প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রামের প্রবেশদ্বার সীতাকুণ্ডের বুক চিরে চলে যাওয়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় দীর্ঘ একটি বিশাল অংশ জুড়ে সম্প্রতি যে অভূতপূর্ব এবং নজিরবিহীন রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে, তা কেবল একটি সাধারণ বিক্ষোভ বা অবরোধ ছিল না। বরং এটি ছিল বিগত এক দশকের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং ১ লাখ ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটের এক ঐতিহাসিক জনরায়ের অবমূল্যায়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের এক স্বতঃস্ফূর্ত আবেগীয় মহাবিস্ফোরণ। বিএনপির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, চেয়ারপারসনের দূরদর্শী উপদেষ্টা এবং সীতাকুণ্ড সংসদীয় আসন থেকে বিপুল ভোটে সদ্য নির্বাচিত এমপি লায়ন অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ'র শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া আইনি বেড়াজালে আটকে থাকার জের ধরে চট্টগ্রাম সিটি গেট থেকে শুরু করে বড়দারোগারহাট পর্যন্ত অন্তত ২০টিরও বেশি পয়েন্টে একযোগে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে যে সর্বাত্মক সড়ক অবরোধ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তা পুরো দেশের রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে একটি বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, এই আন্দোলনের নেপথ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক ঘোষণা বা পূর্বপরিকল্পিত এজেন্ডা ছিল না, বরং এটি ছিল সম্পূর্ণ রূপেই সীতাকুণ্ডের আপামর জনসাধারণের এক আবেগঘন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ। যেখানে সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও তৃণমূলের সাধারণ ভোটাররা পর্যন্ত স্বপ্রণোদিত হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে এই ব্যস্ততম মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে পড়ায় এবং হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হওয়ায় যখন পরিস্থিতি প্রায় এক প্রকার আইন-শৃঙ্খলার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল, ঠিক তখনই দীর্ঘ কারাবাসের ক্লান্তি ও আইনি লড়াইয়ে অবরুদ্ধ থাকা সত্ত্বেও জননেতার দায়িত্বশীল পরিচয় দিয়ে আসলাম চৌধুরী নিজেই এক বিশেষ অডিও-ভিডিও বার্তা পাঠান। যেখানে তিনি তাঁর প্রিয় সীতাকুণ্ডবাসীকে শান্ত থাকার, কোনো প্রকার জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার এবং আইন নিজের হাতে না তুলে নেওয়ার কঠোর ও আবেগঘন নির্দেশনা দেন। মুহূর্তের মধ্যেই আন্দোলনকারীরা রাস্তা ছেড়ে দেয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় মহাসড়কে পুনরায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসে। যা স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর একচ্ছত্র ও প্রশ্নহীন নিয়ন্ত্রণকে আবারও প্রমাণ করে।
মাঠপর্যায়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও তৃণমূলের ভোটারদের দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক নির্বাচনে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী এফসিএ সীতাকুণ্ড আসন থেকে যে প্রায় ১ লাখ ৪২ হাজারের বেশি ভোট পেয়ে এক ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছেন, তা কেবল একটি দলীয় বিজয় ছিল না। বরং সেটি ছিল বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁর ওপর চলা একের পর এক রাজনৈতিক মামলা, ধারাবাহিক হয়রানি এবং দীর্ঘ কারাবাসের বিরুদ্ধে সীতাকুণ্ডের সর্বস্তরের মানুষের দেওয়া একটি নীরব ব্যালট বিপ্লব। কিন্তু এই বিশাল গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট পাওয়ার পরও ব্যাংক ঋণ সংক্রান্ত পুরোনো কিছু দেওয়ানি মামলা, প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা এবং নতুন কিছু আইনি মারপ্যাঁচকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তাঁর শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়াকে যেভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তাঁকে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও তাঁর হাজার হাজার অনুসারী সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং জনগণের পবিত্র রায়ের ওপর এক ধরনের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ-র প্রতি সীতাকুণ্ডের মানুষের এই অন্ধ ভালোবাসা ও আবেগ একদিনে বা কোনো সস্তা স্লোগানে তৈরি হয়নি। বরং বিগত ১০-১৫ বছরে যখনই সীতাকুণ্ডে কোনো বড় সংকট এসেছে, দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দলের শত শত নির্যাতিত নেতাকর্মীকে রাজপথে আগলে রাখা এবং নিজের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তহবিল থেকে কোটি কোটি টাকার সামাজিক ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করার মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে এক স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। এই চলমান বারুদসদৃশ পরিস্থিতির মাঝে জ্বলন্ত আগুনে ঘি ঢালার মতো কাজ করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর কন্যার একটি অত্যন্ত আবেগঘন এবং হৃদয়স্পর্শী ফেসবুক স্ট্যাটাস। যেখানে তিনি লিখেছেন, "যে মানুষটি নিজের জীবনের সোনালী ও শ্রেষ্ঠ সময়গুলো সীতাকুণ্ডের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে অন্ধকার কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠে কাটিয়ে দিলেন, আজ লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে ও ঐতিহাসিক বিজয়ের পরও কেন তাকে তার রাষ্ট্রীয় অধিকার ও শপথ থেকে এভাবে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে, সীতাকুণ্ডের মানুষ কি তাদের প্রিয় নেতাকে মুক্ত বাতাসে তাদের মাঝে ফিরে পাবে না?"-আর এই একটি মাত্র আবেগঘন আকুতি সীতাকুণ্ডের আপামর জনসাধারণের মনে এমন এক তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে। যার ফলেই পুরো উপজেলা জুড়ে এই গণবিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি সম্মান রেখে আইনি প্রক্রিয়া তার নিজস্ব গতিতেই চলবে এবং দেওয়ানি বা ঋণ সংক্রান্ত মামলাগুলোর আইনি নিষ্পত্তি আদালতের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। তবে ১ লাখ ৪২ হাজার ভোটারের দেওয়া এই বিশাল জনরায়কে টেকনিক্যাল মারপ্যাঁচে ফেলে বেশিদিন চেপে রাখা সীতাকুণ্ডের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক পরিবেশকে শান্ত রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভের উপশম ঘটাতে অতি দ্রুত এই আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার একটি সুষ্ঠু, সম্মানজনক এবং স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন