১০:১০ এম
বিরোধীদলীয় নেতা, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেছেন, আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি বলেন, এই বিপ্লবটি কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, জাতি বা পরিবারকে তোষামোদ করার উদ্দেশ্যে নয়।
আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্য নয়। বরং দুনিয়ার বুকে একজন স্বাধীন এবং সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি, সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর উদ্দেশ্যে হবে আগামীর বিপ্লব।
গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন: সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান দীপেন দেওয়ান এমপির
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ডা. শফিকুর রহমান সতর্ক করে বলেন, বিএনপি জাতির সাথে যে কথা দিয়েছে তা পালন করেনি। তিনি বিএনপিকে বলেছেন, দেশ ও জাতির স্বার্থে আপনারা ভুল করছেন, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের রায়কে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান না করার পরিণতি কী হতে পারে, সেটি একাধিকবার দেখার পরও যদি শিক্ষা না হয়, তাহলে জীবনে আপনাদের শিক্ষা হবে না।
তিনি দৃঢ়তা দিয়ে বলেন, আমরা কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকারকে পরিষ্কার বলে দিচ্ছি- যদি এ দেশবাসী ও আমরা দেখি, আধিপত্যবাদের সামনে সরকার মাথা নত করছে, তাহলে আপনাদেরও আমরা ছাড়বো না।
জামায়াত আমির বিএনপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুরি, ডাকাতি, ইঞ্জিনিয়ারিং করে ভোট নিয়ে নেওয়া হয়েছে, নেওয়া হোক। আমরা সংসদে যা আছি তাই নিয়ে সিংহের মতো লড়াই করে যাব। আমরা জানি সহজে কানে পানি ঢুকবে না, তখন সিরিঞ্জ দিয়ে যদি ঢোকাতে হয়, তাহলে আমরা ঢোকাব। যদি সংসদে ফয়সালা না হয়, তাহলে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া- এই সব জায়গা থেকে আগ্নেয়গিরির মতো বিদ্রোহ শুরু হবে।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ২৯ অক্টোবর ব্যাংক বন্ধ থাকবে
তিনি সীমান্ত বিষয়ে বলেন, ‘সীমান্তে সুড়সুড়ি দেওয়া হচ্ছে। পুশইনের নামে একটি দেশ তাদের নাগরিকদের অবৈধভাবে আমাদের দেশে ফেলে দিতে চাচ্ছে।
জামায়াত আমির বলেন, আমাদের সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা বিজিবি সদস্যদের জনগণ তাদের ডান হাতে পরিণত করেছে। এ ডান হাত সারা বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ। আমরা চাই না আমাদের প্রতিবেশীর ঘুম ও শান্তি কেড়ে নিতে। আবার কাউকে আমাদের দিকে তাদের কালোহাত বাড়াতে, তাও আমরা চাই না। যদি কেউ আমাদের দিকে কালোহাত বাড়ায়, মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে বলছি- সেই কালোহাত ভেঙে দেওয়া হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ নিয়ে জনগণ ভোট দিয়েছে, তা রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়; বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে। এমন একটি ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে যেখানে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে, বিচার বিভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয়।’
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, ‘জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে আমরা রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাব।’
আরও পড়ুন: ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াবে প্রধানমন্ত্রীর আশা
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের সভাপতিত্বে খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির সাখাওয়াত হোসাইন, কেন্দ্রীয় নেতা মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) যুগ্মসচিব অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন