০৫:৪৯ পি.এম
ভৈরব পৌর এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ন, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং একের পর এক খাল ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই মুখোমুখি হওয়া চরম পানিবদ্ধতার সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সেখানকার বাসিন্দাদের। প্রকৃতিগত কারণে এখন আষাঢ় মাস, তাই বর্ষা মৌসুমে এই সমস্যার কারণে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার ২৯৭ জন পৌর বাসিন্দা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রথম শ্রেণীর পৌরসভায় গত কয়েক বছরে আবাসিক ভবন, বিপণী বিতান ও সড়ক নির্মিত হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য সুপরিকল্পিত কোনো ব্যবস্থা গড়ে উঠেনি। বরং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের জন্য গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ খালগুলো দখল ও ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে বৃষ্টির পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টি হলেই ভৈরবের দূর্জয় মোড়, বড়দিয়া রোড, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, চন্ডিবের জগন্নাথপুর, কমলপুর, ভৈরব বাজার, বুমপট্টি সহ বিভিন্ন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকায় হাঁটু পানি গলা সমান জমে যায়। এর ফলে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায় এবং জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে গেলে, বিশেষ করে বাজার ও নদী বাংলা সেন্টার পয়েন্ট এলাকায় বহু দোকানে পানি ঢুকে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। ভৈরব পৌর এলাকার বাসিন্দা সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব আব্দুর রউফ জানান, "আগে বৃষ্টির পানি দ্রুত নেমে যেত, কিন্তু এখন খাল ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পানি দীর্ঘ সময় জমে থাকে।" এর ফলে শিশু ও বৃদ্ধদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি পৌর কর্তৃপক্ষের অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উদাসীনতাকে দায়ী করছেন। পরে আরেক বাসিন্দা শিক্ষক সাইদুর রহমান সাইফ বলেন, "পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় দুই-তিন দিন পর্যন্ত বাড়ির সামনে পানি জমে থাকে। এমনকি মসজিদে নামাজ পড়তে যেতেও মানুষের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।" ৮ নং ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দা মোঃ ইসলাম উদ্দিন বলেন, "আমাদের মনমরা ব্রীজ এলাকার থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে কাচাঁবাজারের এ রাস্তাটি আমার জন্মের পর থেকে দেখছি, সারা বছর শুধু লোক দেখানো মেরামত করেই যাচ্ছে, কিন্তু আমরা তার কোনো সুফল আর পেলাম না।"
দেখা গেছে, এক বছরও ভালো করে হয়নি যে রাস্তাটি মেরামত করা হয়েছে, কিন্তু এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই সেখানে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়ে যায়। রাস্তার পিচ উঠে যাওয়া মূলত নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী, বিটুমিনের ঘাটতি এবং রাস্তার নিচে পানি জমার কারণে হয়ে থাকে। সাধারণত নির্মাণে নিয়মের গাফিলতি থাকলে নতুন রাস্তা বা সংস্কারের কয়েক দিনের মধ্যে এই সমস্যা দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে, দৈনিক ইনকিলাব ভৈরব প্রতিনিধি সোহান রহমানকে এক সাক্ষাৎকারে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিন বলেন, "আমাদের কিশোরগঞ্জ জেলা সহ বন্দর নগরী ভৈরব শহরে অতি বৃষ্টি হলেই পানিবদ্ধতা দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে আমাদের ইউএনও যারা আছেন, বর্তমানে তারা পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন। তাদেরকে আমরাও বলেছি যে আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো এখানে সমন্বয় করে করতে হবে। আমাদের অপরিকল্পিত নগরায়ন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থাটা আধুনিকায়ন করতে হবে। আমাদের ভৈরবর ড্রেনেজ ব্যবস্থা অনেক ক্রটি রয়েছে, সেগুলো মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।"
এছাড়াও ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কে.এম. মামুনুর রশীদ বলেন, "ভৈরবে একাধিক রাস্তা অকেজো হয়ে পড়েছে। অল্প বৃষ্টি হলেই পানিবদ্ধতা তৈরি হয়। আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি, এর প্রধান কারণ হলো এই অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী যে সব খাল-বিল ডোবানালা রয়েছে, সেগুলো অবাধে এক শ্রেণীর ব্যক্তিমালিকানায় ভরাট হয়ে গেছে। ড্রেনের পানি নামার কোনো সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে আমাদের চলমান যে কার্যক্রমগুলো আছে, সেগুলোর সুফল পেতে ভৈরববাসীকে একটু ধৈর্য ধারণ করতে হবে। তবে সচেতন মহলের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বর্ষায় নগর জীবনে এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন