ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

হবিগঞ্জে এসএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হার অর্জনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দায়ী ঃ জেলা শিক্ষা অফিসার


হবিগঞ্জে এসএসসিতে সর্বনিম্ন পাসের হার অর্জনে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দায়ী ঃ জেলা শিক্ষা অফিসার

শিক্ষার্থী অনুপস্থিতি, অভিভাবকদের অসচেতনতা, প্রধান শিক্ষকগণের উদাসীনতা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের নেতিবাচক মনিটরিং এর প্রভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা দিন দিন পিছিয়ে পরার ফলে এসএসসি ২০২৬ পরিক্ষায় হবিগঞ্জ জেলা অনাকাঙ্ক্ষিত সর্বনিম্ন পাসের হার অর্জন করেছে। এমন মন্তব্য প্রকাশ করেছেন হবিগঞ্জ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফরিদা নাজমীন।

তিনি বলেন জেলার ৯টি উপজেলায় এবার এসএসসিতে ১৫ হাজার ৬৯৪ জন
শিক্ষার্থী পরিক্ষায় অংশ নেয়।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের অধীনে হবিগঞ্জ জেলায় পাসের হার ৫৫.৪০% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬৭৫ জন শিক্ষার্থী।
যা সিলেট বিভাগের মধ্যেে সর্বনিম্ন।

আরও পড়ুন: সালথা উপজেলা যুবদলের নতুন ৩৫ সদস্যের কমিটি, আহ্বায়ক হাসান আশরাফ ও সদস্য সচিব এনায়েত

ফরিদা নাজমীন বলেন হবিগঞ্জ জেলায় এবার এসএসসিতে পাসের হার নিম্নমুখী হয়ার প্রাথমিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের চরম উদাসিনতা, শিক্ষার্থী অনুপস্থিতি, অভিভাবক অসচেতনতা ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের নেতিবাচক মনিটরিংয়ের প্রভাবে এমন অবস্থা দাবিয়েছ ।

তিনি বলেন একজন পিয়ন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ার আগে যদি প্রধান শিক্ষক উপস্থিত থাকেন তাহলে ওই বিদ্যালয়ের অন্য কোন শিক্ষক বিলম্বে উপস্থিত হয়ার কোন সুযোগ থাকে না।
প্রধান শিক্ষকদের অব্যবস্থাপনার ফলে দিন দিন হবিগঞ্জে শিক্ষার মান নিম্নমুখী হচ্ছে।
তাই প্রধান শিক্ষকগণ যেমন সেই বিদ্যালয়ের পড়ালেখা মানও তেমন।

তিনি বলেন অভিভাবকগণের অসচেতনতার প্রভাবের ফলে তাদের সন্তানরা ক্রমশই পিছিয়ে পড়েছে।

নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত, যথাযথ জ্ঞন অর্জন হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে তেমন কোনো খুঁজ খবরও রাখছেন না তারা।

আরও পড়ুন: অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মামলা, ১০ মরদেহের বিষয়ে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত

কিন্তু আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও নবীগঞ্জ পাসের হার জেলার মধ্যে সর্ব নিম্ন রয়েছে।
তবে প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশের কারনে হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত শিখন কাজে অংশ নিতে পারে না। কিন্তু অনুকুল পরিবেশে পাঠদান কার্যক্রম দ্রুতশীল করা হলে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব।

জেলা শিক্ষা অফিসার জানান বিদ্যালয় মনিটরিং নিয়মিত হচ্ছে না কারন সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার পদ ১ টি,
সহকারী পরিদর্শক ৩ টি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ৪ টি একাডেমিক সুপারভাইজার ৩ টি শূন্য পদে জনবল না থাকায় বিদ্যালয় মনিটরিং কাযক্রম অনেকটা মন্থর গতিতে চলছে। ফলে যে যেভাবে পারছেন সেই ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্টান পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন আমাদে স্বল্প জনবল নিয়েই ২০২৭ সালের এস এস সি পরিক্ষায় আশানুরূপ ফলাফল অর্জনে লক্ষ্য নিয়ে এখন থেকে কাজ চালিয়ে যাবেন তিনি। এবং নিজেই জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টান পরিদর্শন করার পত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও পড়ুন: মুখোশ পরে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবসরের পর ক্রিকেট উপভোগ করছেন ক্লাসেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৫ পি.এম


অবসরের পর ক্রিকেট উপভোগ করছেন ক্লাসেন

অবসর নেওয়ার পর, ক্লাসেন ক্রিকেটকে উপভোগ করছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটার হেনরিখ ক্লাসেন সাত বছরের মাথায় আচমকা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ান। অবসর ভেঙে ফেরার বিষয়ে আলোচনা হলেও, ক্লাসেন সোজাসাপটা কথা বলেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে আসার সুফলগুলোর কথা তুলে ধরেছেন।

তিনি ২০২৫ সালের ২রা জুন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন। ক্লাসেন ৪টি টেস্ট, ৬০টি ওয়ানডে এবং ৫৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন। তার শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচটি ছিল ওই বছরের মার্চ মাসে লাহোরে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনাল, যেখানে নিউজিল্যান্ডের কাছে দক্ষিণ আফ্রিকা পরাজিত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার পর, ক্লাসেন পুরোপুরি ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে মনোযোগ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে সরে আসার ফলে তিনি বড় টুর্নামেন্টগুলোর মাঝে নিজের সময়সূচি এবং শারীরিক পুনরুদ্ধারের (রিকভারি) বিষয়টি ভালোভাবে সামলানোর সুযোগ পেয়েছেন, যা তিনি আগে পাননি।

ক্লাসেন জানান, অবসর নেওয়ার কারণে বিভিন্ন টুর্নামেন্টের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি নিজের সময়সূচি ও বিশ্রামের ক্ষেত্রে অনেক বেশি সময় দিতে পারছেন। তিনি জিওস্টারকে জানান, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ফলে তিনি বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাঝে বিরতি নেওয়ার স্বাধীনতা পেয়েছেন। অধিকাংশ প্রতিযোগিতার মধ্যে তিনি প্রায় এক মাস, দেড় মাস বা দুই মাসের মতো সময় পাচ্ছেন। ফলে নিজেকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া, সবকিছু উপলব্ধি করার পাশাপাশি নিজের উন্নতির বিষয়ে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারছেন।

আইপিএলের চলতি বছরের মৌসুমে ক্লাসেন ১৫টি ইনিংসে ৬২৪ রান সংগ্রহ করেন, যার মধ্যে ছয়টি হাফ-সেঞ্চুরি ছিল। এর মাধ্যমে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তার ধারাবাহিক ফর্মের প্রমাণ পাওয়া যায়। ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টে ‘ম্যানচেস্টার সুপার জায়ান্টস’ হয়ে তিনি ৭টি ইনিংসে ২৩.৭১ গড় ও ১৮২.৪১ স্ট্রাইক রেটে মোট ১৬৬ রান করেন, যার মধ্যে দুটি হাফ-সেঞ্চুরি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই টুর্নামেন্টে তার দল ‘ট্রেন্ট রকেটস’-এর মুখোমুখি হয়েছিল।

কম ম্যাচ খেলার পাশাপাশি তার অব্যাহত পারফরম্যান্সের মান ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ বিষয়ে ক্লাসেন স্বীকার করেছেন। তিনি মনে করেন, ট্রফি জয়ের বিষয়টি তার নিজের এবং দলের জন্য একটি প্রধান লক্ষ্য হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা খরা বা সাফল্যহীন সময় পার করার পর।

তিনি বলেন, ট্রফি জয় করাটা একটা লক্ষ্য। ইদানীং ট্রফি জয়ের ক্ষেত্রে সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না, তাই ব্যক্তিগত লক্ষ্য হলো নিজেকে এবং দলকে এমন অবস্থানে নিয়ে যাওয়া যাতে ট্রফি জেতা সম্ভব হয়। এছাড়া বর্তমানে কম ক্রিকেট খেলার কারণে খেলার মান বজায় রাখাটাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আইপিএলে তার সময়টা ভালো কেটেছে। আগামী রান পাওয়া এবং নিজের স্বাভাবিক মান ধরে রাখার জোর দিচ্ছেন ক্লাসেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে সরকার, বিনিয়োগে আগ্রহী জেপি মরগান-গোল্ডম্যান স্যাকস: অর্থমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:২৯ পি.এম


বিকল্প অর্থায়নের পথ খুঁজছে সরকার, বিনিয়োগে আগ্রহী জেপি মরগান-গোল্ডম্যান স্যাকস: অর্থমন্ত্রী

ঢাকা, ১৬ আগস্ট, ২০২৬ : সরকারের পক্ষ থেকে দেশের অর্থায়ন কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর জন্য বিকল্প অর্থায়নের উৎস খোঁজা হচ্ছে। একই সঙ্গে, দেশে বিনিয়োগের প্রতি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক, জেপি মরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকসসহ একাধিক বড় বিদেশি ফান্ড ম্যানেজার বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

আজ (রোববার) রাজধানীর একটি হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘বিল্ডিং ইনভেস্টরস কনফিডেন্স: ফ্রম পলিসি রিফর্ম টু ইফেকটিভ ইমপ্লিমেন্টেশন’ শীর্ষক মধ্যাহ্নভোজের সভায় দীর্ঘ বক্তব্য দেওয়ার সময়ে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্য প্রায় পুরোপুরি প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা মোটেও সঠিক নয়। বাণিজ্যিক ব্যাংকের আমানত সাধারণত স্বল্পমেয়াদী হলেও, তারা দীর্ঘমেয়াদী ঋণ বিতরণ করছে। তবে, বড় বিনিয়োগের অর্থায়ন পুঁজিবাজারের মাধ্যমে হওয়া উচিত।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী আর্থিক কাঠামো পরিবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল ব্যবস্থার মধ্যেই আটকে আছে। এজন্য সরকার বিকল্প অর্থায়ন খুঁজছে এবং ভবিষ্যতের জন্য অর্থায়নের কাঠামোকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো ছাড়াও নতুন অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান চলছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য অর্জনে বিকল্প অর্থায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপ‚র্ণ।

আমীর খসরু বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বহু আগে থেকেই বিভিন্ন ধরনের আর্থিক পণ্য ব্যবহার করছে, কিন্তু বাংলাদেশ সেগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। যাহোক, এখন সেই পরিবর্তন শুরু হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই বন্ডের সুদের হার ব্যাংক ঋণের সুদের হারের তুলনায় কম। এ ছাড়া, ইকুইটিভিত্তিক অর্থায়নের সুযোগও রয়েছে। ফলে অর্থায়নের ব্যয় কমিয়ে আনার সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের পরিবর্তন এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিধিবিধানের সংস্কারের ফলে দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মাঝে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি জানান, বিদেশি ফান্ড ম্যানেজারদের কাছ থেকে সরকার ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে। এক বা দুইজন নয়, বরং বেশ কয়েকজন বড় ফান্ড ম্যানেজার বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। একই সাথে, জেপি মরগান ও গোল্ডম্যান স্যাকসের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু বড় বিনিয়োগ ব্যাংকও বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহী হয়েছে।

তবে, অর্থমন্ত্রী মনে করেন, দেশের বাজার মূলধন এখনো অনেক ছোট। সেকারণে আরো অধিক কোম্পানিকে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করতে হবে।

ব্যাংক খাতের সংকটের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জানান, বাংলাদেশের আর্থিক খাত, বিশেষভাবে বেশ কিছু ব্যাংক বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে পার করছে। এসব ব্যাংকে মারাত্মক মূলধন ঘাটতি দেখা দিয়েছে। অর্থপাচার এবং উচ্চমাত্রার খেলাপি ঋণ এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এছাড়া, অনেক আমানতকারী তাঁদের অর্থ তুলতে পারছেন না। আবার অনেক ব্যবসায়ী কার্যকর মূলধন, ঋণপত্র খোলা এবং অন্যান্য অর্থায়ন সংক্রান্ত সমস্যায় পড়ছেন। এর ফলে, ব্যাংকগুলোর পুনঃমূলধনীকরণ বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দিয়ে সব ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি পূরণ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। সুতরাং সরকারি সহায়তা, উদ্ধার তহবিল এবং অন্যান্য পুনঃমূলধনীকরণ কার্যক্রমের সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

কর ব্যবস্থার সংস্কারের পরিকল্পনাও প্রতিপন্ন করেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর কথায়, ব্যবসায়ীদের অন্যতম বড় অভিযোগ হলো কর ব্যবস্থার জটিলতা, আমলাতান্ত্রিক হয়রানি এবং দুর্নীতি। এইসব সমস্যা দূর করে কর ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের তুলনায় ও আঞ্চলিক মানদণ্ডে কম। এজন্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুটি ভাগে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি অংশ নীতিনির্ধারণ করবে, অন্য অংশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অতীতে একই ব্যক্তিরা করনীতি প্রণয়নের দায়িত্ব পালন করতেন। নতুন ব্যবস্থায় করনীতি প্রণয়নের দায়িত্ব বিশেষজ্ঞদের হাতে দেওয়া হবে, যাতে নীতিনির্ধারণের সময় ব্যবসা, করদাতা, রাজস্ব আহরণ এবং ভোগব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা হয়।

