বৃহস্পতিবার, ২ই জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৩৮ পি.এম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার উদ্যোগে জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকী উপলক্ষে এক মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নগরীর জেলা জামায়াত কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান। এ সময় সেখানে জেলা সহকারী সেক্রেটারি আবু সাঈদ মুন্না, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক মাসুদুর রহমান গিয়াস, ইঞ্জিনিয়ার আবদুল বাকী, দেওয়ান খোরশেদ আলম, মাওলানা মুজিবুর রহমান মিয়াজী, মুফতি জাহাঙ্গীর আলমসহ বিভিন্ন উপজেলা ও থানা পর্যায়ের আমিররা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে মমিনুল হক সরকার বলেন, ২০০৯ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করেছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী মতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গুম, হত্যা, নির্যাতন ও রাজনৈতিক দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রেক্ষাপটে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন দেশব্যাপী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে বহু মানুষ নিহত ও আহত হন বলে তিনি দাবি করেন। পরবর্তীতে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে— ৪ জুলাই ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ সমাবেশে অংশগ্রহণ, ৫ থেকে ২০ জুলাই থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আলোচনা সভা, ১৩ জুলাই ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক সেমিনার, ২৩ থেকে ২৫ জুলাই উপজেলা ও থানা ভিত্তিক জুলাই আন্দোলনের চিত্র প্রদর্শনী, ২৯ জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের নিয়ে মতবিনিময় সভা, ১ আগস্ট উপজেলা ভিত্তিক গণমিছিল, ২ থেকে ৪ আগস্ট শ্রমিকদের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচি এবং ৫ আগস্ট ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ ও মিছিলে অংশগ্রহণ। সংবাদ সম্মেলনের শেষে ঘোষিত কর্মসূচিগুলো সফল করতে এবং মাসব্যাপী আয়োজনে অংশ নিতে সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান জেলা আমীর মুহাম্মদ মমিনুল হক সরকার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দকৃত অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে লোপাটের চেষ্টা করা হচ্ছে, এমন দাবি করেছেন পরিষদের দুই সদস্য, যাঁরা সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগকারী দুই ইউপি সদস্য হলেন— ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সহদেব চন্দ্র দাস এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলমাছ মিয়া।
কাগজে প্রকল্প ও অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা: আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দকৃত ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ টাকার বিপরীতে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, রাস্তা, ঘাটলা ও কালভার্ট নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন, গোলপোস্ট তৈরি, সেলাই মেশিন, ল্যাপটপ-প্রিন্টার ও লাইব্রেরির আসবাবপত্র ক্রয়, রিং স্ল্যাব বিতরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের নামে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান কাজ না করে ভুয়া ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে।
সরকারি সম্পদ গায়েব ও স্বজনপ্রীতি: ইউনিয়ন পরিষদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ব্যাটারি, আইপিএস এবং চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরকারি সম্পদ পরিষদের বাইরে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুধুমাত্র এই নয়, বরং কর্মসৃজন কর্মসূচি, ভিজিডি, ভিজিএফ, মাতৃত্বকালীন, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সুবিধা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারীসহ একটি চক্র জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিষদের হলরুম ব্যবহার: অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলন কক্ষটি চেয়ারম্যানের স্ত্রীর নামে সার ও বীজ সংরক্ষণের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের জন্য চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন: "সব টাকা উত্তোলন করা হয়নি। যে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তা নারী সদস্যসহ তিনজনের ব্যাংক হিসাবে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সংরক্ষিত রয়েছে।"
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত স্থানে পানি থাকার অজুহাতে কাজ না হওয়া, অথবা প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বজনের বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে নলকূপ স্থাপনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন: "এ বিষয়ে আদালতের কোনো মামলার কপি বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আমরা এখনো পাইনি। জেলা প্রশাসন বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে নির্দেশনা পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বর্তমানে বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদে যেকোনো নাগরিক সেবা নিতে গেলেই চরম হয়রানি, অনিয়ম ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এলাকার সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এই অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার জওগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বকেয়া থাকার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ঐ শিক্ষার্থীর বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী দিনা আক্তারের পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি বাবদ এক হাজার ১০০ টাকা বকেয়া ছিল। ১ জুলাই অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার প্রথম দিন নির্ধারিত সময়ে ফি পরিশোধ করতে না পারায় বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক তার সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন এবং তাকে পরীক্ষায় অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই কারণে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
কান্না জড়িত কণ্ঠে দিনা আক্তার জানিয়েছেন, তার বাবা-মা বাড়িতে না থাকার কারণে তিনি নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষার ফি জমা দিতে পারেননি। প্রধান শিক্ষক ও দুই সহকারী শিক্ষিকার কাছে বিষয়টি জানিয়ে তার পরীক্ষা দেয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর অপমানবোধে তিনি বাড়ি ফিরে যান। এর ফলে পরের দিন তিনি আবারও পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি বলে তার দাবি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রতিভাবান এই শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন আচরণ মোটেই উচিত হয়নি। ঘটনার পর থেকে দিনা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে এবং সঠিকভাবে খাদ্য গ্রহন করতেও অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। এমনকি পরদিন কোনো শিক্ষক তার খোঁজও নেননি। তাদের মতে, শিক্ষকদের আরও মানবিক হওয়া প্রয়োজন ছিল।
দিনা আক্তারের বাবা দুলাল হুসেন বলেছেন, “আমরা বাড়িতে না থাকায় আমার মেয়ে সময়মতো টাকা জমা দিতে পারেননি। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। ফলে আমার মেধাবী মেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।”
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল বলেছেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল জানাতে পারবেন।”
সহকারী শিক্ষক রেজাউল ইসলাম বাবুল জানান, “পরীক্ষার ফি ও সেশন ফি সংগ্রহ করা হচ্ছিল। কয়েকজন শিক্ষার্থীর বকেয়া থাকায় তাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলা হয়েছিল। দিনা আক্তারও তাদের মধ্যে ছিল। তবে তাকে বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়নি।”
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল উদ্দিন প্রধান বলেন, “আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম বলেন, “সভায় থাকায় অভিযোগপত্রটি তখন হাতে পাইনি। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার মাটিয়ানি গ্রামে অভিযান চালিয়ে ১৮৮ বোতল বিভিন্ন ধরনের মাদকসহ মো. আজিবুর রহমান (৩৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৩।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের মাটিয়ানি গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজিবুর রহমান মৃত আবদুল গাফ্ফারের ছেলে এবং ওই গ্রামের বাসিন্দা।
র্যাব-১৩ সূত্রে জানানো হয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সকাল পৌনে ৮টার দিকে র্যাব-১৩, সিপিসি-১ দিনাজপুর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল পীরগঞ্জ উপজেলার ১০ নম্বর জাবরহাট ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাটিয়ানি গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় আজিবুর রহমানের বসতবাড়ির গোয়ালঘরে তল্লাশি করে ১১৭ বোতল এসকাফ, ৫৯ বোতল এমকেডিল এবং ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ মোট ১৮৮ বোতল মাদক উদ্ধার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ থেকে জানা যায় যে, গ্রেপ্তার আজিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন জেলা থেকে মাদক সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন তিনি। শনাক্ত করা মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য সাড়ে ৪ লাখ টাকার বেশি বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-১৩-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী মন্তব্য করেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে র্যাব-১৩-এর গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ ঘটনায় র্যাব বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পীরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার সীতাকুণ্ডের বুক চিরে চলে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় দীর্ঘ একটি বিশাল অংশ জুড়ে সম্প্রতি যে অভূতপূর্ব এবং নজিরবিহীন রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল একটি সাধারণ বিক্ষোভ বা অবরোধ ছিল না। বরং এটি ছিল বিগত এক দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং ১ লাখ ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটের এক ঐতিহাসিক জনরায়ের অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এক স্বতঃস্ফূর্ত আবেগীয় মহাবিস্ফোরণ। বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, চেয়ারপারসনের দূরদর্শী উপদেষ্টা এবং সীতাকুণ্ড সংসদীয় আসন থেকে বিপুল ভোটে সদ্য নির্বাচিত এমপি লায়ন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ'র শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া