ঢাকা সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেটা সেন্টার কেন সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে


ডেটা সেন্টার কেন সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ইন্টারনেট এবং ক্লাউড প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে ডেটা সেন্টার আধুনিক বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হয়ে উঠেছে। ব্যাংক, হাসপাতাল, টেলিযোগাযোগ, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সরকারি সেবার একটি বড় অংশ এই কেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরশীল। এদিকে, সামরিক অভিযানে এআইয়ের ব্যবহারের বৃদ্ধি ডেটা সেন্টারকে যুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত করেছে। ফলে, বিভিন্ন দেশের সংঘাতে এসব স্থাপনা সামরিক হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠছে।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর পর, তেহরান পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাত হানে। এতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়, যার প্রভাব এখনো অনুভূত হচ্ছে। তবে, ওই সময় ইরানের হামলার আরেকটি দিক—ডেটা সেন্টারে হামলা—তুলনামূলকভাবে কম আলোচনায় আসে।

রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে ডেটা সেন্টার লক্ষ্য করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব হামলা যুদ্ধের নতুন একটি ক্ষেত্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আধুনিক অর্থনীতি এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পের প্রযুক্তিগত ভিত্তি হিসেবে কাজ করা স্থাপনাগুলো এখন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গ্রিসে বাড়ি কিনছেন ইসরায়েলিরা, ফিলিস্তিনপন্থিদের মধ্যে ক্ষোভ

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সেন্টার?

এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে কম্পিউটিং ক্ষমতা, তথ্য সংরক্ষণ এবং ক্লাউড সেবার চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এই চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোও এআই অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রতিবছর শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে।

ডেটা সেন্টার হলো এমন বিশেষ স্থাপনা, যেখানে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য সার্ভার এবং অন্যান্য কম্পিউটার সরঞ্জাম রাখা হয়। ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন সেবা, এআই মডেল পরিচালনা এবং প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল কার্যক্রমের বড় অংশ এসব কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া টেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর অ্যাডভান্সড কম্পিউটিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক কার্ক ক্যামেরন টাইমকে বলেন, "আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামোর জন্য ডেটা সেন্টার এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।" তিনি আরও বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ কোনো ডেটা সেন্টার ধ্বংস হলে অর্থনীতি বিপর্যস্ত হতে পারে, জিপিএস সেবা ব্যাহত হওয়ায় সরকারি ও বেসরকারি পরিবহনব্যবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে।" স্বাস্থ্যসেবা, জরুরি সহায়তা, সরকারি কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ গ্রিড পরিচালনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অর্থাৎ, ডেটা সেন্টারে হামলার প্রভাব শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা একটি দেশের অর্থনীতি, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: সেনাবাহিনীর দায়িত্ব এড়াতে পালাচ্ছে ১ লাখ ১০ হাজার ইহুদি

যুদ্ধে ডেটা সেন্টারের ভূমিকা

আধুনিক যুদ্ধে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডেটা সেন্টারের সামরিক গুরুত্বও বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের লক্ষ্য নির্ধারণ, যুদ্ধের পরিকল্পনা এবং রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন কাজে এআই ব্যবহার করছে।

মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টির ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রযুক্তি পরীক্ষা ও উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এআই-চালিত অস্ত্রব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগেও যুক্ত। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও হামলার লক্ষ্য শনাক্ত করতে প্যালান্টিরের ‘ম্যাভেন’ ব্যবস্থা ব্যবহার করে।

বিশেষজ্ঞ ক্যামেরনের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ডেটা সেন্টার কৌশলগত সুবিধা তৈরি করে। এসব কেন্দ্রের সক্ষমতা ধ্বংস করতে পারলে প্রতিপক্ষের সামরিক অভিযান গুরুতরভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে, এ ধরনের হামলা অর্থনৈতিক যুদ্ধের অংশ হয়ে উঠতে পারে, যার প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে সংশ্লিষ্ট দেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপরও পড়তে পারে।

আরও পড়ুন: জলবায়ু ও উন্নয়ন কাজে তুরস্কের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করতে চায় বাংলাদেশ

কোথায় কোথায় হামলা হয়েছে?

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের হামলা

এ বছরের মার্চে ডেটা সেন্টারে হামলার প্রথম বড় ঘটনা ঘটে। ওই সময় ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতে অ্যামাজনের দুটি স্থাপনায় হামলা চালায়। বাহরাইনে অ্যামাজনের আরেকটি স্থাপনাও কাছাকাছি একটি ড্রোন হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এরপর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওই দুটি স্থাপনার কার্যক্রম মূলত বন্ধ রয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর অ্যামাজন জানায়, ওই দুই অঞ্চলের ডেটা সেন্টারে সংরক্ষিত তথ্য ও অন্যান্য সম্পদে প্রবেশাধিকার পুনরুদ্ধার করতে তারা তখনো সক্ষম হয়নি।

আরও পড়ুন: হারামাইনের নিরাপত্তায় আপসের কোনো সুযোগ নেই: পাকিস্তান

এ ঘটনা দেখিয়েছে, ডেটা সেন্টারে হামলার ক্ষতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে শুধু সার্ভার বা ভবন মেরামত করলেই সব সেবা দ্রুত স্বাভাবিক করা সম্ভব হয় না; তথ্য ও ডিজিটাল সেবা পুনরুদ্ধারেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা

সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ইউক্রেনের ডেটা সেন্টারগুলোতে রাশিয়ার হামলায় টেলিভিশন সম্প্রচার ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও আদান-প্রদানে ব্যবহৃত হওয়ায় এসব ডেটা সেন্টারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, রাশিয়া এসব স্থাপনাকে শুধু বেসামরিক প্রযুক্তি অবকাঠামো হিসেবে নয়, ইউক্রেনের সামরিক কার্যক্রমে সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবেও বিবেচনা করছে।

আরও পড়ুন: ম্যাক্রোঁ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজের পদত্যাগের প্রস্তাব নাকচ করলেন

রাশিয়ায় ইউক্রেনের পাল্টা হামলা

গত ৮ অক্টোবর থেকে রাশিয়ার ডেটা সেন্টারে পাল্টা হামলা শুরু করে ইউক্রেন। এরপর দেশটি রাশিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইয়ানডেক্সের তিনটি ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালায়। ইয়ানডেক্সকে প্রায়ই রাশিয়ার গুগল হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

মেদুজার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার সাসোভো শহরে অবস্থিত হামলার শিকার প্রথম স্থাপনাটিতে ইয়ানডেক্সের এআই মডেল তৈরিতে ব্যবহৃত তিনটি সুপারকম্পিউটারের মধ্যে দুটি ছিল।

ওই স্থাপনায় কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ইয়ানডেক্সের ক্লাউড সেবার ওপর নির্ভরশীল একাধিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে ছিল রুশ রেলওয়েজ, মেগাফোন, টি-ব্যাংক এবং কয়েকটি সংবাদমাধ্যম।

আরও পড়ুন: ইরান সমর্থিত ইয়েমেনী হুথির বিরুদ্ধে যারাই যাবে তারাই পরাজিত হবে!

প্রথম হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পাল্টা পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, তারা সব সময় একই ধরনের জবাব দেন। তার ভাষ্য, রাশিয়া ইউক্রেনের ডেটা সেন্টারে বারবার হামলা চালাচ্ছে, তাই ইউক্রেনও পাল্টা হামলা করেছে।

হামলার পর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকল্পনায় পরিবর্তন

ডেটা সেন্টারে ধারাবাহিক হামলার ঘটনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এসব স্থাপনা কোথায় এবং কীভাবে নির্মাণ করা হবে, তা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

ইরানের হামলার পর সংযুক্ত আরব আমিরাত পাঁচ গিগাওয়াট সক্ষমতার একটি এআই ডেটা সেন্টার প্রকল্পের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। প্রাথমিক পরিকল্পনায় আবুধাবিতে প্রায় ১০ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে একটি বিশাল কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা ছিল। প্রকল্পটিতে ওরাকল, এনভিডিয়া ও সিসকোর মতো মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব থাকার কথা ছিল।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন পরিকল্পনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ডেটা সেন্টার নির্মাণ করা হতে পারে। এতে একটি নির্দিষ্ট স্থাপনায় হামলা হলেও পুরো প্রকল্পের কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব হতে পারে।

ডেটা সেন্টারে হামলা কি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলা?

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গোয়েন্দা, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তি কর্মসূচির পরিচালক এমিলি হার্ডিং মনে করেন, ডেটা সেন্টার যুদ্ধের নতুন সম্মুখসারিতে পরিণত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রগুলোর নিরাপত্তা কৌশলও নতুন করে সাজানোর প্রয়োজন হতে পারে।

তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, "রাশিয়া যদি ইউক্রেনে মাইক্রোসফটের কোনো ডেটা সেন্টারে হামলা চালায়, তাহলে সেটিকে কি ইউক্রেনের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে? নাকি মাইক্রোসফটের ওপর হামলা, অথবা একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলা হিসেবে দেখা হবে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ওপরও পড়তে পারে?"

হার্ডিংয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সাধারণভাবে এমন নীতি অনুসরণ করেছে যে মার্কিন কোনো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে হামলা হলেই সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর সরাসরি হামলা হিসেবে গণ্য করা হয় না। তবে মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার নতুন নীতি প্রয়োজন কি না, তা নিয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

এ প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ ডেটা সেন্টারগুলো একই সঙ্গে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ, বেসামরিক ডিজিটাল অবকাঠামো এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সামরিক কার্যক্রমে সহায়ক ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে। ফলে এসব স্থাপনায় হামলার আইনি ও কৌশলগত পরিণতি কী হবে, তা নির্ধারণ করা ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও কি বাড়ছে ঝুঁকি?

উপসাগরীয় অঞ্চল, রাশিয়া ও ইউক্রেনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ডেটা সেন্টারে হামলার আশঙ্কা তুলনামূলক কম হতে পারে। তবে এআই প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বাড়তে থাকায় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ভবন নির্মাণের সময় নিরাপত্তার বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।

হার্ডিং বলেন, ডেটা সেন্টারের মালিক প্রতিষ্ঠানগুলো বুঝতে পারছে যে এসব স্থাপনা পুরোপুরি সুরক্ষিত রাখা কঠিন। এ পরিস্থিতি ক্লাউড প্রযুক্তির প্রচলিত ব্যবসায়িক মডেল নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করছে।

তার মতে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে। ভবিষ্যতে এমনও হতে পারে, কোনো প্রতিষ্ঠান তার ডেটা সেন্টারের অবস্থান ও নিরাপত্তা আরো ভালোভাবে গোপন রাখতে পারলে গ্রাহকেরা অন্য প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে তাদের সেবা বেছে নেবেন।

এআইয়ের চাহিদা পূরণে যখন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত নতুন ডেটা সেন্টার নির্মাণ করছে, তখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, একটি ডেটা সেন্টারে হামলা শুধু সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ক্ষতি নয়; এর মাধ্যমে একটি দেশের যোগাযোগ, অর্থনীতি, সরকারি সেবা এবং সামরিক সক্ষমতাও প্রভাবিত হতে পারে।

সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন ও রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


নিজের সন্তানের জন্য হলেও ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তুলতে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘সবার কথা বাদ দেন, নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি। আসুন, আমরা সবাই মিলে সেই চেষ্টা করি।’

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান কার্যালয় নগর ভবনে পরিদর্শনকালে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, কেউ নিশ্চয়ই চান না তাঁর সন্তান নোংরা, জীবাণুযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বড় হোক। সন্তান শুধু নিজের বাসার আশপাশে থাকে না; স্কুল, কলেজ, খেলার মাঠসহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াত করে। তাই শুধুমাত্র নিজের এলাকা নয়, পুরো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনার সন্তান তো শুধু আপনার এলাকায় থাকবে না। সে সারা ঢাকা শহরে বিচরণ করবে। কাজেই আসুন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি। চেষ্টা করলে আমরা পারব।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা শহরের অন্যতম বড় সমস্যা হলো আবর্জনা ও অপরিচ্ছন্নতা। এই সমস্যা এক দিনে বা সাত দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সবাই আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।

সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে জড়িত। হয়তো সময় লাগবে, কিন্তু চেষ্টা করে গেলে পরিবর্তন আসবেই। আপনাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ইচ্ছা।’

