১০:১৪ এম
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে তিনি দেশভাগ, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ সংক্রান্ত ইস্যুতে কংগ্রেস, বামপন্থী দল ও তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাপক সমালোচনার প্রকাশ করেছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই অভিযোগ তুলেছেন, পশ্চিমবঙ্গকে দশকের পর দশক ধরে ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডা’ হতে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২০ জুন) হুগলির তারকেশ্বরে অনুষ্ঠিত পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেছেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আরএন রবি। মোদি বলেন, দেশভাগের সময় কংগ্রেস বাংলাকে অবহেলার পাত্রে ফেলে রেখেছিল এবং কংগ্রেস, বামপন্থী দল এবং তৃণমূল কংগ্রেস ‘তোষণের রাজনীতি’ করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
মোদি জানান, “রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মাটিতে বিদেশি বিচারধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে কংগ্রেস, পরে বামপন্থীরা, এরপর তৃণমূল—দশকের পর দশক পশ্চিমবঙ্গকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডা হয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।”
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৪৬ সালের কলকাতা ও নোয়াখালির সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বহু নিরীহ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। দেশভাগের বেদনার সত্ত্বেও বাংলা এর স্বকীয়তা ও পরিচয় অটুট রেখেছে বলে মন্তব্য করেন।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মোদি বলেন, “আমরা শুধু একটি দিন উদযাপন করছি না, ইতিহাসকে স্মরণ করছি। যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার চেষ্টা চলছিল, তখন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তার বিরুদ্ধে ছিলেন।”
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ বিষয়ে তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার জমি হস্তান্তরের কাজ আটকে রেখেছিল। তবে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের সময় পয়লা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদযাপিত হলেও সরকার পরিবর্তনের পর ২০ জুন দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালের এই দিনেই বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায় পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন