ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

অর্থকষ্টে রবি মিয়ার সংসার, আটকে আছে মেয়েদের বিয়ে


অর্থকষ্টে রবি মিয়ার সংসার, আটকে আছে মেয়েদের বিয়ে

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর ঝাকালিয়া গ্রামের বাসিন্দা রবি মিয়া জাজারীর্ণ ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবিটি তুলেছেন কালের কণ্ঠের প্রতিনিধিত্বকারী সাংবাদিক ছাইদুর রহমান নাঈম।

কখনো বৃষ্টির পানি টিনের ফাঁক দিয়ে পড়ে, আবার কখনো সূর্যের আলো ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ে। বৃষ্টির সময় জামাকাপড়, বইপত্র এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ভিজে যায়।

ঝড়-তুফান এলেই আতঙ্কে থাকতে হয় পরিবারের সদস্যদের—এটাই বুঝি টিনের চাল উড়ে যাবে। এমন নড়বড়ে এবং জরাজীর্ণ ঘরে ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন হতদরিদ্র রবি মিয়া।

আরও পড়ুন: ত্যাগীদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি মোঃ ফারুক আলীর

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চর ঝাকালিয়া গ্রামের এই পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চরম অভাব-অনটনের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে। দুঃখ-কষ্ট ও অভাব যেন তাদের নিরন্তর সঙ্গী।

ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হয় বাবা-মা ও সন্তানদের। খাবারের কষ্টও লেগেই আছে—কখনো একেবারেই খাবার জোটে, আবার কখনো উপোস থাকতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অর্থের অভাবে উপযুক্ত বয়স হয়ে গেলেও রবি মিয়া দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।

ফলে নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারেন না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে অসুস্থ বৃদ্ধ মা, স্ত্রী, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছেন। বড় দুই মেয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ছোট ছেলে স্থানীয় একটি মাদরাসায় অধ্যয়নরত। সংসারের আর্থিক সংকটের কারণে দুই বোন টিউশনি করে নিজেদের লেখাপড়ার খরচ চালানোর চেষ্টা করছেন।

আরও পড়ুন: সুনামগঞ্জে টাঙ্গুয়ার হাওরে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ছোট বসতভিটায় তিনটি টিনের ঘর রয়েছে। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে ঘরগুলো জরাজীর্ণ ও নড়বড়েতে হয়ে পড়েছে। একটি ঘরে রবি মিয়ার বৃদ্ধ মা থাকেন, অপর দুটি ঘরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা থাকেন। ঘরের বিভিন্ন স্থানে টিন ফুটো হয়ে যাওয়ার ফলে কাগজ, কাপড় এবং পলিথিন দিয়ে জোড়াতালি দেওয়া হয়েছে। বইপত্রগুলো রক্ষার জন্য সেগুলোও পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের চেহারায় অভাব-অনটনের স্পষ্ট ছাপ দেখা যায়। অনেকেই বিভিন্ন রোগে ভুগছেন।

ঘরের ভেতরে বৃষ্টিতে ভেজা বই দেখছেন রবি মিয়ার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে। ঝড়-বৃষ্টি এলেই টিনের চাল উড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আতঙ্কে থাকেন পরিবারের সদস্যরা। ভয়, কষ্ট এবং তীব্র অভাব যেন তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুর্দশা স্থানীয়দেরও নাড়া দিয়েছে।

রবি মিয়ার কলেজপড়ুয়া মেয়ে সানজিদা আক্তার তামান্না কালের কণ্ঠকে জানান, ‘বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। বইপত্র, কাঁথা-বালিশসহ প্রয়োজনীয় জিনিস ভিজে যায়। নিজের কলেজের খরচের পাশাপাশি ছোট বোনের পড়াশোনার খরচও বহন করতে হয়। সামান্য টিউশনি করে সবকিছু সামলানো খুবই কঠিন।’

রবি মিয়া বলেন, ‘আমার বয়স হয়ে গেছে, শরীরে আর শক্তি পাই না। নিয়মিত কোনো কাজ করতে পারি না। টাকার অভাবে উপযুক্ত বয়স হলেও দুই মেয়ের বিয়ে দিতে পারছি না। ঘরগুলোও নষ্ট হয়ে গেছে। ছেলেমেয়েরা যদি কোনো আবদার করে, তা পূরণ করতে পারি না। আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। সংসার কীভাবে চলবে, আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ কী হবে—এই চিন্তায় সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।’

আরও পড়ুন: ফেনীতে যুবদলের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে চিকিৎসা নিলেন ১০০-এরও বেশি নারী-পুরুষ

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘রবি মিয়ার পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মঠবাড়ীয়ায় কাজী একতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মাঝে ছাতা বিতরণ ও আলোচনা সভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​মঠবাড়ীয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


মঠবাড়ীয়ায় কাজী একতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের মাঝে ছাতা বিতরণ ও আলোচনা সভা

পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলার সাপলেজা বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে ছাতা বিতরণ ও এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (০৬ জুলাই, ২০২৬) কাজী একতা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এই মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাপলেজা বাজারের সকল ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের হাতে ছাতা তুলে দেন কাজী একতা ফাউন্ডেশনের সভাপতি কাজী জাহিদুল ইসলাম অভি।
ছাতা বিতরণ শেষে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে কাজী জাহিদুল ইসলাম অভি সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরেন। তিনি বলেন:
"কাজী একতা ফাউন্ডেশন সবসময়ই অবহেলিত ও মেহনতি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। তীব্র রোদ আর বর্ষার এই মৌসুমে আমাদের বাজারের সম্মানিত ব্যবসায়ীরা যেন নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সেই ক্ষুদ্র প্রয়াস থেকেই আজকের এই ছাতা বিতরণ। আগামীতেও আমাদের এই সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের ধারা অব্যাহত থাকবে।"
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং কাজী একতা ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন স্তরের কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। রোদ-বৃষ্টির এই মৌসুমে ছাতা পেয়ে ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাপলেজা বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরবে খাল দখল ও অপরিকল্পিত নগরায়নে তীব্র হচ্ছে জলাবদ্ধতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৯ পি.এম


ভৈরবে খাল দখল ও অপরিকল্পিত নগরায়নে তীব্র হচ্ছে জলাবদ্ধতা

 

ভৈরব পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ন, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং একের পর এক খাল ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই মুখোমুখি হওয়া চরম পানিবদ্ধতার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সেখানকার বাসিন্দাদের। প্রকৃতিগত কারণে এখন আষাঢ় মাস, তাই বর্ষা মৌসুমে এই সমস্যার কারণে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ২৯৭ জন পৌর বাসিন্দা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় গত কয়েক বছরে আবাসিক ভবন, বিপণী বিতান ও সড়ক নির্মিত হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য সুপরিকল্পিত কোনো ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। বরং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের জন্য গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো দখল ও ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই ভৈরবের দূর্জয় মোড়, বড়দিয়া রোড, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, চন্ডিবের জগন্নাথপুর, কমলপুর, ভৈরব বাজার, বুমপট্টি সহ বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় হাঁটু পানি গলা সমান জমে যায়। এর ফলে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে গেলে, বিশেষ করে বাজার ও নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্ট এলাকায় বহু দোকানে পানি ঢুকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভৈরব পৌর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আব্দুর রউফ জানান, "আগে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেত, কিন্তু এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকে।" এর ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদাসীনতাকে দায়ী করছেন। পরে আরেক বাসিন্দা শিক্ষক সাইদুর রহমান সাইফ বলেন, "পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুই-তিন দিন পর্যন্ত বাড়ির সামনে পানি জমে থাকে। এমনকি মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেও মানুষের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।" ৮ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, "আমাদের মনমরা ব্রীজ এলাকার থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে কাচাঁবাজারের এ রাস্তাটি আমার জন্মের পর থেকে দেখছি, সারা বছর শুধু লোক দেখানো মেরামত করেই যাচ্ছে, কিন্তু আমরা তার কোনো সুফল আর পেলাম না।"

দেখা গেছে, এক বছরও ভালো করে হয়নি যে রাস্তাটি মেরামত করা হয়েছে, কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই সেখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে যায়। রাস্তার পিচ উঠে যাওয়া মূলত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী, বিটুমিনের ঘাটতি এবং রাস্তার নিচে পানি জমার কারণে হয়ে থাকে। সাধারণত নির্মাণে নিয়মের গাফিলতি থাকলে নতুন রাস্তা বা সংস্কারের কয়েক দিনের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

