প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দকৃত অর্থ জালিয়াতির মাধ্যমে লোপাটের চেষ্টা করা হচ্ছে, এমন দাবি করেছেন পরিষদের দুই সদস্য, যাঁরা সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগকারী দুই ইউপি সদস্য হলেন— ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সহদেব চন্দ্র দাস এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আলমাছ মিয়া।
কাগজে প্রকল্প ও অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা: আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদ উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দকৃত ১৮ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ টাকার বিপরীতে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, রাস্তা, ঘাটলা ও কালভার্ট নির্মাণ, নলকূপ স্থাপন, গোলপোস্ট তৈরি, সেলাই মেশিন, ল্যাপটপ-প্রিন্টার ও লাইব্রেরির আসবাবপত্র ক্রয়, রিং স্ল্যাব বিতরণ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রমের নামে অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান কাজ না করে ভুয়া ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা চলছে।
সরকারি সম্পদ গায়েব ও স্বজনপ্রীতি: ইউনিয়ন পরিষদের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, ব্যাটারি, আইপিএস এবং চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরকারি সম্পদ পরিষদের বাইরে সরিয়ে ফেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুধুমাত্র এই নয়, বরং কর্মসৃজন কর্মসূচি, ভিজিডি, ভিজিএফ, মাতৃত্বকালীন, বয়স্ক ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সুবিধা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়মে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারীসহ একটি চক্র জড়িত বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত স্বার্থে পরিষদের হলরুম ব্যবহার: অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলন কক্ষটি চেয়ারম্যানের স্ত্রীর নামে সার ও বীজ সংরক্ষণের গুদাম হিসেবে ব্যবহারের জন্য চুক্তি সম্পাদন করা হয়েছে।
অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ৩ নম্বর বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ চৌধুরী নান্টু বলেন: "সব টাকা উত্তোলন করা হয়নি। যে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে, তা নারী সদস্যসহ তিনজনের ব্যাংক হিসাবে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও সংরক্ষিত রয়েছে।"
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের নির্ধারিত স্থানে পানি থাকার অজুহাতে কাজ না হওয়া, অথবা প্রশাসনিক কর্মকর্তার স্বজনের বাড়িতে অর্থের বিনিময়ে নলকূপ স্থাপনের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পিয়াস চন্দ্র দাস জানিয়েছেন: "এ বিষয়ে আদালতের কোনো মামলার কপি বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আমরা এখনো পাইনি। জেলা প্রশাসন বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ থেকে নির্দেশনা পেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
এদিকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগ, বর্তমানে বাহাড়া ইউনিয়ন পরিষদে যেকোনো নাগরিক সেবা নিতে গেলেই চরম হয়রানি, অনিয়ম ও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এলাকার সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এই অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন