বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০৫:০৫ পি.এম
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের জয় দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। ৮৫ মিনিট পর্যন্ত এক গোলে পিছিয়ে থাকা দলটি শেষ মুহূর্তের দুটি গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয়। ম্যাচে দুটি অ্যাসিস্ট করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে এই জয় কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করেন তিনি।
বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে, প্রথমে পিছিয়ে পড়লেও ৮৪ মিনিটে এন্সো ফার্নান্দেসের দুর্দান্ত গোলে সমতায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লাউতারো মার্তিনেস জয়সূচক গোল করে দলকে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছে দেন। দুই গোলেই অ্যাসিস্ট করেন মেসি।
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, মেসির হাতে তুলে দেওয়া হয় ১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক জার্সির একটি প্রতিরূপ। সেই মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে ম্যারাডোনাকে স্মরণ করেন বর্তমান অধিনায়ক।
তিনি বলেন,‘আমি নিশ্চিত, দিয়েগো ওপর থেকে এই জয় উপভোগ করছেন। আজকের দিনটি তার জন্যও খুবই বিশেষ হতো। তাকে এই আনন্দ দিতে পেরে আমরা খুশি। যদি তিনি এই ম্যাচ দেখে থাকেন, তাহলে এই জয় আমাদের পক্ষ থেকে তার জন্য একটি উপহার।’
আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই ফুটবল ইতিহাসে বরাবরই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ এখনো ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায়। প্রায় চার দশক পর একই প্রতিপক্ষকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার দিনে সেই স্মৃতিকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এলেন মেসি।
৩৯ বছর বয়সেও দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক সেমিফাইনালে দুটি অ্যাসিস্ট করে আরও একটি অনন্য কীর্তি গড়েছেন। তার নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা।
এবার শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন। আগামী রবিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী পিলখানায় ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার, দুপুরে পিলখানাস্থ বিজিবি সদর দপ্তরের বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডের পশ্চিম পাশে একটি নারকেল গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির এবারের প্রতিপাদ্য ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ তুলে ধরে বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, “বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়; এটি একটি মহৎ দায়িত্ব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার।”
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত সংকট মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে তিনি সারাদেশে বিজিবির প্রতিটি স্থাপনায় পরিকল্পিতভাবে ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ রোপণের নির্দেশনা প্রদান করেন।
বিজিবি মহাপরিচালক প্রতিটি বিজিবি সদস্যকে বছরে অন্তত একটি গাছ রোপণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না; গাছের যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমেই এ উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব।
বিজিবি মহাপরিচালক জানান, এ বছর বিজিবি সদর দপ্তরসহ সারাদেশে ৭৩,০০০ বৃক্ষরোপণ করা হবে। সারাদেশে বিজিবির প্রতিটি স্থাপনায় উপযুক্ত স্থানে পরিকল্পিতভাবে বৃক্ষরোপণ এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে এ কর্মসূচিকে সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানান বিজিবি মহাপরিচালক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২২ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ছাত্র আবু সাঈদ হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা, আমির হোসেন এবং সুজন চন্দ্র, তাদের বিরুদ্ধে জারি করা সাজার বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছেন। এছাড়াও আপিল করেছেন পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল এবং ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী, যিনি আকাশ নামেও পরিচিত।
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, আসামিদের আপিলের বিষয়ে তাদের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসামিদের আইনজীবী জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডে তারা জড়িত নন এবং প্রসিকিউশন অপরাধের ব্যাপারে সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি, এই দাবি করে হলেও আপিলটি করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে মারা যান। ওই ধরনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধে চলতি বছরের ৯ এপ্রিল রায় দেন। রায় অনুযায়ী, দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন এবং পাঁচজনকে ১০ বছর করে, আটজনকে ৫ বছর করে এবং ১১ জনকে ৩ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া একজনের হাজতবাসের সময়কে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।
যাবজ্জীবনপ্রাপ্তদের মধ্যে আছেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান, যিনি জীবন নামে পরিচিত, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম যিনি নয়ন নামে পরিচিত, এবং বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় যিনি মাধব নামেও পরিচিত।
১০ বছরের সাজাপ্রাপ্তরা হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ, যিনি বাচ্চু নামে পরিচিত, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান যিনি বেল্টু নামে পরিচিত, বেরোবির গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল যিনি আসাদ নামে পরিচিত। এদের মধ্যে সকলেই পলাতক রয়েছেন।
৫ বছর করে সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আরএমপির সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, যিনি সুমন নামে পরিচিত, সাবেক উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন, যিনি টিটু নামে পরিচিত, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী যিনি আকাশ অথবা দিশা নামেও পরিচিত, ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান, যিনি মাসুদ নামে পরিচিত, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান যিনি বাবু নামে পরিচিত এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন যিনি চন্দন নামে পরিচিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের স্মরণে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই শহীদ দিবস-২০২৬’ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল, যুবদলের আহ্বায়ক এম. এ. রাজ্জাক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নাজমুল ইসলাম জাহিদ, বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আলী আমজাদ, এনজিপির উপজেলা সভাপতি আব্দুল গফফার রং, কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, মাহবুবা আলম (শিশু) রিয়াজুল ইসলাম (টিটন), রফিকুল ইসলাম, রোমান আহমেদ, এবং শাকিল আহমেদ।
এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের জনগণ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা শহীদদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এলজিইআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, রাজনৈতিক বিভাজনে আমরা বিশ্বাস করি না, বরং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। আমরা সকল ধর্মের সকল বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণের বাংলাদেশ কামনা করি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর স্বামীবাগে রথযাত্রার আয়োজন নিয়ে ঢাকা অনুষ্ঠানে এগুলো তিনি বলেছিলেন।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতি অল্প সময়ের মধ্যে মানুষের মন জয় করেছেন। তাঁর কাজের প্রধান জায়গা হলো সাধারণ মানুষের উন্নয়ন।
তিনি অবাকভাবে জানিয়ে দেন যে, ধর্মের ওপর কাজ করতে চাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের ভাতার জন্য তিনি চিন্তা করছেন।
তিনি জানান, নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রতিটি ধর্মের মানুষের প্রতিনিধিত্ব এনেছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও, নৃ-তাত্ত্বিক মানুষের প্রতিনিধিও সেখানে উপস্থিত আছেন।
প্রত্যেক শ্রেণির উন্নয়নে আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করার ব্যাপারে তিনি নিশ্চিত করেছেন, আমরা বিভাজন করতে চাই না।
মির্জা ফখরুল বলেছেন, আমরা ৭১ সালে সকলে মিলে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম, সেই বোধকে অপশক্তি বারবার আঘাত করার চেষ্টা করে, তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে তাদের প্রতিরোধ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