তিনি আরো জানান, পুরো কর ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। যদিও এ ক্ষেত্রে প্রতিরোধের মোকাবিলা করতে হচ্ছে, তবুও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয়তা বাস্তবায়িত হবে। যাতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া থেকে শুরু করে কর ফেরত পাওয়া পর্যন্ত সব কার্যক্রম অনলাইনে দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সরকারের নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ বা ডিরেগুলেশন নীতির প্রসঙ্গও ওঠে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে অতিনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পুরো প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন হয়েছে।

তিনি আরো জানান, খুব শীঘ্রই একটি ওয়েবসাইট চালু হবে, যেখানে ব্যবসায়ী এবং সাধারণ নাগরিকরা নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের বাধার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে পারবেন। সরকার প্রতিদিন এসব অভিযোগ পর্যবেক্ষণ করবে।

রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য সরকারের নতুন নীতির কথাও বলেন অর্থমন্ত্রী। তৈরি পোশাকের খাতের বাইরে সকল উদ্যোক্তারা যেসব রপ্তানিমুখী শিল্পে বিনিয়োগ করতে চান তাদেরকে শুল্কমুক্ত বন্ডেড লাইসেন্স প্রদান করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন কোন রপ্তানির পণ্য নিয়ে কেউ আসলে, তিনি বন্ডেড গুদাম সুবিধা, করমুক্ত সুবিধা এবং প্রয়োজন অনুসারে ব্যাক-টু-ব্যাক ঋণপত্রের সুবিধা পাবেন। যারা বন্ডেড গুদাম ব্যবহার করতে চান না, তারা ব্যাংক গ্যারান্টির আওতাধীন একইরকম সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।

বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতের সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, অর্থনীতির অগ্রগতি বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। যদিও এসব সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান খুব দ্রুত সম্ভব নয়।

তিনি জানান, গ্যাস খাতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল, স্থলভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়গুলোতে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন বাড়লেও, সঞ্চালন ব্যবস্থার বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

আমীর খসরু বলেন, সরকার একটি সমন্বিত জ্বালানি কাঠামোর দিকে এগোচ্ছে, যেখানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্যাস এবং কয়লাভিত্তিক জ্বালানির মধ্যে সমন্বয় থাকবে।

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার জন্য শক্তিশালী ইন্টারনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শক্তিশালী ইন্টারনেট ছাড়া ডিজিটাল অর্থনীতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, সরকার কোন সমস্যা সমাধানের দাবি করছে না। তবে সরকার সবসময় ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধানে আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন অ্যামচেম বাংলাদেশের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আদমজী ইপিজেডের রপ্তানি টানা দ্বিতীয়বার ছাড়াল ১ বিলিয়ন ডলার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ পি.এম


আদমজী ইপিজেডের রপ্তানি টানা দ্বিতীয়বার ছাড়াল ১ বিলিয়ন ডলার

 

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) অধীন আদমজী ইপিজেড ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নারায়ণগঞ্জের আদমজী জুট মিলের পরিত্যক্ত শিল্পভূমির উপর গড়ে ওঠা এই ইপিজেডটির রপ্তানির পরিমাণ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

বর্তমানে ইপিজেডটির ৪৭টি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ। এই সব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের পোশাক, ব্রাইডাল পোশাক, সেফটি ফুটওয়্যার, অটোমোটিভ যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পণ্য বিশ্ববাজারে নিয়মিতভাবে রপ্তানি হচ্ছে।

বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) তথ্য অনুযায়ী, আদমজী ইপিজেডে মোট বিনিয়োগ ৮৪৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছে গেছে ইতোমধ্যে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এখান থেকে রপ্তানি হয়েছে মোট ১১ দশমিক ১১২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

ইপিজেডটির বার্ষিক রপ্তানি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এবছরের অর্থবছরে তা আরও বেড়ে ১ দশমিক ১৭৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা মূল প্রকল্প প্রস্তাবে নির্ধারিত ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি।

আদমজী ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মো. আবদুর রহমান মন্তব্য করেছেন যে, টানা দ্বিতীয় অর্থবছরে ইপিজেডটির রপ্তানি ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবে ইপিজেডটি পুরোপুরি চালু হলে বছরে প্রায় ৭৫০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানির ধারণা করা হয়েছিল। তবে, প্রতিষ্ঠার দুই দশক পূর্ণ হওয়ার আগেই ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে গেলে বার্ষিক রপ্তানি দেড় বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ এখনও বেশ ভালো। তথাপি, ইপিজেডের সকল প্লট ইতোমধ্যে বরাদ্দ হয়ে গেছে। তাই, আমরা ইপিজেডটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছি।