এদিকে, দৈনিক ইনকিলাব ভৈরব প্রতিনিধি সোহান রহমানকে এক সাক্ষাৎকারে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন বলেন, "আমাদের কিশোরগঞ্জ জেলা সহ বন্দর নগরী ভৈরব শহরে অতি বৃষ্টি হলেই পানিবদ্ধতা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে আমাদের ইউএনও যারা আছেন, বর্তমানে তারা পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন। তাদেরকে আমরাও বলেছি যে আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো এখানে সমন্বয় করে করতে হবে। আমাদের অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাটা আধুনিকায়ন করতে হবে। আমাদের ভৈরবর ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনেক ক্রটি রয়েছে, সেগুলো মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"

এছাড়াও ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কে.এম. মামুনুর রশীদ বলেন, "ভৈরবে একাধিক রাস্তা অকেজো হয়ে পড়েছে। অল্প বৃষ্টি হলেই পানিবদ্ধতা তৈরি হয়। আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি, এর প্রধান কারণ হলো এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী যে সব খাল-বিল ডোবানালা রয়েছে, সেগুলো অবাধে এক শ্রেণীর ব্যক্তিমালিকানায় ভরাট হয়ে গেছে। ড্রেনের পানি নামার কোনো সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আমাদের চলমান যে কার্যক্রমগুলো আছে, সেগুলোর সুফল পেতে ভৈরববাসীকে একটু ধৈর্য ধারণ করতে হবে। তবে সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বর্ষায় নগর জীবনে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাশরাফির রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন নাহিদ রানা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫০ পি.এম


মাশরাফির রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়লেন নাহিদ রানা

বাংলাদেশ ক্রিকেটে পেস বোলিংয়ের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করলেন তরুণ গতিতারকা নাহিদ রানা। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশের সেরা বোলিং ফিগারের অধিকারী ছিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। ওই গৌরবময় রেকর্ডটি এবার নতুনভাবে নিজেদের করে নিলেন এই তরুণ পেস সেনসেশন।

২০০৬ সালে নাইরোবিতে কেনিয়ার বিরুদ্ধে ২৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট লাভ করে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্যের নজির স্থাপন করেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। প্রায় ২০ বছর ধরে সেই রেকর্ড অক্ষত ছিল, যা আজ ভেঙে দিলেন নাহিদ রানা।

সোমবার (৬ জুলাই) হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচে দুর্দান্ত একটি স্পেল উপহার দেন রানা। মাত্র ২১ রান খরচ করে ৬ উইকেট নিয়ে তিনি নতুন এই ইতিহাস সৃষ্টি করেন। এর ফলে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সেরা বোলিং ফিগারের একক মালিক তিনি হলেন।

ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ধারাবাহিক গতির ঝড় তুলে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে একাই ধসিয়ে দেন এই তরুণ পেসার। তার আগ্রাসী বোলিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকেরা শুরুতেই বড় চাপে পড়ে যায়।

বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ে দীর্ঘসময় ধরে মাশরাফির ২০০৬ সালের পারফরম্যান্সকে বিদেশে বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হত। নাহিদ রানার আজকের এই অর্জন দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক মাত্রা সংযোজন করল। গতি ও সুইংয়ের অসাধারণ মিশ্রণে ধারাবাহিক উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনায় আসা নাহিদ রানা এবার প্রমাণ করলেন, বিদেশের মাটিতেও তিনি কতটা কার্যকর ও ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এইচএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম, রাজবাড়ীতে ৩ জন বহিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ পি.এম


এইচএসসি পরীক্ষায় অনিয়ম, রাজবাড়ীতে ৩ জন বহিষ্কার

রাজবাড়ীর পাংশা মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষায় মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে তিন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) অনুষ্ঠিত ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষার সময় এ ঘটনাটি ঘটে। সংক্ষেপে বললে, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বহিষ্কৃত তিন পরীক্ষার্থী পাংশা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিল।

পরীক্ষা চলাকালে যখন তারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে, তখন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি শনাক্ত করেন। এরপর পরীক্ষার বিধিমালা অনুযায়ী তাদের বহিষ্কার করা হয়।

পাংশা মহিলা কলেজ কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব ও অধ্যক্ষ এ বি এম ওয়াহিদুজ্জামান ডাবলু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষাকক্ষে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের সময় তিন পরীক্ষার্থীকে হাতেনাতে শনাক্ত করেন। এর পর পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী তাদের বহিষ্কার করা হয়।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%