আইনি বেড়াজালে আটকে থাকার জের ধরে চট্টগ্রাম সিটি গেট থেকে শুরু করে বড়দারোগারহাট পর্যন্ত অন্তত ২০টিরও বেশি পয়েন্টে একযোগে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে যে সর্বাত্মক সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা পুরো দেশের রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে একটি বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, এই আন্দোলনের নেপথ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক ঘোষণা বা পূর্বপরিকল্পিত এজেন্ডা ছিল না, বরং এটি ছিল সম্পূর্ণ রূপেই সীতাকুণ্ডের আপামর জনসাধারণের এক আবেগঘন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ। যেখানে সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তৃণমূলের সাধারণ ভোটাররা পর্যন্ত স্বপ্রণোদিত হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে এই ব্যস্ততম মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ায় এবং হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হওয়ায় যখন পরিস্থিতি প্রায় এক প্রকার আইন-শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক তখনই দীর্ঘ কারাবাসের ক্লান্তি ও আইনি লড়াইয়ে অবরুদ্ধ থাকা সত্ত্বেও জননেতার দায়িত্বশীল পরিচয় দিয়ে আসলাম চৌধুরী নিজেই এক বিশেষ অডিও-ভিডিও বার্তা পাঠান। যেখানে তিনি তাঁর প্রিয় সীতাকুণ্ডবাসীকে শান্ত থাকার, কোনো প্রকার জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার এবং আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার কঠোর ও আবেগঘন নির্দেশনা দেন। মুহূর্তের মধ্যেই আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে দেয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় মহাসড়কে পুনরায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে। যা স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর একচ্ছত্র ও প্রশ্নহীন নিয়ন্ত্রণকে আবারও প্রমাণ করে।
মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূলের ভোটারদের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক নির্বাচনে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ সীতাকুণ্ড আসন থেকে যে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন, তা কেবল একটি দলীয় বিজয় ছিল না। বরং সেটি ছিল বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর ওপর চলা একের পর এক রাজনৈতিক মামলা, ধারাবাহিক হয়রানি এবং দীর্ঘ কারাবাসের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের দেওয়া একটি নীরব ব্যালট বিপ্লব। কিন্তু এই বিশাল গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট পাওয়ার পরও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত পুরোনো কিছু দেওয়ানি মামলা, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং নতুন কিছু আইনি মারপ্যাঁচকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁর শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে যেভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তাঁকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও তাঁর হাজার হাজার অনুসারী সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনগণের পবিত্র রায়ের ওপর এক ধরনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ-র প্রতি সীতাকুণ্ডের মানুষের এই অন্ধ ভালোবাসা ও আবেগ একদিনে বা কোনো সস্তা স্লোগানে তৈরি হয়নি। বরং বিগত ১০-১৫ বছরে যখনই সীতাকুণ্ডে কোনো বড় সংকট এসেছে, দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দলের শত শত নির্যাতিত নেতাকর্মীকে রাজপথে আগলে রাখা এবং নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকার সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে এক স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। এই চলমান বারুদসদৃশ পরিস্থিতির মাঝে জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর কন্যার একটি অত্যন্ত আবেগঘন এবং হৃদয়স্পর্শী ফেসবুক স্ট্যাটাস। যেখানে তিনি লিখেছেন, "যে মানুষটি নিজের জীবনের সোনালী ও শ্রেষ্ঠ সময়গুলো সীতাকুণ্ডের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অন্ধকার কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে কাটিয়ে দিলেন, আজ লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ও ঐতিহাসিক বিজয়ের পরও কেন তাকে তার রাষ্ট্রীয় অধিকার ও শপথ থেকে এভাবে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে, সীতাকুণ্ডের মানুষ কি তাদের প্রিয় নেতাকে মুক্ত বাতাসে তাদের মাঝে ফিরে পাবে না?"-আর এই একটি মাত্র আবেগঘন আকুতি সীতাকুণ্ডের আপামর জনসাধারণের মনে এমন এক তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। যার ফলেই পুরো উপজেলা জুড়ে এই গণবিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি সম্মান রেখে আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং দেওয়ানি বা ঋণ সংক্রান্ত মামলাগুলোর আইনি নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তবে ১ লাখ ৪২ হাজার ভোটারের দেওয়া এই বিশাল জনরায়কে টেকনিক্যাল মারপ্যাঁচে ফেলে বেশিদিন চেপে রাখা সীতাকুণ্ডের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্ত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের উপশম ঘটাতে অতি দ্রুত এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার একটি সুষ্ঠু, সম্মানজনক এবং স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