বেপজার তথ্য অনুযায়ী, ২৯২ একর আয়তনের আদমজী ইপিজেডে বর্তমানে ৭৬ হাজার ২৭ জন কর্মরত আছেন। যদি নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে যায়, তবে এখানে সরাসরি কর্মসংস্থান ১ লাখ ছাড়াতে পারে।

এখানকার কারখানাগুলোতে টমি হিলফিগার, রালফ লরেন, মাইকেল করস ও ভ্যান হিউসেনের মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের জন্য পোশাক তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি এখানে তৈরি হচ্ছে সেফটি ইকুইপমেন্ট, ফুটওয়্যার ও অটোমোটিভ পণ্য। এসব পণ্য প্রচলিত পোশাকের বাইরে বিশেষায়িত ও উচ্চমূল্যের রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫০ সালে সিদ্ধিরগঞ্জে আদমজী জুট মিলস প্রতিষ্ঠা করা হয় আদমজী পরিবারের দ্বারা। পরবর্তীতে এটিই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পাটকল হিসেবে পরিচিতি পায়। প্রায় ১ হাজার একর জমির উপর গড়ে ওঠা মিলটি শ্রমিক আবাসন, বাজার ও স্কুলসহ একটি বিশাল শিল্পাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে জাতীয়করণ করে বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) অধীনে নেওয়া হয়েছিল মিলটিকে। কিন্তু, আর্থিক লোকসান, ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও শ্রমিক অসন্তোষের কারণে মিলটি ধীরে ধীরে সংকটে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২০০২ সালের ৩০ জুন মিলটি বন্ধ করে দেওয়া হয়, যখন সেখানে কর্মরত ছিলেন প্রায় ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার শ্রমিক।

পরে, পরিত্যক্ত শিল্পভূমিটি নতুনভাবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। ২০০৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর জমিটি বেপজার কাছে হস্তান্তরিত হয় এবং ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে আদমজী ইপিজেড উদ্বোধন করা হয়।

২০০৫-০৬ অর্থবছরে আদমজী ইপিজেডে বিনিয়োগ ছিল মাত্র ৪ মিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি ছিল শূন্য দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার।

দুই দশকের ব্যবধানে পাটকলের স্থান দখল করেছে আধুনিক কারখানা। বর্তমানে একই জমিতে ৪৭টি কারখানা চালু রয়েছে, যেখানে কর্মসংস্থান ঘটেছে ৭৬ হাজারেরও বেশি মানুষের।

মূলত, ঢাকা ও চট্টগ্রামের মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক সুবিধার কারণে স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করেছে আদমজী ইপিজেড। বেপজার প্রত্যাশা, নির্মাণাধীন ১০টি কারখানা উৎপাদনে গেলে ইপিজেডটিতে কর্মসংস্থান ১ লাখেরও বেশি মানুষের হবে; সেইসঙ্গে বার্ষিক রপ্তানি ছাড়াবে দেড় বিলিয়ন ডলার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গাইবান্ধায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৭:৩৩ পি.এম


হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে গাইবান্ধায় অবৈধ ইটভাটায় অভিযান

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে, যা হাইকোর্টের নির্দেশনার বাস্তবায়নের একটি অংশ। এই অভিযানের প্রথম ধাপে উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের বাটি গ্রামে অবস্থিত এআরবি ব্রিকস ইটভাটার চিমনি ভাঙার কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) দুপুর ১ টা ৪৫ মিনিটে এই অভিযান পরিচালনা করেন গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার রোমেন পাল। জেলা পুলিশ থেকে এসআই নাজমুল ইসলাম এবং আনসার সদস্য নায়েক মো. কাসেম অভিযানে সহযোগিতা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধা জেলায় মোট ১২৫টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে বৈধ ইটভাটা মাত্র ১৬টি এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ১০৯টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা রয়েছে।

গাইবান্ধার সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট রোমেন পাল বলেন, "হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাঘাটায় প্রথম পর্যায়ে এআরবি ব্রিকসের চিমনি ভাঙার মধ্য দিয়ে অভিযান শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে হাইকোর্টের নির্দেশনার আওতাধীন অন্যান্য অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%