প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বৈরী আবহাওয়াও যেন ইতিহাস জানার আগ্রহের কাছে হার মানে। সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন দর্শনার্থীরা যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘরে প্রবেশের অপেক্ষায় ছিলেন। উদ্বোধনের পর দ্বিতীয় দিনের মতো, সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হওয়া জাদুঘরে দেখা গেছে সকল বয়সের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। পূর্ণবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২০ টাকা প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাদুঘরের মূল প্রবেশপথের পাশে অবস্থিত জুলাই মেমোরিয়াল। সেখানে শহীদদের নাম খোদাই করা হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে আড়াই হাজারেরও বেশি শহীদদের স্মরণে নির্মিত একটি প্রতীকী কবরস্থান। সেখানে শহীদ নাফিজকে বহনকারী রিকশা, সাঁজোয়া যানে ঝুলন্ত আন্দোলনকারী এবং সাইকেল মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রতীকী ভাস্কর্য রয়েছে, যা আন্দোলনের স্মৃতিকে জীবন্ত করে তোলে।
জাদুঘরের মূল ফটকের ভেতরে ঢোকা মাত্রই চোখে পড়ে টর্চার সেল, দেয়ালজুড়ে আলোকচিত্র, বড় পর্দায় প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র এবং আন্দোলনের সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী, সংরক্ষিত দলিল, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত নানা নিদর্শন। তবে দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করেছে আন্দোলনের স্মৃতিবাহী লাল টেলিফোন।
কেউ মনোযোগ দিয়ে তথ্যফলক পড়ছে, কেউ ভিডিওচিত্র দেখছে, আবার কেউ ছবি তুলে ইতিহাসের এই মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখছে।
দর্শনার্থীরা মন্তব্য করছেন যে, পাঠ্যবইয়ের বাইরে আন্দোলনের ইতিহাস জানার এমন উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনার জন্য প্রতিদিন তিনটি শিফটে প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আপাতত ধারণক্ষমতা বিবেচনায়, দিনে সর্বোচ্চ ৩০০ জন দর্শনার্থী জাদুঘর পরিদর্শনের সুযোগ পাবে।
প্রাথমিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় জাদুঘরের আদলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘরেরও সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতিবার রাখা হতে পারে। তবে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজন অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন আনার সুযোগ রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন