বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৩:১০ পি.এম
হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পারস্য উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজগুলোর ওপর তেহরানকে নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার জন্য একটি নতুন চুক্তির প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। এটি ইরান ও ওমানের মধ্যে প্রস্তাবিত একটি চুক্তি যা কার্যকর হলে তেহরানকে অনেক বড় ধরনের সুবিধা প্রদান করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এই প্রস্তাবে সহযোগিতা করবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই তথ্যটি রয়টার্সকে জানিয়েছেন একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং দুইজন অন্যান্য আঞ্চলিক কর্মকর্তার মাধ্যমে।
ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের চলমান পাঁচ মাসের উত্তেজনা কমাতে এই উদ্যোগটা নেওয়া হলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য একটি চুক্তি সম্ভবত আসছে। কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা শুরু থেকেই জানিয়ে আসছে যে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জ্বালানি পরিবহন রুটে তেহরানের নিয়ন্ত্রণ তারা কখনোই মানবেন না।
বিশ্লেষকদের মত অনুযায়ী, প্রণালির চলাচলকারী জাহাজের ওপর ইরানকে নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ফলে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যটি তেহরানের পক্ষে পরিচালিত হতে পারে। যুদ্ধের আগে এই প্রণালি সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং এর জন্য কোনো ফি দিতে হতো না।
বর্তমানে কূটনৈতিক সংশোধন হিসেবে ইরান ও ওমান তাদের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশ নিজেদের উত্তর এবং দক্ষিণ চ্যানেল দিয়ে হরমুজ প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করে। ইরান জানায়, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং আসা ও যাওয়া উভয় পথের জাহাজগুলো অবশ্যই ইরানি জলসীমা অতিক্রম করবে।
এদিকে, তেহরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে যে, যদি ইরানি ভূখণ্ডে নতুন করে কোনো মার্কিন হামলা হয় তবে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা হবে। এই তথ্য পাঁচটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানান, ইরানের বার্তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট; যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে তারা উপসাগ্রীয় অঞ্চলের জ্বালানি কেন্দ্রগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে।
এখন পর্যন্ত ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক মিত্রদের লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং তেহরানের অনুমতি ছাড়া আসা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে বাধা দিচ্ছে। তবে লাস ভেগাসে সমর্থকদের এক সমাবেশে ট্রাম্প কূটনীতির প্রতি নিজের পছন্দের কথা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, তিনি চুক্তি করতে আগ্রহী, কারণ তিনি মানুষ হত্যা করতে চান না।
ইরানের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে তিন হাজার চারশর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন জানিয়েছে ১৮ জন মার্কিন সামরিক কর্মী প্রাণ হারিয়েছে।
তবে রয়টার্সের সাক্ষাৎকারে আঞ্চলিক ও ইরানি সূত্রগুলো বলেছেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। চুক্তি এখনই চূড়ান্ত হয়ে গেছে, ট্রাম্পের এ ব্যাপারে বক্তব্যের সাথে তারা দ্বিমত প্রকাশ করেছে।
একটি আঞ্চলিক সূত্র জানায়, হরমুজের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি আগেই মেনে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আরেকটি আঞ্চলিক সূত্র জানায়, ‘নিয়ন্ত্রণ’ শব্দটি কীভাবে সংজ্ঞায়িত হবে তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। উপসাগরীয় মধ্যস্থতাকারীরা চাচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলো যেন জাহাজ পরিদর্শন তদারকি করে এবং যেকোনো ফি প্রদান স্বেচ্ছাধীন থাকে।
জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার মতে, তাদের দেশ এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজের পণ্যের মূল্যের ওপর ৫ থেকে ৭ শতাংশ ফি দাবি করছে। অন্যদিকে, ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে, কিন্তু ওয়াশিংটন কোনো ফি প্রদানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তিনি আরও জানান, খসড়া চুক্তিতে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণের কথা উল্লেখ আছে, কিন্তু উপসাগর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে জাহাজগুলোর ওপর তেহরানের কি ভূমিকা থাকবে, তার উপর মূল মতবিরোধ রয়ে গেছে।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-কে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক জাহাজগুলো আসা এবং যাওয়ার উভয় পথেই ইরানের আঞ্চলিক পানিসীমা অতিক্রম করবে, এমনভাবে কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। উভয় দেশের সাথে আলোচনা মৌলিক সমঝোতায় পৌঁছে গেছে এবং এই অগ্রগতি চূড়ান্ত হওয়ার পর্যায়ে রয়েছেও জানান তিনি।
গারিবাবাদি আরও নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক অভিযান বন্ধ করার বিষয়ে গত জুন মাসের মাঝামাঝি সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের শর্তে ফিরে আসতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য এটি একটি প্রধান শর্ত হলেও সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি কোনো আলোচনা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মার্কিন ভোটারদের একটি বড় অংশ এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাই ট্রাম্পের ওপর সংকট সমাধানের চাপ বাড়ছে। জুলাইয়ে দুই সপ্তাহব্যাপী ব্যাপক হামলা চালিয়েও প্রণালিতে ইরানের দিক থেকে প্রভাব কমানো যায়নি। এছাড়া, মার্কিন সেনাবাহিনীর দূরপাল্লার নিখুঁত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো প্রায় সব ক্ষেপণাস্ত্র নিঃশেষ হয়ে গেছে বলে সামরিক কমান্ডাররা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন।
ট্রাম্প ইরান সংকট অবসানের আলোচনার কথা তুলে ধরে নতুন হামলা স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পরে গত দুই দিনে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের আমলে ব্যাংক খাতের এক তৃতীয়াংশ অর্থ লোপাট হওয়ায় ২ কোটি আমানতকারী এখন বিপাকে পড়েছেন।
গভর্নর আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে গেছে। ব্যাংকিং খাতের এক তৃতীয়াংশ অর্থ চুরি করে নিয়ে গেছে। যেটাকে আমরা খেলাপি বলছি, সেটা আসলে খেলাপি নয়, বরং চুরি।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাচ বাংলা ব্যাংক কর্তৃক আয়োজিত বাংলা কিউআর নিয়ে আলোচনার সময় এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, এই কারণে ২ কোটি আমানতকারী ভোগান্তিতে পড়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকিং খাত ভালোভাবে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপির পরিমাণ ৩৬ শতাংশ। যা এ খাতের জন্য অশনিসংকেত বলে মনে করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার জন্য ১৮ মাসের একটি বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রথম ৬ মাসে বুলেট পেমেন্টের মাধ্যমে এক্সিটের সুযোগ প্রদান করা হবে। বাকি ১ বছরে ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট আইন ও অর্থ ঋণ আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উক্ত আইন দুটি আগামী সংসদ অধিবেশনে পাস হতে পারে।
বেসরকারি খাতে ঋণ বৃদ্ধি করতে সেপ্টেম্বর থেকে ৬০ হাজার কোটি টাকার একটি নতুন প্যাকেজ চালু করা হবে, জানান তিনি। এ সময় জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তায় প্রতিটি উপজেলায় ৫ হাজার নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করার ব্যাপারেও অবহিত করেন গভর্নর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে নদী ও খালপাড় রক্ষায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) ও পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক ড. মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম দেশের নদী ও খালপাড়ের ভাঙন রোধ, উপকূলীয় বাঁধ সংরক্ষণ, চরাঞ্চল ও হাওরের সড়ক এবং সড়ক ও রেললাইনের পাশে কংক্রিটের ব্লক ও জিও ব্লকের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বিন্না ঘাস ব্যবহারের ওপর একটি উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
তিনি উপস্থাপনায় জানান, নদী ও খালপাড়ের ক্ষয়রোধে বিন্না ঘাস একটি কার্যকর, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সমাধান হতে পারে। ইতোমধ্যে দেশের কয়েকটি স্থানে এ ঘাস পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।
এর ইতিবাচক ফলাফল বিবেচনা করে বৃহত্তর পরিসরে প্রকল্প আকারে বাস্তবায়নের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ সুরক্ষায় এ ধরনের বিকল্প ও উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২০ জনকে গ্রেফতার করেছে।
বুধবার যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী আজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অমিত কর্মকার, রুবেল ওরফে হাবিবুর রহমান, মো. সানি, মো. জাকির হোসেন, মো. বাদশা, মো. ইমরান হোসেন, তাসফিয়া, মাহিদুল ইসলাম, লাইজু বেগম, মেহেদী, রকি হোসেন, মাহফুজা খাতুন, মো. সোহান, মারুফ, আব্দুল আহাদ, মো. রাশেদ, মো. শাহীন মোল্লা ওরফে শামীম, মো. রাসেল, মো. শাহিন ও মো. জসিম (৫০) রয়েছেন।
গ্রেফতার করা ব্যক্তিদের মধ্যে নিয়মিত মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অপরাধীরা রয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বৈরী আবহাওয়াও যেন ইতিহাস জানার আগ্রহের কাছে হার মানে। সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন দর্শনার্থীরা যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিলেন। উদ্বোধনের পর দ্বিতীয় দিনের মতো, সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হওয়া জাদুঘরে দেখা গেছে সকল বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। পূর্ণবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাদুঘরের মূল প্রবেশপথের পাশে অবস্থিত জুলাই মেমোরিয়াল। সেখানে শহীদদের নাম খোদাই করা হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে আড়াই হাজারেরও বেশি শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি প্রতীকী কবরস্থান। সেখানে শহীদ নাফিজকে বহনকারী রিকশা, সাঁজোয়া যানে ঝুলন্ত আন্দোলনকারী এবং সাইকেল মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রতীকী ভাস্কর্য রয়েছে, যা আন্দোলনের স্মৃতিকে জীবন্ত করে তোলে।
জাদুঘরের মূল ফটকের ভেতরে ঢোকা মাত্রই চোখে পড়ে টর্চার সেল, দেয়ালজুড়ে আলোকচিত্র, বড় পর্দায় প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র এবং আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, সংরক্ষিত দলিল, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত নানা নিদর্শন। তবে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে আন্দোলনের স্মৃতিবাহী লাল টেলিফোন।
কেউ মনোযোগ দিয়ে তথ্যফলক পড়ছে, কেউ ভিডিওচিত্র দেখছে, আবার কেউ ছবি তুলে ইতিহাসের এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখছে।
দর্শনার্থীরা মন্তব্য করছেন যে, পাঠ্যবইয়ের বাইরে আন্দোলনের ইতিহাস জানার এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিদিন তিনটি শিফটে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আপাতত ধারণক্ষমতা বিবেচনায়, দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ জন দর্শনার্থী জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবে।
প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় জাদুঘরের আদলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘরেরও সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতিবার রাখা হতে পারে। তবে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