাংলাদেশ সেগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। যাহোক, এখন সেই পরিবর্তন শুরু হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই বন্ডের সুদের হার ব্যাংক ঋণের সুদের হারের তুলনায় কম। এ ছাড়া, ইকুইটিভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগও রয়েছে। ফলে অর্থায়নের ব্যয় কমিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পরিবর্তন এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিধিবিধানের সংস্কারের ফলে দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাঝে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদের কাছ থেকে সরকার ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। এক বা দুইজন নয়, বরং বেশ কয়েকজন বড় ফান্ড ম্যানেজার বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে, জেপি মরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু বড় বিনিয়োগ ব্যাংকও বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহী হয়েছে।

তবে, অর্থমন্ত্রী মনে করেন, দেশের বাজার মূলধন এখনো অনেক ছোট। সেকারণে আরো অধিক কোম্পানিকে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে।

ব্যাংক খাতের সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশের আর্থিক খাত, বিশেষভাবে বেশ কিছু ব্যাংক বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে পার করছে। এসব ব্যাংকে মারাত্মক মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অর্থপাচার এবং উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এছাড়া, অনেক আমানতকারী তাঁদের অর্থ তুলতে পারছেন না। আবার অনেক ব্যবসায়ী কার্যকর মূলধন, ঋণপত্র খোলা এবং অন্যান্য অর্থায়ন সংক্রান্ত সমস্যায় পড়ছেন। এর ফলে, ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং সরকারি সহায়তা, উদ্ধার তহবিল এবং অন্যান্য পুনঃমূলধনীকরণ কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কর ব্যবস্থার সংস্কারের পরিকল্পনাও প্রতিপন্ন করেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর কথায়, ব্যবসায়ীদের অন্যতম বড় অভিযোগ হলো কর ব্যবস্থার জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক হয়রানি এবং দুর্নীতি। এইসব সমস্যা দূর করে কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের তুলনায় ও আঞ্চলিক মানদণ্ডে কম। এজন্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি অংশ নীতিনির্ধারণ করবে, অন্য অংশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে একই ব্যক্তিরা করনীতি প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করতেন। নতুন ব্যবস্থায় করনীতি প্রণয়নের দায়িত্ব বিশেষজ্ঞদের হাতে দেওয়া হবে, যাতে নীতিনির্ধারণের সময় ব্যবসা, করদাতা, রাজস্ব আহরণ এবং ভোগব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা হয়।

তিনি আরো জানান, পুরো কর ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যদিও এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধের মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তবুও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়তা বাস্তবায়িত হবে। যাতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে কর ফেরত পাওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম অনলাইনে দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ বা ডিরেগুলেশন নীতির প্রসঙ্গও ওঠে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে অতিনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন হয়েছে।

তিনি আরো জানান, খুব শীঘ্রই একটি ওয়েবসাইট চালু হবে, যেখানে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকরা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের বাধার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সরকার প্রতিদিন এসব অভিযোগ পর্যবেক্ষণ করবে।

রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সরকারের নতুন নীতির কথাও বলেন অর্থমন্ত্রী। তৈরি পোশাকের খাতের বাইরে সকল উদ্যোক্তারা যেসব রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ করতে চান তাদেরকে শুল্কমুক্ত বন্ডেড লাইসেন্স প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন কোন রপ্তানির পণ্য নিয়ে কেউ আসলে, তিনি বন্ডেড গুদাম সুবিধা, করমুক্ত সুবিধা এবং প্রয়োজন অনুসারে ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের সুবিধা পাবেন। যারা বন্ডেড গুদাম ব্যবহার করতে চান না, তারা ব্যাংক গ্যারান্টির আওতাধীন একইরকম সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনীতির অগ্রগতি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এসব সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান খুব দ্রুত সম্ভব নয়।

তিনি জানান, গ্যাস খাতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, স্থলভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়গুলোতে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন বাড়লেও, সঞ্চালন ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

আমীর খসরু বলেন, সরকার একটি সমন্বিত জ্বালানি কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস এবং কয়লাভিত্তিক জ্বালানির মধ্যে সমন্বয় থাকবে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য শক্তিশালী ইন্টারনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শক্তিশালী ইন্টারনেট ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সরকার কোন সমস্যা সমাধানের দাবি করছে না। তবে সরকার সবসময় ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%