সরকার প্রধান কর্মকর্তাদেরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমি যখন যেখানে যাই, দেখতে থাকি কোথায় কী সমস্যা আছে। তারপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ফোন করি। আপনারাও যদি এভাবে সমস্যাগুলো দেখেন এবং সমাধানে পদক্ষেপ নেন, তাহলে পরিবর্তন অবশ্যই সম্ভব।’

যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরের উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ষাট বা সত্তরের দশকে লন্ডনের অনেক জায়গায়ও ময়লা-আবর্জনা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও নাগরিক সচেতনতার মাধ্যমে তারা পরিস্থিতির পরিবর্তন করেছে।

তিনি বলেন, ‘আপনারা অনেকেই হয়তো বিদেশের সুন্দর, পরিচ্ছন্ন শহর দেখেছেন। দেশে ফিরে নিশ্চয়ই আফসোস হয়েছে, আমাদের শহরটা যদি এমন হতো! কিন্তু সেই আফসোস করে বসে থাকলে হবে না। নিজেদের দায়িত্বও পালন করতে হবে।’

ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক কথোপকথনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করা দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের একজন শীর্ষ ব্যক্তি সম্প্রতি তাঁর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় ঢাকার পরিবর্তন সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, শহরের পরিচ্ছন্নতা আগের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তিনি কিন্তু বলেননি অনেক পরিবর্তন হয়েছে। বলেছেন, কিছুটা ভালো হয়েছে। তার মানে পরিবর্তন সম্ভব। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আরও ভালো করা যাবে।’

নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অবস্থা সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোথাও সড়ক বিভাজক নতুন করে তৈরি হচ্ছে, কোথাও বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এসব উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি আমার সমালোচনা করতেই পারেন। কিন্তু নিজের ভেতরেও নিজের সমালোচনা করতে হবে। ভাবতে হবে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু সঠিকভাবে পালন করছি, কতটুকু চেষ্টা করছি।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নগর ভবনের জরুরি পরিচালন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি আবহাওয়ার তথ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পসংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য, বাতাসের গতিবেগ, বন্যার পূর্বাভাস এবং বায়ুর মান পর্যবেক্ষণের বিভিন্ন ওয়েবসাইট দেখেন। এসব তথ্য কীভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে কীভাবে জানা যায়, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে তৈরি একটি ভিডিও চিত্রও দেখেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব শহীদুল হাসান উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লন্ডনে ব্যবসায়ীদের মিলনমেলা, ২০ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৭ পি.এম


লন্ডনে ব্যবসায়ীদের মিলনমেলা, ২০ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান

প্রথম আসরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায়, দ্বিতীয় ইউকে বিজনেস এক্সপো অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস-২০২৬ এবার আরো বড় পরিসরে আয়োজিত হতে যাচ্ছে। আগামী রবিবার (২২ নভেম্বর) লন্ডনের মে-ফেয়ার ভেন্যুতে দুপুর ১২টায় এ আয়োজন শুরু হবে। যুক্তরাজ্যের ক্ষুদ্র ও বৃহৎ ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের একই প্ল্যাটফরমে যুক্ত করে তাদের ব্যবসা, পণ্য ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি সফল উদ্যোক্তাদের স্বীকৃতি দিতে এ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

আয়োজনকে প্রাণবন্ত করতে পূর্ব লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডে অবস্থিত লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমি থেকে দ্বিতীয় ইউকে বিজনেস এক্সপো অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডসের প্রচার অভিযান শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এতে অংশ নেওয়া অতিথিরা প্রথম আসরের সাফল্যের প্রশংসা করেছেন।

তাদের মতে, কমিউনিটির ছোট-বড় ব্যবসায়ীদের একই ছাদের নিচে নিয়ে এসে নিজেদের উদ্যোগ ও বাণিজ্যিক চিন্তাভাবনা বিশ্বদরবারে তুলে ধরার অনন্য সুযোগ তৈরি করেছে এই এক্সপো।

এছাড়া, বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে তরুণ ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে এবং তাদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগকেও স্বাগত জানিয়েছেন অতিথিরা। তাঁরা ইউকে বিজনেস এক্সপো অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস এবং ব্রিটিশ বিজনেস এন্ট্রেপ্রেনার ক্লাবের (বিবেক) প্রতিষ্ঠাতা ও লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসাইনের উদ্যোগ ও সময়োপযোগী চিন্তাভাবনার প্রশংসা করেন।

উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের কাউন্সিলর মেঘনা মিনারা উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্রিটিশ বিজনেস এন্ট্রারপ্রেনার ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা আকরাম হোসাইন। দ্বিতীয় ইউকে বিজনেস এক্সপো অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডসের বিস্তারিত তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্বমানের প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এবং তাদের ব্যবসাকে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।’

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এক্সপোতে উদীয়মান ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের জন্য থাকছে বিশেষ স্টল প্রদর্শনী, বিজনেস-টু-বিজনেস (বিটুবি) নেটওয়ার্কিং এবং ব্র্যান্ড উপস্থাপনার সুযোগ। পাশাপাশি ব্যবসার মান ও অবদানের ভিত্তিতে ২০টি পৃথক ক্যাটাগরিতে সেরা উদ্যোক্তাদের সম্মাননা প্রদান করা হবে।

আগ্রহী উদ্যোক্তারা নিজেদের অথবা পছন্দের প্রতিষ্ঠানের জন্য মনোনয়ন জমা দিতে পারবেন আয়োজক প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। একই ওয়েবসাইট থেকে স্টল বুকিংয়ের সুযোগও থাকছে।

কারা রয়েছেন আয়োজনে

দ্বিতীয় ইউকে বিজনেস এক্সপো অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডসের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে ব্রিটিশ বিজনেস এন্ট্রেপ্রেনার ক্লাব (বিবেক)। আয়োজনে পাওয়ার্ড বাই স্পনসর হিসেবে রয়েছে নেলসন কলেজ লন্ডন (এনসিএল), স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার ইউকে বাংলা মার্কেটপ্লেস (ইউবিএম), মার্কেটিং পার্টনার কারীওয়ালা মিডিয়া এবং অফিসিয়াল মিডিয়া পার্টনার ইউকে বাংলা লাইভ নিউজ।

লঞ্চিং অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন নেলসন কলেজ লন্ডনের পরিচালক নাজিম উদ্দিন, এবারের আসরের অন্যতম স্পনসর ওয়ার্ক পারমিট ক্লাউডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার লুৎফর রহমান এবং স্পনসর এভারার্ড কনস্ট্রাকশনের আমিরুল চৌধুরী।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন বিবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট মুহিব চৌধুরী, বিবিসিএর প্রেসিডেন্ট ড. শাহানুর খান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মুকিম আহমেদ, কারী লাইফ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা, ইউকে বিসিসিআইয়ের লন্ডন রিজিয়নের প্রেসিডেন্ট কামরু আলী, বাংলাদেশ সেন্টার লন্ডনের সাধারণ সম্পাদক ও কার প্লানেটের স্বত্বাধিকারী তফাজ্জল মিয়া, লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী, লন্ডন এন্টারপ্রাইজ একাডেমির প্রিন্সিপাল আশিদ আলী, ইউরো এশিয়া ক্যাশ অ্যান্ড কারির পরিচালক আবুল লেইছ এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আতিক চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রাইড অব এশিয়া ও মে-ফেয়ার ভেন্যুর স্বত্বাধিকারী ওয়াজিদ হাসান সেলিম বিইএম, আরিয়ানা ব্যাংকুয়েটিংয়ের তোফায়েল আহমেদ, নিকাহ স্টুডিও অ্যান্ড ইভেন্টের শাহেদ চৌধুরী, জেএমজি কার্গোর পরিচালক মনির আহমেদ, হিল সাইড ট্রাভেল এজেন্সির পরিচালক হেলাল খান, বাংলা টাউন ক্যাশ অ্যান্ড কারির চেয়ারম্যান রফিক হায়দার, রুপসী রাইসের পরিচালক শুকুর খালিসদার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী করিম মিয়া শামীম এবং বাংলা কার্পেট অ্যান্ড ফার্নিচারের জুবায়ের কিবরিয়া।

প্রথম আসরে পাঁচ হাজারের বেশি দর্শনার্থী

লঞ্চিং অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রথম বছরের ইউবিএম ইউকে বিজনেস এক্সপো অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডসের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম আসরে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষের সমাগম হয়েছিল। সেখানে বিভিন্ন পণ্যের ৫০টি স্টল ছিল। পণ্য উদ্বোধনের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ব্যবসায়িক পুরস্কারও দেওয়া হয়।

প্রথম আসরের পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ‘সাকসেসফুল বিজনেস অব দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কারজয়ী বাংলা টাউন ক্যাশ অ্যান্ড কারির চেয়ারম্যান রফিক হায়দার, ‘কমিউনিটি চয়েজ অ্যাওয়ার্ড’ বিজয়ী গ্রিন মেন্টাল কেয়ার হোমের সিইও রোকেয়া হোসেন এবং ইকো ইনোভেশনের পরিচালক শরিফ ইসলাম। তাঁরা অনুষ্ঠানে বক্তব্যও দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জুয়ার আসর থেকে তিন জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে জুয়ার আসর থেকে তিন জুয়াড়ি গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ থানা পুলিশ পৌর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তিনজন জুয়াড়িকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্য অনুযায়ী, পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পাট বাজারের মো. সবুর মিয়ার পাট গোডাউনের ভেতরে তাস দিয়ে জুয়া খেলার সময় তাদের আটক করা হয়। তাদের মধ্যে একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। এ সময় খেলার উপকরণ এবং নগদ টাকা জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকার মো. এনামুল হক, জরমনদী গ্রামের অসীম কুমার সরকার এবং বামনজল গ্রামের মো. টুটুল সরকার।

সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. সেলিম রেজা জানান, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে জুয়া আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইআবি ভিসির অধিভুক্ত মাদরাসার পরীক্ষার ফি কমানোর আশ্বাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৩:০৮ পি.এম


ইআবি ভিসির অধিভুক্ত মাদরাসার পরীক্ষার ফি কমানোর আশ্বাস

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান, অধিভুক্ত মাদরাসার বিভিন্ন কোর্সের পরীক্ষার ফি কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১১টায়, জেলা পর্যায়ের অধিভুক্ত মাদরাসার অধ্যক্ষদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফি পুনর্নির্ধারণ নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কথা বলেন।

ভাইস চ্যান্সেলর উল্লেখ করেন, মাদরাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যেকোনো যৌক্তিক দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, দাবি অবশ্যই যৌক্তিক হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় মাদরাসা উচ্চশিক্ষার জন্য একটি বিশ্বস্ত শিক্ষা ও গবেষণার প্ল্যাটফর্ম। বর্তমান ফাজিল পাস ও কামিল মাস্টার্স কোর্স আন্তর্জাতিক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে কোর্সের সংখ্যা বেড়েছে। ফাজিল পাস কোর্সে আগে ৪টি ছিল, বর্তমানে ৭টি হয়েছে। কামিল কোর্সেও আগে ৪টি ছিল, এখন ৭টি। কোর্সের সংখ্যা বাড়ার কারণে ফরম পূরণের ফি বৃদ্ধি পেয়েছে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত অধ্যক্ষরা বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান অধিভুক্তি নবায়ন ফি, পরীক্ষা ফি, রেজিস্ট্রেশন ফিসহ বিভিন্ন ধরনের ফি শিক্ষার্থীদের সাধ্যের বাইরে উল্লেখ করে তা কমানোর দাবি জানান। অধ্যক্ষদের দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে ভাইস চ্যান্সেলর যৌক্তিক পর্যায়ে ফি কমানোর আশা প্রকাশ করেন এবং মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় রেজিস্ট্রার ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী, কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ডিন প্রফেসর ড. আবুল হোসাইন মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম, মাদরাসা পরিদর্শক (অতি. দা.) প্রফেসর ড. হুসাইন আহমাদ, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান, পরিচালক অর্থ ও হিসাব মো: আবু বকর ছিদ্দিক, উপ-রেজিস্ট্রার ফাহাদ আহমদ মোমতাজী এবং উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (অতি. দা.) মো. জিয়াউর রহমানসহ জেলা পর্যায়ের মাদরাসার অধ্যক্ষরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫২
মাগরিব ০৫:২৯
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:২৯
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%