০৫:২৭ পি.এম
মেহেরপুরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে একটি গৃহবধূ এবং এক যুবককে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১ জুন) সকাল নয়টার দিকে সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।
নির্যাতনের শিকার নারী একজন প্রবাসীর স্ত্রী এবং তাঁর চার বছর বয়সী একটি সন্তান আছে। যুবকটি একই এলাকার বাসিন্দা ও পেশায় একজন ব্যবসায়ী।
আরও পড়ুন: শেরপুরে বাস-সিএনজির সংঘর্ষে জুয়েল মিয়া নিহত, আহত ৪
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গৃহবধূ এবং ব্যবসায়ীর মধ্যে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আছে এমন অভিযোগ তুলে সোমবার সকাল ৯টার সময় গ্রামের একদল লোক তাঁদের দুজনকে ধরে নিয়ে আসেন। এরপর গ্রামের একটি পেয়ারাগাছের সঙ্গে তাঁদের হাত বেঁধে রাখা হয়। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ৫ মিনিট ২১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গাছের সঙ্গে অসহায় অবস্থায় বাঁধা ওই দুই ব্যক্তিকে চারপাশ থেকে ঘিরে ধরে বেশ কয়েকজন মারধর করছেন। অনেকেই তাঁদের চড়-থাপ্পড় মারছিলেন। এ সময় তাঁরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বাঁচার আকুতি জানান। কিন্তু কেউ তাঁদের উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। তখন অনেককে দাঁড়িয়ে মুঠোফোনে এই দৃশ্য ধারণ করতে দেখা যায়।
অন্য একটি স্থানীয় গৃহবধূ দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, নির্যাতনের সময় ভুক্তভোগী নারী তাঁর শিশু সন্তানটিকে জড়িয়ে ধরেছিল। নির্যাতনের শিকার নারী দৈনিক ইনকিলাবকে জানান, বকেয়া টাকা নিতে ওই যুবক এসেছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজন তাঁদের ঘর থেকে টেনে বের করে আনে। ঘর থেকে বের করার সময় তাঁদের মুখে ও ঘাড়ে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে। লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়েছে। মারধরের সময় যুবকেরা আনন্দ করছিল। এখন শুনছি এলাকার মাতবরেরা সালিশ করে বিচার করবে আমাদের।
নির্যাতনের শিকার যুবক এই ঘটনার পর ভয়ে এলাকার বাইরে অবস্থান করছেন বলেও জানান তাঁর চাচাতো ভাই। তিনি বলেন, যেভাবে তাঁদের মারধর করা হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে হার মানায়। এগুলো পরিকল্পিতভাবে সামাজিকভাবে হেয় করতে ও অর্থদণ্ড আদায়ের জন্য করা হয়েছে। যদি আইনের শাসন থাকত, তবে এসব করার চিন্তাও কেউ করতে পারত না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি আমাদের নজরে এসেছে। ঘটনাটি অত্যন্ত বর্বর ও অমানবিক। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এই নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত, তাঁদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুন: কেন্দুয়ায় পাচারের সময় ৩২ বস্তা সার জব্দ, চালক পালিয়েছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন